শুরুর কিস্তি আগের কিস্তি

অধ্যায় ৪

১৫.

চাচার লাশ কবরো নামাইয়া বাঁশের চালা দেওনের আগেই ঝুপঝুপাইয়া বিষ্টি নামল। হের লগে তুফানও ছোটল।

কবরো পানি ঢোকন থামানের লাইগ্গা একটা পলিতিনের চাইর কোনা উচকাইয়া ধইররা রাকলেন ইব্রাহিম চাচা, নাজিম ম্যাভাই, জাকির চাচা আর মফিজ দুদু।

মাইজ্জা চাচা লতিপ পণ্ডিত আর মালেক ভাই পারের তন ভিজা মাডি কোদাল দিয়া টাইন্না কবর পুরাইতে লাগলেন।

বাতাসের দাক্কা নৌকার বাদামের কাপড়ের মতন হুলাইয়া হালাইল। পাও পিছলাইয়া মফিজ দুদু উলডাইয়া পড়লেন কবরের পাড়ো।

অল্প কতক্ষণের মইদ্দে কবরো মাডি দেওন অইয়া গেল।

কবরোর উরপে পলিতিনডা বিছাইয়া মফিজল দুদু খন্তা দিয়া মাডি উডাইয়া চাইর কোনাত চাপা দিয়া দিলেন। কবরোর মাডি আর ধুইয়া যাইব না।

হুজুর ছারে বাবার ধারে কইলেন, “যাইগ্গা। রাস্তা ডুইব্বা যাইতাছে। তুফানও ছাড়ছে।”

এক খিলি পান মোহ দিয়া যান।”

দরকার নাই। মরা বাড়ি। খাওন দাওন আইয়ে না।”

হুজুর ছারে আর কোনো কতা না কইয়া হাফেজি ওড়নাডা কোমরের তন খুইল্লা দুই আত দিয়া চিইপ্পা বিষ্টির মইদ্দেই চুল মুইচ্ছা মাতার উরপে থুপ দিয়া থুইলেন। হের পরে বিদায় লইয়া হাক্কার দিগে আটতে লাগলেন।

প্লাস্টিকের জোতা জোড়া বাম আতো লইয়া হাক্কাত ওটলেন হুজুর ছারে। আডু পযজন্ত ডুইব্বা গেল। হাক্কার দুই পারই পানিত ডোবইন্না। আতল দেইকখা অনুমান কইরর‌া আডন লাগে।

হুজুর ছারেরে ফেরেস্তার মতন লাগে। হুজুর ছারে আইছে দেইকখা লাগে বড় চাচার অনেক ছোয়াব অইছে। কবরো কোনো আজাব অইব না। কবর দেওনের পর চল্লিশ পাও দূরে গেলেই ফেরেস্তারা আইয়া প্রশ্ন জিয়ায় হুনছি।

পিছে হিইররা দেহি বাবায়, নাজিম ম্যাভাই, জাকির চাচায় বাড়ির মইদ্দে ডোকতাছেন।

 

১৬.

চাইর দিক আন্দার অইয়া গেছে মেগে। অহনও মাগরিবের আজানের অনেক দেরি থাকলেও লাগে যেন রাইত অইয়া গেছে। বাতাসের দাক্কার লগে লগে বিষ্টির ফোডা নাহো মোহ গাইত্তা যায়।

বাতাসের মোখ অহন দক্ষিণ পুব দিগো। যেই দিগে চোউখ যায় পানি আর পানি। খাল পাড়োর কড়ই গাছগুলি একেক বার বাতাসে উলডাইয়া হালায় পরায়।

গামায় অহনো আমার পাশো খাড়াইয়া ভিজতাছে। মাঝে-মইদ্দে দুই দিগে মাতা জাকাইয়া কানের উরপের তন পানি হরাইত চায়। তরস্তার বাইদ্দিগে আডন ধরলাম।

মাডি পিছল অইয়া রইছে। পাও টিইপ্পা টিইপ্পা আটতে অইতাছে। নাইলে আছাড় খাওন লাগব।

বাজারের খাস মহল মজজিদের তন ছাইরেন বাজনের হব্দ হুইন্না কইলজা ধক কইররা ওডল।

বইন্না অইব তাইলে। বাজারের মজজিদের তন খালি রোজার মাসো ইফতার আর বেয়াইন্না রাইত সাইরেন বাজায়। বাজারের কোনো গরো আগুন লাগলেও বাজায়। আইজ বাজাইতাছে মনে অয় ছিগনাল অইছে দেইকখা।

কাচারি ঘরোর বেড়ার পাশে নূরনবী, ইকবাল, হিরইন্নাগোরে খাড়াইয়া থাকতে দেইকখা আউগ্গাইয়া গেলাম। ধারে যাইয়া হুনি জিগির ছারের রেডিও বাজতাছে ভিত্তের তন। রেডিওতে দুরুদ অইতাছে। দরজা দিয়া উক্কি মারন দেইকখা বাপে কইল, “তুই বাজারো যা জোংরা মাতাত দিয়া।”

বাপের লগে কাচারি ঘরোর আমাগো পড়ার বেন্চ, ছারের চইত, কাডের টুলো বইয়া মফিজ দুদু, লতিপ চাচা আশে-পাশের বাড়ির কয় মুরুব্বি রেডিও হোনে। মালেক ভাই কোমরের তন পলিতিন মোরাইন্না পান বাইর কইররা এট্টু কইররা বেকেরে দিতাছেন।

জিগির ছারে জানালা দিয়া আত বাইর কইররা তেনা বিজাইয়া হারিকেনের গেলাছ মোছতাছেন।

বাপের কথা হুইন্না কই, “বাতাসে তো উলডাইয়া বিলো হালাইয়া দিব।”

তাইলে ছারের বোস্তার পলিতিন পেচাইয়া যা।”

কী আনোন লাগব?”

তোর মারে যাইয়া জিগা কী লাগব। যাইয়া কবি কবিররাগো গরো খাওন দেওনের লাইগ্গা রান্দন শুরু করতো। মনে অয় না আইজ বাজারো গরু জয়াই করছে। থাকলে এক কেজি গোস্ত আনিছ। কেরাইছ তেল আনিছ এক বোতল। লাইটের বেটারি আনিছ দুইডা।”কইতে কইতে বাপে লুঙ্গির গিট্টার মইদ্দের তন দশ টেহার নোট বাইর কইররা দিলেন কয়ডা।

বাপে পিছেত্তন কয়, “ছয় নম্বর সিগনাল দিছে, তরস্তার আইছ।”

 

১৭.

কাছারির তন বাইরায়া ঘরো আইয়া বিজা জামাডা খুইল্লা দুয়ারের উরপে মেইল্লা দিলাম হুগানের লাইগ্গা।

দাদায় বারিন্দার চইতে হুইয়া বারে বারে চউখ ডইল্লা কানতাছেন। দড়ির লগে টাঙ্গাইন্না গামছাডা লইয়া বালা কইররা মাতা গাও মুইচ্ছা চইর পাশের কাডের আলমারির তন একডা হুকনা গঞ্জি আর প্যান বাইর কইররা পইররা লইলাম। মায় দেহি নাই কোনহানে। নাহারে আর নাছিমায় ঘরের মাঝে বইয়া বইয়া কেলার হার কুচাইতাছে।

মায় কৈ গো?”

নাহারে হারের কষ আতো পেচাইতে পেচাইতে কয়, “উত্তুরের ঘরো।”

পাগ গরের দুয়ারের লগে জুলাইন্না পলিতিনের বস্তাডা নামাইয়া উলডা কইররা পইরা লইলাম। জামার মতো। দুই জাগাত আত বাইর করনের লাইগ্গা ফুডা আছে। চোউখের সামনেও দুইডা ফুডা। দুই রানের মইদ্দের পলিতিনটাত একডা গিট্টা দিয়া দিলাম। বেশি বিষ্টির মইদ্দে গেলেও গাওত পানি লাগব না।

উডানো অহন গোছা হমান পানি। বেহেনের তন অনেক কমছে। উত্তুর ঘরো যাইয়া দেহি, মায় বড় চাচিরে ভাত খাওনের লাইগ্গা হাদাহাদি করতাছে।

বড় চাচি কামাইল্লারে বুহের মইদ্দে ঠাইশসা ধইররা হুইয়া রইছেন। মায় ডাক দিলে গেডি ঘুরাইয়া চান কিন্তুক কোনো কতা কন না।

মায় আবারো ডাক দেয়, “ওডেনগো বাবি সাব। হায়াত-মউত আল্লার আতো। হে য বালা বোজে তাই করে। হের উরপে কাউর আত নাই। এক জন মরছে দেইক্কা এক লগে বেকে মরতো অইব নি।”

কইতে কইতে মায় চাচির আতের ডেনাত ঠেলা দেন। তাও ওডে না দেইক্কা আত ধইররা টান মারতে থাহেন।

ওডেন বাবি ওডেন।”

বড় চাচি কামাইল্লারে ছাইড়রা উইট্টা বন চইর উরপে।

মায় কামাইল্লারে হোওনের তন টাইন্না নিচে নামায়া কয়, “বাবা কয়ডা বাত মোকো দে। নাইলে কেমনে বাঁচবি ক?”

কতা কইতে কইতে মায় কারপের খুটি দিয়া চোউখ মোছেন।

কামাইল্লায় এক দিনে যেন্ বাশের লাডির লাইন চিওন অইয়া গেছে। কানতে কানতে চোউক টক-টইক্কা লাল অইয়া গেছে। পেটটা পিডের লগে বাইজ্জা রইছে।

আচুমকা আমার মনে অয় বড় চাচার চেয়ারার লগে কামাইল্লার চেয়ারা হুবাহু মিল। আমি আউগ্গাইয়া যাইয়া কামাইল্লারে কইলাম, “তাড়াতাড়ি খাইয়া ল বাজারো যাওন লাগবো।”

মায় মনে অয় এতহন আমারে দেহে নাই। দমকাইয়া কয়, “বাজারো যাবি কীয়ারে এই বইন্নার মইদ্দে?”

বাবায় কয় রাইত চাচিগো ঘরো ভাত দিতো। হেয়াল্লাইগ্গা কী লাগব জিগাইয়া যাইতো।”

তুই কবিরেরে বোলাইয়া লইয়ায়। তোর বাপের লগে আমি কতা কইতাছি। হেইতের লাইগ্গা আমি বইয়া রইছি মনে করছে হেইতে।” কইতে কইতে মায় চাচিরেও টাইন্না মাডিত বিছাইন্না মোছলাত বওয়ান।

 

১৮.

আইত্তানো খাড়াইয়া অনেক্ষণ গলা হাডাইয়া চিল্লাইলাম কবির ম্যাভাইরে। “ওওওও কবির ম্যাভাই, আমনেরে মায় ঘরো আইতো কইছে।”

বাতাস-বিষ্টি একটু কমছে। তয় মাঝে-মইদ্দে বাতাস আতকা জোরে দাক্কা মারে। কবির ম্যাভাইর কোনো হাড়া-হব্দ না পাইয়া উডানোর মাঝো খাড়াইয়া কয়ডা ডাক দিয়া ঘরো হিররা আমু, হুনি দহিন ঘরের তন সাউক্কায় আমার গলা ভ্যাঙ্গাইয়া চিক্কুইর দিয়া উটছে, “ওওওও কবির ম্যাভাই, আমনেরে মায় ঘরো আইতো কইছে।”

সাউক্কায় দুইবার চিক্কুইর দিয়া থামনের লগে লগে পশ্চুম ঘরের তন ইকবালে, লেমু ক্ষেতের পাশের ঘরের তন মোসলেমে, বড় চাচার পাশের ঘরের তন নূরুন্নবী, কনু আর রহমতেও আমারে ভ্যাঙ্গাইয়া ভ্যাঙ্গাইয়া এক লগে চিক্কুইর দিতে লাগল।

গামায়ও কইত্তন দৌদ্দিয়া আইয়া আমার পাশো খাড়াইয়া গলা হাডায়া গেউয়াইয়া বারি মাতাত উডাইয়া লইল।

জিদ্দে আমি লাগে পাগল অইয়া যামু। উপ্পুর অইয়া এক দলা লোদ লইয়া সাউক্কাগো বেড়া পাছাইয়া গাওর যত জোর আছে হেয়া দিয়া মারলাম গুরাইয়া।

আচুমকা কানের ধারে লতিপ চাচার গলা হাডাইন্না ধমকানি হুইন্না ডরাইয়া গেলাম। কাচারির দিগের তন শুপারি গাছের বাগা একটা আতো লইয়া উডানের মইদ্দে আইয়া খাড়াইয়া বেকগুলিরে গাইল্লাইতে লাগলেন।হমুদ্দির পুতেগো মরনের ডরও নাই। একেকডারে চোহের সামনে পাইলে আছড়াইয়া মাইরর‌া লামু। একটা মরা বাড়ি হেয়ার মইদ্দে হামুন্দির পুতেরা ইতরামি করে…।”

সাউক্কায়ই পত্থম “ওরে মাগো ও মা” কইয়া বাড়ি মাতাত লইয়া গলা হাডাইয়া কান্দন আরম্ব করল। বোজলাম পিডের উরপে কয়ডা দিছে অর মায়। বড় চাচার বাড়িন্দাত উইট্টা আইতে আইতে নূরুন্নবী, মোসলেম, কনুরেও চিক্কুইর দিয়া কাইন্দা উটতে হুনলাম। পায়ের হব্দ হুইন্না চাইয়া দেহি রহমতে উডান পারাইয়া দরজার মিল খিইচ্চা দৌড় মারছে।

ঘরো হিররা মারে কইলাম, মা কবির ম্যাভাইরে কনডেও পাই না।

মা দেহি মোছলার কোনাত বইয়া আতা দিয়া তরকারি উডাইয়া চাচিরে আর কামাইল্লারে ভাত খাওয়াইতাছে। বেহেনে যে ধরছি হেয়ান তন বোয়াল পাতা তালবেগুন দিয়া রানছে। এক বাডি পুডি আর মলন্দাগুড়া বাজা। ডাইল আর ভাতের বাডির তন ধুমা উটতাছে। লাশ কবর দেওনের সুম মারে দরজাত পদ্দার ধারে খাড়াইয়া থাকতে দেখছিলাম। রানলো কহন! মনে অয়, নাজমা আর রেহানারে দিয়া রান্দাইছে।

কামাইল্লায় মরা মাইনষের লাইন নেলা দিয়া আস্তে আস্তে খায়। আতটা উডানোর জোরও নাই লাগে। মাজে মাজে ডুইল্লা ওডে, সন্ধ্যার সুম পড়তে বইলে যেমনে জুরি আমরা। চাচি ভাত পাতো বইয়া রইছেন তো রইছেনই।

মা, ভাত খামু।” আমার পেট মোচর দিয়া ভোক লাইগ্গা ওটলো।

কতা হুইন্না মায় কিছু না কইয়া চাচিগো কাডের আলমারির তন টিনের থাল আইন্না কামাইল্লার পাশো ভাত বাইররা দিল। পলিতিনডা খুইল্লা দুয়ারের লগে লটকাইয়া খাইতে বইলাম। মায় চাচিরে তাগাদা দিয়া কয়, “বাবি দুইডা কিছু মোহ দেন।”

 

১৯.

ভাত খাওন শেষ করতে না করতে খবর লইয়া কবির ম্যাভাই ঘরো ঢোহেন। হেয় চৌমাতার দোহানের ধারে হুইন্না আইছে চর নিউটনো বেরিবান ধুইয়া গেছে। বেউত্তা স্লুইসের গেইটও পানির চাপে ভাঙচে একটা। ধুরমুরাইয়া পানি ঢোকতাছে।

কবির ম্যাভাই খাইতে বইলে মায় আর আমি ঘরের তন বাইরায়া আই। মায় কবির ম্যাভাইরে কয়, “তোর মারে খাওয়া।”

বিষ্টি অহন ফুডা ফুডা পড়ে। বাতাসও কমছে অনেক। ফরসা অইছে এট্টু চাইর দিগ। উডানো নাইম্মা আসমানের দিগ চাইয়া দেহি বিরাট বিরাট কালা মেগের চাক উত্তুর দিগে যাইতাছে।

বাবায়ও বাজারো যাইব অহন। লগে মালেক ভাই। আমারে দেইকখা কয়, “তুইও ল। কবিইররারে বোলা।”

বড় চাচাগো ঘরো হিইররা দুয়ারের তন পলিতিনের জামাডা লইয়া ম্যাভাইরে কইলাম, “বাবায় আমনেরে বোলায়।”

কবির ম্যাভাই আত দুইয়া উইট্টা আমার লগে আইলেন। কবির ম্যাভাই আমাগো আরদো বাবার লগে থাহে। কহনো কহনো মাল লইয়া লন্চে চানপুর যায়। রাইতে হিরনের সুম আমাগো বাজারের লগে হেগো বাজারও কইররা আনেন।

বেকে বাজারো রওনা দেওনের আগে আমি দৌদ্দিয়া দরজার মাতাত চাচার কবরডা দেহনের লাইগ্গা আইয়া খাড়াইলাম। বাবায় যাওনেস সুম এইহান দিয়াই যাইব।

 

২০.

কবরের উরপে মাডি উচা কইররা দেওন অইলেও অহন পরায় হমান অইয়া গেছে। পলিতিনের নিচ দিয়া লোদ বাইরায়া যাইতাছে আস্তে আস্তে। পানি কমলে আবার মাডি দিত অইব। কবরের মাতা আর পাওর দিগে কে জানি দুইডা খাজুর ডাইল গাইররা দিছে।

বিষ্টির পানি পইররা গোড়ার মাডি সইররা যাওনে খাজুর কাডার ডাউগ্গা দুইডা কাইত অইয়া গেছে। ওই দুইডারে আবার উডাইয়া জোরে গাইররা দিলাম। হেরপরে দুই আত দিয়া যদ্দুর পারি মাডি ঠেইল্লা পলিতিনের মইদ্দে দিয়া পলিতিনের কিনার পাও দিয়া গাইররা দিলাম।

হাক্কার দিগে চউক যাইতে দেহি শুক্কুর ভাইর বাপে জোংরা মাতাত দিয়া হাক্কা পারাইয়া আইতাছে।

আমরা হেইতেরে বোলাই শুক্কুর চাচা কইয়া। পোলারে শুক্কুর ভাই।

কোমর বেহা কইররা আডে। জোংরা মাতাত চাচারে কচ্চপের মতন লাগে দেখতে। চাচায় লুঙ্গি গোছ দিয়া লইছে। হাক্কার তন নামনের সুম জোংরার অদ্দেক আর চাচার কোমর হমান ডুইব্বা গেল। আমি আউগ্গাইয়া গেলাম ধইররা পার করনের লাইগ্গা।

চাচায় আমারে দেইক্কা চিক্কুইর দিয়া কয়, “হাক্কা লারায় কোন হালার পুতে। লারাবি না কিন্তুক, এই-এই হর।”

আমি কইলাম, “না চাচা আত ধরেন, আইয়েন।”

চাচায় কয়, “, বাপে নি।”

হ চাচা। আমনে সন্ধার সুম কই যান?”

তোমাগো বাইত যাই। আমার ভাইরে বলে আল্লায় নিছে। তুমি কই যাও?”

বাবার লগে বাজারো যামু। হোনছেন নি স্লুইস গেইট ভাঙছে!”

কও কী? কয়ডা?”

চাচায় জোংরা খুইল্লা হেইডাত হেক দিয়া খাড়াইয়া জোরে একটা নিঃশ্বাস লইলেন। আড্ডির লগে চামড়া আটকাইয়া আছে খালি। বেকে কয় শুক্কুর চাচার বয়স আশি-নব্বুই। শুক্কুর ভাই কয়, একশ বিশ বচ্ছর। ছোড কালে হক্কুনের বিচি বাইজ্জা খাইছে। হেয়ার লাইগ্গা হক্কুন দূরের কতা আজরাইলও আইয়ে না।

চাচারা আওনের আগে শুক্কর চাচায় বাবের আইল্লা আছিল। বাবায় আমারে কইছে, কহনো বেয়াদ্দপি না করতো। বাবার কতাত হুনছি, অহন যে আমাগো বাড়ির পশ্চুম দিগে বাড়ি এইডা বাবার জমিত। আগে হেগো ঘর আছিল আমাগো বাড়িত। বাবায় হরাইয়া ওইয়ানো বানাইয়া দিছে।

আরেগ ঘর আইল্লা আছে পুব কান্দি খাল পারো। শুক্কুর ভাই তহন অনেক ছোড আছিল। পরায় বেহেনে অহনও চা খাওনের লাইগ্গা চাচায় আমাগো বাইত আইয়ে। ঘরো ভাত না দিলে এই বাড়ি ওই বাড়ির লগে আমাগো বাইতও ঘোরন দেয়। চাচায় আমারে দেখলেই ঘরো কোনো অষুধ আছে নি জিগায়। আমি মারে না দেহাইয়া যেইডা থাহে হেইডাই আইন্না দেই। পত্তেক বারই চাচায় কয়, অনেক উপকার পাইছেন।

শুক্কুর চাচার একটা দাঁতও পড়ে নাই। চাচায় কয়, “মোতনের সুম মোক বন থাকলে মরণের আগ পযজান্ত দাঁত পড়ব না। মুতের গন্ধ অইল দাঁতের শত্রু।”

কিরমি বন্দের অষুধ অইল কেরাইছ তেল। বোতলো আঙ্গুল বিজাইয়া দুই রাইত ডইল্লা দিলেই সব মইররা যাইব।”

শুক্কুর ভাই চরফ্যাশন বাজারো দোহানো দোহানো মাল টানে। হের তিন মাইয়া দুই পোলা। রাইতে হিইররা আওনের পর যারে চোউখে দেহেন গাইল্লাইতে থাহেন। পোলাইনেরে ঘুমের মইদ্দে ঘুরুম ঘুরুম কিল মারেন। রুহুল আমিনগো কান্দন আমাগো বাইত্তনও হুনা যায়। শুক্কুর ভাই হের বাপেরেও ছাড়ে না। হেইতেরে কিছু কইলে ঘরের তন বাইত্তন বাইরায়া খালপারো আইয়া বিলাপ কইররা কান্দে। অনেক রাইতে আমার ঘুম ভাঙ্গছে শুক্কুর চাচার বিলাপের সুর হুইন্না। হোনলে ডর লাগে।

চাচার লাডি ঘুরানি দেখলে মনে অয় হে অহনও জোয়ান। আমাগোরে কয় দিন নিজের ভর দেওইন্না আতের লাডি ঘুরাইয়া দেহাইছেন।

বাবায় কইছে, হেইসুম ধান কাডনের লাইগ্গা লাইড্ডাল আইলে শুক্কুর চাচা লাডি লইয়া বেকের আগে খাড়াইতেন। লগে অন্য আইল্লারা। কোনো বার কেউ জমিন কাটতো পারে নাই। একবার জমিন দখলের লাইগ্গা কিসমত মাদবরের দল রেডি অইছে হুইন্না শুক্কুর চাচায় বড় পোলারে মাইররা জমিত গাইররা রাহনের কতা কইছে বাবারে। যহন আল দিব, লাঙ্গলের লগে লাশ উইট্টা আইব জমিনের তন, মাডার কেইসে জেলো যাইব মাদবর।

চাচার বড় পোলা সোবহান তহন চাচার লগেই জমিত কাম করে। মারনের আগের রাইতে অনেক খাওন দাওন আউশ-ফুত্তি দেইকখা সোবহান ভাইর সন্দো অয়। হেইতে তো বেকই হুনছেন। হের উরপে বাপেরে দেহে পলাইয়া ছেনিত ধার দেয়। রাইতে পেট ভইররা ছাগলের মাংসের ভাত খাইয়া সোবহান ভাই হেই যে পলান দিছে আইজও হিইররা আইয়ে নাই।

বাবায়, মালেক ভাই, কবির ম্যাভাই বাইত্তন বাইরাইতারছে দেইকখা কইলাম, চাচা আমনে যান, বাজারো যামু।

চাচায় কয়বাবা, আমার লাইগ্গা একডা অষুধ আইন্নো। হেই দিনের অষুধডায় পিড বিশষের উপহার পাইছিলাম।

আমি কই, আমনে যান চাচা। আনমু।

বাবা তোমারে আল্লায় বাঁচাইয়া রাহুক, আল্লারে ও আল্লা।” কইতে কইতে শুক্কুর চাচায় বাইদ্দিগে আডন ধরে।

(কিস্তি ৫)