কবি উৎপলকুমার বসুর ঢাকা সফর (২)

নজরুলের কবিতার ফর্ম ওনার ভাল লাগে নাই। উনি কইলেন, নজরুলের কবিতায় বেশি অ্যাম্বিশাস কথাবার্তায় ঠাসা, এটা ভাল লাগে না আমার।

(আগের কিস্তি)

মধুর কেন্টিনে

উৎপলকুমার বসু, কলকাতায়
উৎপলকুমার বসু, কলকাতায়

উনারে মধুর কেন্টিনে নিয়া গেছিলাম আমি আর ফলিত পদার্থ বিজ্ঞানের শিক্ষক আমার স্ত্রীর বড় ভাই। উনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত পদার্থবিদ্যার শিক্ষক। উৎপলকুমারও টিচার ছিলেন। ফলে উনাদের মধ্যে পেশাগত একটা খাতির পয়দা হইছিল বলে আমার খেয়াল হয় । ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়া উনারা আলাপ চালাইতে থাকেন।

আলাপের মধ্যিখানে বা কিনারে আমরা মধুর কেন্টিনে চা খাইছিলাম কিনা মনে নাই। মনে হয় উৎপলদা খান নাই। আমাদের মধুতে আমরাই খাইছিলাম। উৎপল দা বাছি বাছি খানাপিনা করেন । বোধ হয় এই কথা তখন জানাইছিলেন।

মধুর কেন্টিন থাকি একশ কাইক দূরে জাতীয় কবিতা উৎসব। জাতীয় কবিতা উৎসব হাকিম চত্বরের ওইখানেই হয়। একটু পরেই ঐদিকে যাইতে হবে কবি উৎপলকুমারকে। উনি ঐ ফোরাম কর্তৃক আমন্ত্রিত বিদেশী কবি। ফলে হাকিম চত্বরের নিকটস্থ মধুর কেন্টিনে বসি আমরা সাময়িক আড্ডা দিতে থাকি। একটু পরেই কবি উৎপলকুমার বসু চলি যাবেন। বেশ খানিকটা পরে এই কবির সকাশে কবি ব্রাত্য রাইসু ও ওবায়েদ আকাশ আসছেন। বাংলাদেশে আসার আগ থাকিই ব্রাত্য রাইসু, মাসুদ খান ও সুব্রত অগাস্টিনকে কবি হিসেবে জানতেন। দেখলাম ব্রাত্য রাইসুকে উৎপল বেশ খাতির করলেন। কথা কইলেন আন্তরিকভাবে।

জাতীয় কবিতা উৎসবে যেহেতু কবিতার অভিনয় হইত। আমরা কতিপয় দেয়ালে দেয়ালে কবিতা উৎসবের পোস্টার দেখতাম। এর মহৎ মহৎ শ্লোগানগুলো আমাদের মনে ধরত না। ভাসা ভাসা আনুষ্ঠানিক লাগত। দেশ জাতির প্রতি একটানা টানের অংশ হিসেবে চিৎকার চেঁচামেচিই বেশি হইত। ফলে ভান মনে হইত।

একটা সেকুলার সংগঠন হিসেবে জাতির বিবেক হিসেবে দায়িত্ব পালন করি আসতে ছিল কবিতা পরিষদ।

utpalb4
কুচবিহারের দীনহাঁটায়, পারিবারিক ছবিতে। ডান থেকে তৃতীয়, দাঁড়ানো।

পল্লীবন্ধু এরশাদকে বিরোধিতা নিয়া নিয়মিত কবিতা রচিত হইত । স্বৈরাচার উৎখাতের একটা দায় পড়ছিল ওনাদের কবিতার ঘাড়ে। সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদ সাহেবের সাথে উৎপলকুমার বসুর শৈশবের খণ্ড স্মৃতি আছে। কবিতা পরিষদ এরশাদ সাহেবরে বিশ্ব বেহায়া আকারে হাজির করছিলেন কামরুল হাসানের শৈল্পিক ঔরসে। অবশ্য নব্বই সালে এরশাদ পতনের সাথে সাথে জাতীয় কবিতা উৎসবে স্বৈরাচার বিরোধী কবিতা পাঠ তেমন শুনি নাই। যেন এরশাদ পতনের সাথে দেশ ও বিদেশ থাকি স্বৈরাচার সমূলে উৎপাটিত হইছে। কবিতার আর ভয় নাই সামনে আগাইবার!

এইখানে যেইসব জাতীয় পর্যায়ের কবিগণ কবিতা পড়িতেন ২/৪ জন বাদে সবাকার কবিতারে কবিতা মনে হইত না। কাজে কাজে এই ফোরামের কবিদের কবিতার থাকি কবিতার আগাছাই বেশি ফলিত বলে মনে হইত। এইসব আমার একার না অনেকেরই মনে হইত। যা হোক ইতিহাসকে তবু এ জাতীয়বোধের গুরুভার সইতে হবে!

উৎপল সকাশে কথা উঠছিল ত্রিশের কবিতার এভিনিউ নিয়া। তারাই বাংলা কবিতারে নিজ স্রোতধারা থাইকা ভিন রাস্তায় প্রবাহিত করাইছিলেন ।

utpalb2
লন্ডনে, ১৯৬৬

ইউরোপীয় আধুনিক কবিতা, চিত্রকলা, দর্শন ও মনোবিজ্ঞানের জ্বর ও জরা ভর করছিল ত্রিশের আধুনিক কবিতায়। তাগের ছাল-চামড়া আর অস্থি নিয়াই বাংলার আধুনিক কবিতা সাবালক হয়ে উঠছিল আমাদের মতো করি।

এইরকমই কইছিলেন উৎপল। এইটা নিয়া উনি বোদলেয়ার আর টিএস এলিয়টয়ের কবিতার দুর্মর প্রভাবরে দোষাইলেন। জানাইলেন, ত্রিশের পাঁচ কবির হাত দিয়া বাংলা কবিতা যেপথে নামছিল সেই পথে না-নামলে জীবননান্দের ধূসর পাণ্ডুলিপি অবশ্য পেতাম না। ঝরা পালক-এর পথে বাংলা কবিতা চলে যেতে পারত!

মাইকেল নিয়া কথা উঠলে, উনি রবীন্দ্রনাথের থাকি মাইকেলরে কবি হিসেবে বেশি ওয়েট দিতে থাকেন। এতে উপস্থিত মধুর টেবিলে কেউ অখুশি হচ্ছিলাম না। রবীন্দ্রভক্তের গরহাজিরাতে বিষয়টা নিয়া আর বেশিদূর আগায় নাই।

কইলাম, আপনি হালের উত্তরাধুনিক চিন্তা-ভাবনা নিয়া কী ভাবতেছেন? উনি পিছলাই গিয়া কইলেন, ভারতচন্দ্রের লেখাতে তুমি উত্তর-আধুনিক জিনিস-পত্তর পাবে। । দেখলাম, ভারতচন্দ্র উনার বেশ প্রিয় । উনি ভারতচন্দ্ররে কোট করলেন উৎসাহের সাথে। যেমন: ‘নগর পুড়িলে কি দেবালয় এড়ায়’; ‘আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে’; ‘সে কহে বিস্তর মিছা যে কহে বিস্তর’।

naightsএগুলো তো প্রবাদ বাক্য হয়ে গেছে, উনি কইলেন। আমি অবশ্য যোগ করছিলাম, কোনো কবিতার লাইন প্রবাদবাক্য হয়ে ওঠলে তো সেইটা ঐ কবিতার জন্য খারাপ।

আপনি তো সতীনাথ ভাদুড়িরে আপনার কবিতাসংগ্রহ উৎসর্গ করছেন। এর পেছনে আপনার কোন মহৎ চিন্তা কাজ করছে কিনা। জানতে চাইলাম।

উনি সতীনাথের জাগরীঢোড়াই চরিত মানস-এর প্রতি দুর্বল। সতীনাথ সাব-অলটার্ন নিয়া ডিল করছেন। উনার নিজের প্রান্তিক মানুষের জীবন-চর্যার প্রতি মায়া কাজ করে। প্রান্তিকতার প্রতি অন্তরের একটা চির টান আছে। আর এই জন্যে সতীনাথের কাজের প্রতি একটা গভীর প্রীতি কাজ করে।

এ প্রসঙ্গে কমলকুমার মজুমদারের প্রসঙ্গ উঠছিল। কমলকুমারের বঙ্গীয় শিল্পধারার প্রতি যে গভীর আকুতি ছিল তা উৎপল ইতিবাচক হিসাবে দেখছেন।

এছাড়াও উৎপল জানাইলেন, উনি স্মৃতিঘোরে কখনও কখনও যেন এইসব প্রান্তীয় মানুষের কণ্ঠস্বর শুনতে পান।

3 utpalআধুনিক কবিতায় ঐতিহ্যের উৎপাদনকে অনেকে সংশয়ের চোখে দেখেন। দেশে দেশে ‘ইউরোপীয় আাধুনিকতা’কে একোমেডেট করতে ফর্মুলা বার করতে হয়েছে। সরাসরি আধুনিকতাকে নিয়ে ফেলবে, নাকি ঐতিহ্য-আধুনিকতার মিশালে লিখবে? নাকি নিজেদের মতো একটা আধুনিকতা সবারই থাকে। নাকি স্রেফ খাটি ঐতিহ্যকেন্দ্রিক হবে শিল্প-সাহিত্য? এই একটা বড় চ্যালেঞ্জ ছিল তিরিশের কবিদের কাছে। রাবীন্দ্রিক আধুনিকতারে তারা নেন নি। উপনিষদ-কেন্দ্রিক রাবীন্দ্রিক আধুনিকতাকে তিরিশের কবিদের পছন্দ হচ্ছিল না। উৎপল এই রূপই কইছিলেন।

কথা উঠছিল কালেকটিভ কনসাসনেস (যৌথ অবচেতন) নিয়া। উনি এই জিনিসটারে বিশ্বাস করতেন। এ নিয়া বলছিলেন, ধরো, তুষার পড়ছে বলার সাথে সাথে তোমার-আমার মনে হয় তুষার পড়ছে, আমারও মানস চোখে তুষারের পতনের দৃশ্য খেলে যাইতেছে। মানে যৌথ অবচেতনে তুষার পড়ার উপস্থিতি হাজার বছর ধরে আমাদের মধ্যে বসবাস করে আসতেছে। শব্দ দিয়া জাস্ট নক করলেই আমরা তুষার পড়ার দৃশ্য মহাকালে দেখতে পাই। এখন তুমি বাস্তবে তুষারপাত নাও দেখে থাকতে পারো।

kolkata l m 2013
কলকাতা লিটারারি মিট ২০১৩ তে।

এইসব যৌথ অবচেতনে বিশ্বাস কইরাই উৎপলদা পুরী সিরিজের কবিতায় ঐরকম জিনিশপত্রের যোগসাজসে কোনো বাক্য রচনা করছিলেন কিনা জিগাই নাই।

কবির সাথে সাথে পাঠকও কবিতা তৈয়ার করেন। যখন পাঠক একটা কবিতা পড়ে, তখন সে ঐ কবিতাটি পুনঃনির্মাণ করে। পাঠক আর লেখক এক জগতের বাসিন্দা নন। কবিতাকে পাঠক তার মতো করি পাইতে চায়।

কবিতাতে পাঠকের অংশগ্রহণ ও পাঠকের প্রতিক্রিয়ার মধ্যে কবিতার পাঠগুলো দাঁড়িয়ে থাকে। ফলে যেন একটি কবিতা হাজারটা পাঠ ধারণ করে বসে থাকে। কবিতা যেন ময়ূরের মতো পেখম মেলে বসতে পারে তার জন্য কবিতায় সেই ইশারা গুঁজে রাখতে হয় কবিকে।

পাঠকের অন্তরে একটা-দুইটা ময়ূর জন্ম না দিতে পারলে, সেই কবিতা লেইখ্যা লাভ কী? পাঠকত্বই যবে কবিত্ব! এইরূপে পাঠক কবিতার অংশ। উৎপল কইলেন, ধরো তুমি কবিতায় সব কিছুই বলে দিলে। তো পাঠকের জন্য ভরাট করার মতো কিছুই রাখলে না। সেই কবিতা পাঠকের স্বাধীনতা কম।

আমি কইলাম, আধুনিক কবিতা অনাধুনিক পাঠক এই কারণে পড়ে কম। ইশারাকেন্দ্রিকতার মধ্যে দুর্বোধ্যতার রহস্য থাকলেও থাকতে পারে। পাঠক সাবালক না হইলে এই কবিতা পড়ে রস নিতে পারে না।

এইরূপ আলাপ অল্প অল্প চলতে থাকে শীতের বাতাসে। মধুর কেন্টিনের বাইরে কাঁঠালতলায়। তখন সকাল ১০টা কি ১১টা বাজে।

উৎপলদা কইলেন, আমাদের শ্রেষ্ঠ চিন্তাগুলোর নিচে একজন চে (চে গুয়েভারা) থাকে বুঝলে! যেন বিপ্লব না হইলে কবি সৃষ্টি হয় না সমাজে। কবিরাই বিপ্লবের বাজুতে শক্তি জোগায় । ইংল্যান্ডে থাকাকালে এক মাতালের হাতে পড়ে গভীর রাতে তার বাসায় যাইতে হইছিল উৎপলকে। মাতালের সাথে এই ধরনের একটা কথবার্তা হয়। তো, মাতালের মূল কথা ছিল—প্রতিটি ভাল চিন্তার তলে একটা বিপ্লবী চে গুয়েভারা সারাক্ষণ উস্কানি দেয়। পুরা কাহিনিটা উনি বলছিলেন, তার পুরাটুকু আজ আর আমার মনে নাই।

কবিতায় বাক্যকে আক্রমণ করেন, তিনি জানাইলেন। বাক্যের ছুটি ভোগ বিষয়ে কইলেন। বাক্যে বাক্যে ছুটি ভোগ করা নিয়া কথা হইল। কবিতায় পুরো গল্প না কয়ে কিছু পাঠকের জন্য রেখে দিতে হয় । কবি কিছু বাক্য লিখে যেন মুছে দিয়েছেন। পাঠক সেই বাক্যগুলা যেন জাগায়ে তুলতে পারেন।

উনি নিজেরে এমপেরিসিস্ট দাবি করছিলেন। চেনাজানা জগতের বাইরের জগতের থাকি বাক্য আমদানি করি উনি স্বস্তি পান না। নজরুলের কবিতার ফর্ম ওনার ভাল লাগে নাই। উনি কইলেন, নজরুলের কবিতায় বেশি অ্যাম্বিশাস কথাবার্তায় ঠাসা, এটা ভাল লাগে না আমার।

কবি শঙ্খ ঘোষের সঙ্গে
কবি শঙ্খ ঘোষের সঙ্গে

বিদেশে থাকাকালীন সময়ে নজরুলের শাওন রাতে… গানটা শুনলে ভারাক্রান্ত হয়ে পড়তাম। এইটার ভেতরে অতীতের কী যে একটা নির্ভরতা পেতাম!

দেশ পত্রিকাতে প্রথম কবিতা ছাপার কাহিনী জানাইলেন। প্রথমদিকে উনি ‘উৎপল বসু’ নামে লিখতেন। দেশে ছাপা কবিতাটা একটু জীবনানন্দীয় ঘেষা হইছিল তাও জানাইলেন।

উৎপলের কবিতায় প্রকৃতি, প্রেম, মায়া, ইতিহাস, মিথ, চারপাশের নৈমিত্তিকতা, গদ্য/পদ্যের দোলাচলে, বিনির্মাণে নিম্নবর্গীয়পনার মধ্যে ‘অধঃপতন’ ঘটে। এই অধঃপতনই তার কবিতাকে মার্গ দান করে, অন্যদের থাকি আলাদা করি রাখে । তাঁর এই অধঃপতন আমার ভাল লাগে। মনে হয় তার কবিতায় প্রকৃতির প্রশান্তি রসে লৌকিকতার উপাদানরাশি স্নেহসিক্ত হয়।

পুরী সিরিজের কবিতার মধ্যে যে মৃদু-জীবনানন্দীয় এভিনিউ তৈরি হইছে সেই পথে জীবনানন্দের পাঠকরা, উৎপলের পাঠকরা হাজার বছর ধরি না হাঁটি, হাঁটে ইচ্ছামতো যখন ইচ্ছা ইহলৈৗকিক এক নৈমিত্তিক মুডে। ফলে মৃদু জীবনানন্দ সেইখানে উৎপলানন্দ মুডে ঘোরাফেরা করে। এই মতো আমি ব্যক্তিগতভাবে উৎপলের কবিতা পছন্দ করি।

তার কবিতায় প্রলাপ, সংলাপ, নাট্যভঙ্গি, হাস্যরস, নানা কৌশল, নতুন-পুরাতন বুদ্ধির খেলা সব মিলি কোথায় উৎপল যেন স্টাইলে আলাদা হয়ে গেছেন—যেইখানে আর জীবনানন্দ মেজর না। বিনয় মজুমদারের কাম-প্রেমপুষ্প ধারার কবিতা থাকি তা পুরাই আলাদা। আল মাহমুদের থেকে আলাদা। শক্তির থাকি আলাদা। উৎপলিক এই কিসিমের বাক্য উৎপাদন ভাল লাগে আমার মতো অনেকের ভাল লাগে দেশে ও বিদেশে।

বাংলাদেশের তরুণদের তার ব্যাপারে আগ্রহ উনি টের পাইছিলেন। সেই টানে টানে অনেকে গড়িয়াহাটে গিয়া ওনার বাসায় গিয়া ওনার সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন। ততদিনে বাংলাদেশের লোক সাহিত্য পত্রিকা উনারে নিয়া একখান ক্রোড়পত্র করছেন। উহা ওনার সুনজরে আসছে।

এবাদুর রহমান, শামীম রেজা ও সাইমন জাকারিয়াকে খোঁজ নিতেছিলেন উৎপল দা। আমি কইলাম, ওরা এ মুহূর্তে অন্য কোথাও ছড়াইয়া ছিটাইয়া আছে।

আমরা সন্তর্পণে জাতীয় কবিতা পরিষদের মণ্ডপের পানে কবি উৎপলকুমার বসুকে নিয়া যাই। সেইখানে তিনি বিদেশী কবি হিসেবে কবিতা পড়িবেন।

ঢাকার নিউ মার্কেটে
উৎপলকুমার বসু পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমির হোস্টেলে এক পর্যায়ে জানান যে ওনাকে একটু বিক্রমপুর যাইতে হবে। ফলে কেনাকাটায় কিছু সময় দিতে হবে।

আমি আগে জানতাম না বিক্রমপুরে ওনার পূর্বপুরুষের নিবাস ছিল। উৎপলদার বড় ভাই বিক্রমপুরের মালখা নগরে জন্মগ্রহণ করছিলেন। শৈশব ওই গ্রামেই কাটায়ছিলেন। উনি নাকি মালখানগর স্কুলে পড়াশুনা করছেন। ৪৭ এর দেশভাগের আগেই ওনারা সপরিবারে ইণ্ডিয়াতে চলে যান। অবশ্য উৎপলকুমার বসু কলকাতার ভবানীপুরে জন্ম গ্রহণ করেন। উৎপলকুমারের শৈশব কেটেছে বহরমপুর, দিনহাটায়।

পদ্মপুকুরে পৈতৃক বাড়িতে
পদ্মপুকুরে পৈতৃক বাড়িতে

উৎপলদা বাংলাদেশে আসার আগে ওনারে ওনার বড় ভাই খুব করি বলি দিছিলেন যে, সে যেন মালখানগরে যায়। বিশেষ করি মালখানগর স্কুলের একটা ফটোগ্রাফ তুইলা আনতে। আর পৈত্রিক ভিটেটা যেন দেখে আসতে ভুলে না যায়। উৎপল জানাইলেন।

উৎপলদা ওনার বড় ভাইয়ের জন্য মুন্সিগঞ্জ জেলার একখানা ম্যাপ কিনে আনার কথাও কইছিলেন নাকি। যেন ম্যাপ পুরনো ভূগোলরে ফিরায়ে আনতে পারবে নে। যদি কোনো ঘ্রাণ কোনো পুরানা স্মৃতিরে উড়ায়ে নিয়া বসায়ে বসায়ে জোড়া দেওন যায় সেই ম্যাপের উপর, ম্যাপের উছিলায়! উৎপলদার বড় ভাইয়ের শৈশবরে যেন নিজের শৈশবই জ্ঞান করতেছিলেন উৎপলদা। সব শৈশবই যেন একই চেহারার। দেখলাম উৎপলদার ভিতরে ওনার বড় ভাইয়ের সব আদেশ তাগিদ আকারে উঁকি দিতেছিল।

শিল্পী যোগেন চৌধুরীর সঙ্গে শান্তিনিকেতনে, ১৯৯৮
শিল্পী যোগেন চৌধুরীর সঙ্গে শান্তিনিকেতনে, ১৯৯৮

আমরা এইসব জিনিসপত্র কেনার আগে ধানমণ্ডি ৬ নম্বর রোডে আর্টিস্ট শাহাবুদ্দিনের ভায়রা ভাই শিল্পী হাসান মাহমুদের (আমার মামা শ্বশুর) বাসায় আমরা উৎপলদাকে নিয়া আসছিলাম। আমার মামা শ্বশুর যোগেন চৌধুরীর ছবি পছন্দ করেন। হয়ত ভাবছিলেন, নাও ভাবতে পারেন। উৎপল-যোগেন যেহেতু হরিহর আত্মা। আর প্যারিস জীবনে উৎপলের দিনগুলিতে যোগেন চৌধুরী একটা বৃহৎ চ্যাপ্টার। আর উৎপল থাইকা যোগেন বিষয়ে যদি কোনো তাজা খবর পাওয়া যায় সেইটা হবে একটা উপরি পাওনা।

মনে পড়ে তাড়া থাকায় ওখানে বেশিক্ষণ আড্ডা জমে নাই। অল্প কিছু খানাপিনা করছিলেন উৎপলদা। উৎপলদা খাওয়া-দাওয়ায় অত্যন্ত সচেতন। বেছে বেছে খান। যে যে খাবার খাইলে কোনো রকমে স্বাস্থ্যরক্ষা হয় শুধু তাই তাই যেন কোনো রকমে ঘ্রাণ নিয়া, কিছু ছুঁইয়ে, কিছু কিছু খান। দেখলে মনে হবে উনি পরিমাণে ৩ বছরের শিশুদের মতো খাবার খান। আর যেন উনি সাধুদের মতো ধীরে-সুস্থে খাদ্য ও বিষ বিভাজন করি করি খান।

আমাদের বাসায় উৎপলদাকে নিয়া আসি। আমার মামা শ্বশুর ও আমার শশুরের বাড়ি একই বাড়ি পাশাপাশি। আমি তখন ওই বাসাতেই থাকতাম।
এখানে হাল্কা চা-পানি খেয়ে আসাদ গেট আড়ং-এর উদ্দেশ্যে বার হই। আড়ং-এ গিয়া কিছু কিছু পছন্দসই জিনিস কিনছিলেন উৎপলদা—লোকজন যা করে। এক দেশ থাকি আরেক দেশে আসলে সেই দেশের থাকি কিছু জিনিস নিয়া যায়। স্বদেশে গিয়া ওই জিনিসগুলার দিকে তাকায় আর ভাবে আমারও বিদেশ বলি কিছু আছে! আসার পথে সংসদ ভবনের মানিক মিয়া এভিনিউর মতো বড় রাস্তার পানে তাকায়ে কইলেন, এ গুলো সব এরশাদ সাহেবের করা না?

এরশাদ যে এদেশে রাস্তাঘাটের বেশ কিছু উন্নতি করছিলেন দেশে-বিদেশে এইটা একটা মিথ (সত্যও বটে) হয়ে আছে, বুঝা গেল। এই জিনিসটারে আমরা খুব একটা গোনায় আনি না। তিনি স্বৈরাচার এইটাই যথেষ্ট! সকল ভাষ্যরে এইটা ছাড়ায়ে গেছে। এই জিনিসটা শুনি যেন উৎপলদা স্বস্তি পাইতেছিলেন না!

উৎপলের ছোটবেলায় এরশাদ বন্ধু কাম বড় ভাই ছিলেন। মানে এরশাদ ছিলেন পালের গোদা। উৎপলদা পেয়ারা ভাই কয়ে ডাকতেন। একসাথে অনেক খেলেছেন। দিনহাটার স্মৃতিভাণ্ডার থেকে বের করি তার কিছু কিছু তিনি আমাদেরকে বলতেছিলেন।

ঢাকা কলেজের উল্টা দিকে হয়ত সেটা ধানমণ্ডি হকার্স মার্কেটই হবে। তাই আমরা ধানমণ্ডি হকার্স মার্কেটেই গিছিলাম। ঐখানে ঢাকাই জামদানি পাওয়া যাইত আমার জানা ছিল। কিছুদিন আগে জানলাম জামদানি শাড়ি ইন্ডিয়া প্যাটেন্ট কইরা নিছে নিজেদের নামে। হেরাই ভবিষ্যতে বিশ্ববাজারে একচেটিয়া উৎপাদক হিসেবে বৈধতা পাবে।

দাদা বললেন, দুটো জামদানি কিনতে হবে। শোনো মেয়েরা কবিতার থেকে শাড়ি পছন্দ করে বেশি। আমি বললাম, শাড়িতে কবিতার লাইন লিখে শাড়ি প্রিন্ট করলেই মেয়েদেরকে কবিতা পড়ায়ে কবিতার পাঠক বাড়ানো যাইতে পারে। আমরা হাসলাম স্মিত।

উৎপলদা বেছে বেছে দুইটা ঢাকাই জামদানি শাড়ি কিনলেন। কেনার সময় কোনো বারগেনিং করিলেন না। যা চাইল শাড়ির দোকানদার উংপলদা তাই দিয়া দিলেন। আমি কইলাম, দাদা এইসব মার্কেটে জিনিস কিনতে গেলে আমাদের এখানকার ক্রেতারা ওরা যা চায় তারে চার দিয়ে ভাগ করে সেইখান থেকে দরকষাকষি শুরু করে।

উৎপল কইলেন, আরে শোনো, মিডলম্যানরাই বেশি কামায়। এরা আর কত প্রফিট করবে!

avik jogenc
আনন্দবাজার পত্রিকার সম্পাদক অভীক সরকার ও শিল্পী যোগেন চৌধুরীর সঙ্গে

উৎপলদার এইটাই ছিল প্রথম ঢাকা সফর। ঢাকা সফরে আসার আগে সবেমাত্র বের হইছিল সুখ-দুঃখের সাথী নামের ঢাউস কবিতার বইখানি। সদ্য প্রকাশিত বইখানি উৎপলদা আমার জন্য আমার আত্মীয়ের কাছে দিছিলেন বলে মনে হয়। যাহোক আমি আমার আত্মীয়ের সূত্রে বইখানি পাইছিলাম। বইটার হলদেটে ইনারের কাগজ। হিরণ মিত্রের প্রচ্ছদখানি কেন জানি অনেক পুরনো দিনের স্মৃতিজাগানিয়া ছিল। আমার মনে হইছিল, ইস, হিরণ মিত্ররে দিয়া এ রকম চেহারার একখানা বহি যদি করাইতে পারিতাম!

যা হোক টানা এক রাত এক দুপুরে পইড়া ফেলি বহিখানি। সুখ-দুঃখের সাথী ছিল পূর্বে প্রকাশিত ৭ খানা খুদে কবিতা পুস্তিকার সম্মিলন (সুখ-দুঃখের সাথী, শরীরচিহ্ন, কহবতীর নাচ, নাইট স্কুল, টুসু আমার চিন্তামণি, মীনযুদ্ধ, বক্সীগঞ্জে পদ্মাপারে)।

আমাদের জীবনের প্রাত্যহিকতা ইতিহাস ঐতিহ্য সময় নিয়া এই বইয়ের কবিতাগুলার দেহ থাইকা নানারূপ উৎপলীয় কায়কারবারের চমৎকারিত্বে নতুন কবিতার সুবাস বার হইতেছিল।

এছাড়াও ততদিনে উৎপলের যেকোনো প্রকাশনা পাইলেই আগ্রহ নিয়া তা পাঠ করা আমাদের একটা কুঅভ্যাসেই দাঁড়াইয়াছিল। ফলে উৎপল সকাশে চিরকাল আমরা যেন তরুণই রহিয়া গেলাম।

রাস্তা পার হওয়ার ঝামেলা এড়ানোর জন্য আমরা ধানমণ্ডি হকার্স মার্কেট থাকি বার হই, রিক্সা নিই। ধানমণ্ডি হকার্স মার্কেট আর নিউমার্কেট যথেষ্ট কাছেই। আমি আর উৎপলদা এক রিক্সায় চড়ি। চন্দ্রিমা মার্কেটের সামনে দিয়া নিউমার্কেটের ওভারব্রিজের কাছে আমাদের রিক্সা পৌঁছালে একজন বোরকা পরিহিতা মাঝবয়সী মহিলা আমাদের রিক্সায় একটা হ্যান্ডবিল (বোধ হয় কোনো হারবালের বিজ্ঞাপন হবে) ছুঁড়ে দেয়। বাতাসে ভাসমান হ্যান্ডবিলখানা উৎপলদা অতি আগ্রহে কী যেন কী উড়ন্ত ধন মনে ভাবি খপ করি ধরলেন। ধরিই সুন্দর করি ভাজ করলেন। তারপর কাঁধের ব্যাগের ভেতর পুুরি রাখলেন। আমি তো অবাক! এই জিনিসটারে এত যত্ন করি রাখার কী হইল!

হয়ত এক নজর দেখলাম কী দেখলাম না! আমরা সাধারণত এগুলো হাতে হাতে বিতরণ করাকালে মনে না চাইলেও নিই পরে রাস্তায় ফেলায় দিই, অপ্রয়োজনীয় মনে করি। আমাদের চারপাশে নিরবে তুচ্ছ ঘটে যাওয়া ঘটনারাশি আমাদের ইন্দ্রিয়ের রেজিস্ট্রারে কতটুকু এন্ট্রি দিই? কতটা দরদ আমাদের চারপাশের তুচ্ছাতিতুচ্ছ ঘটনাবলি, মানুষ, পশুপাখি, গাছপালা, রৌদ্রছায়ার সংকলন, ক্ষীয়মান দৃশ্যের উপর? কতটা আত্মীয়তা তাহাদের সহিত?

shuk dukhকোনো নজরদারিই হয়ত নেই নিতান্ত প্রয়োজনের আওতায় তা যদি না পড়ে। আমাদের চারপাশের সাথে সম্পর্কই তৈরির কোনো জরুরত ভাবি না। কবি উৎপলকুমার বসুর কবিতায় এই ক্ষুদ্রদের জগতের, এই ক্ষমতাহীন, ক্ষমতায় অনুৎসাহী তুচ্ছদের সুখ-দুঃখে কাতরতার ছবি অফুরান। এরাই কবির সুখ-দুঃখের সাথী। যারা তুচ্ছ তারাই নায়ক-নায়িকা উৎপলের জগতে। ফলে উনাকে অস্থায়ী ভিত্তিতে ‘পোয়েট অব স্মল থিংস’ কইলে খারাপ তকমা হয় না।

সাধারণীকরণ একটা গঠনবাদী চিন্তা! কারণ তা সিদ্ধান্ত দিতে সদা প্রস্তুত। অতএব, এই লেখা পাঠান্তে এই সিদ্ধান্ত আমরা উঠাইয়া নিব।

কথা হইতেছিল বাতাসে ভাসমান হ্যান্ডবিলখানা উৎপলদা অতি আগ্রহে খপ করি কাঁধের ব্যাগের ভেতর পুইরা রাখলেন। আমি তো অবাক! এত যত্ন করি রাখার কী হইল, কেন তার লগে এই আত্মীয়তা!

দাদাকে জিজ্ঞেস করলাম তক্ষনি, এইটা দিয়ে আপনি কী করবেন?

উনি ওনার কাজকামের ধারার একটা অংশ কইলেন। এগুলো আমি সংগ্রহ করি। আমার বাসায় একটা বড় খাতা আছে সেখানে গাম দিয়ে পেস্ট করি। যুগে যুগে প্রডাক্টের নানা রকমের বিজ্ঞাপন দেয় ছোট পুঁজির লোকেরা। এইখানে অনেক মজার মজার জিনিস পাওয়া যায়। দেখবা আজ থেকে দশ বছর আগের একটা হ্যান্ডবিলের ভাষার সাথে আরেকটা ভাষার মিল নাই। একটা বিবর্তন চোখে ধরা পড়ে। আমি অবসরে পেস্ট করা বহুদিন আগের এইসব হ্যান্ডবিলগুলো পড়ি।

ঘটনাটা যেন আমাদের ছোটকালের ডাকটিকিট সংগ্রহের মতো!

এই খেয়ালি কামটা ওনার করা জরুরি ছিল—পরে আরও গভীরে বুঝছিলাম। রাতে যখন সুখ-দুঃখের সাথী বইটার মীনযুদ্ধ পুস্তিকার এক নম্বর কবিতাখানি পড়ি। পুরো কবিতাখানা এইখানে তুলি দিই :

‘শূন্য বোতলের কাছে চুপ করে বসে থাকি।

মনে হয় এখানে-ওখানে বেড়াল ডাকছে।

জালিম লোশন লেখা হ্যান্ডবিলখানি কিছুটা পড়েছি।

সকালের কাগজ আসেনি।

বাড়ির মেয়েরা শয্যাতুলুনি ব’লে দু-শ টাকা আদায়
করেছে। নতুন জামাই খুশি মনে হাসছে দেখছি।

সূর্য কেতুর ঘরে । মীন সরে গেছে যুদ্ধক্ষেত্রে।’

(২০০১)

দৈনন্দিনের কত চিত্র, চারপাশের কত কিছু তার কবিতার মধ্যে আইসে চুপচাপ বসে থাকে। পরে ঐরূপ আকারগুলা যোগ দেয় কোনো ছোটোখাটো মহাআখ্যান/সাধারণীকরণের লগে কিংবা প্রকৃতির থেকে ক্ষুদ্র কোনো অনুভবমালার লগে। ফলে যেন ঐসব দৈনন্দিনের বিশেষ রূপরাশি সংস্কৃতি হিসেবে রহে না আর, তা হয়ে ওঠে প্রকৃতি।

এই যে সংস্কৃতির জিনিসপত্রে প্রকৃতির বিভূতি যোগ ঘটে তা উৎপলিক এভিনিউই তৈয়ার করে।

narokhadok1এইসব সহজ জিনিসপত্তরের ব্যাকে হোমওয়ার্ক হিসেবে হয়ত কোনো একটা নোট নেওয়া থাকে উৎপলের। পরে কবিতায় ঐসব নানা জোড়াতালির, সৃষ্টি-নির্মাণের রসায়নের সাথে প্রাসঙ্গিক কিংবা লটারি করি নোট/নোটের অংশ বিশেষ বসায়ে দেন।

জালিম লোশন লেখা হ্যান্ডবিলখানি কিছুটা পড়েছি—এই রূপ কবিতার লাইন লিখছেন তার ব্যক্তিগত সংগ্রহে থাকা হ্যান্ডবিল বিষয়ে। কাছের চেনা জগত উঁকি দেয় তার কবিতায়। ফলে তাঁর কবিতার লাইন আকাশ, মহাকাশ মাকাম থাকি নাজেল হয় না।

তিনি অবশ্য আমারে তার কবিতা লেখার কায়দাকানুন কিছুটা ফাস করছিলেন পরবর্তীতে দেওয়া একটা সাক্ষাৎকারে।

নিউ মার্কেটে ঢুইকা আমরা বিক্রমপুর তথা মুন্সিগঞ্জ জেলার একটা ম্যাপ আহমদ ট্রেডিং থাকি কিনছিলাম। আমার কান্ধে সবুজ রঙের ঝোলানো ব্যাগটা দেখি ওনার সেটা পছন্দ হয় । লম্বা কাগজপত্র রাখতে সুবিধা হয় এমন দুইটা ব্যাগ কিনি উৎপলদাকে দিছিলাম আমার তরফ থাকি।

আমাদের নিউমার্কেটখান উনার পছন্দ হইছিল। নিউ মার্কেট থাকি বার হওনের সময় হাঁটতে হাঁটতে কইলেন একটা মজার গল্প।

একবার কলকাতার বইমেলায় উৎপল হাঁটতেছেন। তো পিছন থেকে অল্পবয়স্ক কয়েকজন ছেলেমেয়ে এসে উৎপলের পাঞ্জাবি ধরে হালকা করে টান দিচ্ছে। আর ওরা কইলো, দাদা আমাদেরকে কবিতা দিতে হবে। উৎপল কইলেন, দেখো, আমি তো যেখানে সেখানে কবিতা দিই না… হ্যাঁ, আমি কবিতা দিতে পারি তোমাদের পত্রিকার নাম যদি পছন্দ হয়।

ওরা বলল, দাদা আমাদের লিটল ম্যাগাজিনের নাম ‘খিদে পাচ্ছে’।

উৎপল আনন্দের সাথে জানাইলেন, তোমাদেরকে দেয়া যায়। সত্যি নামটা আমার ভাল লেগেছে।

নিউমার্কেট থাকি উৎপলদাকে জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমির হোস্টেলে নিয়া আসি। ফিরে আসার আগে জানাইলেন, কাল মালখানগরে যাইতে চান সকাল বেলায়।

(কিস্তি ৩)

ওয়েব লিংক


Utpalkumar Basu, legendary poet interviewed by the Legendary actor Soumitra Chatterjee


utpalkumar basu rabindra puraskar

More from জহির হাসান

কবি উৎপলকুমার বসুর ঢাকা সফর

আমরা হা হা করিয়া হাসতেছিলাম। উৎপলও হাসতেছিলেন। উৎপল একটানা হাসাইতে পারেন। পরের...
Read More