Pages Menu
TwitterRssFacebook
Categories Menu

Posted by on Sep 11, 2016 in খইট্টাল | Comments

খইট্টাল (৬)

খইট্টাল (৬)

শুরুর কিস্তিআগের কিস্তি

অধ্যায় ৬

২৬.

চুলার ধারের তন একটা পিড়া আইন্না দিয়া ছেলামইত্তায় ঘরের মইধ্যের তন গোল কইররা বডা বড় একটা ওগলা আইন্না মোছলার পাশো বিছাইয়া দিল উডানো। রোকেয়ায় চুলার পাশে ঠেক্কর দেওইন্না আড়াই সেইররা ভাতের পাতিলডা খোলাতা দিয়া ধইররা মোছলার ধারে আইন্না হরা উডাইয়া দিল। হেয়ার পর আনল সালনের পাতিল। দাদি ঘরের মইদ্যের তন দুইডা বড় চেরাগ আইন্না চুলার তন আগুন ধরাইয়া আইন্না ওগলার দুই কোনাত দেড় আত বড় দুইডা দেউড়কার উরপে থুইলেন।

ভাত খাওনের জাগাডা অহন দেহা যায়। এমনেও আন্দার বেশি আছিল না। আসমানো দুই তিন দিন্না ফকফইক্কা চান। আমুইশশার অহনো বারো তের দিন বাহি আছে। দুই ঘরের মইদ্যের জাগা দিয়া বাতাস আইয়া চেরাগের আগুন কাইত কইররা নিভাইয়া লাওনের অবস্তা করলে দাদির বড় পোলায় কোনো কতা না কইয়া চেরাগের নালি টাইন্না বড় কইররা দিলেন আগুনসহ। হেরপর বাতাসের পতের তন হরাইয়া থুইলেন। সইলতার কালা হুলকা আর কেরাইছ তেল লাগইন্না আঙ্গুলগুলি মুইচ্চা লাইলেন লঙ্গি দিয়া।

হারা দিন না খাওইন্না। দাদির তিন পোলা, ছোড মাইয়া, মাইয়ার জামাই আর আমি দাদির সামনে গোল অইয়া বইলাম খাইতো। নাইকেলের বড় আচা দিয়া পাতো ভাত তুইল্লা দিলেন দাদি। ভাতের ধুমা পাতের তন উইট্টা নাহে-মোহে ভিজা গরম বাতাসের ঝামটা দিল। আউশ চাউলের ভাত। ঘ্রাণ হুইক্কাই বুজছি। দাদি পাতিলের তন ডাইল বারইন্না টগ্গি দিয়া একটা কইররা ইলিশ মাছের টুকরা আর টগ্গি ভরা লাল টক-টইক্কা ঝোল বাইররা দিয়া নিজেও খাইতে শুরু করলেন। আগুনের লাহান গরম ভাত আর ঝোলের মইধ্যের বাডা মরিচের ঝালের চোডে আমার চউক, নাক দিয়া ঘাম ছুইট্টা গেল!

ছেলামইত্তায় ছাড়া বেক্কে মিল্লা পেট ভইররা ভাত খাইলাম। মাইধ্যে, ছেলামইত্তায় মাছ পাইছে বইল্লা হের মারে কইল এক টুকরা বেশি দিতো।

দাদি কয়, “কাইল দুরপে খাইছ ছেলামত।”

ছেলামত ঘুইররা ভাতের থাল পিছে থুইয়া মোছলাত গেডি বেয়া কইররা বইয়া রইল।

দাদি হের পাতের তন অদ্দেক মাছ ভাইঙ্গা ছেলামতের থালো বুইররা আঙ্গুল দিয়া টিপ মাইররা থুইয়া চিক্কুইর মাইররা ধমকাইয়া উটলেন, “আর জ্বালাইচ নারে ছেলামইত্তা!”

ছেলামইত্তায় মার কতায় অনেক কষ্ট পাইছে এমন রাগ কইরর‌া এ্যাঁ এ্যাঁ কইররা জোরে কাইন্দা উইট্টা খাড়াইয়া তিন চাইরবার মাডির উরপে দুই পাও দিয়া দুপ দুপ কইররা লাতি মারল। হেয়ার পর কানতে কানতে উডান দিয়া দৌদ্দিয়া বেড়ি বান্দের দিগে গেলইগ্গা।

দাদি ঘরের তন উডানো খাড়াইয়া চিল্লাইতে লাগলেন, “যাইছ নারে ছেলামইত্তা, যাইছ না কইলাম।”

দাদির লগে লগে রোকেয়ায়ও কয়বার হিররা আইতো কয় ছেলামতেরে।

ছেলামইত্তায় কোনো কতা না হুইন্না গেলোইগ্গা।

 

২৭.

উডানোর কোনাত যাইয়া জগের তন পানি ডাইল্লা আত ধুইয়া প্যান্টো আত মুইচ্চা হালাইলাম।

দাদির বাড়ির তন এট্টু দূরে বেড়িবান্দের কান্দিত অনেগগুলি ঘর। পাশের বাড়িত কয়জনে জোরে জোরে কতা কইতাছে। বেড়ির উরপের তন এগ বেডায় চিল্লাইয়া ডাক মাইররা উঠলো, “ইদ্দিস দুদু, ও ইদ্দিস দুদু!”

দাদির বাড়ির পচ্চুম পাশের তন যদ্দুর চউখ যায় খোলা খেত। বেক খেতোই মনে অয় বাদাম লাগাইন্না।

রোকেয়ার জামাই কোনো কতা না কইয়া আমার পাশো খাড়াইয়া আত দোওনের পর মোক মুইচ্ছা জগ কাইত কইররা গালো পানি লইয়া চাইর পাঁচ বার কুলকুলি করল। হেরপর দহিনের ঘরের দুয়ারো খাড়াইয়া কইল, “রোকেয়া, ওই রোকেয়া, মারতন পান আছে নি, লইয়া আয়।”

দাদির বড় পোলায় ঘরোর মইদ্য যাইয়া পরায় লগে-লগেই আতো কইররা একটা গঞ্জি লইয়া আবার বাইরায়া আইল। ওইডা পরতে পরতে বাড়ির তন বাইরাইয়া বেড়ির দিগে আডন ধরে আর ছোড ভাইরে বোলাইয়া কয়, “সবুজ ল, তরাস্তার ল। নৌকা ছাইড়রা দিব।”

বোজলাম রাইতে মাচ ধরার নৌকাতে যাইব হেরা। বেহেনে ফিরব মনে অয়।

দাদি ঘরের মইদ্দের তন রোকেয়ারে বোলাইয়া কয়, “রুকি, পান ল।”

উত্তর পাশের কেলাগাছগুলির ধারে রোকেয়ায় এতক্ষণ থাল বাডি ধুইতে আছিল। “হেইতেরে কন না লইতো”—ঝাজাইয়া ওডে রোকেয়ায়।

“তুই লইয়া যা হারামজাদি!”—দাদি ঘরের মইদ্দের তন আবার চিক্কুইর মারেন।

রোকেয়ায় আতের তন টিনের থাল আছাড় মাইররা হালায়া ঘরের মইদ্দের তন পান আইন্না জামাইর আতো দিয়া হিইররা আইতে লাগল। এমন সুম কী অইল রোকেয়ার জামাই ওর গেডি ধইররা ঘরের মইদ্দে টাইন্না লইয়া গেল। ডরে আমার গাও কাইপ্পা উটল। রোকেয়ায় অর জামাইর বগল হমান লম্বা। অর তন অর জামাই দেড় আত লম্বা আর ভইষের মতন লম্বাচুরা। ভিতরের তন নাড়ার দুয়ার টাইন্না ঘর বন্ধ কইররা দিল বেডায়।

 

২৮.

ছেলামইত্তায় বাইত্তন বাইরাইয়া যাওনের লগে লগে মেজিকের মতন সব কিছু পাল্টাইয়া গেল মনে অয়।

দাদি আমারে ঘরো যাইয়া ঘুম যাওনের লাইগ্গা বোলায়। আমি কই, “এট্টু ঘুইরর‌া আই দাদি।”

আর কিচু না কইয়া আমি বেড়ি বান্দের দিগে আডন ধরি। চাইদ্দিগে ফকফইক্কা চান্নি। নদীর তন বুক ধর ফর করাইন্না বাতাস আইয়া গাওত লাগে। বেড়ির উরপে আইয়া দেহি কোনো দিগে কেউ নাই। নদীর মইদ্দে দূরে ডিমডিইম্মা জালের লগের লাইন লাইন বাত্তি দেহা যায়। আর দহিন দিগে বেড়ির মোড়োর গদীগুলাইনের হেজাক বাত্তির আলো। আমি উলডা বাতাস ঠেইল্লা গদীর দিগে আডন ধরি।

বেড়ির পশ্চুম পাশো ছোড ছোড নাড়ার ঘরগুলির পিছনের তন চউখ যদ্দুর যায় জমিন আর জমিন। একটা চিঅন খাল কোন সুম বেড়ির ধারো আইয়া আবার দূরে চইল্লা গেছে। বেড়ি বান্দানের সুম মনে অয় অইআন তন মাডি উডাইছে। জোয়ার আইছে অহন। কেওড়া গাছ আর ওগোল গাছ পানির তলো গলা হমান ডুইব্বা রইছে।

আটতে আটতে আরেট্টু আউগ্গাইয়া দেহি নদীর পাশো হমান মতোন একডা যাগাত ছেলামইত্তায় সহ আট দশডা পোলাইন মিইল্লা টাক টাক খেলতাছে। আমি ডালো নাইম্মা অগো খেলা দেখলাম কতক্ষণ।

ছেলামইত্তায় আমারে দেহে না। লঙ্গি গোছ মাইররা খেলতাছে। পরের বার বোল দিতো আইলে অর চাইয়া বড় এগ জনের কোমরো ডুস মাইররা হালায়া ধইররা হালাইল। উইট্টা খাড়াইয়া বুক চিতাইয়া চাইদ্দিগে চাওনের সুম আমার উরপে চউখ পরলো। কোডের তন বাইরায়া আইয়া কয়, “কুনসুম আইছেন?”

“এট্টু আগে।”

“বাইত যান, আমি পরে আইমু।”

কইলাম, “না, বাইত যামুগ্গা।”

ছেলামইত্তায় আমার আত ধইররা টাইন্না বেড়ি বান্দের উরপের দিগে লইয়া যাইতে লাগল। কয়, “আইজ রাইত বেরান। লন বাইত লন।”

“না, ল তোরে কিছু কিন্না খাওয়াই। তোর ত পেডো ভোক।”

“লাগবো না, রাইতে বাইত গেলো মায় ভাত দিবো আবার।”

“ল তাইলে আড়তের দিগের তন ঘুইররা আই।’

ছেলামতে কয়, “লন তয়লে।”

কদ্দুর আডনের পর ছেলামতে কয়, “দৌড়ের পাল্লা দিবেন নি?”

“ল,” কওনের লগে লগে দৌড়ান আরম্ব করল ছেলামইত্তায়। আমি সেন্ডেলগুলি বাম আতো লইয়া খিইচ্চা দৌড় লাগাইলাম। অয় বুক সামনের দিগে ঠেইল্লা দুই আত দুই দিগে মেইল্লা অলমবুশের মতন দৌড়াইতাছে। পাশ দিয়া যাওনের সুম আত বাড়ি খাইলে নাক মুক থাকবো না। মনে অয় না আমার লগে পারবো, আমার পায়ের গোছা সহজে বিষ করে না। অল্প কতক্ষণের মইদ্দেই অরে ধইররা হালাইলাম। কিন্তুক অরে পিছে হালাইয়া আউগ্গাইয়া যাওনের সুম আরো জোরে দৌড়ান শুরু করল। মনে অয় অর শক্তির কোনো শেষ নাই। আমিও অর লগে লগে দৌড়াইতে থাকলাম। মনে অয় আমি আরো জোরে দৌড়াইতে পারলে অয়ও আরো জোরে দৌড়াইত।

বেড়ির ধুলে মাঝে মইধ্যে পাও পিছলাইয়া যাইতো চায়। সামনের তন তিন বেডারে আইতো দেইক্কা আমরা বেড়ির বাম কিনার ধইররা যাইতে লাগলাম। পাশ দিয়া যাওনের সুম এগ বেডায় চিল্লাইয়া উঠল, “হামুন্দির পুতেগো অইছে কী!”

দৌড়াইতে দৌড়াইতে আমার গলা হুগাইয়া যাইতে লাগল। ভরা পেট লইয়া দৌড়াইতেছি দেইক্কা পেট টন টন করতাছে। এক মাইলের চাইর ভাগের এক ভাগের মতন রাস্তা অল্প কতক্ষণের মইদ্দে পারাইয়া আইলাম। ঘাডোর ধারে দুই জনোই এক লগে আইলাম। দৌড়ান শেষে ছেলামতে ঘাডের ধারের খোলা যাগাত চিত অইয়া হুইয়া পড়ল। আমি দুই আডুর উরপে আত দিয়া দম লইলাম কতক্ষণ। ছেলামইত্তায় ভালাই অয়রান অইছে। আমিও কম না। গাডো মাছের গদির লগে কয়টা চা’র দোয়ান আর ভাতের হোটেলও আছে। অহন ভিড় তেমন নাই। যাইয়া চা’র দোয়ানের তন এগ গেলাস পানি আইন্না ছেলামইত্তারে দিলাম। অয় উইট্টা বইয়া ডগ ডগ কইররা খাইয়া ভেটকাইয়া আইসসা দিল। কয়, “আমনে খাওনের টেহা দিয়া আদ ঘণ্ডার লাইগা সাইকল ভাড়া লইয়া দেন। দুই টেহা নিব।”

কইলাম, “দিমু, আগে ল চা বিস্কুট খাই।”

(চলবে)