ঘটিকাহিনী (১৮)

ছোট স্কটিশের পিছনের সেই খোলা জায়গা। এখানে কত ফুটবল খেলেছি, দৌড় প্রতিযোগিতা করেছি বন্ধুদের সঙ্গে। এখানেই পাঁচিলের গায়ে লাগানো অসৎ কন্ট্রাক্টরের তৈরি সিমেন্টের চাঁই ভেঙে পড়ে সেই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছিল। আমরাও শেষ হয়ে যেতে পারতাম। ওই দুটো ছেলে হলো।
অনেকদিন পরে অঞ্জন দত্তর গান শুনেছিলাম একটা। সেই "সেখান থেকে একটু দূরে, পাড়ার মোড়টা একটু ঘুরে, অলিগলির পাকস্থলীর মধ্যে কারা গুমরে মরে...।" গানটা খুব ভালো লেগেছিল।

(আগের পর্ব)

জল বুড়ি ও অন্যান্য গল্প

জল বুড়ি আসত আমাদের পাড়ায় গরমকালে বিকেলবেলা।

তখন আমরা হয়ত ক্লাস সিক্স বা সেভেনে পড়ি। দুরন্ত বালক। বারো কি তেরো কি চোদ্দ বছর বয়েস তখন আমার আর আমার বন্ধুদের। কয়েকটা বন্ধুর বয়েস হয়ত আরো একটু বেশি—পনের ষোলো হতে পারে।

আমরা সব একসঙ্গেই বড় হয়েছি ওই পাড়ায়। আমি, সুব্রত, নেপাল, অসকা মানে অশোক, সামনের বাড়ির কনক, অপু, এরা সব। তারপর, লালু ছিল একটু তিন চার বছরের বড়। চরণ শেঠও তাই। দুর্গা চক্রবর্তী বা বড় মানা। ব্রহ্মদের বাড়ির শুভ আর ওর জ্যাঠতুত দাদা আশীষ। লালুর বন্ধু ওদিকের পাড়ার কার্তিক পাল। আমাদের পাড়ার হিন্দুস্থানী ছেলে রাজু বা রাজকুমার সাউ, আর বাঁহাতে ব্যাট করে চণ্ডীবাড়ির মহেশ। চরণের ভাই বাদল। প্রদীপ ব্রহ্ম। আরো অনেকে।

parthab logo

অদ্ভুত একটা সমাজ ছিল আমাদের, যাকে এখনকার ভাষায় বলে কমিউনিটি। আমাদের ওই গোরাচাঁদ বসু রোড, কারবালা ট্যাংক লেন, সাহিত্য পরিষদ স্ট্রিট, প্যারীমোহন সুর লেন, প্যারী রো, চণ্ডীবাড়ি স্ট্রিট, গোয়াবাগান স্ট্রিট, তারপর বিডন স্ট্রিটের বড়রাস্তা পার হয়ে হরতুকি বাগান লেন, হেদোর পেছনে স্কটিশ কলেজের দিকে ডাফ স্ট্রিট বা হরিপাল লেন, ওদিকে মানিকতলা বাজারের উল্টোদিকে আমাদের আপার সার্কুলার রোড পার হয়ে যুগীপাড়া—এসব জায়গাগুলো সব এক রকম ছিল অনেকটা।

সরু গলি গোরাচাঁদ বসু রোডের। এই গলিতে সুব্রতরা থাকত।  আমরা ক্রিকেট ফুটবল খেলতাম। - লেখক
সরু গলি গোরাচাঁদ বসু রোডের। এই গলিতে সুব্রতরা থাকত। আমরা ক্রিকেট ফুটবল খেলতাম। – লেখক

এক একটা রাস্তা যেন এক একটা ছোট ছোট গ্রাম। সবাই মোটামুটি সবাইকে চেনে। কে কোন বাড়িতে থাকে, কার বাড়ি কটা ভাই কটা বোন, কে কোন স্কুলে পড়ে, সব কিছু সবাই মোটামুটি জানে। এ ওর বাড়ি চলে যাচ্ছে যখন তখন। গল্প করছে, আড্ডা দিচ্ছে, আবার ঝগড়াও করছে। আর আমাদের মত ছেলেরা যারা দুরন্ত টাইপ, হই চই করে, ফুটবল ক্রিকেট গুলি ডাংগুলি লাট্টু ব্যাডমিন্টন খেলে বড় হয়েছি, সরস্বতী পুজোয় চাঁদা তুলে বেড়িয়েছি, বিশ্বকর্মা পুজোয় ল্যাম্পপোস্টে সূতো খাটিয়ে মাঞ্জা দিয়েছি, আর আরো ছোটবেলায় রথের দিন কাঠের রথে পাতাবাহারের গাছ আর লাল নীল সবুজ পাতলা কাগজ দিয়ে সাজিয়ে ব্যাটারির টুনি বাল্ব জ্বালিয়ে আর মুখে তালপাতার ভেঁপু বাজিয়ে পাড়ার মধ্যে রথ নিয়ে ঘুরেছি, আমরা সব কটা বাড়ি চিনতাম। এমন ভাবে চিনতাম-যে সেই চন্দননগর যাবার পথে যেরকম সব কত স্টেশনের নাম এখনো মনে আছে, সেরকম প্রত্যেকটা বাড়ির বর্ণনা আর সে বাড়িতে থাকা লোকগুলোর বর্ণনা এখনো মুখস্থ বলে দিতে পারি। এমন করে চিনতাম।

এই যেমন, চোখ বন্ধ করলেই বলে দিতে পারি। আমাদের তিনের আটের উল্টোদিকে চব্বিশ নম্বর বাড়িতে একতলা আর দোতলাতে ভাড়া থাকত রাণাদা, ওর বাবা-মা, আর চার পাঁচটা ভাই বোন। তাদের মধ্যে মেজ বোন শান্তা ছিল খুব সুন্দরী। আমার সঙ্গে শান্তার আর ওদের বাড়ির সকলেরই খুব ভালো সম্পর্ক ছিল। কিন্তু, আমি আস্তে আস্তে খারাপ ছেলেদের সঙ্গে মিশে বখে যাওয়ার দিকে চলে যাবার সময়ে ওরা আমার সঙ্গে আর তেমন সম্পর্ক রাখে নি। আমারি দোষ।

পরে অবশ্য আমি যখন অনেক ঘাটের জল খেয়ে, আর অনেক দুঃখকষ্টের মধ্যে দিয়ে গিয়ে শেষ পর্যন্ত আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছি, তখন আবার ওদের সঙ্গে একটু নরমাল হয়ে গেছিলাম। কিন্তু সে অনেক পরের কথা।

শুধু আমাদের পাড়ার ছেলেরা তো নয়, অন্য পাড়ার ছেলেরাও শান্তার সঙ্গে ভাব করার জন্যে ছটফট করত। বড় ছেলেরাও করত, আবার আমাদের মত সমবয়েসী বা দু এক বছরের ছোটরাও করত। সেই যেমন আমাদের তিনতলার কৃষ্ণাদির দিকে সেই লোকটা হাপুস নয়নে তাকাতে তাকাতে অফিস যেত প্রতিদিন সকালবেলা, তেমনি শান্তা বাড়ি থেকে বেরোলেই সদ্যফোটা সুগন্ধ ফুলের পেছনে যেমন ভোমরারা ঘুরতে থাকে, তেমনি এপাড়া ওপাড়ার যুবক ছেলেরা শান্তাকে অনুসরণ করত। কিন্তু, শান্তা আর ওর দিদি রীতা আর ছোটবোন লালিয়া খুব ভালো মেয়ে ছিল। আর, যেহেতু আমরা সেই গোরাচাঁদ বসু রোড নামক গ্রামে থাকতাম আর সবাই সবাইকে চিনত, দু একটা ছোটখাটো বিপদ ছাড়া ওদের কখনো কোনো বড় বিপদে পড়তে হয় নি। কিন্তু, ওরাও খুব সাবধানে থাকত, আর রাণাদা, ওদের বড়দা ডাম্বেল বারবেল তুলে বডিবিল্ডার হয়ে গেল। কারণ, মধ্যবিত্ত ঘরের সুন্দরী মেয়েকে পাহারা দিতে গেলে বাড়ির একজন ছেলেকে বডিবিল্ডার ওখানে হতেই হবে। এই নিয়ম।

হয় অনেক পয়সা প্রতিপত্তি থাকতে হবে যাতে লোভী ছেলেরা একটু ভয়ে ভয়ে থাকে, দূরে দূরে থাকে, নয়তো মাসল থাকতে হবে। মানি কিংবা মাসল। এই হলো আমাদের দেশের সমাজ। তখনও তাই ছিল, আর এখনও তাই আছে।

আমাদের পুরনো বাড়ির জানলা থেকে তোলা ছবি। গোরাচাঁদ বসু রোডে প্রভাতী মিছিল। ওই ধূসর রকটায় বসে কত আড্ডা দিয়েছি। - লেখক
আমাদের পুরনো বাড়ির জানলা থেকে তোলা ছবি। গোরাচাঁদ বসু রোডে প্রভাতী মিছিল। ওই ধূসর রকটায় বসে কত আড্ডা দিয়েছি। – লেখক

তা, আমাদের পাড়ায় যেমন মধ্যবিত্ত বাড়ির মেয়েদের মধ্যে শান্তার মত সুন্দরী মেয়ে ছিল, তেমনি আবার ওদের দুটো বাড়ি পরেই বাইশ নম্বর বাড়িতে সঙ্ঘমিত্রা ছিল অসাধারণ সুন্দরী। কিন্তু ওকে কেউ অনুসরণ করত না। কোনোদিন ওকে তেমন কোনো অসুবিধেয় পড়তে হয়েছে বলে মনে হয় না। কারণ খুব সহজ। ওরা বড়লোক। ওদের বাড়ি দুর্গাপুজো হয়। ওদের ক্ষমতা প্রতিপত্তি খুব বেশি। ওদের বাবা কাকারা সব আমেরিকা ফেরত। কেউ ইঞ্জিনিয়ার, কেউ উকিল ব্যারিস্টার। কেউ বিরাট চাকরি করে পোর্ট কমিশনারে। ওদের বাড়ির মেয়েরা—সঙ্ঘমিত্রা বা ওর বোন সুতপা বা সুজাতা রাস্তায় বেরোলে হয় গাড়িতে বেরোয় ড্রাইভারকে সঙ্গে নিয়ে, আর নয়তো ওদের দাদা শুভ বা বাবা কাকা সঙ্গে করে নিয়ে যায়। বোনগুলো পড়াশোনায় সাংঘাতিক ভালো। ওদের ক্লাসই আলাদা। যারা একটু কাছে যাবার চেষ্টা করে, তারা একটা ভীষণ কঠিন দেওয়ালে ধাক্কা খেয়ে পড়ে গিয়ে রক্তাক্ত, ক্ষতবিক্ষত হয়।

এই হলো সুন্দরী মেয়েদের কথা। আর এক ধরনের মেয়ে আছে, যারা সুন্দরী নয়। আর বিরাট ফ্যামিলি। সেখানে সবাই মিলে এমন ভাবে তাদের ঘিরে থাকে যে তাদের পেছনে কেউ লাগতেও যায় না, আর লাগতে চায়ও না। এরা একদিকে থেকে দেখতে গেলে বেঁচে গেছে।

কিন্তু তার মধ্যেই যে কত কী কাণ্ড ঘটে চলেছে ওই পাড়াগুলোতে, তার কিছু কিছু আমি আগেই বলেছি। যদিও, তার সংখ্যা খুব একটা বেশি নয়। এখনকার দিনের মত রেপ কালচার তখনও আমাদের সেই পাড়া পাড়া পাড়াগ্রাম গুলোতে আসে নি। অনেক শান্ত আর সভ্য ছিল আমাদের সমাজটা।

অনেকদিন পরে অঞ্জন দত্তর গান শুনেছিলাম একটা। সেই “সেখান থেকে একটু দূরে, পাড়ার মোড়টা একটু ঘুরে, অলিগলির পাকস্থলীর মধ্যে কারা গুমরে মরে…”

গানটা খুব ভালো লেগেছিল। কেমন যেমন একটা বিষাদের সুর। দুঃখী মানুষদের সুর, পরাজিত মানুষদের সুর। এই গোরাচাঁদ বসু রোড আর কারবালা ট্যাংক লেনে যে কত এমন মানুষ দেখেছি আমি!

অঞ্জন দত্ত, সুমন চট্টোপাধ্যায় আর নচিকেতার গান আমাকে এক সময়ে শিহরিত করেছিল। - লেখক
অঞ্জন দত্ত, সুমন চট্টোপাধ্যায় আর নচিকেতার গান আমাকে এক সময়ে শিহরিত করেছিল। – লেখক

এদিকে শান্তা আর ওদিকে সঙ্ঘমিত্রাদের বাড়ি। মাঝখানে সেই বাঙাল দিদিদের বাড়ি। ভীষণ থিক বাঙাল অ্যাকসেন্ট। ওরা একেবারে সামনেই থাকত, কিন্তু ওদের কখনো চোখেই পড়ে নি আমার। কী অদ্ভুত! শুধু যখন উঁচু ক্লাসে পড়ি, আর হায়ার সেকেন্ডারি পরীক্ষার জন্যে মাঝরাত্তিরে বসে বসে পড়ছি আমার সেই ছোট্ট ঘরে, তখন ওদের বাড়ির এক দিদি সারাদিন অফিসে কাজ করে এসে বাড়ির সব কাজকর্ম সেরে, সবাই ঘুমিয়ে পড়লে সেতার বাজাতে বসত। ওদের বাড়ির মেয়েদের বিয়ে হয় নি। কারণ হলো আমার যদ্দুর মনে হয়, এক বোন যদি বিয়ে করে চলে যায়, তাহলে সামান্য রোজগারের টাকায় টান পড়বে। এই হলো অর্থনৈতিক কারণ। আর সামাজিক কারণ হলো, অন্য বোনের বিয়ে না হলে আমি কেন বিয়ে করব? আমি স্বার্থপর হয়ে শুধু নিজের সুখের কথা ভাবতে চাই না। এই হলো আমাদের সমাজ। আমার নিজের দিদিদের মধ্যেই আমি দেখেছি। আবার আমার শ্বশুরবাড়ির দিকেও সেই একই জিনিস দেখেছি। সুন্দরী, শিক্ষিতা, আর অতি সহজে বিয়ে হয়ে যেতে পারে ভালো ঘরে, কিন্তু বিয়ে করলো না কোনো ভাই বোন, কারণ অন্যরা করে নি। সে কেন একা শুধু নিজের কথা ভাববে? এই হলো আমাদের বাংলাদেশের সহজ সরল জীবন। মূল্যবোধের, সামাজিক দায়বদ্ধতার জীবন।

“পাড়ার মোড়টা একটু ঘুরে, অলিগলির পাকস্থলীর মধ্যে কারা গুমরে মরে…”

বিষাদের সুর। দুঃখী, পরাজিত মানুষের গান। আবার, ভালবাসার গান।

আমার স্কুলের তিন বন্ধু—বাঁ দিক থেকে কবি স্বপ্নাভ, বাস্কেটবল প্লেয়ার চন্দন, আর ডাক্তার মানব। - লেখক
আমার স্কুলের তিন বন্ধু—বাঁ দিক থেকে কবি স্বপ্নাভ, বাস্কেটবল প্লেয়ার চন্দন, আর ডাক্তার মানব। – লেখক

এই যেমন আমাদের বাড়ির মাটির গলিটায় একেবারে শেষের দিকে টুকুনদের বাড়ি ভাড়াটে হয়ে এলো একটা পরিবার। গোস্বামীবাবু বলে সবাই জানত। অত্যন্ত ভালোমানুষ। গোস্বামীবাবু, তাঁকে ঠিক শচীনদেব বর্মণের মত দেখতে। তাই, পাড়ায় তাঁদের নিয়ে কোনো কথা হলে সবাই বলত, ওই শচীনদেব বর্মণদের বাড়ি। তাঁদের দুই মেয়ে ছিল। আমার ছোটবেলার বন্ধু স্বপ্নাভ রায়চৌধুরী জানালো, ওরা নাকি ওদের পাড়ায় থাকত আগে। এবং স্বপ্নাভকে খুব ভালবাসত। ওর কাছেই জানা গেল দুই মেয়ের নাম জন আর বন। ডাক নাম। খুব ভালো মেয়ে ওরা দুজনেই। কেউ ওদের পিছনে কখনো লাগতে যায় নি।

দিদি বনের বিয়ে হয়ে গেল আমাদের পাড়ায় থাকতে থাকতেই। তারপর দু এক বছরের মধ্যেই শুনলাম, বন ক্যান্সার হয়ে মারা গেছে। তখন ওর বয়েস কতই বা—খুব বেশি হলে পঁচিশ?

এর পর থেকে সেই শচীনদেব বর্মণের বাড়িটা কেমন যেন হয়ে গেল। কেউ কথা বলত না আর। আমি দু একবার গেছি দেখা করতে। আমায় দেখে কাঁদত মাসিমা। স্বপ্নাভও শুনে খুব দুঃখ পেয়েছিল।

“কী হয়ে গেল ফ্যামিলিটা।” স্বপ্নাভ বলত আমাকে। “একেবারে ডিভাস্টেটেড।” টপ ক্লাস ইংরিজি উচ্চারণ করত আমাদের সংগীতকার বন্ধু, শৌখিন মনের, প্রেমিক মনের স্বপ্নাভ।

তারপর দু বছর আগে স্বপ্নাভও চলে গেল। সেই ক্যান্সারেই।

বনের সঙ্গে দেখা হয়েছে কিনা স্বপ্নাভর, কে জানে!

***

প্রত্যেকটা বাড়ির ইটের খবর রাখতাম আমরা।

চিন্ময় কাকু ও শোভা কাকিমা।  এখন ওঁদের যেমন দেখতে।  এই মার্চ মাসের [২০১৫] গোড়ার দিকেই তোলা ছবি ওঁদের সেই তিনের এ গোরাচাঁদ বসু রোডের তিনতলার ঘরে। সময় যেন থমকে আছে সেখানে। ওই ফার্নিচারগুলোও সব আমি চিনি সেই কতকাল থেকে। - লেখক
চিন্ময় কাকু ও শোভা কাকিমা। এখন ওঁদের যেমন দেখতে। এই মার্চ মাসের [২০১৫] গোড়ার দিকেই তোলা ছবি ওঁদের সেই তিনের এ গোরাচাঁদ বসু রোডের তিনতলার ঘরে। সময় যেন থমকে আছে সেখানে। ওই ফার্নিচারগুলোও সব আমি চিনি সেই কতকাল থেকে। – লেখক
আমাদের তিনের এর চিন্ময়কাকুদের বাড়ির পাশের বাড়িটা ছিল রমাদের বাড়ি। মানে, একটা মেয়ের নাম ছিল রমা। আমাদের রাস্তাছোঁয়া মেজেনাইন ফ্ল্যাটের থেকে কিছু দেখা না গেলেও তিনতলায় সেই রোদের গগলস-পরা জ্যোতির্ময়কাকুর ঘরে গেলেই ওদের বাড়ির ছাদ দেখা যেত। দেখতাম, ওরা সব ছাদের ওপর কাপড় শুকোতে দিচ্ছে। বা, দাঁড়িয়ে আছে দু তিন জন।

বেশ ছিল ওরা। একদিন দুপুর বেলা হঠাৎ কান্নার রোল উঠলো রমাদের বাড়ি। শুনলাম, একটা বাচ্চা নাকি গলায় ছোলা আটকে মারা গেছে। একটু পরে লোকজন। সবাই দেখতে আসছে। শোক প্রকাশ করতে আসছে। আমার মা তো অবাক! আমিও। এ ভাবে একটা বাচ্চা মরেই গেল? কেউ তাকে বাঁচাতে পারল না? গলায় ছোলা আটকে মরে গেল?

উল্টোদিকে থাকত আমাদের পাড়ায় নতুন আসা বিহারী বড়লোক শালিখ সাউ আর তার পরিবার। অনেকগুলো ভাই, তাদের ফ্যামিলি সব এসে উঠলো সেই গোলাপী রঙ করা নতুন, তিনতলা বাড়িটায়। নিচে সব ছোট ছোট, খুপরি খুপরি দোকান হলো। সেখানে একটায় বিড়ি বাঁধা হয়, আর একটায় চা বিস্কুট বিক্রি। আর একটায় মুড়ি মুড়কি বাতাসা খই চানাচুর।

বেশ ছিল ওরা। তারপর একদিন ওদের বাড়ির তিনতলায় রাত্তিরবেলা খুব কান্নাকাটির শব্দ। ওদের বাড়ির একটা নবজাত শিশু নাকি হঠাৎ খুব জ্বর হয়ে মারা গেছে। কে যেন ওদের পরামর্শ দিয়েছে, খুব জ্বর হলেও, বা খুব কাঁদলেও অতটুকু ছোট বাচ্চাকে মাঝরাত্তিরের পর জল দিবি না। জল না খেতে পেয়ে বাচ্চাটা মরে গেল।

এরপর, ঠিক তিনের এ থেকে আমরা যখন উঠে চলে আসছি, তখন আমাদের বাড়ির দোতলার গৃহস্বামী কী যেন একটা হয়ে মারা গেলেন। ওদের বাড়ি ঢুকতে হত আমাদের বাড়িটার পিছনের দিকের একটা সরু গলি দিয়ে। ওদের বাড়ির নম্বর ছিল তিনের বি। আমাদের চিন্ময়কাকুর কাকা মাধব শীলের ভাড়াটে ছিল ওরা। আমরা অনেক সময়ে ওদের বাড়ির দিকের সিঁড়ি দিয়ে ছাদে যেতাম ঘুড়ি ওড়াতে। ওদের ছাদটা আর আমাদের ছাদটা একটা ঘরের মধ্যে দিয়ে যাওয়া যেত।

এই ঘটনার পর আমি আর ওদের দিকটা দিয়ে যেতাম না। কেমন যেন গা ছমছম করত। ওদের দোতলার দরজাটার সামনেটা দিয়ে যাবার সময়ে মনে হত, এই বাড়িতে একজন থাকত, সে এই কয়েক দিন হলো মরে গেছে। সে কি ভূত হয়ে গেছে? ওদের বাড়িটা কী ভীষণ নিস্তব্ধ! কেমন যেন ভয়ঙ্কর নিস্তব্ধতা। ওরা কেন আর বাড়ি থেকে বেরোয় না একেবারে? যে মরে গেছে, তার অতৃপ্ত আত্মা কি এখনো তার বাড়ির চারপাশে ঘোরাঘুরি করে? সে কি এখনো তার ফেলে যাওয়া প্রিয়জনের কাছে আসতে চায়?

এসব কথা ভেবে আমি যদিও-বা কখনো ওদিক দিয়ে ছাদে যেতাম, এক দৌড়ে দোতলাটা পার হয়ে যেতাম। আর, তারপর তিনতলায় গিয়ে আমার বুক ধুকপুক ধুকপুক করত।

“চিলেকোঠার বারান্দাটা বন্ধ কেন জানো কি তা, সেখান থেকে লাফিয়ে পড়ে লাহা বাড়ির অনিন্দিতা…”

অনিন্দিতাকেও দেখেছি। তার নাম অনিন্দিতা নয়। শোভা। এ অন্য শোভা। কিন্তু আমার মাসি শোভার ঠিক পাশের বাড়ি সেই যে অলিভা আর ময়নারা থাকত, ওদের এক দিদি ছিল। তার নামও শোভা।

রাস্তায় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ক্যারাম খেলা। - লেখক
রাস্তায় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ক্যারাম খেলা। – লেখক

খুব ছোটো ছিলাম। অনেক কিছু বুঝতাম না। মৃত্যু সম্পর্কে ধারণা ছিল না। কেন যে মানুষ মৃত্যু বেছে নেয়, একেবারেই বুঝতে পারতাম না।

সেই যে বহু বছর আগে আমাদের গলির “বল-উড়লে-নট-দায়ী” রবীনের দাদা রঞ্জিত সুইসাইড করলো মাত্র ষোলো সতের বছর বয়েসে, সেটাও যেমন বুঝতে পারি নি, তেমনি মাসির কাছে যখন শুনলাম ওদের পাশের বাড়ির শোভাদি আত্মহত্যা করেছে, তখনো গা-টা কেমন যেন ছমছম করে উঠেছিল কেমন একটা ভয়, দুঃখ আর বুঝতে না পারার একটা মিশ্রিত অনুভূতিতে, কিন্তু ঠিক বুঝিনি কী হলো, কেন হলো, আর কেমন করে হলো।

অবশ্য, আমাকে সোজাসুজি কেউ বলে নি এসব কথা। মাসি কাকে বলছিল, আমি শুনলাম। আমি তখন এলেবেলে। ওরা খেলত, আমি পাশে বসে থাকতাম। চম্পামাসি আর আমার মাসি দুই বন্ধু। আরো সব কারা কারা ছিল। পাপিয়া মাসি, আরো সব কে কে। ছায়া মাসি। ওই শোভারই ছোট বোন। ওরা একটা ছড়া কাটত, আর দুজন দুজনের হাতের তালুতে তালু ছোঁয়াতো। বলত,

“এ মা
বোকা
হাঁদা
ঝগড়া।”

বলে, খুব হাসত সবাই মিলে। এই করে করে ছড়াটা আরো বড় হত। আরো বড় হত। তারপর, লাস্টে বলত,

“ঝগড়া।”

আবার খুব হাসত সবাই। তারপর, খেলা হয়ে গেলে ওরা বসে বসে পুঁতির ব্যাগ তৈরি করত।

একদিন আর হাসলো না। শুনলাম, শোভাদি বিষ খেয়ে মরেছে। না কি, ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে মরেছে, সেই অঞ্জন দত্তর অনিন্দিতার মত।

ওদের সেই বারান্দার দিকটা, নাকি ছাদের দিকটাও, বন্ধ হয়ে গেল সেই থেকে।

এই সব বিষাদের সুর। এই সব গরিব মানুষের মনের দুঃখের গল্প, আমাদের গরিব মানুষদের।

আমরা যখন ক্লাস নাইনে আর টেনে পড়ি, তখন আমাদের স্কুলে পড়াশোনা মাথায় উঠেছে নকশালদের তাণ্ডবে। পরীক্ষা-টরিক্ষা সব বন্ধ। তখন আমরা আমাদের হেন্সম্যান ব্লকের নিচের তলার ঢাকা হলঘরের মত জায়গাটায় তুমুল টেবিল টেনিস খেলতাম। স্কুল ছুটি হয়ে গেল, আর আমাদের বোর্ড আর নেট পাতা হয়ে গেল। ব্যাট আর সেই সাদা সাদা হালকা হালকা বল বেরোলো। আমরা খেলতাম এক ঘণ্টা, দু ঘণ্টা ধরে। খুব মজা। আমার তো সবেতেই মজা। আরো একটা মজা যুক্ত হলো মজার তালিকায়।

হেন্সম্যান ব্লকের নিচে ঢাকা দালান, যেখানে আমরা টেবিল টেনিস খেলতাম। এখানে সাইন্স এক্সিবিশন'এর সময়ে বড় বড় মডেল তৈরী করে লোহা বা সোডিয়াম কীভাবে নিষ্কাশিত করা হয়, তা বোঝানো হত বাইরের অসংখ্য অতিথিকে। এখানে বর্ষাকালে পর্দা খাটিয়ে দু একবার সিনেমাও দেখানো হয়েছে।  আমি শেষ বছর রবীন্দ্র জয়ন্তীতে এখানে স্টেজ খাটিয়ে বক্তৃতাও দিয়েছি। - লেখক
হেন্সম্যান ব্লকের নিচে ঢাকা দালান, যেখানে আমরা টেবিল টেনিস খেলতাম। এখানে সাইন্স এক্সিবিশন’এর সময়ে বড় বড় মডেল তৈরি করে লোহা বা সোডিয়াম কীভাবে নিষ্কাশিত করা হয়, তা বোঝানো হত বাইরের অসংখ্য অতিথিকে। এখানে বর্ষাকালে পর্দা খাটিয়ে দু একবার সিনেমাও দেখানো হয়েছে। আমি শেষ বছর রবীন্দ্র জয়ন্তীতে এখানে স্টেজ খাটিয়ে বক্তৃতাও দিয়েছি। – লেখক

একদিন আমাদের সঙ্গে একটা জুনিয়র ছেলে খেলত, কী যেন তার নাম। সৌমেন মল্লিক না কী যেন। সুন্দর মত, ফর্সা মত ছেলে। আমাকে খুব পার্থদা পার্থদা করত। আমাদের সঙ্গে খেলত টেবিল টেনিস। একদিন বলল, “পার্থদা, আজ আর খেলব না গো। তাড়াতাড়ি বাড়ি যেতে হবে।” বলে, চলে গেল।

দশ মিনিট, পনের মিনিট পরেই ভীষণ হই চই, কলরব। কে একটা ছেলে নাকি ট্রামের তলায় পড়েছে। আমরা দৌড়ে গেলাম দেখতে মেন বিল্ডিং-এর সামনে বিধান সরণীর ট্রাম রাস্তায়। কী ভিড়!

দেখি, একটা ছেলেকে ট্যাক্সি করে না কীসে করে তুলে নিয়ে চলে গেল কয়েকটা লোক। আর দেখি, ট্রামের রাস্তায় রক্ত আর রক্ত। হাড়ের কুচি পড়ে আছে ট্রাম লাইনে। শুনলাম, সৌমেন মল্লিক দৌড়ে চলন্ত ট্রামে উঠতে গিয়ে একটা পা চাকার নিচে চলে গেছে। ওই ভাবে চলন্ত ট্রামে দৌড়ে ওঠা, আর কন্ডাকটর এলেই লাফ দিয়ে রাস্তায় নেমে পড়া আমাদের একটা মাস্তানি ছিল সে সময়ে। সৌমেন না হয়ে আমিও একদিন ওভাবে চাকার তলায় চলে যেতে পারতাম।

তিন চার মাস পরে সৌমেন স্কুলে ফিরে এলো। দেখি, ক্রাচ নিয়ে নিয়ে হাঁটছে। আমায় দেখে মুখ তুলে হাসলো। বলল, “পার্থদা।”

দেখি, ওর একটা পা হাঁটু থেকে কাটা।

আর একটা সুন্দর ছেলের গল্পও বলতেই হবে এখানে। আমাদের বন্ধু সুদর্শন মুখার্জীর ভাই সুরঞ্জন। সুরঞ্জনই তো? নাকি? কত দিন হয়ে গেল। আর নামটা ঠিক মনে নেই। গল্পকার বিশু মুখোপাধ্যায়ের নাতি।

কিন্তু ঘটনাটা মনে আছে।

আমরা তখন বাস্কেটবল খেলি আমাদের ছোটবাড়ির পেছনের সেই কম্পাউন্ডে। নতুন কন্ট্রাকটর এসে সিমেন্টের স্ল্যাব লাগিয়ে তার ওপরের দিকে বাস্কেটবল রিং আর নেট লাগিয়ে দিয়ে গেছে। আমরা মনের আনন্দে খেলি ছুটির পর বড়বাড়ি থেকে দল বেঁধে ছোটবাড়িতে গিয়ে। আমি, চন্দন ভটচাজ আমাদের বাস্কেটবলের বিগ প্লেয়ার, সে সময়ে চন্দন ইন্ডিয়ান জুনিয়র টিমের হয়ে সিঙ্গাপুর না হংকং-এ গিয়ে খেলে এসেছে। সেই ক্রিকেটে যেমন আমাদের সুজল, বাস্কেটবলে তেমনি চন্দন।

তারপর, অসীম ব্যানার্জী, মুকুল দাস এরা সব। আর, সবেতেই যোগদান করা পার্থ। সত্যি, কী বোকা ছিলাম! আমাকে ভগবান বাস্কেটবল খেলার জন্যে মর্ত্যে পাঠান নি। এই সামান্য সত্যটাই বুঝতে পারি নি। সেই উচ্চতায় উঠতে পারি নি।

আমাদের যখন সেই ভয়ানক হায়ার সেকেন্ডারি পরীক্ষা শেষ হলো, তখন আমরা বসলাম জয়েন্ট এন্ট্রান্স দিতে। ডাক্তারি বা ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার জন্যে। আমাদের সিট পড়েছিল মেডিকেল কলেজে। না কি, হেয়ার স্কুলে। মানে, ওই পাড়ায়। ইউনিভার্সিটি পাড়ায়।

পরীক্ষা যেদিন শেষ হলো, সেদিন বাসে করে ফিরছি। হঠাৎ একজন বলল, “জানিস, স্কটিশে বাস্কেটবল ভেঙে পড়ে তিনটে ছেলে আজ মরে গেছে।”

শুনে বুকটা ছ্যাঁত করে উঠলো। বলে কী রে? আমি যে ওদের সক্কলকেই চিনি। কার কী হলো?

বাড়ি না গিয়ে ছুটলাম আর জি কর মেডিকেল কলেজের হাসপাতালে।

ghoti 18 c
ছোট স্কটিশের পিছনের সেই খোলা জায়গা। এখানে কত ফুটবল খেলেছি, দৌড় প্রতিযোগিতা করেছি বন্ধুদের সঙ্গে। এখানেই পাঁচিলের গায়ে লাগানো অসৎ কন্ট্রাক্টরের তৈরি সিমেন্টের চাঁই ভেঙে পড়ে সেই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছিল। আমরাও শেষ হয়ে যেতে পারতাম। ওই দুটো ছেলে হলো। – লেখক

একটা বাচ্চা ছেলে, এইটে না নাইনে পড়ত, তার নাম বিশ্বরূপ না বিশ্বদেব কী যেন, শুনলাম সেই সিমেন্টের স্ল্যাব ভেঙে তার তলায় চাপা পড়ে মারা গেছে। স্পট ডেড। তার বাবা হাসপাতালে বুক চাপড়ে কাঁদছে। বলছে, “কে ফিরিয়ে দেবে আমার ছেলে? ওই কন্ট্রাকটর ফিরিয়ে দেবে?”

আর দুটো ছেলে মরণাপন্ন হয়ে হাসপাতালে লড়াই করছে। তার মধ্যে একটা হলো কানু বলে একটা ছেলে। সে নানা রকম পাইপ বুকে নাকে গলায় নিয়ে অজ্ঞান হয়ে বিছানায় শুয়ে আছে। অক্সিজেন চলছে। কানু বেঁচে গিয়েছিল।

আর সুদর্শনের ভাই সুরঞ্জন সেদিন না তার পরের দিনই মারা গেল।

মাত্র তিন চার দিন আগে আমি ছোটবাড়ির পাশে প্যারী রো দিয়ে ফিরছিলাম। একটা সাইকেল এসে আমার সামনে কায়দা করে ঘুরে থামল। সুরঞ্জন। হাসলো। বলল, “কী, চিনতে পারছেন স্যার?” তারপর বলল, “আজকাল তো আর আসই না।”

একটু কথা বলেছিলাম সেদিন। যদি জানতাম তিন চার দিন পরেই ও চিরকালের জন্যে চলে যাবে, তাহলে আর একটু বেশি কথা বলতাম।

জানতাম না।

***

জল বুড়ি গরমকালে বিকেল পড়ে আসার সময়ে আমাদের পাড়ায় আসত, আর টিউকলে পা ধুতো। সে অদ্ভুত। এক হাতে পাম্প করছে, আর পা বাড়িয়ে কলের নিচের জলে ধুয়েই যাচ্ছে, ধুয়েই যাচ্ছে, ধুয়েই যাচ্ছে। আমরা দেখে হাসতাম। আবার অন্যদের বলছে, “একটু পাম করে দিবি বাবা?”

বলতাম, “কী গো জল বুড়ি, তোমার ধোয়া কখন শেষ হবে?”

জল বুড়ি কারো কথা শুনত না। শুনতেই পেত না যেন। নিজের মনে কী যেন বিড় বিড় করে বকতে বকতে পা ধুয়ে যেত। আমরা খানিকক্ষণ পর আবার আমাদের ফুটবল খেলায় মন দিতাম। দেখতাম মাঝে মাঝে, জল বুড়ি তখনো পা ধুয়ে যাচ্ছে।

এক ঘণ্টা, দু ঘণ্টা ধরে পা ধোয়ার পর জল বুড়ি চলে যেত কোথায় যেন। এর মধ্যে কেউ বালতিতে জল নিতে এলে বুড়ি বিরক্ত হত। যেন, ওই টিউকলটা ওরই কেনা। বিড় বিড় করে বকতে বকতে সরে দাঁড়াত। আবার পা ধুতে শুরু করত।

হেদুয়া পার্কে ক্লাসের ফাঁকে মেয়েদের আড্ডা। উল্টোদিকে দেখা যাচ্ছে স্কটিশ কলেজের বিরাট বাড়ি। - লেখক
হেদুয়া পার্কে ক্লাসের ফাঁকে মেয়েদের আড্ডা। উল্টোদিকে দেখা যাচ্ছে স্কটিশ কলেজের বিরাট বাড়ি। – লেখক

কে জানে, কেন এমন করত।

কে একটা বলল, জল বুড়ি নাকি খুব শোকে পাগল হয়ে গেছে। ওর সব কটা ছেলে না মেয়ে নাকি একটা একটা করে মরে গেছে। বরও মরে গেছে। জল বুড়ি সাদা কাপড় পরে থাকত। বিধবা।

বুড়ি নাকি নিজেকে দোষ দেয় তাদের মৃত্যুর জন্যে। ভাবে, ওর পাপে সবাই মরে গেছে।

তাই ও সব সময়ে নিজেকে জল দিয়ে ধোয় সব পাপ থেকে মুক্তি পাবার জন্যে।

সত্যি মিথ্যে জানি না।

(কিস্তি ১৯)

Tags from the story
More from পার্থ বন্দ্যোপাধ্যায়

ঘটিকাহিনী (১০)

আমরা জেনে গেছি যে আমাদের স্কুলের প্রত্যেকটি শিক্ষকের এক একটি ছাত্রপ্রদত্ত নাম...
Read More