ঘটিকাহিনী (৪)

এলোমেলো করে ছড়ানো রয়েছে চতুর্দিকে। দেখে একটু আশ্চর্য লেগেছিল। এই দাদু আর দিদার বাড়ি এত খেলনা কেন? বোধহয় মাকে জিগ্যেসও করেছিলাম দু একবার। উত্তর পাই নি।

(আগের পর্ব)

ভারতবর্ষ

চার বছর বয়েসে প্রথম ভারতবর্ষ ভ্রমণ।

একটু বাড়িয়ে বললাম। ভ্রমণ-টমণ কিছু না। উত্তরপ্রদেশে তিনটে জায়গায় শীতকালে দু চার দিন করে কাটিয়ে আসা। ঘুরে আসার অনেক দিন পর পর্যন্ত আমাদের এই ট্রিপটার নাম ছিল “লখনো-বেরেলি-কাশি।” কলকাতার বাইরে কোথাও বেড়াতে যাবার কথা উঠলেই বলতাম, “আবার সেই লখনো-বেরেলি-কাশির মত যাব আমরা?”

পৃথিবীবিখ্যাত বারাণসী বা কাশী। "গঙ্গার পশ্চিম কূল বারাণসী সমতুল।" হিন্দু আর মুসলমান দুই ধর্মে মারামারি করে আমাদের দেশটাকে কলুষিত করে ফেলেছে। কাশীও তার ব্যতিক্রম নয়।  আর, মা গঙ্গার জলও দুষণে, আবর্জনায় ভর্তি। তাও, কাশীতে গেলে মনের ভেতর কেমন যেন একটা পবিত্র পবিত্র ভাব আসে। মহাভারতের, ইতিহাসের কথা মনে হয়। দশাশ্বমেধ ঘাট, মণিকর্ণিকা ঘাট, কেদার ঘাট, হনুমান ঘাট, অস্‌সি ঘাট। অপরাজিত সিনেমার চৌষট্টি ঘাট। সন্ধেবেলা সংকীর্তন।
পৃথিবীবিখ্যাত বারাণসী বা কাশী। “গঙ্গার পশ্চিম কূল বারাণসী সমতুল।” হিন্দু আর মুসলমান দুই ধর্মে মারামারি করে আমাদের দেশটাকে কলুষিত করে ফেলেছে। কাশীও তার ব্যতিক্রম নয়। আর, মা গঙ্গার জলও দুষণে, আবর্জনায় ভর্তি। তাও, কাশীতে গেলে মনের ভেতর কেমন যেন একটা পবিত্র পবিত্র ভাব আসে। মহাভারতের, ইতিহাসের কথা মনে হয়। দশাশ্বমেধ ঘাট, মণিকর্ণিকা ঘাট, কেদার ঘাট, হনুমান ঘাট, অস্‌সি ঘাট। অপরাজিত সিনেমার চৌষট্টি ঘাট। সন্ধেবেলা সংকীর্তন।

বিহার, উত্তরপ্রদেশ আর মধ্যপ্রদেশের বিভিন্ন জায়গায় বাবার অনেক আত্মীয়স্বজন ছড়ানো ছিটোনো ছিল। তার মধ্যে কাশী বা বেনারস ছিল আমাদের প্রায় প্রতি বছর বেড়াতে যাবার একটা জায়গা। আমার বাবা জিতেন্দ্রনাথ, ঠাকুরদা কেদারনাথ, এবং প্রপিতামহ রামদাস বন্দ্যোপাধ্যায় সব কাশীতেই থাকতেন।

parthab logo

শুনেছি রামদাস হুগলির দশঘরা বা দশঘড়া নামক গ্রাম থেকে কাশী চলে গিয়েছিলেন, এবং ওখানে হোমিওপ্যাথি ডাক্তার হিসেবে খুব নামযশ করেছিলেন। আর যেহেতু তিনি হোমিওপ্যাথির ডাক্তার ছিলেন, তাই কাশীর বাড়ির সবায়ের ধারণা ছিল সবাই এক একজন প্রতিষ্ঠিত হোমিওপ্যাথি ডাক্তার। আমার ঠাকুমা, জেঠুরা, কাকারা আর পিসিরা এবং তাদের সব ছেলেমেয়েই খুব বিজ্ঞভাবে ডাক্তারি পরামর্শ বিনামূল্যে বিতরণ করত। আর নিজেদের মধ্যে এই নিয়ে ঝগড়াও করত ওষুধ ও তার ডোজ নিয়ে। বড়পিসি হয়ত বাবাকে বলল, “বাবুয়াকে নাক্স ভমিকা দে। ওর বমি বমি ভাব পরীক্ষা এলেই হয়। আর কিছু দিস না।” তখন এক কাকা দিল্লি থেকে বাবাকে চিঠি লিখল পোস্টকার্ডে, “শ্রীচরণেষু ছোড়দা, শুনলাম বাবুয়ার পরীক্ষার সময়ে গা গুলোয়। ওকে নাক্স ভমিকা দেওয়া উচিত। কিন্তু দেখো, থার্টি দিও, টেন দিও না।” পোস্টকার্ড যখন এসে পৌঁছল, ততদিনে আমার পরীক্ষা শেষ হয়ে গেছে, আর বমিও সেরে গেছে।

বমি আমার পেত না। বাচ্চা ছেলেদের কত কী হয়! কিন্তু সেই যে পরশুরামের চিকিৎসা বিভ্রাটে বলেছে না, “প্রাতিক্কালে বোমি হয়? হয় হয়, zaanti পার না।” আমাকেও তেমনি সবাই বলত আমার নাকি পরীক্ষা এলেই বমি পায়, জ্বর আসে, পেট খারাপ হয়, মাথা ঘোরে, এই সব। ছোটবেলা থেকেই আমার বাড়ির লোকজনই আমার সম্পর্কে নানারকম ষড়যন্ত্রমূলক কথাবার্তা বলে আসছে। এই আমার অভিজ্ঞতা। যাকগে, এসব পারিবারিক কলঙ্ক সবার কাছে প্রকাশ না করাই ভাল।

গণেশ মহল্লার বাড়ি। প্রপিতামহ রামদাসের মৃত্যুর পর বাড়ির সামনে পরিবারের সবাই। উল্লেখযোগ্য ব্যক্তি—একেবারে সামনে ডানদিকে মাটিতে দু হাত মুড়ে বসা আমার বাবা জিতেন্দ্রনাথ। তৃতীয় সারিতে বাঁ দিকে দু বগলে দু হাত দিয়ে আমার বড়জেঠু বীরেন্দ্রনাথ, যিনি কলকাতায় আমাদের সঙ্গে থাকতেন বহুদিন। তাঁর দুজন পরেই কাঁধে গামছা আর মোটা গোঁফ আমার ঠাকুরদা কেদারনাথ। তাঁর ঠিক পাশেই বাচ্চা কোলে দাঁড়িয়ে আমার বড়পিসী ঊষা। কোলে বাচ্চা আমার বাবার ঠিক পরের ভাই আমার ভালোকাকু রমেন্দ্রনাথ। ইংরিজি সাল ১৯৩১ অথবা ১৯৩২। জিতেন্দ্রনাথের ব্যক্তিগত সংগ্রহ থেকে পাওয়া ছবি।
গণেশ মহল্লার বাড়ি। প্রপিতামহ রামদাসের মৃত্যুর পর বাড়ির সামনে পরিবারের সবাই। উল্লেখযোগ্য ব্যক্তি—একেবারে সামনে ডানদিকে মাটিতে দু হাত মুড়ে বসা আমার বাবা জিতেন্দ্রনাথ। তৃতীয় সারিতে বাঁ দিকে দু বগলে দু হাত দিয়ে আমার বড়জেঠু বীরেন্দ্রনাথ, যিনি কলকাতায় আমাদের সঙ্গে থাকতেন বহুদিন। তাঁর দুজন পরেই কাঁধে গামছা আর মোটা গোঁফ আমার ঠাকুরদা কেদারনাথ। তাঁর ঠিক পাশেই বাচ্চা কোলে দাঁড়িয়ে আমার বড়পিসী ঊষা। কোলে বাচ্চা আমার বাবার ঠিক পরের ভাই আমার ভালোকাকু রমেন্দ্রনাথ। ইংরিজি সাল ১৯৩১ অথবা ১৯৩২। জিতেন্দ্রনাথের ব্যক্তিগত সংগ্রহ থেকে পাওয়া ছবি।

ডাক্তার রামদাস কাশীর একসময়ের সম্ভ্রান্ত বাঙালি পাড়া গণেশ মহল্লায় এক বিরাট বাড়ি কেনেন। সেই বাড়িতে তাঁর আট-দশটি সন্তান, এবং তাঁদের নিজেদের পরিবার ও সন্তান-সন্ততি থাকতেন। সে বাড়ি আমি শুধু দূর থেকে দেখেছি একবার। বাবার কাছে শুনেছি, কাকাদের মধ্যে মতের মিল না থাকায় অতি সামান্য দামে সেই বিশাল প্রাসাদের মত বাড়ি বিক্রি করে দেওয়া হয়, এবং তখন থেকে সবাই ভারতের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে যায় রুজি রোজগারের প্রয়োজনে। কেউ লখনৌ, কেউ পাটনা, কেউবা রাঁচি, মুজাফফারপুর, দ্বারভাঙা। কেউ পুরুলিয়া, যা বলতে গেলে তখন বিহারেই ছিল। মোটামুটি সবাই উত্তর ভারতে। কেউ কেউ পাঞ্জাবের লাহোরেও চলে গিয়েছিল। পার্টিশন হবার পরে আবার কাশীতে চলে আসে।

পশ্চিমবঙ্গেও ছিল আমাদের দু চারজন কাকা ও পিসি। গঙ্গার ধরে চন্দননগর। শ্যামনগর। তারপর কলকাতার খুব কাছেই বালি। আমরা সব জায়গায় ঘুরে ঘুরে বেড়াতাম। বাবার ছুটি থাকলেই চললাম আমরা সব দলবেঁধে চন্দননগর, আর নয়তো বালি। এ দুটো জায়গা মার খুব প্রিয় ছিল, কারণ ওরা মাকে খুব ভালবাসত। বিশেষ করে বালি। গেলেই হই হই, “ন-বৌদি এসেছে, নদা এসেছে, বাবুয়া এসেছে। কীরে বাবুয়া, ভালো আচিস? প্যেয়রা খাবি?”

লখনৌতে সে সময়ে থাকতেন আমার বাবার সেজকাকা। পরে ছবিতে দেখেছি, ঠিক বিভূতিভূষণের মত দেখতে। কে জানে, বিভূতিভূষণ আমাদের পরিবারের সঙ্গে কোনভাবে লতায় পাতায় সংযুক্ত ছিলেন কিনা। ভাবতে ভাল লাগে, ছিলেন। নিশ্চয়ই ছিলেন। বন্দ্যোপাধ্যায় যখন। তা, আমার জীবনের প্রথম রেলভ্রমণের প্রথম স্টপ হল লখনৌতে। সেখানে দু তিনদিন থাকা হল। তখন আমার এতই কম বয়েস যে বেশি কথা মনে না থাকাটাই স্বাভাবিক। তাও কতগুলো কারণে মনে আছে। এক হল, শীতকাল। কলকাতার রোগা-দুবলা ছেলে আমি। কলকাতার শীতেই লেপমুড়ি দিয়ে হি হি করে কাঁপি। তিন কি চার বছর বয়েসের বাচ্চা ছেলে। মা সর্ষের তেল মাখিয়ে চান করিয়ে দেয়। ডিসেম্বর আর জানুয়ারি মাসে চান করে পাট পাট করে তৈলাক্ত চুল আঁচড়ে উলের ফুল সোয়েটার পরে বিছানায় বসে থাকি। আর লখনৌ? ওরে বাবা, কী শীত রে! যেন দাঁতকপাটি!

তার মধ্যে মনে আছে, বাবার সেজকাকা আর আর সেজকাকিমা থাকতেন অতি সাধারণ ভাবে, প্রায় দারিদ্র্যের মধ্যে। একটা কুয়োর মত ভীষণ গভীর আর খাড়া সিঁড়ি ছিল। অন্ধকার। নামতে ভয় করত আমার। সেজদাদু আর সেজদিদা ছিলেন অতি ভালোমানুষ। সবাই তাঁদের ঠকিয়ে সর্বস্ব নিয়েছে, কিন্তু তাঁদের হৃদয়ের কোমলতা লুঠ করতে পারে নি। কিন্তু ভগবান লুঠ করে নিয়েছেন তাঁদের জীবনের আলো। জানতাম না তখন। পরে জেনেছিলাম, ওই আমরা ওখানে যাবার কিছুদিন আগেই তাঁদের একমাত্র ছেলে দামাল কন্টি ঘুড়ি ওড়াতে গিয়ে নেড়া ছাদ থেকে পড়ে মারা যায়। আমি যখন ওদের বাড়ি গেলাম, দেখলাম বসার ঘরে, নাকি শোবার ঘরে অনেক, অনেক খেলনা। বাচ্চাদের খেলনা। মাটির খেলনা। কাঠের খেলনা। এলোমেলো করে ছড়ানো রয়েছে চতুর্দিকে। দেখে একটু আশ্চর্য লেগেছিল। এই দাদু আর দিদার বাড়ি এত খেলনা কেন? বোধহয় মাকে জিগ্যেসও করেছিলাম দু একবার। উত্তর পাই নি।

মাকে ভীষণ ভালবাসতেন ওঁরা। কলকাতায় আমাদের ওই দশ ফুট বাই দশ ফুট ফ্ল্যাটে এসে থেকেও গেছেন ওঁরা। মাটিতে বিছানা করে গরমকালে দিব্যি ঘুমোতেন। কোনো অভাব-অভিযোগ নেই। মোটাসোটা মানুষ দুজনেই। মার হাতের রান্না খেয়ে ভূয়সী প্রশংসা। ন-বউমা বলতে অজ্ঞান।

আমার বড় পিসি ঊষা, যিনি ছিলেন বাবাদের ভাইবোনের মধ্যে সবচেয়ে বড়, তাঁর বিয়ে হয় বেরিলি নামক জায়গার প্রতিষ্ঠিত এক বাঙালি ব্যবসায়ীর সঙ্গে। বড় পিসেমশাইয়ের নাম ছিল কী যেন মুখার্জী। বোধহয় হরিদাস মুখার্জী। সবাই মুখার্জী সায়েব মুখার্জী সায়েব বলেই ডাকত।  তাঁর সাহেবিয়ানার জন্য। আর ধনীসুলভ জীবনধারণের জন্য। বেরিলি থেকে ইন্দিরা গান্ধী পরিবারের রায়বেরিলির দুরত্ব বেশি না। কিন্তু দুটো সম্পূর্ণ আলাদা শহর। রায়বেরেলি লখনৌর কাছে। আর বেরেলি দিল্লির কাছে। লখনৌ থেকে আমরা ট্রেনে করে গেলাম বেরেলি।

বেরেলিতে গিয়ে মার একটু বেশি আদরযত্ন হলো। কারণ, ওদের বিশাল প্রাসাদের মত বাড়ি। এলাহী খাওয়াদাওয়া। চিকেন সূপ, টমেটো স্যালাড, বাগানের কপি, এইসব। আমাদের বাড়ি মুরগি ঢুকত না কলকাতায়। কাশীতে তো প্রশ্নই ওঠে না। এখানে বোধহয় শুধু চিকেন নয়, বাবুর্চিও কিচেনে। মানে একেবারে রেভোলিউশন হিন্দু ব্রাহ্মণবাড়িতে। আমার বড়পিসি ছিল উদার মনের, কিন্তু পিসেমশাই তাঁর এই কলকাতার গরিব কুটুম্বদের প্রতি খুব একটা সদয় ছিলেন না। তাঁকে প্রায় দেখতেই পাওয়া যেত না। বড়পিসির যত্নে মার শরীর একটু সারলো। বড়পিসী বাবার থেকে অন্তত দশ-পনেরো বছরের বড়। মানে প্রায় মার মত। তাঁর বড় ছেলে নুটুদা, যে আমার দাদা, তার বয়েস প্রায় বাবার মত। অন্তত মার মত তো বটেই। আমার থেকে মা আর বাবার সঙ্গেই তার জমত বেশি। বাড়ির পিছনে ফুলগাছের বাগান। সেখানে ডালিয়া, চন্দ্রমল্লিকা ফুটে আছে। আবার কেমন একটা সুন্দর দোলনা। বিকেলের রোদে মা ওই দোলনায় বসে আস্তে আস্তে দোল খেত। বাড়ির ভেতরে সেই প্রচণ্ড শীতে রুম হিটার চলত। অন্ধকার ঘরের কোণে রাত্তিরবেলা তার লালচে লালচে আলো। রুম হিটার? ওরেঃ বাবা! বলে কী রে? তার মানে, এরা নিশ্চয়ই দারুণ বড়লোক। কথাবার্তাও বলতে হবে খুব সাবধানে নিশ্চয়ই। অবশ্য, কথা সে সময়ে আমি প্রায় বলতামই না। মুখচোরা, লাজুক ছিলাম। যাকে বলে, মার আঁচলের তলায় লুকিয়ে থাকতাম। আর নয়তো বাবার, মানে বাপির, হাতের আঙুল শক্ত করে ধরে থাকতাম।

বেরিলিতে নুটুদার একটা বিরাট অ্যালসেশিয়ান কুকুর ছিল, আর আমার মার কুকুরে ভয় ছিল। আমারও ছিল। ফলে, সেটাকে বেশির ভাগ সময়েই বেঁধে রাখা হত। কিন্তু মাঝে মাঝে ছাড়া পেলে সে খুব হাসতে হাসতে আর ল্যাজ নাড়তে নাড়তে আমাদের সঙ্গে একটু ভাব করতে আসত, আর আমাদের গা শুঁকে আর আমাদের বন্ধুপ্রীতির অস্বাভাবিক অনুপস্থিতি দেখে হতাশ হয়ে লেজ নাড়তে নাড়তে অন্য ঘরে চলে যেত। আমরা তখন বিছানায় উঠে এককোণে কুঁকড়ে বসে আছি।

বেরেলিতে আরও দু চারদিন কাটিয়ে সেখান থেকে আবার ট্রেন ধরে কাশী। সেই যে হযবরল বইতে যেমন বলা আছে না, যেখানেই যাও না কেন, রাণাঘাটে তোমাকে একবার যেতেই হবে, সেরকম আমাদের ক্ষেত্রে ছিল কাশী। প্রতি বছর আর যেখানেই যাও না কেন, কাশীতে একবার বুড়ি ছুঁয়ে আসতেই হবে। তার কারণ, কাশীতে আছেন আমার বিধবা ঠাকুমা। তিনি চান, তাঁর কলকাতা নিবাসী ছেলে ঘন্টু অর্থাৎ আমার বাবা, আর নাতি বাবুয়া অর্থাৎ আমি, আমাদের যেন তিনি বছরে একবার করে দেখতে পান। তাঁর ধারণা, ঘন্টু যে-রকম দরিদ্র ঘরের মেয়ে বিয়ে করেছে, সে নিশ্চয়ই তাঁর আদরের ছেলেকে ঠিকমত দেখাশোনা করতে পারে না। ফলে, বছরে একবার তাঁকে স্বশরীরে দেখা দিয়ে আসতেই হবে, যাতে তাঁর সমস্ত সন্দেহ নিরসন হয়।

বাবা ও মার ছবি, বিয়ের পরে তোলা। জিতেন্দ্রনাথ ও পৃথা।
বাবা ও মার ছবি, বিয়ের পরে তোলা। জিতেন্দ্রনাথ ও পৃথা।

তা, আমার যখন চার বছর বয়েস, আমার মা হঠাৎ খুব অসুস্থ হয়ে পড়াতে আমাদের পাড়ার ডাক্তার সিনহা বাবাকে বললেন, “ওঁকে বাইরে কোথাও একটু ঘুরিয়ে নিয়ে আসুন। টিবি টিবি মনে হচ্ছে। ঠাণ্ডা, শুকনো জায়গায় নিয়ে যান। পশ্চিমে। নইলে বাঁচানো মুশকিল হবে।” এসব অবশ্য আমার মনে নেই। পরে শুনেছি। আর, এরকম ভয়ানক অসুস্থ হয়ে পড়ার কারণটাও ভাসা ভাসা শুনেছি। মার মিসক্যারেজ হয়েছিল। ছবিতে দেখেছি, সেই সময়ে মার কাঠির মত রোগা হয়ে যাওয়া চেহারা, আর অবসন্নতা, আর চোখের নিচে কালি। একটা উলের চাদর গায়ে জড়ানো। কতই বা বয়েস তখন মার। খুব বেশি হলে পঁচিশ? কিন্তু দেখে মনে হয় যেন অনেক বেশি।

যাই হোক। আমাদের দেশে এসব তুচ্ছ ব্যাপার। একজন বিবাহিতা নারী, বিশেষ করে যদি সে আবার নিম্নবিত্ত হয়, তাহলে তার জীবনে এরকম ঘটনা ঘটতেই পারে। না ঘটাই অস্বাভাবিক হবে। না খেয়ে বড় হওয়া মেয়ে। আমি আর আমার বোন যে ভালোয় ভালোয় জন্মেছি আর এক রকম বেঁচেও থেকেছি, আর ফট করে টেঁসে যাই নি, এটাই একটা মিরাকল।

যাই হোক, কাশী যাওয়া হল আমার জীবনে জ্ঞান হবার পর প্রথমবার। মা কাশীতে যাওয়ার ব্যাপারে মোটেই আগ্রহী ছিল না, তার কারণ খুব সহজ। আমার ঠাকুমা, যাকে আমি উত্তর ভারতের হিন্দি স্টাইলে বলতাম দাদি, তিনি ও আমার অবিবাহিতা ছোটপিসি, মাকে খুব বেশি সম্মান দিতেন না। কারণটা আগেই বলেছি। কিন্তু ওপরে কোনো নিষ্ঠুরতাও কখনো দেখি নি। আর আমাকে খুব ভালবাসতেন দুজনেই। ফলে, মার কাছে ওদের উদাসীনতা গা-সওয়া হয়ে গেছিল। আর, আমি যেহেতু সেই বয়েসে এসব জটিলতা কিছুই বুঝতাম না, ফলে কাশীতে যাওয়াটা আমার কাছে একটা বিশেষ আনন্দের ব্যাপার ছিল।

ছাদের রোদে শুকোচ্ছে ঠাকুমার নিজের হাতে তৈরী লেবুর আচার। আমতেলের আচার। দু তিন রকমের বড়ি কুলোর ওপরে সাদা কাপড় পাতা, তার ওপরে। ঠাকুমার ছোট বোন রাঙাদাদী। তাঁদের বাড়ি মাঝে মাঝে যাওয়া সাইকেল রিক্সা করে। প্যাঁক প্যাঁক রিক্সার হর্ণ। সেই দাদুর, মানে রাঙাদাদুর বাড়ি আরও সুন্দর করে সাজানো। বিরাট রেডিও। সেখানে দুপুরবেলা রিলে হচ্ছে ভারত আর নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট টেস্টের। এখনো মনে আছে, তখন নিউজিল্যান্ড ইন্ডিয়ার থেকেও বাজে টিম। কিন্তু সাটক্লিফ বলে একজন দারুণ ব্যাটসম্যান ছিল ওদের। ওটাকে আউট করতে পারলেই খেলা শেষ।

আর আমার জ্যাঠাইমা, যিনি তাঁর ছেলে আমার থেকে দশ বারো বছরের বড় দাদা বাবলুকে নিয়ে একা একা শ্বশুরবাড়িতেই থাকতেন, কারণ আমার এই জেঠু, বড় জেঠু, কলকাতায় থাকতেন আমাদের কাছে আর স্টেট ব্যাঙ্কে চাকরি করতেন আর সন্ধেবেলা বারান্দায় বসে বাঁশি বাজাতেন আর রাত্তিরে খাওয়া হয়ে গেলে দু মিনিটের হাঁটা পথে একটা টিনের চালের ভাড়াকরা ঘরে ঘুমোতে যেতেন আর আমি ভোরবেলা গিয়ে তাঁকে ডেকে নিয়ে আসতাম, “জেঠু চলুন, মা বলল চা হয়ে গেছে” বলে, সেই জ্যাঠাইমা সাংঘাতিক ভালো রান্না করতেন, ফলে কাশীর সেই বিশাল বাড়ির দোতলার রান্নাঘরের দরজার কাছে বসে সকালবেলা লুচি আর বাঁধাকপির আর কড়াইশুটির চচ্চড়ি আর তার সঙ্গে একটা কাশীর বিখ্যাত চমচম খাবার স্বপ্ন দেখতাম ওখানে যাবার এক মাস আগে থেকে।

কাশীর গল্প তো অনেকেই বলে গেছেন। বিভূতিভূষণ ও তাঁর শব্দের জাদু, সত্যজিত রায় তাঁর ক্যামেরার জাদু দিয়ে কাশীর ছবি তো আশ্চর্য ফুটিয়ে তুলেছেন। আমার সে ক্ষমতা নেই। আর তাঁদের চোখ দিয়ে আমি কাশীকে দেখিনি তো কখনো। আমি দেখেছি আমার চোখ দিয়ে। শৈশব, কৈশোর আর যৌবনের চোখ দিয়ে। অবিস্মরণীয় সে ছবি।

কাশীর গলি।—এমনি একটা গলিতে ছিল আমাদের সেই পুরোনো বাড়ি। চুপচাপ, শান্ত, নির্জন।
কাশীর গলি।—এমনি একটা গলিতে ছিল আমাদের সেই পুরোনো বাড়ি। চুপচাপ, শান্ত, নির্জন।

আমার শৈশবে কাশীর যে বাড়িটাকে আমরা সবাই আমাদের কাশীর বাড়ি বলতাম, যদিও সেটা ছিল আমার মেজজেঠুর ভাড়া করা বাড়ি, সে বাড়িটা ছিল জনাকীর্ণ এলাকা গোধুলিয়ার মোড়ের খুব কাছেই কানহাইয়া চিত্রমন্দির নামে একটা সিনেমা হলের পাশে একটা সরু গলির মধ্যে। ঠিক যেমন কাশীর গলির ছবি আমরা দেখি বইতে। সরু সরু, অন্ধকার মত, ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা, নির্জন গলি, আর তার থেকে বেরিয়ে গেছে আর একটা গলি। তার থেকে আর একটা। যাকে বলে, গলির ল্যাবাইরিন্থ। তার মধ্যে গরু আর ষাঁড় শুয়ে বসে আছে সমস্ত জায়গাটা জুড়ে। গলির মধ্যেই মাঝে মাঝে এক একটা ছোট মন্দির। সেখানে মৃদু আরতির ঘণ্টার আওয়াজ দিবারাত্র। আমাদের বাড়িটা ছিল হাউজ কাটোরা নামে একটা পাড়ায়। ডি-৩৮/৪৬, হাউজ কাটোরা। সামনে রক। ওপরে বারান্দা। দোতলায় একটা খোলা ছাদ যার পাঁচিল অসম্পূর্ণ, আর তিনতলায় একটা বিশাল পাঁচিল তোলা ছাদ।

গোধুলিয়ার এই বাড়িটা ছিল আমার কাছে একটা স্বপ্ন। মধুর জলপান বলে একটা মিষ্টির দোকান কলরব রাস্তা থেকে উঠে এসে ঠাণ্ডা গলিতে ঢুকলেই। সেখানে আসল ঘিয়ে ভাজা সিঙাড়া আর খাস্তা কচুরি। ভারি ভালো খেতে! উল্লুস, মানে স্লার্প। গলি ধরে এঁকেবেঁকে এলেই বাড়ি। রাস্তা থেকে দুটো তিনটে সিঁড়ি দিয়ে উঠেই বেল বাজালে দুতলা থেকে কেউ একজন দড়ি ধরে টেনে ছিটকিনি খুলে দিত। কারণ পিসি, ওদের হিন্দুস্থানী কাজের ঠিকে ঝি, বা অন্য কারুর পক্ষে বার বার নিচে নেমে এসে দরজা খুলে দেওয়া সম্ভব হত না। বাড়িতে ঢুকেই একটা বিরাট ধূলিধূসর বসার ঘর। একটা টেবিল, আর দুটো চেয়ার। ব্যাস, আর কিচ্ছু নেই সে ঘরে। সেখানে আমার দাদা বাবলু পড়াশোনা করত, আর বন্ধু ইন্দুদার সঙ্গে দাবা খেলত। তারপর সে ঘর পার হয়ে বিরাট একটা উঠোন তার চারপাশে কয়েকটা ঘর আর একটা ঢাকা দালান। এই ঘরগুলোতে আর উঠোনে আমার দুই কাকার বিয়ের অনুষ্ঠানে ধুমধাম, রান্নাবান্না, খাওয়াদাওয়া হয়েছে।

সিঁড়ি দিয়ে দোতলায় উঠে যাও। নিচের সেই উঠোনটার ওপরে যেন তারই একটা দ্বিতীয় সংস্করণ। চারদিকে অনেকগুলো ঘর, বিরাট রান্নাঘর, একদিকে তিনটে শোবার ঘর, আর খাওয়ার জায়গা একটা আলাদা বিরাট দালান। সেটা এত বড় যে ঠিক নিচের দালানটার মতই এখানেও একটা দুর্গাপূজো বা সরস্বতী পুজো করা যায়। এই দালানে একদিকে দেওয়ালে দাঁড় করিয়ে রাখা পর পর কতগুলো কাঠের পিঁড়ে। দুটো তিনটে বড় বড় কলসিতে ঠাণ্ডা জল রাখা। এখানে পিঁড়ে পেতে বসে আমাদের দুপুরে আর রাতে খাওয়া হত।

খাওয়ার বর্ণনা না দিলে কাশীর কথা কিছুই বলা হবে না। সকালে তো সেই রান্নাঘরের দরজার সামনে বসেই জলখাবার খাওয়া হয়ে গেল। কিন্তু দুপুরে সেই দালানে পিঁড়ে পেতে সব অপেক্ষা করছি। কাঁসার থালা এলো। কাঁসার গ্লাসে জল গড়ানো হলো সেই কলসিগুলো থেকে। সুগন্ধ দেরাদুন বাসমতি চালের ভাত এলো। সে কী সুন্দর গন্ধ। আমাদের কলকাতায় তো কাঁকর বেছে দিতে হত আমাকে এক ঘণ্টা ধরে। তারপর সেই মোটা, সেদ্ধ চালের ভাত বসত। আর এখানে? ওঃ কী সুন্দর ভাত! ভাত, আর ওই লেবুর আচার যদি একটু কেউ দেয়! মনে হয় আর কিছু লাগবে না তার সঙ্গে।

কিন্তু আসতো আরো অনেক কিছু। ঘি দিয়ে মেখে আলুভাতে দিয়ে শুরু হত। হলুদ রঙের নুন আসতো। সৈন্ধব নুন, আমরা বলতাম সন্ধব নুন। বাড়িতেই রক সল্ট গুড়ো করা হামানদিস্তেতে। কারণ, বিধবারা কারখানার নুন ছোঁন না। তারপর একটা বড় বড় মুগের বা মুসুরির ডাল, যা কলকাতায় পাওয়া যায় না। কাগজি লেবু, ওঃ কী সুন্দর তার গন্ধ! শীতকালে বা পুজোর সময়তেও কাশির বিখ্যাত কপি বা বেগুন ভাজা। বিরাট বিরাট ফুটবলের মত সাইজের বেগুন। দশাশ্বমেধ ঘাটের কাছে বাজার থেকে আনা পালং শাকের তরকারি বাড়িতে তৈরি বড়ি দিয়ে, আর তারপর একটা মাছ। কিছুই না, খুব সাধারণ লাঞ্চ। কিন্তু দারুণ ভালো। রাত্তিরে ভাতের বদলে রুটি, যা কলকাতায় কখনো খেতাম না। তার সঙ্গে একটা তরকারি, আর শেষে আসতো বাড়িতে তৈরি করা ক্ষীর।

আর একটা কথা না বললে কাশীর এই বাড়ির কথা অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। দুপুরবেলায় ভীষণ রোদে ছাদ ফাটে। কিন্তু রোদ একটু পড়ে গেলে আর একটা সিঁড়ি দিয়ে ওপরের বিরাট ছাদে উঠে গিয়ে ঘুড়ি ওড়ানো শেখা দাদা বাবলুর কাছে। আর দাদা বাড়ি না থাকলে নিচের দোতলার ছোট ছাদে বসে আশেপাশের বাড়ির ছাদে আর দেওয়ালে বসে থাকা, ঝুলে থাকা অগন্তি বাঁদর দেখা। কাশীর বিখ্যাত বাঁদর, যারা সেই অযোধ্যা থেকে রামচন্দ্রের সঙ্গে সাগর পাড়ি টাড়ি দিয়ে লঙ্কা জয় টয় করে কাশী, এলাহাবাদ, আগ্রা, বৃন্দাবন, মথুরা এসব জায়গায় বংশবিস্তার করেছে। প্রায়ই দেখতাম, সামনের ছাদের পাঁচিল ধরে লম্বা একসারি বাঁদর পরিবার চলেছে, আর মা বাঁদরের পেটের সঙ্গে একটা দুটো বাচ্চা বাঁদর ঝুলে আছে।

monkey 2
কাশী, হরিদ্বার, মথুরা, বৃন্দাবন, এলাহাবাদ, প্রয়াগ—সর্বত্র এই একই চিত্র। আগেও ছিল, এখনও আছে। বিশেষ করে, সাধু সন্ন্যাসীদের সঙ্গে বাঁদরের সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান দেখে আশ্চর্য লাগে। গৃহস্থরাও কেউ বাঁদরকে ভয় করে না, সে হিন্দুই হোক বা মুসলমান। অলিতে গলিতে শুয়ে বসে থাকা গরু আর ষাঁড় যেমন, তেমনই মন্দিরে মন্দিরে, গঙ্গার ঘাটে, আর বাড়ির উঠোনে আর ছাদে বাঁদর অপর্যাপ্ত। প্রকৃতি আর পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় প্রাণীদের, পশুপাখী, কীটপতঙ্গ, ও গাছপালার সঙ্গে মানুষের সহাবস্থান-যে কোথায় গিয়ে পৌঁছতে পারে, এ তার এক আশ্চর্য উদাহরণ। দুঃখের বিষয়, পরিবেশ দূষণ, বনোচ্ছেদন আর বিদেশে চোরাগোপ্তা পাচার, এই তিন কারণে ভারতে বাঁদরের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে।

Benaras sadhu and monkey

এমনিতে এরা খুবই অহিংস ছিল। কিন্তু ছোট ছেলেমেয়েদের প্রতি এদের বিশেষ নজর ছিল। একবার আমার বোন বুবু, তখন ও বোধহয় পাঁচ বছরের, আমারই মত রান্নাঘরের চৌকাঠে বসে লুচি আর কপির তরকারি খাচ্ছিল মন দিয়ে সকালবেলা। এমন সময়ে এক কিশোর মর্কটনন্দন পাশের বাড়ি থেকে লাফ দিয়ে এসে বুবুর থালা থেকে একটা লুচি তুলে নিয়ে সোজা মুখে পুরে দিল। বুবু তো থালা ফেলে চিৎকার। আমরা ওকে অনেক বোঝালাম যে খারাপ কাজ তো কিছু তার বন্ধু করে নি। লম্বা লেজ আছে তো কী হয়েছে? আর, একটা লুচি শেয়ার করেছে, এই তো! তা, এতে এত উতলা হবার কী আছে? কিন্তু, বুবুর সঙ্গে এই বিষয়ে আমাদের মতৈক্য হল না কিছুতেই। সে সোজা শোবার ঘরে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দিল। যাক গে, কী আর করা যাবে?

যাই হোক, বাঁদরের উপদ্রব মাঝে মাঝে একটু বেশি হয়ে যেত। তাই আমাদের নিচের ছোট ছাদের একপাশে যে একটা লোহার গেটবন্ধ ঠাকুরঘর ছিল, তার সামনে দুটো মোটা লাঠি সবসময়েই রাখা থাকত। আমরা সে দুটোকে বলতাম ছোট লাঠি আর বড় লাঠি। আমার কাশীতে আসার উৎসাহের আর একটা কারণ ছিল এই ছোট লাঠি। এখানে এসেই আমি মনের সুখে সেটা নিয়ে পাঁচিল পেটা করতাম। আর, আর এস এসে লাঠিখেলা শেখার পর থেকে বড় লাঠিটা নিয়ে নানাপ্রকার কসরৎ প্র্যাকটিস করতাম।

দশ বারো দিন এই মিনি ভারত ভ্রমণের শেষে আবার সারা রাতের ট্রেন ধরে কলকাতা। আমার বন্ধুরা সব তখন অপেক্ষা করে আছে কাশীর গল্প শোনার জন্যে, আর আমি বিশ্বনাথের গলি থেকে যে কাঠের খেলনাগুলো ওদের জন্যে নিয়ে এসেছি, সেগুলোর জন্যে। আর মা অপেক্ষা করে আছে কখন নিজের রান্নাঘরে গিয়ে নিজের মত করে রান্না করবে, তার জন্যে।

মহামায়া মাসি এসে বসে আছে বাটনা বেটে দেবে বলে।

(কিস্তি ৫)

More from পার্থ বন্দ্যোপাধ্যায়

ঘটিকাহিনী (২১)

"মসীত খাঁ ছিলেন আমার গুরু কেরামত সাহেবের বাবা, বুঝলে?" মাষ্টারমশাই একদিন বললেন।...
Read More