ঘটিকাহিনী (২৫)

(আগের পর্ব)

ফুলের দিন হলো অবসান

অনেক সময় মনে হয়, হয়ত আমিই আমার মায়ের মৃত্যুর জন্যে দায়ী। আবার অনেক সময়ে মনে হয়েছে, আমার বাবাই এর জন্যে দায়ী।

সুব্রত যখন বেঁচে ছিল, তখন ও আমাকে কয়েকটা চিঠি লিখেছিল আমেরিকায়। তাতে ওর মনের কষ্টের কথা ফুটে উঠত, যদিও সোজাসুজি ও কিছু লিখত না। লিখলে ভালো হত, কারণ ও-যে এক ভয়ঙ্কর ডিপ্রেশন রোগের শিকার, তা আমি জানতাম না। অন্য বন্ধুরাও কখনো কিছু বলে নি। দূরে থাকার কারণে এসব বিষয়ে জানার কোনো উপায় আমার ছিল না। জানলে, হয়ত ওকে বাঁচাবার চেষ্টা একটু করতে পারতাম, কারণ ও আমার কথা যেরকম মন দিয়ে শুনত, অন্য বন্ধুদের কথা ঠিক সেরকম শুনত বলে মনে হয় না। কিন্তু, আমি আমেরিকায় চলে আসবার পর ওর সঙ্গে আমার যোগাযোগ একটু বিচ্ছিন্নই হয়ে গেছিল, শুধু কলকাতায় গেলেই দেখা হত, কথাবার্তা হত। আর, কদাচিৎ দু একটা চিঠি। তখন ইমেলও ছিল না, আর স্কাইপও ছিল না। ফোনও খুব ব্যয়সাপেক্ষ ছিল। আমরা তখন আমাদের নিজেদের বাড়িতেই ফোন করতে পারতাম না তেমন।

parthab logo

তাছাড়া, সুব্রত মনের দিক থেকে আধুনিক ছিল না। ও কখনই আমার দেশ ছেড়ে চলে আসার ব্যাপারটা খোলা মনে মেনে নিতে পারে নি। ও নিজের বাবা-মা, বোন এদের সঙ্গে এত বেশি জড়িত ছিল-যে তাদের ছেড়ে কেউ যে আবার বিদেশে চলে যেতে পারে, এ চিন্তা ওর কাছে অসহনীয় ছিল। একবার আমাকে বলেওছিল, “বাবুয়া, মেসোমশাইয়ের প্রতি, বুবুর প্রতি তোর কর্তব্য করলি না?”

অবশ্য, সুব্রত একা নয়। আমাদের অনেক বন্ধু, আত্মীয়স্বজনই এ কথা বলাবলি করেছে নিজেদের মধ্যে। সুব্রত বলেছে মনের কথা। অন্যরা বলেছে জেলাসি থেকে, ঈর্ষা থেকে। পরশ্রীকাতরতা থেকে। আমাদের মত রাস্তার ধূলো থেকে উঠে আসা পরিবারকে এক জীবনেই এতটা উন্নতি করতে দেখে খুব একটা খুশি হয় নি তারা। তাও আবার নিজের চেষ্টায়, কারুকে ধরাধরি না করে।

BallyScCollege

বালিগঞ্জ সায়েন্স কলেজ। এ বাড়ির তিনতলায় বোটানি ডিপার্টমেন্ট। আমার এম এস সি পড়া এখানেই। পি এইচ ডির রিসার্চ এখানেই শুরু করেছিলাম। তারপর, চাকরি পেয়ে তা ছাড়তে হলো। এবং, সব শেষে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি। – লেখক

যাক, সে অন্য গল্প।

এরকম এক চিঠিতে একবার সুব্রত আমার মার মৃত্যুর কথা উল্লেখ করেছিল। না কি, আমিই নিজে থেকে উল্লেখ করেছিলাম, তা আর এখন ঠিক মনে নেই। কিন্তু, ওকে আমি এমন অনেক কথা বলতে পারতাম, যা আমি আর কোনো বন্ধুকে কখনো বলি নি। যেমন, আমি বলেছিলাম মার মৃত্যুর জন্যে আমি আমার বাবাকে দায়ী করি। কিন্তু তার সঙ্গে এ কথাও লিখেছিলাম, “যদিও জানি বাবা আমাদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক ব্যবস্থার শিকার।”

পরে আমি এ নিয়ে অনেক ভেবেছি। এখন আমি আমার বাবাকে এ মৃত্যুর জন্যে দায়ী করি না। বাবার কিছু করার ছিল না। মার অপারেশন যখন হলো, তখন ক্যান্সার এত বেশি ছড়িয়ে গেছে-যে আর কিছু করার নেই। মা বাবাকে আগে থেকে কিছু বলে নি। নিজেও বুঝতে পারে নি কী ভয়ঙ্কর রোগ শরীরে বাসা বেঁধেছে।

হয়ত, আমি নিজে কিছুটা দায়ী।

ওই সময়ে, যখন মার শরীরে ক্যান্সার প্রথম বাসা বেঁধেছিল, তখন যদি আমি দুর্ঘটনা ঘটিয়ে শয্যাশায়ী হয়ে না থাকতাম, তাহলে হয়ত মা নিজের কথা একটু ভাববার অবকাশ পেত। যখন পেটে ব্যথা করছে একটু একটু, তখনই বাবাকে বলে ডাক্তার সিনহার কাছে যেতে পারত, পরীক্ষা করাতে পারত। কিন্তু, আমিই তখন বিছানায় শুয়ে আছি, আর মার দুশ্চিন্তায় ঘুম নেই আমার জন্যে। এদিকে বাবার ঊষা কারখানায় আজ স্ট্রাইক, কাল লক-আউট লেগেই আছে। রাজনৈতিক অস্থিরতা সেই সত্তর দশকের শেষের দিকে। কংগ্রেসের গুণ্ডাবাজি। তারপর হলো রাজনৈতিক পালাবদল। সিপিএম আর বামফ্রন্ট ক্ষমতায় এলো সাতাত্তরে। সময়টা ভীষণ টালমাটাল। কোনো কিছুরই কোনো ঠিক নেই। বাবার জন্যে চিন্তা, বড় হয়ে ওঠা বোনের জন্যে চিন্তা, আর তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আমার জন্যে রাতে ঘুম না হওয়া চিন্তা। এই সব মিলিয়ে মা আমাদের সমাজব্যবস্থা, অর্থনৈতিক জটিলতা, আর চরম বৈষম্যের শিকার হলো।

Calotropis Procera

ট্রেনে করে ঘুরে বেড়িয়ে জংলি লতাপাতা, ফুল সংগ্রহ। নানারকম ল্যাটিন নাম মুখস্থ। তার সঙ্গে ছিল অবশ্য বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরে বেড়ানোর মজা। – লেখক

এও কোনো নতুন কথা নয়। আমাদের মত ফ্যামিলি কলকাতায় কত আছে! আমরা যেখানে থাকতাম, সেই পাড়ায় ঠিক উল্টোদিকে গাড়ির ব্যাটারি ভেঙে তার পার্টস রিসাইকেল করার কাজ হত। দিবারাত্র সেখান থেকে ঝাঁঝালো অ্যাসিডের চোখ জ্বালা করা ধোঁয়া আমাদের বাড়ির দিকে আসত। তার ওপর চারদিকে সকাল-সন্ধে রাস্তায় কয়লার উনুন ধরাত লোকেরা। সব রকমের ধোঁয়া আমাদের সেই মেজেনাইন ফ্ল্যাটে এসে ঢুকত, আর বেরোতে চাইত না। সন্ধে হলেই আমাদের সব কটা জানলা বন্ধ করে রাখতে হত। তার মধ্যে কলকাতার দমবন্ধকরা গরম, আর হাঁসফাঁসকরা আর্দ্রতা। এর মধ্যে মা সারাদিন বাড়িতে থাকত। একদিকে চরম আর্থিক দুশ্চিন্তা, আর একদিকে চরম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ—এই দুইয়ে মিলে মাকে একটু একটু করে শেষ করে দিয়ে গেল।

সব চেয়ে যেটা অবাক লেগেছিল, বাবা আমাকে আগে কিছুই বলে নি। কী ভাবলো, আমি ভয় পাব? দুঃখে দিশেহারা হয়ে যাব? আমাদের দেশে এই একটা অদ্ভুত ব্যাপার। বাড়ির লোকেরাই জানতে পারে না আসলে কী চলছে। সব সময়ে একটা লুকোচুরি। সবাই ভাবছে, আমি নিজেই সামলে নেব। অন্যদের আর দুঃখ দেওয়া কেন? ওদেরকে আর কষ্টের মধ্যে ফেলা কেন? আশ্চর্য! আমি আর আমার বোন বুবু তো কিছু জানতেই পারলাম না আগে থেকে! হয়ত বাবা ভাবলো বুবু মাত্র বারো তেরো বছর বয়েস, জানতে পারলে খুব কান্নাকাটি করবে, সহ্য করতে পারবে না, তাই কিছু জানালো না। নিজে নিজে এত বড় একটা কঠিন সময়ের মোকাবিলা করলো। অথচ, সবাই মিলে ভাগ করে নিলে কত ভালো হত!

দিদি—আমার দিদিমা, মাসি, মামারা কেউ কিচ্ছু জানতে পারল না। যখন জানতে পারল, তখন মা একেবারেই অচেতন হয়ে আছে। একজন ডাক্তার, ক্যান্সার স্পেশালিস্ট, তিনি শুধু মাকে সেই অসহ্য যন্ত্রণা থেকে বাঁচাবার জন্যে ঘুম পাড়িয়ে রেখেছেন।

শোভাদি দিবারাত্র মায়ের সেবা শুশ্রুষা করে। আর, মাসিও আসে প্রতিদিনই প্রায়। দিদির বাড়ি ওদিকে আবার সেই দুঃখের মেঘে ঢাকা। আবার ঝড় আসতে চলেছে।ওদের একটু সুখের মুখ দেখা সংসারটাকে প্রলয়ঙ্কর ঝড়ে ওলট পালট বিধ্বস্ত করে দেবার জন্যে ভগবান যমরাজকে পাঠাবার ব্যবস্থা করছেন আবার।

তার মধ্যে মা একদিন একবার একটু চেতনা ফিরে পেল। আমি তখন পাশেই বসে আছি। মা আমাকে খুব আস্তে আস্তে বলল, “আমি জানি, আমার ক্যান্সার হয়েছে।” যার রোগ, তাকে কেন জানতে দেওয়া হবে না, তার কী হয়েছে? তার শরীরের ওপরে, তার মনের ওপরে তার নিজেরই তো সব চেয়ে বেশি অধিকার। কী অন্যায়, কী অবিচার!

দোসরা এপ্রিল, রবিবার। আমি ঠিক বুঝতেও পারি নি সময়টা কত দ্রুত এগিয়ে আসছে।

Calotropis_procera_subsp_hamiltonii

সংগৃহীত গাছের নমুনা দিয়ে হার্বেরিয়াম শিট তৈরি। তার শনাক্তকরণ। জেনাস, স্পিসিস, ফ্যামিলি, অর্ডার, ক্লাস। ছবি আঁকা। এখন উদ্দেশ্যবিহীন মনে হলেও তখন খুবই আকর্ষণীয় লাগত। বয়েসটা কম ছিল। সবেতেই আনন্দ ছিল। – লেখক

আমি ভালো হয়ে উঠেছি। একেবারে নরমাল। বালিগঞ্জ সায়েন্স কলেজে যাই, কিন্তু পড়াশোনা কিছু হচ্ছে না একেবারেই। মন খুব অস্থির আর ভারাক্রান্ত। তার মধ্যেই ক্লাস করি। পাঁচটা সিমেস্টার আমাদের এম এস সিতে, তার ফার্স্ট সিমেস্টার হয়ে গেল। আমি খুব খারাপ নম্বর পেয়েছি। ভাস্বতী বলে ব্রেবোর্ন থেকে আসা একটা মেয়ের সঙ্গে আমার একটু বেশি বন্ধুত্ব হয়েছে, ও আবার প্রথম পরীক্ষায় একেবারে ফার্স্ট। আমার নতুন বন্ধুদের মধ্যে আর দু চারজন আমার খুব ক্লোজ ফ্রেন্ড হয়ে গেছে, তার মধ্যে মাকে রক্ত দেওয়া নাগেশ, প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে আসা তপতী, আর মুক্তি। এ ছাড়া, ব্রেবোর্নেরই রমা, আর মেয়েদের সিটি কলেজ থেকে আসা মহুয়া, মধুশ্রী আর শুক্লা। রমা খুব প্রাণোচ্ছ্বল, ও পাঞ্জাব না কোথা থেকে কলকাতায় এসেছে সবে। পাঞ্জাবী মেয়েদের মতই বেশি, বাঙালিয়ানা কম। হিন্দি গান গায়, আর মাঝে মাঝে রবীন্দ্রসঙ্গীত গাইবার চেষ্টা করে। আবার আমাদের সনতের সঙ্গে ওর একটা রিলেশনশিপ হচ্ছে একটু একটু করে। ওদের ব্রেবোর্ন কলেজের গ্রুপ একসঙ্গে আড্ডা দেয়—অঞ্জু সেহগাল, প্রীতি, চৈতালি এরা সব। প্রেসিডেন্সির শ্যামল, বিদিশা, আশালতা আর মুক্তি আবার একটা আলাদা গ্রুপ। দুই গ্রুপের মধ্যে একটা চাপা রেষারেষি। আমি বিদ্যাসাগরের গরিব ছেলে, কিন্তু আমাকে অনেকেই দেখি খুব পছন্দ করে। নাগেশ আর ভাস্বতীর মত বেস্ট স্টুডেন্ট, আর বি এস সিতে ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট তপতী আমার খুব বন্ধু বলে আমার জাত এখন একটু উঁচু। শ্যামল, মুক্তি এরা সব আমার খুব বন্ধু। প্রেসিডেন্সি কলেজের ভালো ভালো ছাত্রছাত্রী।

জাতে উঠছি। অহংমন্যতা আরো বেড়েছে ভেতরে ভেতরে। সেই পুরনো দিনের স্কটিশের লিডার পার্থ, যে বিদ্যাসাগর কলেজের তিন বছর ঘুমিয়ে ছিল, সে আবার জেগে উঠেছে।

এপ্রিল মাসের এক তারিখে আমি রমা, সনৎ, প্রতাপ আর কার কার সঙ্গে যেন কলকাতার কাছেই আমাদের সাপ্তাহান্তিক উদ্ভিদ-সংগ্রহের অভিযান বা এক্সকারসনে গেছিলাম লোকাল ট্রেন ধরে। আমি এখন কেমন যেন একটা উদাসীন হয়ে গেছি মার ব্যাপারে। ডাক্তার সিনহার কাছে যখন জানলাম মা আর বাঁচবে না, এবং কোনো ওষুধেই মার এই রোগের কোনো উপশম হবে না, তখন থেকেই আমি ভগবান সম্পর্কে, আর তাঁর বিপদতারণ ভূমিকা সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবিশ্বাসী হয়ে পড়েছি। অবশ্য, ভগবান-ঈশ্বর এসব নিয়ে কোনো কালেই আমার বিশেষ কোনো ভক্তি ছিল না। চিরকালই দেখে এসেছি, ঈশ্বর-আল্লা-যীশু এঁরা গরিব লোকের কোনো উপকারেই লাগেন না, এবং তাদের জীবন বাঁচাতেও এঁরা সম্পূর্ণ ব্যর্থ। এখন আমার মা চলে যাবে, আর দু সপ্তাহ কি তিন সপ্তাহের ব্যাপার। আমাদের বাড়ি চিরকালের জন্যে পাল্টে যাবে। যদিও পাল্টে কেমন হয়ে যাবে, তা বুঝতে পারছি না, কিন্তু হয়ে যে যাবে, তা বুঝতেই পারছি। এবং তার পরে যে কী হবে, তার কোনো ধারণাই আমার নেই।

বাবাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম ডাক্তার সিনহার চেম্বার থেকে ফিরে এসে সেদিন, “তুমি সব জানতে পেরেছিলে, কিন্তু আমাকে কিছু বলো নি কেন?” সেই বোধহয় বাবাকে প্রথম সামনা-সামনি চ্যালেঞ্জ করা। “অপারেশন হবার পর থেকেই তো তুমি সব জানতে। আমাদের বললে না কেন?”

মনে নেই বুবু সামনে ছিল কিনা। বোধহয় ছিল না। আমাদের তো সেই আড়াইটে ঘর। তার মধ্যে একটায় মা ঘুমিয়ে আছে। আর একটায় আমরা কথা বলছি। বুবু তাহলে তখন কোথায় ছিল? ছোট ঘরটায়? হতে পারে। বুবু তখন মাধ্যমিক পরীক্ষা দেবার জন্যে তেরি হচ্ছে।

বাবা সেই এক কথাই বলল। “বুবু জানতে পারলে খুব কান্নাকাটি করবে। এই সব ভেবে…”

বাবা এখন অনেক বদলে গেছে। আসন্ন প্রলয়ের কথা ভেবে। আর রাগ টাগ করে না। চুপচাপ থাকে। কাজে যায়, আর সন্ধেবেলা বাড়ি চলে এসে যতটা পারে, মার দেখাশোনা করে। যদিও, করার আর বিশেষ কিছুই নেই। ওই যতটা সম্ভব, মাকে ক্যান্সারের যন্ত্রণা থেকে বাঁচিয়ে রাখা। ঘুম পাড়িয়ে রাখা।

আমি তাই কেমন যেন একটা নির্লিপ্ত হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছি। ক্লাস করছি। বন্ধুদের সঙ্গে এদিক সেদিক যাচ্ছি। মা যখন দুপুরবেলা ঘুমিয়ে আছে, তখন আমার ছোটবেলার বন্ধুরা—পাড়ার বন্ধুরা—মাকে একজন দুজন করে দেখে গেছে, আর বাইরে বেরিয়ে এসে চোখের জল ফেলেছে।

কল্যাণ আর পরেশ ধর দুই ভাই ছিল আমার বন্ধু। সেই চিন্ময়কাকুর বাড়ির তিনতলায় ওরা ভাড়া থাকত। ওরা একদিন দেখে গেল মাকে। আমাদের পাশের বাড়ির কার্তিক সঙ্গে এলো।

বাইরে বেরিয়ে এসে ওরা আমাদের সেই একুশ নম্বর বাড়ির ছাইরঙা রকটায় বসলো। এই রকে আমরা কত ক্যারম খেলেছি। কত আড্ডা দিয়েছি।

সবাই চুপচাপ। মা আমাদের বন্ধুদের কত ভালবাসত। কত রান্না করে খাইয়েছে আমার জন্মদিনে। হয়ত ওদের সেসব কথা একটু একটু মনে পড়ছিল, কে জানে!

কল্যাণ বলল, “বাবুয়া, এরকম অবস্থা মাসিমার, আগে বলিস নি?”

কার্তিক বলল, “বলে নি। বলে কী করবে? কিছু করা যায় এই অসুখে?”

আবার সবাই চুপচাপ। আমার বন্ধুদের এত চুপচাপ থাকতে আমি জীবনে কখনো দেখি নি। হয়ত এই ওদের আমার মাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাবার একমাত্র উপায়।

কল্যাণ বলল, “ডাক্তার কী বলছে রে?” ও যেন একটু ভাবছে, আমি যদি ওকে “এখনো আশা আছে বাঁচার,” এই কথা বলি।

কিন্তু আমি চৈত্রমাসের সেই দুপুরে সেই ঝাঁ ঝাঁ করা রোদের মতই বললাম, “আর বেশিদিন না। দেখলি তো কী অবস্থা।” এই ধরনেরই রুক্ষ কী একটা বলেছিলাম।

Botany renunion

বোটানি ডিপার্টমেন্টের শতবর্ষ পূর্তি রি-ইউনিয়নে আমাদের ব্যাচের অনেক পুরনো বন্ধুদের একসাথে দেখা যাচ্ছে। যদিও আমরা উপস্থিত থাকতে পারি নি। ছবি ফেসবুক থেকে প্রাপ্ত। – লেখক

আমার সেই ছোটবেলার বন্ধু উৎপল ভট্টাচার্যের মা, আমাদের মাসিমা, একদিন দেখতে এলেন। খুব চুপিচুপি এলেন, মাকে দেখলেন একটু। মা অজ্ঞান হয়ে আছে। ঘুমোচ্ছে। মাসিমা মার ঘর থেকে আমাদের ঘরে এলেন। আমাকে বললেন, “পার্থ, এ কী অবস্থা?”

মাসিমার চোখে জল। সেই কতকাল থেকে উনি আমাদের চেনেন। মাকে চেনেন। কত গল্প করেছেন। কত কথা বলেছেন।

মাসিমা বললেন আস্তে আস্তে, “আমার এত মন খারাপ হয়ে গেল পার্থ।” উনি স্পষ্টতই দুঃখে কাতর হয়ে পড়েছেন। আমি বললাম, “মাসিমা, উৎপল ভালো আছে?”

মাসিমা ঘাড় নেড়ে হ্যাঁ বলে আস্তে আস্তে চলে গেলেন।

একদিন আমি ভাস্বতীকে দুপুরবেলা নিয়ে এলাম। তখনও আমার বেশি বন্ধুদের মধ্যে ভাস্বতী, নাগেশ, রমা এরাই। ভাস্বতী মাকে দেখে অত্যন্ত বিচলিত হয়ে পড়ল। আমাকে বারবার বলতে লাগলো, “তুই কেন আমাকে নিয়ে এলি? তুই কেন আমাকে নিয়ে এলি?”

ওদের সমাজে, ওদের শ্রেণীতে দুঃখ-কষ্ট, তার নিষ্ঠুরতা, তার নিদারুণ চেহারা বেশি দেখা যায় না। ওরা তাই সেসব ঠিক নিতে পারে না। ভেঙে পড়ে সহজেই।

আমার তাই মনে হয়েছিল।

***

মা চলে যাবার সময়ে আমি সামনে ছিলাম না। এই আমার আর একটা মন খারাপের কারণ। আমাকে যেতে হয়েছিল মার বহুকালের এক বান্ধবী মঞ্জুমাসিকে বাড়ি থেকে ডেকে আনতে। মঞ্জুমাসি, আমি যদ্দূর শুনেছি, লেডি ডাফরিন হাসপাতালে আমাকে ভূমিষ্ঠ হতে সাহায্য করেছিল। কিন্তু, কে বলবে? আমাদের বাড়ি কত এসেছে, মার খুব বন্ধু হয়ে গেছিল। আমার সঙ্গেও কত ঠাট্টা-ইয়ার্কি করত। হাসত খুব। খুব মডার্ন একজন মহিলা। এমন বেশি দেখাই যায় না।

শেষ দিন মাকে ক্যাথিটার দেবার দরকার হয়েছিল। কিন্তু রোববার, সব বন্ধ। কে আসবে? এদিক ওদিক দু একটা ওষুধের দোকান টোকান ঘুরে কারুকেই পেলাম না। তখন মনে পড়ল মঞ্জুমাসির কথা। এন্টালিতে থাকে। আমাদের মানিকতলা থেকে যেতে পনের মিনিট, আসতে পনের মিনিট। এক ঘণ্টার মধ্যে নিয়ে আসব। আমি বাস ধরে বেরিয়ে পড়লাম।

কিন্তু মঞ্জুমাসির শ্বাশুড়ির তখন যায় যায় অবস্থা। মার কথা শুনে মঞ্জুমাসি মাথায় হাত দিয়ে পড়ল। বলল, “বাবুয়া, লক্ষ্মী ছেলে, সোনা ছেলে। বাবা, আজকে আমার এই অবস্থা, তুই আজকের মত সামলে নে তোদের কাজের লোককে দিয়ে। আমি কাল সকালেই যাব।”

মঞ্জুমাসি কথা রেখেছিল। পরের দিন সকালেই এসেছিল। তখন মার ঘর ফাঁকা। আমরা তার একটু আগেই শ্মশান থেকে ফিরেছি।

***

আমি যখন বাস থেকে নেমে আমাদের সেই ব্যাটারির গলি দিয়ে বাড়ির দিকে আসছি, তখন লোড শেডিং চলছে। অন্ধকার অন্ধকার। তার মধ্যে কেমন যেন আমাদের বাড়িটায়, ফ্ল্যাটটায় আলো জ্বলে আছে। কেন? মার ঘরে তো আলো নিভিয়ে রাখা হয়। তাহলে আলো জ্বলছে কেন?

হন হন করে হেঁটে বাড়ির কাছে পৌঁছতেই মাসির কান্নার আওয়াজ পেলাম। “ছোড়দি, ও ছোড়দি, ছোড়দি গো…”

এক মুহূর্তেই আমি যেন অনেক বড় হয়ে গেলাম। এক মুহূর্তেই। পরিষ্কার মনে আছে। এক সেকেন্ড আগে আমি ছিলাম ছোট। এক সেকেন্ড পরেই আমি এখন অনেক বড়। আমার মাথা ওপর এখন অনেক দায়িত্ব। আমার মা আর বেঁচে নেই। আমার বোন আছে। ওকে দেখতে হবে। বাবা আছে। বাবাকেও দেখতে হবে একটু। বাবার চাকরি প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। আমাকে চাকরি পেতেই হবে। পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হবে। মা চেয়েছিল আমি এম এস সি পড়ি। মা দেখে গেছে আমি এম এস সি পড়ছি। আমি পড়া চালিয়ে যাব। রেজাল্ট ভালো করব। আমি এখন বাড়ির বড় ছেলে। আমার অনেক কাজ।

বুবু কাঁদছিল। কিন্তু জোরে জোরে কাঁদছিল না। ও-ও যেন অনেক বড় হয়ে গেছে হঠাৎ।

কয়েক মিনিটের মধ্যেই আমাদের গোরাচাঁদ বোস রোডের সরু রাস্তা লোকে লোকারণ্য।

“বাবুয়ার মা… বাবুয়ার মা।” কে যেন বলতে বলতে চলে গেল আর একজনকে। ফিসফিস করে প্রায়।

“বাবুয়ার মা?”

আরো লোক। সবাই। সবাই। পাড়া ভেঙে পড়ল।

আমার সব বন্ধু। পাড়ার সবাই। শুধু সুব্রত নয়। ও খড়গপুরে। না এসে ভালই হয়েছে। যা কলজে ওর, হয়ত ফিট হয়ে যেত। বা, চীৎকার করে কাঁদত। সে একটা বিশ্রী ব্যাপার হত। এখানে কেউ চীৎকার করে কাঁদছে না। আমার মা চীৎকার করে কাঁদা একেবারে পছন্দ করত না। নিজেও যখন কাঁদত দুঃখ পেলে, চুপিচুপি কাঁদত। আমরা কেউ জোরে জোরে কাঁদা পছন্দ করি না। অশ্লীল মনে হয়।

একটু পরে সব দরকারি কাজ শুরু হলো। ডাক্তার মিত্র, আমাদের বাড়ির পিছনে সেই গোস্বামী বাবু শচীন দেব বর্মণদের বাড়িওলা, এসে ডেথ সার্টিফিকেট দিয়ে গেলেন। মায়ের পায়ের ওপর আলতা মাখিয়ে কাগজে ছাপ নেওয়া হলো। আমিই নিলাম। কোনো ছবি তোলা হয় নি। মনে ছিল না ব্যস্ততার মধ্যে।

বাবার আর এস এসের সব বন্ধুরা। সহকর্মী। কী করে যেন খবর পেয়ে গেছে সবাই। আমাদের তো ফোন ছিল না, তাই কারুকে খবরও দিতে পারি নি। শুধু বাবা বোধহয় খবর পাঠিয়েছিল দিদির বাড়ি। জেঠুর বাড়ি খবর পাঠানো হয় নি। জেঠুর অবস্থাও এখন তখন। দু তিন মাস আগে জেঠু মুখের ক্যান্সারের যন্ত্রণা আর সহ্য করতে না পেরে অনেকগুলো ঘুমের ওষুধ একসঙ্গে খেয়ে ফেলে সুইসাইড করতে গেছিল।

আর এস এস, বিদ্যার্থী পরিষদে আমার বন্ধুরা। ছোটমামার বন্ধুরা। রথীন মামা, ওরা সব। আবার ওরও বন্ধু বয়েসে একটু ছোট, বুদ্ধদা বুদ্ধদা করে, আবার আমারও বন্ধুমত। তাদের সঙ্গে আমি ক্রিকেট ম্যাচ খেলেছি। গণেশ, সুভাষ। প্রতাপ খবর পেয়ে ওর পাড়ার বন্ধুদের নিয়ে এসেছে কোনো হেল্প লাগবে কিনা তাই। সেই ভোঁদা, বাবলু, গোপাল এরা।

সুজল। কারবালার কিছু বন্ধু। চিন্ময়কাকু।

আমাদের অবিনাশ ঘোষ লেনের মামার বাড়ির দু চারজন লোক।

কত লোক! কত লোক! কত লোক! একশ দুশ তো হবেই।

আর এলো সেই সব দিদিরা, মাসিরা—মার কাছে যারা এত বছর ধরে কাজ করে গেছে, তারা। সেই মহামায়া মাসি এখন থুত্থুরে বুড়ি। নাকি, আসে নি? ঠিক মনে পড়ছে না। তারপর, মায়া, কমলা, অশোকা, মেনকা, সন্ধ্যার মা। সেই বুড়ি দিদি, যে সুব্রতদের বাড়ি কাজ করত, আর সুব্রতকে বলত সুক্রিত। আমরা হাসতাম। সেও দেখি এসেছে। তারপর, সামনের স্বপনদা-দের বাড়ি কাজ করে রামের মা, সে এসেছে। এরা সবাই মাকে শেষ একবার দেখতে এসেছে। সম্মান জানাতে, নমস্কার জানাতে এসেছে।

সবাইয়ের মুখে একটাই কথা, “বাবুয়া, আমাকে আগে বলো নি তো? বৌদি চলে গেল। আমাকে বললে না?”

কী বলব? আমি কি খুঁজে খুঁজে ওদের ডেকে বলতে যাব, “ওগো তোমরা এস গো, আমার মা আর বাঁচবে না, এসে দেখে যাও?”

একটা রিকশা এসে থামল আমাদের বাড়ির সামনে। মেজমামা দিদিকে নিয়ে এসেছে।

দিদি দশ মিনিট ছিল। কিংবা, পনের মিনিট। মার গায়ে হাত বুলিয়ে দিল। বলল, “এত চুল ছিল আমার মেয়ের, এখন কী অবস্থা দেখো।”

দিদিকে কাঁদতেও দেখি নি, আর জোরে জোরে কাঁদার তো প্রশ্নই ওঠে না।

মেজমামা দিদিকে ধরে ধরে নিয়ে গিয়ে রিকশা করে নিয়ে চলে গেল।

আমরা খাট কিনলাম, ফুল কিনলাম, ধূপ কিনলাম, রাস্তায় ছড়ানোর খই কিনলাম। খাটের চারটে কোণে রজনীগন্ধা দিয়ে সাজালাম। মাকে সব মেয়েরা নতুন কাপড় পরিয়ে দিল। সিঁদুর পরিয়ে দিল। তারপর আস্তে আস্তে সবাই মিলে খুব সাবধানে মাকে শেষবারের মত বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে এসে খাটে পাতা নতুন তোশক আর নতুন চাদরের ওপর শুইয়ে দিল।

আমাদের সামনের বাড়ির কাকিমা মুখে কাপড় চাপা দিয়ে কেঁদে উঠলো। ওদিকের বাড়িতে শান্তার মা, ওদের তিনতলায় বুবুর বান্ধবী সোনালীর মা, এদিকে সংঘমিত্রাদের বাড়ি ওদের বাড়ির বউরা, হিন্দুস্তানি বাড়ির বউরা, সবাই একবার চোখের জল মুছলো।

সংঘমিত্রার বাবা আর ছোটকাকা আমরা যাকে বলতাম অভিনবদা, ওঁরা দুজন আমাদের বাড়ি এসেছিলেন আমাদের সান্ত্বনা দেবার জন্যে। ওঁদের মত লোক আমাদের বাড়ি এই প্রথম। মেসোমশাইকে বললাম, “শেষ সময়টায় সামনে থাকতে পারলাম না, মেসোমশাই।”

মেসোমশাই খুব দরদ দিয়ে বললেন, “তুই ওটা নিয়ে অত ভাবিস না, বাবুয়া। নিজেকে কষ্ট দিস না।” আমার খুব ভালো লেগেছিল ওঁদের আন্তরিকতা। শিক্ষিত, সজ্জন মানুষদের ফ্যামিলি।

“তুই তো চেষ্টা করেছিলি তো।” অভিনবদা বলল।

তা করেছিলাম।

***

তারপর আর কী?

সেই হিন্দুদের যেমন হয়, চারজন শক্তিশালী মানুষ খাট কাঁধে তুলল। একজন ধ্বনি দিতে লাগলো, “বল হরি।” আর অন্যরা নিচু গলায় বলল, “হরি বোল।”

“বল হরি।”

“হরি বোল।”

“বল হরি।”

“হরি বোল।”

তিনবার বলা হলো। বলতে হয়।

সবাই, জনতার এক বিরাট অংশ চলল অনুগামী হয়ে।

অনেক রাতে, সেই দোসরা এপ্রিল শেষ চৈত্রের রাতে, মার শরীরটা চিতার আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেল।

Nimtala burning ghat

নিমতলা মহাশ্মশান, যেখানে রবীন্দ্রনাথের শেষকৃত্য হয়েছিল, সেখানেই মাকে দাহ করা হয়েছিল হিন্দু ধর্মীয় রীতি মেনে। অনেক রাতে চিতার আগুন। এদিক সেদিক ছড়িয়ে ছিটিয়ে আমরা সবাই। কেমন যেন একটা অতীন্দ্রিয় অভিজ্ঞতা! – লেখক

অনেক, অনেক লোক সারা রাত ছিল শ্মশানে। মেয়েরা যায় নি। যায় না।

বাবা এক কোণে দাঁড়িয়ে কথা বলছিল বন্ধুদের সঙ্গে। আমি আর এক কোণে। ছোটমামা ওর বন্ধুদের সঙ্গে আর এক দিকে।

লোকজন চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে।

পুজো করে, অস্থি বিসর্জন দিয়ে, গঙ্গায় চান করে, অশৌচের নতুন ধুতি কাছা পরে আমি সবাইকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি ফিরলাম। নিমতলা ঘাট থেকে সেই আহিরীটোলা, তারপর সেই পুরনো পুরনো পাড়াগুলো, গলিগুলোর মধ্যে দিয়ে। সেন্ট্রাল এভিনিউ পার হয়ে বি কে পাল এভিনিউ। গ্রে স্ট্রিট। হাতিবাগান। তখন দোকান বাজার সব বন্ধ। অন্ধকার অন্ধকার।

Gorachand 1

তিনের এর তিনতলা থেকে তোলা গোরাচাঁদ বসু রোডের ছবি। ওই হালকা সবুজ বাড়িটা শান্তাদের, আর রাস্তার ঠিক উল্টোদিকের উঁচু বাড়িটাই আমাদের তিনের আট। আমাদের মানে আমরা ওই বাড়ির নিচের তলায় মেজেনাইনে ভাড়া থাকতাম। আর দেখা যাচ্ছে সেই বিশাল টালির আর টিনের ছাদ দেওয়া হিন্দুস্তানিদের বস্তি। দূরে যেখানে হলুদ ট্যাক্সি দাঁড়িয়ে আছে, সেখানে কারবালা ট্যাংক লেনের শুরু। এখনো ঠিক সেই রকমই আছে। এ ছবি ২০১৫-এর মার্চ মাসে তোলা। – লেখক

সূর্য ওঠার ঠিক আগে ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা ভোররাতে আমরা সবাই মিলে হেঁটে বাড়ি ফিরলাম। ভিজে গামছা মেলে ধরে। তা হেঁটে আসতে আসতেই শুকিয়ে গেল। কে কে যেন আমাদের জন্যে অপেক্ষা করছিল বাড়ির দরজায়। শ্মশানযাত্রীদের নিমপাতা দাঁতে কেটে, একটু মিষ্টি আর জল খেয়ে, মাথায় গঙ্গাজল ছিটিয়ে তবে বাড়িতে প্রবেশাধিকার হয়।

আমি, বাবা, ছোটমামা, আর সবাই যারা যারা ছিল, সব বাড়ি ফিরলাম।

এই হলো গল্প। গল্প হলেও সত্যি।

পরের দিনে সকালে মঞ্জুমাসি খোঁজ নিতে এলো।

(কিস্তি ২৬)

Tagged with:

About Author

পার্থ বন্দ্যোপাধ্যায়
পার্থ বন্দ্যোপাধ্যায়

পার্থ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রায় তিরিশ বছর ধরে আমেরিকায় আছেন। কলকাতায় ছিলেন জীবনের অর্ধেক। এখন স্থায়ীভাবে নিউ ইয়র্কের বাসিন্দা। মানবাধিকার, বিশেষত ইমিগ্র্যান্টদের অধিকার ও শ্রমিক ইউনিয়ন—এই দুই বিষয়ে পেশাদারিত্ব। ইলিনয় থেকে পি এইচ ডি করার পর বিজ্ঞান ছেড়ে সাংবাদিকতা ও হিউম্যানিটিস নিয়ে পড়াশোনা করেছেন কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটিতে। শৈশব থেকে রাজনৈতিক অঙ্গনের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। ১৫ বছরেরও বেশি সময় আর এস এস ও বিজেপির সাথে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত থাকার পর রাজনৈতিক ও আদর্শগত কারণে বেরিয়ে আসেন। তাদের সম্পর্কে বই ও নানা রচনা লেখেন। রাজনীতি ছাড়া বাংলা ও ভারতীয় সঙ্গীত, সাহিত্য, চলচ্চিত্র, নাটক, শিল্পকলা ইত্যাদি বিষয়ে আগ্রহ। সাংস্কৃতিক সংকট ও বিশ্বায়িত অর্থনৈতিক আগ্রাসন সম্পর্কে পার্থ বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Partha Banerjee) বিশ্লেষণ ইউটিউব ও ফেসবুকে পাওয়া যায়। রবীন্দ্রসংগীতে ও বাংলা আধুনিক গানে বিশেষ উৎসাহ। ২০১২ সালে কলকাতা থেকে রবীন্দ্রনাথের গানের সিডি "আরো একটু বসো" প্রকাশিত হয়। বাংলা ও ইংরাজিতে লেখেন। উইকিপিডিয়া লিংক: http://en.wikipedia.org/wiki/Partha_Banerjee