‘গুরু ও চণ্ডাল’ নিয়ে মাহবুব মোর্শেদের ইন্টারভিউ

গল্পকার, ঔপন্যাসিক ও সাংবাদিক মাহবুব মোর্শেদের এই সাক্ষাৎকার নেওয়া হইছিল ২০১৩ সালের মার্চ মাসের ১৯ তারিখ।
মাহবুব মোর্শেদ যখন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তেন তখন সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও প্রয়াত নাট্যকার সেলিম আল দীনের সাথে তার সখ্য তৈরি হইছিল। তিনি ব্যক্তি সেলিম আল দীনরে যেভাবে দেখছেন এবং তার সাথে সেলিম আল দীনের সম্পর্ক যেই রকম ছিল তা উইঠা আসছে গুরু ও চণ্ডাল বইটাতে। 
এই বইয়ে যেসব স্মৃতি বা ঘটনার উল্লেখ আছে তার বাইরেও আরো অনেক ঘটনার কথা তিনি এই সাক্ষাৎকারে বলছেন। –  মৃদুল শাওন

মৃদুল শাওন

বইয়ের নাম গুরু ও চণ্ডাল। এখানে গুরু কে আর চন্ডাল কে? বা বইয়ের নাম যদি গুরু ও চণ্ডাল — এরকম কেন, গুরু ও শিষ্য না কেন?

মাহবুব মোর্শেদ

আচ্ছা, এখানে হলো, আপনি তো বইটা পড়ছেন, না? মানে আপনার মতটা আগে শুনি, আপনার বিশ্লেষণটা আগে বলেন। মানে ধরেন আপনি এই বইটা পড়লেন তো, এই বইটা নিয়ে আপনার মূল্যায়নটা কী? এইটা আগে শুনি।

মৃদুল

আমার মূল্যায়ন থেকে আপনার পাঠকদের মূল্যায়ন জরুরি।

মাহবুব

আপনি তো একজন পাঠক। এখন ধরেন পাঠক হিসেবে আপনার কেমন লাগল এইটা বলেন। কেমন লাগলো মানে আপনি কীভাবে পড়লেন, বইটা পড়তে গিয়ে ধরেন কী মনে হলো, আপনার অনুভূতিটা কী?

মৃদুল

অনুভূতি, বইটা তো ইন্টারেস্টিং। শুরু হইতে না হইতে হইতে শেষ হইয়া যায় এরকম একটা আক্ষেপ আছে। আর এইখানে সেলিম আল দীনরে মনে হয় আরও দেখতে পারতাম.. আরো দেখতে পারতাম.. একরম একটা আশা থাইকা যায়। তবে যতটুকু দেখতে পারছি অইটুকুতে তো আনন্দ ছিল — এই রকম।

মাহবুব

ইন্টারেস্টিং কেন মনে হইলো?

মৃদুল

ইন্টারেস্টিং কেন মনে হইলো, আপনি ব্যাক্তি সেলিম আল দীনরে তুইলা আনতেছেন, আপনে একজন লেখকের জায়গা থেকে, সেই কারণে।

মাহবুব

সেলিম আল দীনকে চেনা যায় কি এই বইটা থেকে মোটামুটি?

মৃদুল

সেলিম আল দীনকে, পার্শিয়ালি তো চেনা যায়, মনে হইছে আমার এরকম।

মাহবুব

এমনি আর কোনো কিছু ? এই বইটার বিশেষভাবে লক্ষ্য করার মত বা তর্ক করার মত বা এইটা নিয়া আলোচনা করা যায় এরকম মনে হয় নাই?

guruochand1

প্রকাশক -ঐতিহ্য, ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ৬৪ পৃষ্ঠা, ১২৯ টাকা

মৃদুল

সেটাতে আমরা ধীরে ধীরে যাই।

মাহবুব

না আপনার মতটা আগে শুনি, আমি তো…

মৃদুল

ওরকম, মানে নির্দিষ্ট কিছু ওরকম দাগ দিয়া, মার্ক কইরা রাখা হয় নাই।

মাহবুব

আচ্ছা, আচ্ছা। না এই বইটা নিয়ে যেটা ইয়ে হইছে, সেলিম আল দীনের সাথে তো আমার একটা সম্পর্ক ছিল। সেইটাকে ধরেন আমরা এখন যে যায়গা থেকে বলি যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক, আপনি বলতে পারেন যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আমাদের। এবং এই সম্পর্কগুলার মধ্যে হয় কী যে যখন দুইজন লেখকের সম্পর্ক হয়, তখন কিন্তু লেখকদের সম্পর্কের মধ্যে একটা বিশেষত্ব থাকে। একজন লেখক, বা একজন লেখক হইতে চায়, জুনিয়র লেখক, সে অন্য একজন সিনিয়র লেখককে কীভাবে দেখে? এই প্রসঙ্গে আমার একটা কথা মনে পড়ে, সেটা হলো উপন্যাস কীভাবে লিখতে হয় বা লেখালেখি কীভাবে করতে হয় এরকম একটা বই পড়ছিলাম আমি। ওখানে লেখা হলো যে যখন একজন ঔপন্যাসিক আরেক ঔপন্যাসিকের বই পড়ে তখন সে হলো টানা একবার পড়ে যায়। পড়ার পরে বইয়ের মলাট — মলাট দেখে, বাধাঁই দেখে, এর প্রচ্ছদ দেখে, উলটাইয়া দেখে, ছাপা দেখে — মানে কীভাবে এই উপন্যাসটা হইল এটা টোটালটা বোঝার চেষ্টা করে। তো এখন ধরেন একজন লেখক যখন বই পড়ে, সেক্ষেত্রে এই রকম করে।

আবার যারা খুব প্যাশনেট লেখক, তাদের মানে আগ্রহ এরকম হয়, মানে লেখকদের নিয়ে, লেখকদের জীবনযাপন নিয়ে, লেখার পদ্ধতি নিয়ে — তারা কিন্তু আবার লেখককেও একটু ঘুরে ঘুরে দেখতে চায়।

যেমন আমার ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতাটা কী রকম, যে, আমি তো ধরেন মফস্বল শহরে বড় হইছি। মফস্বল শহরে খুব বড় লেখক নাই আর কি। ছোট ছোট লেখক, বা যারা বয়সে বড় হয়ে গেছে তারাও ছোট লেখক রয়ে গেছেন কোনো না কোনো ভাবে। আর যারা জুনিয়র তাদের মধ্যে একটা বড় অংশ বড় লেখক হইতে চায় বলে তারা হয়ত শহরের দিকে চলে আসছে। আমি তো দেখি নাই লেখক — বড় লেখক।

প্রথম জাহাঙ্গীরনগরে ভর্তি হওয়ার পরেই দেখলাম যে বড় লেখক হইতে পারেন — সেলিম আল দীন বড় লেখক। আমার একটা ওই পর্যবেক্ষণের আগ্রহ কাজ করত। এটা শুধু সেলিম আল দীনের শিষ্য হওয়াটা ব্যাপার না বা ইউনিভার্সিটির একজন অধ্যাপক, অধ্যাপক তো ওখানে অনেক আছে এবং তারা খুব ফ্রেন্ডলিই কিন্তু। জাহাঙ্গীরনগরে আপনি অন্যান্য ইউভার্সিটিগুলার মত কিন্তু না। ওখানে কিন্তু শিক্ষকদের সাথে ছাত্রদের একটা ইজি কমিউনিকেশন আছে। চাইলেই কথাবার্তা বলা যায়, ইন্টারেকশন করা যায়, নানা রকমের ব্যাপার আছে।

আমি কিন্ত চাইলে আরো অন্যান্য অধ্যাপকদের সাথে মিশতে পারতাম। জ্ঞানী-গুণী নানান ধরনের লোক আছে না? সেইটা না করে আমি যখন সেলিম আল দীনকে বেছে নিচ্ছি, মেশার জন্য, তখন কী দাঁড়ায় যে আমি আসলে একজন লেখককে বেছে নিচ্ছি।

মানে একজন লেখক ধরেন অরগানাইজড, সেলিম আল দীন খুব অরগানাইজড একজন লেখক, হ্যাঁ? আপনি দেখেন যে অল্প — তার আয়ু কিন্তু অল্প, কিন্তু লেখছে হিউজ। কিন্তু লেখার মাধ্যমে কিন্তু আলোচনাগুলাও তুলে ফেলতে পারছে। মানে ধরেন সোসাইটির মধ্যে একধরনের কথাবার্তা তাকে নিয়ে তার জীবিতকালে হইছে, যা মৃত্যুর পরেও হইছে। মানে লেখক হিসেবে একটা গুরুত্ব উনি কিন্তু তৈরি করতে পারছেন।

এখন যেইটা হইছে যে, ওইগুলা যে বুঝে শুনে আমি মিশছি তা না? কিন্তু মোটামুটি একটা ইয়ে ছিল যে ঊনি একজন বড় লেখক। এখন বড় লেখকের সাথে মিশতে হবে, বুঝতে হবে যে উনি কেমনে কী করে। লেখকের জীবনের একটা কৌশল আছে না? ওই কৌশলটা বোঝার জন্যই হলো তার সঙ্গে ইচ্ছাকৃতভাবে আমি সম্পর্কটা তৈরি করছি। তৈরি করে যে আপনি দেখবেন যে আমি যখন ঢাকায় বিভিন্ন কবিসাহিত্যিকদের সাথে মিশতাম ওদের একটা গ্রুপ ছিল। তো ওদের কাছে আমি জাহাঙ্গীরনগরে ক্লাস শুরু করব, তার আগে লিটল ম্যাগাজিন করতাম। ওরা বলল যে সেলিম আল দীন আছে, জাহাঙ্গীরনগরে সেলিম আল দীন আছে। কিন্তু সমস্যা হইল যে উনি ইয়ে পছন্দ করে, প্রশংসা পছন্দ করে। আমারে বলল যে আমার প্রশংসা করা লাগবে আর কি?

মৃদুল

কে বলল এটা, সেলিম আল দীন?

মাহবুব

না না, এটা বলল ইয়েরা মানে আমার বন্ধুরা, কবিবন্ধুরা বলল। তখন আমি গেলাম.. প্রশংসা করা লাগবে.. এখন আমি তো…

মৃদুল

কবিবন্ধুদের ওখানে কে কে ছিল?

মাহবুব

কবিবন্ধুদের মধ্যে ছিল, তখন আমরা মিশতাম হলো আমিন ভাই ছিল — সরকার আমিন, মুজিব ইরম, কবির হুমায়ূন। আমিন ভাই বলছিল যে — আমিন ভাই তো বুঝে, সবার পালস কিন্তু বুঝে আর কি। খুব মানে মানুষ চিনতে পারে — উনি কিন্তু প্রশংসা পছন্দ করে, তো প্রশংসা কইরো? আমি প্রশংসা করার উদ্দেশ্যে — না পড়ে তো আর প্রশংসা করা যায় না, অবশ্য ইদানিং দেখতেছি না পড়েই লোকজন প্রশংসা করে। তো আমি পড়লাম, হরগজ পড়লাম। পড়ে তো খুব ভালো লাগলো। প্রশংসা তো আর মিছামিছি প্রশংসা আর করা লাগতেছে না?

আমি তার সাথে দেখা করে হরগজ পড়ে যা মনে হইল তাই বললাম। তবে উনি তো খুব খুশি হয়ে গেল আর কি? এখন আসলেই জিনিসটা ভালো। হরগজ পড়ছেন?

মৃদুল

না।

মাহবুব

হরগজ খুব, মানিকগঞ্জের আপনার হরগজ নামে একটা গ্রাম। ওই গ্রামটা ঘূর্ণিঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। তো ওইখানে একটা ঘুর্ণিঝড়ের পরে যে জিনিসটা হয় একটা জনপদের যে পরিস্থিতিটা হয়, এইটা মানে ধরেন যে একটা গ্রাফিক বর্ণনা দিয়ে, হ্যাঁ, পুরা জিনিসটাকে তুলে আনা আর কি। মানে আপনি যেকোন ধরেন এই রকম সিডর হয়, এটা হয় ওটা হয়, এগুলা দুর্যোগ হয় না? এসব দুর্যোগের মানে একেবারে রিয়েল একটা, হরগজ মানে ওরকম একটা দুর্যোগ দুর্গত একটা ধ্বংসপ্রাপ্ত গ্রামের চিত্র। তার মধ্যে যে মানবিক সংকট, মানুষের যে…

মৃদুল

একটা দুর্যোগের পরে চিন্তা-ভাবনা?

mahbub226

মাহবুব

ইনসিকিউর যে বোধ, তাদের নানান রকমের ব্যাপার-স্যাপার, এগুলো খুব টোটালি উঠে আসছে। দারুণ একটা জিনিস। তার সঙ্গে যখন আমি কথা বললাম, কথা বলেই কিন্তু জিনিসটা আমার মনে হইল যে তার সঙ্গে আমার একটা ভালো সম্পর্ক তৈরি হবে। ভালো সম্পর্ক এখন হয়ে গেছে এবং দীর্ঘদিন তার সঙ্গে মিশতে পারছি, কথা বলতে পারছি, এইটা তো একটা বড় ব্যাপার।

গুরু ও শিষ্য যেটা আপনি বললেন, গুরু-শিষ্য তো বটেই, ছাত্র-শিক্ষক, নরমালি যে ধরেন ইউনিভার্সিটিতে একজন শিক্ষক আর আমি একজন ছাত্র, জুনিয়র ছাত্র উনি একজন অধ্যাপক, অধ্যাপক তো মানে পার্মানেন্ট অধ্যাপক। ডক্টর, মানে ওনার একটা প্রতিপত্তি, প্রভাব প্রতিপত্তি ওখানে আছে। ও রকম একজন শিক্ষক তো গুরু অবশ্যই, আর আমি তো শিষ্য অবশ্যই — ছাত্র যেহেতু। কিন্তু যেটা হইছে যে আমরা তো একটু বেয়াদব টাইপের। বেয়াদব টাইপের বলে যেটা হয় যে শিষ্যত্যটা সবসময় কিন্তু শিষ্যত্য থাকে না। দেখা যায় যে এর মধ্যে নানান রকমের ক্রিটিকগুলা এসে হাজির হয়।

ওনার অবর্তমানে আবার সাহসটা বেশি হয়ে যায়। তখন আরও বেশি ক্রিটিক আসে। তখন যে গুরু, গুরুর জায়গায় গুরুর অপজিটে যে দাঁড়ায়, সে আসলে চণ্ডাল? সে গুরুকে আলোচনা করে সমালোচনা করে, তার প্রাপ্য জায়গাটা দিতে চায়, কিন্তু নিজেরও একটা প্রাপ্য জায়গা সে খুঁজে পেতে চায়।

মৃদুল

মানে সম্পূর্ণ বাধ্যগত শিষ্য নয়। সেই কারণে চণ্ডাল।

মাহবুব

চণ্ডাল। আবার গুরু ও চণ্ডাল বিষয়টা কী হইছে, গুরু এখানে ভাষার একটা ব্যাপার আছে। আপনি দেখবেন যে সেলিম আল দীন ওই বইয়ে যে ভাষায় কথা বলছে সেটা কিন্তু খুবই… সেলিম আল দীনের সংলাপ যেগুলো, তার জবানিতে যেগুলা বলা হইছে এগুলা কিন্তু শুদ্ধ ভাষায়। প্রমিত বাংলায়। আর আমি যেসব বলছি সেগুলা কিন্তু অপ্রমিত। সেলিম আল দীন হলো খুব বিশুদ্ধতাবাদী ছিলেন ভাষার ব্যাপারে? হ্যাঁ, আর আমি হলো অশুদ্ধতাবাদী। তো আমি যে ভাষায় কথা বলতেছি সেটা চণ্ডালী ভাষা বা এখনকার নাগরিক ঢাকায় যে ভাষা, সেই ভাষায় আমি কথা বলি বা আমি লিখতেছি। আর স্যার লিখতেছে হলো বা বলতেছে ওই ভাষায়।

ফলে যেটা হইছে যে গুরুর ভাষা আর চণ্ডালের মানে শিষ্যের ভাষা আলাদা। এটা মিক্সড হইছে। ইন্টার‍্যাকশনটা হইছে। আমরা হল সেলিম আল দীনের জেনারেশনের সাথে কথা বলতেছি ইন্টারএ্যাক্ট করতেছি এমন একটা ভাষায় এটা যখন মিশ্রিত হচ্ছে, সেলিম আল দীন আর আমি যখন পরস্পর কথা বলতেছি, জিনিসটা গুরুচণ্ডালী একটা জায়গায় পৌঁছে যাচ্ছে।

মৃদুল

গুরুচণ্ডালীর দোষ তৈরি হইতেছে?

মাহবুব

দোষ গুণ দুটাই বলতে পারেন। গুণও তো এটা!

মৃদুল

সেলিম আল দীনের সাথে আপনার প্রথম মানে একেবার সামনা-সামনি সাক্ষাৎ কেমনে হইল? এটা কবে হইছে? প্রথম দেখা, যেটা?

মাহবুব

এইটার তো ঘটনা হইলো যে, আমি তো জাহাঙ্গীরনগরে ভর্তি হইলাম, ভর্তি হওয়ার যখন চান্স পাইলাম, ওই ৯৭ সালের ঘটনা। আমি তখন রংপুরে থাকতাম। বাংলায় পড়ালেখা করতাম, রংপুর কারমাইকেল কলেজে বাংলায় পড়ালেখা করতাম। তো রংপুরে এক বছর ছিলাম মোটমাট। কিন্তু এক বছরের মধ্যে দেখলাম যে রংপুর তো দেখা শেষ! আর তো ওখানে মজাটা পাচ্ছি না। তো চান্স যখন পেয়ে গেলাম তখন চিন্তা করলাম যে যাই, ঢাকায় চলে যাই।

পরে আমার এক বন্ধু, এক ইয়ার লস গেছে, আমার বন্ধুরা জাহাঙ্গীরনগরে পড়তো, তো আমার এক বন্ধু ছিল, ও নাট্যতত্ত্বের টিচার এখন, আরিফ। তো ওর সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা গেল যে ওর রুমে একটা সিট খালি আছে। আর আমার যেহেতু ক্লাস শুরু হবে জানুয়ারিতে, তো আমি মাস দুই তিনেক যদি আগে আসি ওর ওই সিটটায় থাকতে পারবো, ওর রুমের ওই সিটটায়।

মৃদুল

কত সালে এইটা?

মাহবুব

৯৭ সালে। ৯৭ সালের অক্টোবরে আমি জাহাঙ্গীরনগরে চলে আসলাম। তো আসার পরপরই ওই ঢাকায় আসি প্রতিদিন। এই সূত্রেই আবার জাহাঙ্গীরনগরের কবি-সাহিত্যিকদের সঙ্গে লিটল ম্যাগাজিনের সূত্রে পরিচয় হইল। পরে একদিন ওই শামীম রেজারা, ওদেরকে চিনেন, শামীম রেজা?

মৃদুল

না।

মাহবুব

শামীম রেজা, হামীম কামরুল হক তারপরে হল এই যে — এরা হইলো একটা অনুষ্ঠান করত ওখানে, জাহাঙ্গীরনগরে, টিএসসিতে। ‘কবিতা বিকাল’ নামে। সেলিম আল দীন হইলো ‘বিকেল’ শব্দটা সহ্য করতে পারতেন না। বলতেন ‘বিকেল!’ ‘বিকেল!’ ‘বিকেল’ না – ‘বিকাল’। তো ওই ‘কবিতা বিকাল’ করতো, বিকাল বেলা একটা অনুষ্ঠান হইত। ঢাকা থেকে বিভিন্ন কবি-সাহিত্যিকরা যাইত। তারা কবিতা পড়ত, কবিতা নিয়া আলোচনা হইত। তো ওরকম একটা অনুষ্ঠানে ঢাকার কিছু কবিকে ওরা দাওয়াত দিছে। এরা গেছে।

শামীম রেজা, হামীম কামরুল হক তারপরে হল এই যে — এরা হইলো একটা অনুষ্ঠান করত ওখানে, জাহাঙ্গীরনগরে, টিএসসিতে। ‘কবিতা বিকাল’ নামে। সেলিম আল দীন হইলো ‘বিকেল’ শব্দটা সহ্য করতে পারতেন না। বলতেন ‘বিকেল!’ ‘বিকেল!’ ‘বিকেল’ না – ‘বিকাল’। তো ওই ‘কবিতা বিকাল’ করতো, বিকাল বেলা একটা অনুষ্ঠান হইত। ঢাকা থেকে বিভিন্ন কবি-সাহিত্যিকরা যাইত।

মৃদুল

কে কে, নাম?

মাহবুব

সেবার গেছিলো হইলো আমিন ভাই, মুজিব ইরম এই রকম কয়েকজন।

মৃদুল

সবাই তরুণ কবি?

মাহবুব

হ্যাঁ, তরুণ কবি। ওরা গেছিলো। তো ওরা আবার আমাকে বললো মাহবুব, তোমাদের ইউনিভার্সিটিতে যাচ্ছি । তখন ওরা জানে যে আমি জাহাঙ্গীরনগরে এসে থাকি আর কি। তো আমিও গেলাম ওদের সঙ্গে। গিয়ে তখন ওই জাহাঙ্গীরনগরের কবিদের সাথে পরিচয় হইল। জাহাঙ্গীরনগরের কবি যারা আছে, সাহিত্যিক, গল্পকার হ্যাঁ, এদের সাথে পরিচয় হয়ে গেল। আর ওই অনুষ্ঠানে আমি একটা কবিতা পড়লাম। আমি তো কবিতা লিখতাম। এখনও টুকটাক লিখি। কবিতা পড়লাম, কবিতা পড়ার পরে ওই ‘রিকা রিকা’ নামে একটি কবিতা আর কি। ওইটা পড়ার পরে সেলিম আল দীনের সঙ্গে পরিচয় হয়ে গেল, বলল যে বাহ, ভালো লিখেছিস। হ্যাঁ, তো পরিচয় হইল।


মাহবুব মোর্শেদের ইন্টারভিউ, পর্ব ১ – ইউটিউব ভিডিও

মৃদুল

এইটাই প্রথম দেখা ।

মাববুব

হ্যা হ্যাঁ। পরে আমি যে লোকগুলার সাথে তো…

মৃদুল

পরিচয় কি কেউ করায় দিছিলো না…

মাহবুব

না, উনি বললে যে হ্যাঁ, ভালো। ওনার প্রোগ্রাম যেহেতু, উনি একটা এসে ইয়ে করলো। তবে খুশী হইলো ওরা যে, ফার্স্ট ইয়ারে এরকম ভালো একটা ছেলে আসছে, হ্যাঁ, নম্র সম্র, নরম সরম…

(চলবে)

 

About Author

আশরাফুল আলম শাওন
আশরাফুল আলম শাওন

জন্ম টাঙ্গাইলে। পড়াশোনা ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়।