(‌আগের পর্ব)

বেশ কিছু দিন কবি অন্তরালে পড়ে রইলেন। আমরা প্রকল্পে অংশ নেয়ার জন্য পরীক্ষা দিই। যদিও শেষ পর্যন্ত দেখা যায়, পরীক্ষিতদের বাইরের কয়েকজন প্রথম দিন থেকে আনাগোনা শুরু করেন, আমাদের সঙ্গে রঙিন চেয়ারে বসতে থাকেন।

শাহনাজ মুন্নীকে দেখি, তিনি কি পরীক্ষা দিয়েছিলেন? মনে পড়ে না। তবে এটা স্মরণে আসে যে, শুরুর কিছুদিন অডিটোরিয়ামেই সেশন চলতো, পরে যখন পাশের বিল্ডিংয়ের দোতলায় প্রকল্প তার স্থান বদলায়, তখন রঙিন চেয়ারে আমাদের পাশে বসতেন তিনি। মনে হতো রেলস্টেশনের ওয়েটিং রুমে বসে আছি, ট্রেনের পরিবর্তে আসতেন প্রকল্প পরিচালক মুহম্মদ নূরুল হুদা, তিনিই ইঞ্জিন; কেননা বগি হিসেবে এসেছিলেন একে একে শামসুর রাহমান, সৈয়দ শামসুল হক, আল মাহমুদ, হাসান আজিজুল হক, হুমায়ুন আজাদ, রফিক আজাদ [পরে প্রকল্প পরিচালক], আসাদ চৌধুরী, রশীদ হায়দার, রুবী রহমান, ফরহাদ মজহার, নরেন বিশ্বাস, সেলিম আল দীন, শওকত আলী প্রমুখ।

chanchal ashraf logo

যা হোক, জুনের এক বৃষ্টির দিনে বাংলা একাডেমীর প্রশাসনিক ভবনের নোটিস বোর্ডে সাঁটানো রেজাল্ট শিটে দেখি প্রথমেই জেনিস মাহমুনের নাম, তারপর আমার; মোট চল্লিশটি নামের ক্রম কোন বিবেচনায় করা হয়েছিল, আজও ধাঁধার মতো লাগে। পরীক্ষা আমার ভালো হয়েছিল না; অংশ নিতেও ভালো লাগে নি, কারণ সাহিত্য চর্চায় শরিক হওয়ার জন্য পরীক্ষা দিতে হবে, এই চিন্তা কার উর্বর মস্তিষ্ক থেকে এসেছে, ভাবতে গিয়ে মনে হলো, বাংলা একাডেমী আসলে একটা চাকরির জায়গা যেখানে বইপত্র কেনাবেচা, অনুবাদ হয়, সেমিনার, মেলা হয়, আরও কী কী যেন হয় বলে কানে আসে। এইসব হওয়াহওয়ির জন্য কিছু গড়পড়তা লোক লাগে।

প্রকল্পে ঢোকার কিছুদিনের মধ্যে বোঝা গেল চল্লিশ জনের তিরিশ জনই বাংলা একাডেমীতে চাকরি করছে এমন ভাব নিয়ে আসা-যাওয়া করছে, অথবা সেই আশায় প্রকল্পে ঢুকেছে।… মনে হলো, পরীক্ষাটরীক্ষা কিছুই না, খাতাগুলো ঠিকমতো দেখাও হয়নি — আজাইরা কিছু ভবঘুরে ছেলেমেয়েকে জড়ো করা, মুখচেনাদেরকে মাসিক তিন হাজার টাকার ব্যবস্থা করা। আমি দেখেছি, কারও কারও আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুরা বাংলা একাডেমীতে দেখা করতে আসছে, বর্ধমান হাউজের বারান্দায় দাঁড়িয়ে তাদেরকে বেশ গর্বের সঙ্গে বলছে, মাসে তিন হাজার টাকা স্কলারশিপ পাই!

এই স্কলারদের মধ্যে ছয় মাস যে কী তামাশায় কেটেছে, বললে কৌতুকবাজরাও নিজেদের সৃষ্টিশীলতার ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলতে পারেন। এসব একটু পরে বলি।

বোটানিক্যাল গার্ডেনের পশ্চিম প্রান্তে, ঢাকা শহর রক্ষা বাঁধে আমি (১৯৯১)। ছবিটি নীনা আহমেদের তোলা।
বোটানিক্যাল গার্ডেনের পশ্চিম প্রান্তে, ঢাকা শহর রক্ষা বাঁধে আমি (১৯৯১)। ছবিটি নীনা আহমেদের তোলা। – লেখক

তো, প্রকল্পে প্রবেশের সম্ভবত ২০-২১ দিন আগে সাহিত্যে নোবেল পেলেন শিমাস হিনি, অফিসে গিয়েই খবরটা পেলাম। আমার মনে জেগে উঠলো তুলনাবাচক শব্দের সেই কবিকে, তার উচ্চাভিলাষী উন্মাদসরল চেহারা; খুব মায়া হলো, হায়, আজ তার জন্য মহাদুর্যোগের দিন। এডিটোরিয়াল রুমে, যার তিন দিকেই জানালা, হাওয়ার চলাচল যথেষ্ট থাকা সত্ত্বেও খুব জোরে সশব্দে একটা প্যাডেস্টাল আর একটা সিলিং ফ্যান চলে, ফলে প্রকৃতি ও যন্ত্রের মধ্যে হাওয়াগত ঐক্য তৈরি হয়েছে, ঢোকামাত্র সহকর্মী সালাম সালেহ উদ্দীন বললো, ‘শিমাস হিনির ওপর কে লিখতে পারবে, দু’চারটা নাম দাও।’

বললাম, সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম। সে বললো, সকালে যোগাযোগ হইছে, উনি ব্যস্ত। বললাম, জি এইচ হাবীবকে বলো। বললো, উনি ঢাকার বাইরে। বললাম, দেখ, আজফার হোসেন ব্যস্ত কি-না, ঢাকার বাইরে কি-না।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে ফোন করে তাকে চাওয়া হলে জানা গেল, তিনি ঢাকাতেই আছেন; কিন্তু ঢাকায় তাকে কোথায় যে পাওয়া যাবে, সেই কথাবার্তার মধ্যে বকর ভাই রুমে ঢুকলেন এবং দু’চারটা কথার পর আমাকে লক্ষ করে বললেন, ‘তুমিই লেখো।’ সালামও তা-ই বললো। দুপুরের আগেই লিখতে বসলাম।

এখন যেমন ইন্টারনেট থেকে যখন-তখন বড় বড় সাহিত্যিকদের লেখা, তথ্য এবং তাদের সাহিত্য সম্পর্কে আলোচনা বা মন্তব্য পাওয়া যায়, তখন, বাস্তবিক, কিছুই ছিল না। নিউজ ডেস্কের এক কোণে রাখা একটা যন্ত্র থেকে স্ল্যাগ বেরোচ্ছিল, এগুলো থেকে বেছে বের করলাম কিছু তথ্য, ছোট্ট একটা ইন্টারভিউ, এর বেশি কিছুই পাওয়া গেল না। ফলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট্রাল লাইব্রেরিতে যেতে হলো। তখনও আমার ছাত্রত্ব ছিল। ১৯৮৮’র সেপ্টেম্বর থেকে ১৯৯৩ পর্যন্ত দিনের একটা বড় অংশ লাইব্রেরিতে কাটাতাম বলে ওখানকার সবার সঙ্গে খাতির হয়ে গিয়েছিল। ক্যাটালগ ঘেঁটে পেলাম তিনটি মাত্র বই: ডেথ অব অ্যা ন্যাচারালিস্ট, উইন্টারিং আউট, সিলেক্টেড পোয়েমস ১৯৬৫-১৯৭৫; সবই বেরিয়েছে ফেবার অ্যান্ড ফেবার থেকে, প্রথমটি ষাটের দশকে, দ্বিতীয়টি সত্তরের দশকে এবং তৃতীয়টি ১৯৮০ সালে। শেষেরটিই কাজের বলে মনে হলো, আর সময়ও তো ছিল না। বইটি নিয়ে বসে পড়লাম। একটা লেখা তড়িঘড়ি দাঁড় করানোর জন্য যা-কিছু টুকে নিতে হয়, নিলাম। সন্ধ্যায় যখন লেখা উপসংহারের কাছাকাছি, তখন সেই কবি আমার টেবিলের সামনের চেয়ারে প্রায় ধপাস করে বসলেন। তার দিকে তাকালাম, মনে হলো, হতাশার সমুদ্র থেকে তিনি নিরুপায় স্নান [গোসল নয়] করে এসেছেন। আমি দৃষ্টি নামিয়ে হলুদ রঙের মধ্যে কালো স্ট্রাইপের ইকোনো বলপয়েন্ট ব্যবহার করতে লাগলাম। দুঃখ পেলে মানুষের স্বর মৃদু হয়ে আসে; সেই স্বর শোনা গেল, ‘দেখো, তোমাকে আর কী বলবো, থাক।’

বললাম, ‘বলেন।’

‘আমার গ্রামের বাড়ির লোকজন অনেক কষ্ট করলো।’

‘কেন?’

নীরবতা।

‘দ্যাখেন, বাঙলা সাহিত্যের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র বহু আগে থেকেই চলতেছে। নইলে কতো আগে সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর এইটা প্রাপ্য ছিল। উনি কি আলবেয়ার কামুর চেয়ে কম? আপনি কি এই ছাতার শিমাস হিনির চেয়ে কম? যদিও আপনার বয়স ওর চেয়ে কম।’

কবির দিকে আবার তাকাই। দেখি, তার মুখের মাংসপেশিতে পরিবর্তন এসেছে।… লেখা শেষ করে সেটি কম্পিউটার সেকশনে রেখে কবিকে নিয়ে চা খেতে বের হলাম। গেট পার হয়েই তিনি আকাশের দিকে মুখ তুলে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। আমার খানিকটা মায়া হলো। বললাম, ‘আমার মনে হয় শাহবাগে আপনি এইটা কাউকে বলে দিছেন। এইরকম তো হওয়ার কথা না।’

‘আজিজ মার্কেটে তুমি তো দেখছ, রাইসু আমারে খোঁচা মাইরা মহাকবি বলছিল। তখনই আমি বলছিলাম, কিছু দিন পরে টের পাইবা, আমি কী জিনিশ।’

‘এইটা না বললেই পারতেন। কবিদের নীরব থাকাই ভালো। দ্যাখেন না, একটা পোস্টার আছে নজরুলের, গলায় ফুলের মালা, নিচে লেখা ফুলের জলসায় নীরব কেন কবি। কেন, বুঝেন না? নীরব হওয়ার কারণেই তো ফুলের মালা তার গলায়, বঙ্গবন্ধু তাকে দেশে আনলেন, বাড়ি-গাড়ি দিলেন।’

‘সে তা অনেক আগেই বোবা হইয়া গেছিল। ১৯৪২ সালে। আমারে কি বোবা হইয়া যাইতে কও? ফাইজলামি, না? এই নোবেলে আমার চোদার সময় নাই। যাই।’ দোকানের সামনের বেঞ্চিটায় চায়ের কাপ রেখে তিনি উঠে দাঁড়ান। তখন জিকাতলা বাসস্ট্যান্ডের দিকে গতিশীল একটা খালি রিকশা মোচড়ের মুহূর্তে মন্থর হয়, তিনি লাফ দিয়ে তাতে উঠে পড়েন।

ভাবলাম, যাক, নোবেলের ঝামেলাটা কাটলো। ততোদিনে আমরা মনিপুরীপাড়ার ৪৬ নম্বর [একটা তথ্য দিতে ভুলে গেছি যে, ওই বাসার তিনতলায় থাকতেন কবি ও অনুবাদক দাউদ আল হাফিজ। সেখানে তার সাথে দেখা হয়েছে মাত্র দু’দিন। তাও হতো না, যদি তার আর সুহিতা সুলতানার যৌথ সম্পাদনায় প্রকাশিত ‘ষাটজন কবির কাব্যচিন্তন’ বইয়ের জন্য কবি হিসেবে আমার অংশগ্রহণের সুযোগ না ঘটতো।] থেকে উত্তর-পূর্ব দিকে ১০৬/১৬ নম্বর বাসার চারতলায় উঠেছি। ওই বাসা থেকে তরুণ লেখক প্রকল্পে অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে জুলাইয়ের প্রথম দিন সকালে বাংলা একাডেমীতে গেলাম। সেখানে পৌঁছার আগেই বৃষ্টি নামলো। রিকশা থেকে নামার পরই অনু হোসেনের দেখা পেলাম। তার সঙ্গে আমার পরিচয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েই, বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যানের রুমের সামনে। তিনি মাস্টার্স প্রিলিমিনারির ছাত্র ছিলেন তখন। পরিচয়ের কিছুদিনের মধ্যে তিনি আমার প্রথম কবিতাগ্রন্থের একটা কপি চেয়েছিলেন, মনে পড়ে। তো, বর্ধমান হাউজের প্রবেশসিঁড়ির সামনে দাঁড়িয়ে তিনি বললেন, ‘চ‘ঞ্চল, তোমার সঙ্গে এখন থেকে প্রতিদিনই আমার দেখা হবে। এই প্রকল্পে সেজন্যই আমি এলাম।’ আমি বিশ্বাস করলাম। কিন্তু বললাম, ‘কবি হিসেবে?’

‘না। প্রাবন্ধিক হিসেবে।’

‘প্রকল্পে ঢোকার জন্য তো দশটা প্রকাশিত প্রবন্ধ থাকতে হবে।’

‘আরে, এইসব কথার কথা।’ রঙিন ছাতার তলায় হেঁটে আসতে থাকা এক মহিলার দিকে আঙুল তুলে এবং নামিয়ে বললেন, ‘ওই যে আসতেছে রোজী, ও তো কিছুই লেখে নাই জীবনে। সেও কিন্তু প্রকল্পের সদস্য।’

প্রকল্প পরিচালক মুহম্মদ নূরুল হুদার রুমে ঢুকলাম। সেটি বর্ধমান হাউজে, পশ্চিম প্লাজার পাশেই। সেখানে যোগদানপত্র জমা দিলাম, নোনতা বিস্কুট ও চা খেলাম। হুদা ভাইয়ের মুখ থেকে ‘সিগারেট এখানেই খেতে পারো’ শোনার পর সিগারেট ধরালাম। রাতে ভালো ঘুম হয়নি; সোফায় বসে গথিক প্যাটার্নের জানালা দিয়ে বৃষ্টি দেখতে দেখতে ঘুম এসে গেল; টের পেয়ে পাশে বসা রোজী [সেও বাংলায় পড়তো, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে, প্রিলিমিনারিতে। হাকিম চত্বরে একটা মোটরবাইকের পাশে তাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছি, প্রকল্পে ঢোকার আগে কখনও কথা হয় নি।] মৃদু ঠ্যালা দিলে বুঝতে পারি এবং দেখি যে, অন্তত চৌদ্দ-পনেরো জন অপরিচিত নারীপুরুষ হুদা ভাইয়ের টেবিল ঘিরে দাঁড়িয়ে আছে।

আমাদেরকে বাংলা একাডেমীর অডিটোরিয়ামে বসানো হলো। কিছুক্ষণের মধ্যে মনসুর মূসা, আসাদ চৌধুরী, রশীদ হায়দার এলেন, তাঁরা স্টেজ থেকে কী বললেন, মনে পড়ে না। সাহিত্য ও লেখকদের জন্য সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার কথা এসব জায়গায় বলা বাধ্যতামূলক। বক্তৃতার পর তাঁরা চলে গেলেন এবং আমাদেরকে মঞ্চে বসানো হলো।

হুদা ভাইও বসলেন এবং গুণে দেখলেন যে ৪০ জন আছে কি-না। এই গণনা আমার খুব ভালো লাগলো, কারণ হাসমুরগির মতো লেখকসংখ্যা জেনে নেয়ার কাজ আমি এর আগে দেখি নি। তারপর হুদা ভাইয়ের অনুরোধে প্রত্যেকে নিজের নাম বললেন, ফলে অনেক নতুন ও অজানা নাম শোনা গেল। এই অজানা নামের মুখগুলি, লক্ষ করলাম, হুদা ভাইকে ‘স্যার’ সম্বোধন করছেন; এদেরই একজন বললেন, ‘স্যার, আমাদের অফিস কই, টেবিল কই, কিছুই তো বুঝতেছি না।’

হুদা ভাই বললেন, ‘এখানে আমরা চাকরি করতে আসি নাই, লেখালেখিতে হাত পাকানোর জন্য এসেছি।’ আরও কিছু কথা বলার পর বের হওয়ার সময় দেখলাম তাঁর ঝোলা আর ফাইলপত্র বহন করছেন আমাদের এক গল্পকার ‘কলিগ’ আসরার মাসুদ। তিনি হুদা ভাইয়ের পিছু পিছু নেমে বর্ধমান হাউজের দিকে গেলেন আর আমরা কয়েকজন [শোয়াইব জিবরান, মুজিব ইরম, কবির হুমায়ূন] মিলে সেই কলাময় চায়ের দোকানে চা-সিগারেট খেলাম।

রানির দীঘি, কুমিল্লা (১৯৯৫)। তরুণ লেখক প্রকল্পের ভ্রমণকালীন আড্ডার ফাঁকে দীঘির ঘাট থেকে আমার তোলা ছবি - লেখক
রানির দীঘি, কুমিল্লা (১৯৯৫)। তরুণ লেখক প্রকল্পের ভ্রমণকালীন আড্ডার ফাঁকে দীঘির ঘাট থেকে আমার তোলা ছবি – লেখক

বটতলায়, পুকুরপাড়ে, বহেরাতলায়, বর্ধমান হাউজের পশ্চিম প্লাজায় ‘আমরা তরুণ লেখক, আমরা এখন কী করবো’ ভাব নিয়ে একবার বসি, উঠে দাঁড়াই, হাঁটি। কী যে অবস্থা!

সানগ্লাস পরা এক লেখককে দেখলাম, পিলারে হেলান এবং কোমরে হাত দিয়ে দাঁড়িয়েছেন, তাঁর ছবি তুলছেন এক মহিলা, তিনিও তরুণ লেখক। পিকনিকের মতো মনে হচ্ছিল।

আমরা আসরার মাসুদকে নিয়ে আলোচনা করতে লাগলাম। একজন বললো, ‘ঘনিষ্ঠ হওয়ার আগেই এই চাটুকার হোঁদল কুৎকুৎকে হুদা ভাইয়ের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে হবে। সে না-কি গল্প লেখে! হাঃ হাঃ হাঃ। নামও তো শুনি নাই।’ আরেকজন বললো, ‘তাইলে আমরা যারা নব্বই দশক, তাদের উচিত হবে হুদা ভাইকে ক্যাপচার করা। ওই হোঁদলফোদল পাত্তাই পাবে না।’ আমাকে উদ্দেশ্য করে মুজিব ইরম বললো, ‘এই হারামি, তুই তো গল্পও লিখিস। ওরে কাইত করে দিবি।’

বর্ধমান হাউজের পশ্চিম প্লাজায় বসে সিদ্ধান্ত হলো, পরের দিন বিকালে যে স্বরচিত লেখা পড়ার আসর হবে, তাতে আমার গল্পপাঠ হবে।

(চতুর্থ কিস্তি)

 

SHARE
Previous articleরকি রোড সানডে (৩)
Next articleআমি কবে ময়ূর সিংহাসন পইড়া শেষ করতে পারব? 
চঞ্চল আশরাফ
জন্ম. দাগনভুঁইয়া, ফেনী ১২ জানুয়ারি ১৯৬৯। কবি, গল্পকার, ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক ও সমালোচক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে সম্মানসহ স্নাতকোত্তর। প্রকাশিত গ্রন্থ কবিতা : চোখ নেই দৃশ্য নেই [১৯৯৩], অসমাপ্ত শিরদাঁড়া [১৯৯৬], ও-মুদ্রা রহস্যে মেশে [২০০২], গোপনতাকামী আগুনের প্রকাশ্য রেখাগুলো [২০০৮], খুব গান হলো, চলো [২০১৩] উপন্যাস : কোনো এক গহ্বর থেকে [১৯৯৭], যে মৎস্যনারী [২০১১] গল্প : শূন্যতার বিরুদ্ধে মানুষের জয়ধ্বনি [১৯৯৯], সেই স্বপ্ন, যেখানে মানুষের মৃত্যু ঘটে [২০০৭], কোথাও না অথচ সবখানে [২০১৩] প্রবন্ধ : কবিতার সৌন্দর্য ও অন্যান্য বিবেচনা [২০১১] স্মৃতি : আমার হুমায়ুন আজাদ [২০১০]