Pages Menu
TwitterRssFacebook
Categories Menu

Posted by on Jul 26, 2016 in উপন্যাস, খইট্টাল | Comments

খইট্টাল (৫)

খইট্টাল (৫)

শুরুর কিস্তি আগের কিস্তি

অধ্যায় ৫

২১.

বাবায় বেকের আগে, হের পরে কবির ম্যাভাই হাক্কার উরপে উটলেন।

মালেক ভাই পিছের তন আমার হাপ প্যান ধইরর‌া রাকলেন পইররা গেলে জানি ধরতারেন। মইদ্দে মইদ্দে কেচকি দিয়া বাশ গাইররা উরপে দিয়া লম্বা বাশ হালাইয়া বেহেনে তারাস্তার হাক্কা বানাইছে।

এক বাশের হাক্কা। আতলডাও চিওন। কেচকির বানও জুইত অয় নাই। কয় দিনের মইদ্দেই মনে অয় ছুডব।

চাইজ্জন ওডনে ডোলতাছে। আস্তে আস্তে পাও টিইপ্পা হাক্কার তন নাইম্মা গেলাম কেও খালো না পইররা।

আমাগো বাইত্তন বাইরায়া পুব মিল কদ্দুর গেলেই চৌরাস্তা আছে একটা। হেইডা দিয়া ডাইন দিগের রাস্তাত ওটলে এক টানো বড় খালের পার পরযান্ত যাওন যায়। খাল পার দিয়া আটলে এক মাইল পরে বাজার। কাইল রাইতের তন বিষ্টি পড়তাছে। খাল পারের চিহন রাস্তাডা অনেক পিছল থাকব আইজ। মাডির নিচের তন ঝিনাই, হামুকের ধারাইল্লা কোনা বাইরাইয়া থাগব। পিছলাইয়া আছাড় খাইলে পাও কাটতো পারে।

চৌমাতাত আইয়া দেহি বাশাইল্লাগো বাড়ির তন কালিবাড়ি পরযান্ত রাস্তার পাশের বিলো পানির মইদ্দে মানুষ আর মানুষ। রাস্তার ওচা জাগাত মরিচ আর তিল গাছের জাগ। বিষ্টির পানিত ডুইব্বা যাওইন্না মরিচ গাছ যদ্দুর পারতাছে ডুবাইয়া ডুবাইয়া উডাইতাচে। আইজ উডাইতো না পারলে সব পইচ্চা যাইব। তিসি গাছও আছে কোনো কোনো ক্ষেতো।

বরানদ্দিনের সোবহান কন্ডাকটরের জমিন এগুলাইন। পুরা বিলডাই হেইতের। বরগা দিয়া রাহেন। যা অয় অদ্ধেক জমিনও খাড়াইয়াই হেইতের মাইনষে বেইচ্চা টেহা লইয়া যায়।

 

২২.

গোছ মাইররা লোলের পাশে খাড়াইয়া বিলের মইদ্দে ঝাহি জাল দিয়া নইসসা দুদু আর কাশেম দাদায় মাছ ধরতাছে। একজন জাল মাইররা টাইন্না উডানের পর আরেকজন জাল মারে। কোমরো জগ বান্দা।

পাশ দিয়া যাওনের সময় মালেক ভাই চিক্কর দিয়া নইসসা দুদুরে জিগায়, কীরে নইসসা, আমদানি কেমন?

কী পায় দেহনের লাইগ্গা কবির ম্যাভাই কাশেম দাদার পাশো খাড়াইলেন। কাশেম দাদা জাল টাইন্না কাডি জাড়তে লাগলেন। তিনডা দুই কর কই পাছের পোনা জালের ঝালরের তন মুট কইরর‌া ধইরর‌া কোমরো বান্দা ছিলবারের জগের মইদ্দে থুইলেন ।

অহন বিহাল বিহাল লাগে। বিষ্টি অহন এক্কারে কম। বাতাসও গাও লাগে অল্প অল্প। দোহানের সামনে খাড়াইয়া পাঁচ জন জাইল্লা চা আর বিড়ি খাইতাছে। লগে একজনের পোলা মনে অয়। পত্যেকের লগে কানশির মইদ্দে দড়ি বান্দা তিন চাইড্ডা কইরর‌া ইলিশ মাছ। বেউত্তার তন আইছে মনে অয়। ঝড় বাদল দেইকখা আই আর নৌকা নামায় নাই ।

বেউত্তার ধারে বেড়ি বান্দো আমাগো এক আত্মীয় থাহে। কালিকবুরির দাদা মইররা গেছে অনেক আগে। বাবায় পনরো বিশ দিন আগে আমারে পাডাইছিল নুন কাডা ইলিশ আনোনের লাইগ্গা। দাদির বড় পোলা আর মাইজ্জা পোলায় ছোট মাইয়ার জামাইর লগে নদীত যায়। বেহেনে আডন শুরু কইরর‌া দুরপের আগে ট্যাংড়ার আটের তনও দেড় মাইল উত্তরে ঠাডা রইদের মইদ্দে টোগাইয়া টাগাইয়া মাইনষেরে জিগাইয়া দাদির বাড়ি পাইলাম।

বেড়ি বান্দের পশ্চুম পাশে চিকন আডা পত দিয়া নামলে কেলা গাছের ঝুপড়ির মইদ্দে দুইডা দোচালা খেড়ের ঘর। দাদি আমারে দেইকখা আর বাপের নাম হুইন্না গলা পেচাইয়া ধইরর‌া কতক্ষণ কানলেন। দাদির শরীল দিয়া দর দর কইররা ঘাম পড়তে আছিল। দাদির গাওর ঘাম আমার নাহে মুহে মাইকখা গেল। জিব্বাত মনে অয় নুন খাইছি। লগে দাদির আতের গোবরের গন্ধে আমার মাতা আউলাইয়া গেছিল। আমিও কাইন্দা দিছিলাম। মনো অইছিল দাদি আমারে অনেক দিন ধইরর‌া দেখতে চাইছিল।

একডা আছাড় খাইয়া এই দুইন্নাত হিররা আইলাম। কবির ম্যাভাই আত ধইরর‌া টাইননা উডাইলেন আমারে। রাসার নিচে নাইম্মা বিলের পানি দিয়া লোদ ধুইয়া লাইলাম। দাদির কতা মনে কইরর‌া পাও টিইপ্পা আডনের কতা ভুইল্লা গেছিলাম।

বাবায় দোহনের তন একডা সিগারেট কিইন্না মোক ভরা ধুমা ছাইরড়া বাজারের দিগে আডন ধরলেন।

 

২৩.

আমাগো কান্দাকাডি দেইকখা উডানের কোনাত গোবরের আতা বানান থুইয়া দাদির ছোড পোলা আর মাইয়া আমাগো পাশে আইয়া চাইয়া থাকল। দাদি ঘরের মইদ্দে নিয়া মাডির উরপে মোছলা পাইত্তা বইতে দিলেন। রোকেয়ারে কইলেন কাড়ের উরপের তন বিছনা চাদুর নামাইয়া মোসলার উরপে দিতো।

দাদি সালামতেরে কইলেন দৌদ্দিয়া যাইয়া গদির তন কয়ডা টেহা লইয়া চাউল কিন্না আনতো। আমি কইলাম আমিও যাই। কাচের গ্লাস ভইররা পানি খাইয়া আমি আর সালামতে বেড়ি বান্দো উইট্টা আইলাম। আমার তন বচ্ছর খানিক কম অইবো মনে অয় বয়স। তয় গাইট্টা গুউট্টা আমার মতনই।

নদীর পাড়ো কাউড়া গাছগুলান অদ্দেকের মত ডুবা। হোগল পাতার কোনডার মাতা কোনো মতে দেহা যায়। তখন জোয়ারের সময় আছিল। বেড়ি দিয়া আদা মাইলের মতন আডনের পর ছালামইত্তায় আচমকা খাড়াইয়া নদীর মইদ্দে কী জানি দেখতো চাইলো কপালের উরপে আত থুইয়া। হেরপর গেডি বেহা কইরর‌া পাঁচ ছয় বার এঁ এঁ এঁ কইরর‌া লুঙ্গি খুইল্লা নদীর পানিত লাপ মাইরর‌া পড়লো।

বালা কইরর‌া চাইয়া দেহি দূরে একটা জালছুডা ইলিশ মাছ বাইশসা যাইতাছে। হাপ পেন আর জামা নদীর পাড়ো খুইল্লা লেংডা অইয়া ছেলামতের পিছে পিছে হাতরাইতে লাগলাম।

ছালামইত্যায় আমার লগে হাতরাইয়া পারবো এইডা জীবনেও চিন্তা করি নাই। তয় বালাই হাতরায়। নদীর বড় বড় ডেউয়ের মইদ্দে উদের মতোন হাতরাইছিল। আমিও পাল্লা দিয়া হাতরাইছি। ওজন আলা সোরতের মইদ্দে উল্টা ঠেইল্লা ডুব মাইরর‌া অর তন বেশি আউগ্গাইয়া গেছিলাম। তয় মাছটা ছেলামতেই আগে ধরলো। মাছ ধরনের লগে লগে পাশো আমারে দেইকখা ডরাইয়া ভিরমি খাওনের দশা অইছিল।

মনে হয় চিন্তা করতো পারে নাই আমি অর পিছে পিছে আমু। পরে দুই জনে লগে লগে হাতরাইয়া পারো আইয়া ওটলাম। ছেলামতে কয় মাঝে মইদ্দে জাল ভাসাইন্না কাডি পায় অয়। পাইলে গদিত আষ্টো আনা কইরর‌া বেচন যায়। মাছ পাওন যায় কম।

আইজকার মাছটা বেশি পচে নাই অহনও। সোয়া আত লম্বা একডা মাছ। মাছ মাডিত থুইয়া লুঙ্গি দিয়া মাথা মোছতে মোছতে ছেলামইত্তায় কয়, “আমনে মাছ লইয়া বাইত যান। আমি চাউল লইয়া আই।”

 

২৪.

বাজারোর ধারে খাল পাড় আইয়া দেহি বাইদ্দাগো লাইনে লাইনে ছোড নৌকা খালের মইদ্দে। সবগুলির তন রান্দনের ধুমা ওড়তাছে। অনেকগুলাইন ছোড পোলাপাইন পাড়ের তন দৌদ্দিয়া লাফ মাইড়া খালো ডুবাইতাছে। নৌকাগুলি পাড় অওনের সময় বালা কইরর‌া চাইয়া দেখলাম রফিক ভাই আছে নি। গত বচ্ছরের আগের বচ্ছর ছোড চাচার পোলা রফিক ভাই এক বাইদ্দার দলের লগে গেছেইগ্গা। আর আইয়ে নাই। রফিক ভাই কানের ধারে বেক সময় রেডিও ধইরর‌া গান হুনতেন।

হেই দিন দুরপে একদল বাইদ্দা উডানো বইয়া কেউ হাফ খেলা দেহাইল, আমরা ভিড় কইরর‌া দেখলাম। সফির মা চাচির দাঁতের তন পোক বাইর কইরর‌া আচ্চাইজ্জ কইরর‌া দিলেন এগজনে। কাশেইম্মার মা-চাচির মাতার বিষ ঝাইরর‌া নামাইয়া কপালের দুই পাশো শউশষার তেল মাইকখা হুকনা মরিচ লাগাইয়া দিল এগজন।

পত্যেক কামের লাইগ্গা সোয়া সের কইরর‌া চাউল দেওন লাগছে। আচুমকা কাডা বাগানের তন চিক্কুর হুইন্না আমরা দৌদ্দিয়া যাইয়া দেহি পিছের বিল দিয়া বাইদ্দাগো কয়ডা পোলাইন গুলাইল দিয়া কয়ডা মুরকা মাইরর‌া পলাইতাছে। বাইদ্দাগুলাইন কয় মুরকা না এগুলাইন ডাউগ। হেরপর কোন ফাকো গেছিগ্গা হেরা। পিছে পিছে রফিক ভাইও গেছে। পরে খবর আইছে বাইদ্দাগো লগে আছে হেইতে।

 

২৫.

চাইর দিগে আন্দার অইয়া আইছে। কালিবাড়ির তন ধূপের গন্ধ নাহো আইয়ে। বেউত্তার তন একটা লন্চ আইতাছে দেইকখা বাবায় মালেক ভাইরে কইলেন, দেখ খাড়া করাইতে পারছ নি। মালেক ভাই কাছা মাইরর‌া খালের কিনারো নাইম্মা দুই আত উরপে তুইল্লা থামানোর লাইগ্গা চিক্কুর দিতে লাগলেন ।

ছোড এক ইন্জিনের লন্চ। ইস্টাট বন্ধ কইরর‌া মুখ খালপারো লাগাইয়া দিল। আমরা লাফ মাইরর‌া লন্চো উটলাম। মানুষ বেশি নাই। সব মিলাইয়া দশ বারোজন অইব। একজনে চাইর আউত্তা দই-দউ আডুর মইদ্দে লইয়া বইয়া রইছে। মনপুরার তন আইছে মনে অয়। মইষের দুদের দই।

সামনে খাড়াইয়া লগি দিয়া পিছে ঠেইল্লা লন্চেরে মাঝ খালো লইয়া আইনলো একজনে। লন্চ ইস্টাট দিয়া চলতে আরম্ব করল। খুশিতে আমার শরীল কাইপ্পা ওটল। বাতাসের ধাক্কা গাওত অহন বেশি কইরর‌া লাগতে লাগল। আন্দার চাইপ্পা আইছে অনেক। মেগের দিগে চাইয়া দেহি আসমান দেহা যায় না। কুচকুইচ্চা কালা মেগ।

ঘুইরর‌া  ফিইরর‌া দাদির কতা মনে পড়তে আছে। বাপে হেইতিরে আমাগো বাইত জাগা দেয় না কিয়ারে।

কাইল রাইত কেমনে গেছে। কুডার গড় তুলি পর্যান্ত ডুইব্বা যাওনের কতা। বাপে দেহি কাডের বেন্চো বইয়া কার লগে কতা কইতো আছে। চাইয়া দেহি হোসেন মেম্বার চাচায়। হেগো সামনে গলাত ডালা ঝুলাইয়া এক পোলায় বাদাম বেচতাছে।

লন্চ ঠেক্কর ঠেক্কর কইররা আউগ্গাইতাছে। দূরো খালোর মাতাত বাজার দেহা যাইতাছে আবচা আবচা। খালের ডাইন পার ঘেইশসা চলতাছে। লন্চের পিছে পিছে খালের কিনারো পত্থমে পানি টান পরে পরে আবার জোয়ারের ঢেউয়ের মতো উচকাইয়া বাড়ি মারে। দিনো অনেক সুম বগ উইরর‌া উইররা খালের কিনারো পারি উরপে উইটঠা যাওইন্না মাচ ধইরর‌া খায়।

হেইদিন নদীর পারো আটতো অনেক বালা লাগছিল। ছালামইত্তারে কইলাম হে-ই যেন মাছ চাউল লইয়া যায়। আমি পরে যামু। কতক্ষণ ঘ্যান ঘ্যান করলেও অর কতা আমি হুনি নাই। পেডো বোক লাগলেও বেড়ি বান ধইরর‌া উত্তুর দিগে আটতে থাকলাম। ছোড গাট পইয়া চা খাইলাম বিস্কুট দিয়া। বাবায় মাচ নেওনের সুম লন্চ দিয়া যাওনের লাইগ্গা টেহা দিছে কয়ডা। বাপে মনে অয় জানতো না কালিকাবুরির দাদি কত গরিব।

হিইরর‌া গেছিলাম রাইত নামনের পর। অনেক দূরে গেছিলাইম গা। হিইরর‌া দেহি উডানো মোছলা বিছাইয়া চিত্তাইয়া হুইয়া রইছে ছেলামইত্তায়। হের পাশে আরেক বেডা।

আমারে দেইকখা দুইজনে উইটঠা বইল। বেডায় বোজলাম জামাই।  দাদি আর হের ছোড মাইয়া চুলার ধারো বইয়া রইছে। ছোড মাইয়ার পরনো শাড়ি। আমার তন অল্প এট্টু বড় অইলেও অহনই বিয়া অইয়া গেছে ।

আমারে দেইকখা দাদি উইট্টা আইয়া কই গেছি লি কই গেছি লি ভাই কইতে কইতে আবারও জাবরাই ধরলেন। আমি কইলাম, এট্টু ঘুইরর‌া দেখলাম।

আমাগো কতায় ঘরের মইদ্দের তন দাদির বড় পোলায় বাইরায়া আইয়া উডানো খাড়াইল।

দাদি কয় হারাদিন ঘুইররা ভাইর মোকটা ছোড অইয়া গেলে। ছেলামত পিড়া লইয়া আয়। তোরা বেকে বয়। ভাত দিতাছি।

(কিস্তি  ৬)