নব্বইয়ের দশক (৫)

এক রম্য গল্পকার বললো, "নিজেকে আপনি কী মনে করেন? শওকত আলীর চেয়ে বড় লেখক?"

(আগের পর্ব)

তরুণ লেখক প্রকল্পে বেশ মজার কিছু অভিজ্ঞতা হয়েছে আমার। ‘বড় বড়’ লেখকরা, যাদের নাম ও ছবি বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় দেখতাম, তারা আসতেন রিসোর্স পারসন হিসেবে।

একদিন এলেন শওকত আলী। আহা, কতো অপেক্ষা সবার, কিন্তু তাদের বেশির ভাগই তাঁর একটা গল্পও পড়ে নি, শুধু বিটিভিতে তাঁর লেখা ট্রিলজির ধারাবাহিক নাট্যরূপ দেখেছে। তিনি এলে হুদা ভাই পরিচয় করিয়ে দিলেন, যা তিনি সব সময়ই করতেন, দেখেছি।
chanchal ashraf logo

তো, বক্তৃতা শুরু হলো। শওকত আলী ব্রিটিশ আমল, দেশভাগ, নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের জয়, আইয়ুব খানের বেসিক ডেমোক্রেসির নামে সামরিক স্বৈরাচার ইত্যাদি সম্পর্কে বলার পর নিজের লেখা নিয়ে বলতে লাগলেন এবং এক পর্যায়ে বললেন, “আমি একটা চরিত্র সৃষ্টি করেছি সেজান নামে। এটা এত জনপ্রিয় হয়েছিল যে, বাঙালি শিক্ষিত মুসলমান বাবা-মায়েরা, যারা শহরে থাকে, তাদের সন্তানের নাম সেজান রাখতে শুরু করে।”

নাম রাখার মতো একটা স্থূল বিষয়ে কথাসাহিত্যিকের এই বাহাদুরি আমার ভালো লাগছিল না। আমি উঠে দাঁড়ালাম। তিনি বললেন, ‘কিছু বলবে?’

বললাম, ‘হ্যাঁ, নাম রাখার ব্যাপারে আপনি যে কৃতিত্ব দাবি করছেন, সেটি খুব স্থূল, আপনাকে এটা মানায় না। আর সেজান তো এখন পুতু পুতু নাম।’

তিনি বেশ গম্ভীর হয়ে আমার দিকে তাকালেন। বললেন, ‘পুতু পুতু কী ধরনের শব্দ?’

আমি বললাম, ‘ধনাত্মক শব্দ।’

তিনি বললেন, ‘সেজান কে, জানো?’

আমি বললাম, “আপনি চান, আমি যেন না জানি। কিন্তু যা জানাতে চাইছেন, তাতে গোলমাল হয়ে গেছে, নামটি ফরাসি উচ্চারণে সেজাঁ হওয়ারই কথা।”

শওকত আলী
শওকত আলী (জন্ম ১২ ফেব্রুয়ারি ১৯৩৬)

কী যেন তিনি বলতে চাইলেন, তখনই বললাম, “তাঁর একটা ছবি আছে, ‘লে জুঅরস দে কার্তে’; ইংরেজিতে ‘দি কার্ড প্লেয়ারস’। এই সব নামের বাংলা অনুবাদ আমরা করতে চাই না, ইংরেজরা যা করে; কিন্তু শিল্পীর নামেরে উচ্চারণগত অনুবাদ ঠিকই করে ফেলি। অথচ দ্যাখেন, ‘জুঅরস’ শব্দ থেকেই বাংলা ‘জুয়াড়ি’ শব্দ এসেছে।”

তিনি বললেন, “তোমার দেখছি ভয়ঙ্কর বিদ্যা।”

“হ্যাঁ, সার্টেনলি। তবে এতে কারও কারও সমস্যা হয় দেখছি।”

তিনি বললেন, “কতোদিন ধরে তুমি সাহিত্য করো?”

খেয়াল করেছি, সিনিয়র লেখকরা এই কথা তরুণদের লক্ষ ক’রে প্রায় সব সময় বলেন, বিশেষত যখন তারা বিপন্ন বোধ করেন। এই তো, ২০১০ সালে সৈয়দ শামসুল হকের জন্মদিনে তাঁর বাসায় আনোয়ারা সৈয়দ হককে বলেছিলাম, “লিনিয়ার ঘটনাপ্রবাহের গল্প আমার ভালো লাগে না, ঘড়ি আর ক্যালেন্ডারের অনুগত গল্প আমি পছন্দ করি না।”

সিঁড়ির ল্যান্ডিংয়ে দাঁড়িয়ে সৈয়দ শামসুল হক আমার কথা শুনেছিলেন। তখন লুচি-সবজি খাচ্ছিলাম, তিনি আমার সামনে এসে দাঁড়ালেন এবং বললেন, “তুমি সাহিত্য করছ, কতোদিন হলো?”

যা হোক, শওকত আলীকে লক্ষ ক’রে বললাম, “আমার মনে হয়, আপনার থেকে একটু বেশি। কারণ, আপনার কথা শুনে মনে হয়, আপনি এইমাত্র সাহিত্যের জগতে ঢুকেছেন। আমি ঘণ্টাখানেক আগে ঢুকেছি।”

শওকত আলী চ’লে যাওয়ার পর প্রায় সবাই উত্তেজিত হয়ে আমাকে নিয়ে বিশ্রি ভাষায় কথা বলতে লাগলো। এক রম্য গল্পকার বললো, “নিজেকে আপনি কী মনে করেন? শওকত আলীর চেয়ে বড় লেখক?”

আমি বললাম, “এই ব্যাচে কমপক্ষে ৩০ জন স্টুপিড আছে, আমি তাদের নাম লিখে দরজায় টাঙিয়ে দেবো।”

একটা হট্টগোল শুরু হলো। সেই রম্য গল্পকার আমার দিকে তেড়ে আসার সময় জেনিস মাহমুন চেয়ার থেকে উঠে আমার সামনে দাঁড়িয়ে বললেন, “শোনো, তোমরা নিজেদেরকে চঞ্চলের সমকক্ষ ভাবো। বাস্তবতা হলো, এখানে সেইই সেরা, তোমরা কেউই ওর স্ট্যান্ডার্ডের না। ওর কাছে তোমাদের কৃতজ্ঞ থাকা উচিত। কারণ, যে দু’চারজন ভালো লেখক আসায় প্রকল্পটার ওজন হইছে, চঞ্চল না এলে তারা এখানে আসতোই না। আমিও আসতাম না।” চিৎকার করতে করতে তিনি বলতে লাগলেন।

নেয়ামত ইমাম বললেন, “ঠিক।”

বদরুজ্জামান আলমগীর বললেন, “ঠিক ত!”

ফকরুল চৌধুরী বললো, “চঞ্চল আশরাফ আসছেন বলেই আমরা আসছি।”

ফলে, হট্টগোল বেশি দূর গেল না।

আমরা কয়েকজন মিলে আণবিক শক্তি কমিশনের ক্যান্টিন থেকে দুপুরে খেয়েদেয়ে এলাম। অডিটোরিয়ামের সেই বেত ও লোহায় তৈরি চেয়ারে বসার কিছুক্ষণের মধ্যেই মুহম্মদ নুরুল হুদার রুমে আমাকে যেতে বলা হলো।

বর্ধমান হাউসের পশ্চিমের ঘর থেকে তাঁর চেম্বার তখন প্রশাসনিক ভবনের তিন তলায়। সেখানে গেলাম।

হুদা ভাই গম্ভীর, বললেন, “তুমি না-কি শওকত আলীর সাথে তর্ক করছ? পরিবেশ নষ্ট করছ? সবাইকে অপমান করছ? এটা পড়।” ব’লে তিনি আমার দিকে একটা কাগজ এগিয়ে দিলেন।

আমি পড়লাম। “মাননীয়, প্রকল্প পরিচালক/ বাংলা একাডেমী, ঢাকা/ বিষয়: চঞ্চল আশরাফকে বহিষ্কারের জন্য আবেদন। জনাব” লেখার পর পৃষ্ঠাব্যাপী ঘটনার যে বিবরণ, তাতে কমপক্ষে পাঁচটি ভুল বাক্য, এগারোটি অশুদ্ধ বানান ছিল। যেমন, ‘উদ্ধত্ত’, ‘চড়ম’, ‘ব্যাক্তিত্ব’ ইত্যাদি। এবং শেষের বাক্যটি ছিল: “অতএব বিনীত নিবেদন, চঞ্চল আশরাফকে প্রকল্প থেকে বহিষ্কারপূর্বক প্রকল্পের শান্তিশৃংখলা রক্ষা করতে হুজুরের যেন মর্জি হয়।”

আমি হুদা ভাইকে বললাম, “আপনাকে ওরা হুজুর বলছে। আপনি কি হুজুর? কিন্তু সপ্তম শ্রেণির বাংলা দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষায় যারা ফেল করে, তারা লেখক প্রকল্পে ঢুকলো কীভাবে?”

তিনি আমার দিকে তাকালেন। বললেন, “পিছনের পৃষ্ঠাটা পড়।”

আবেদনকারী বেশি হলে যে আলাদা একটা পাতা দরকার, তারা তাও জানত না। যা হোক, পিছনের পৃষ্ঠায় দেখি ৩০ জনই তাদের নাম লিখে স্বাক্ষর করেছে।

আমি বললাম, “হুদা ভাই, একটা কথা ওরা লেখে নাই। আমি বলেছিলাম, প্রকল্পে ৩০ জন স্টুপিড আছে, আমি তাদের নাম দরজায় টাঙিয়ে দেবো। কিন্তু ওরা তো নিজেরাই তালিকাটা তৈরি করে ফেলেছে! নিজেদের নাম কোথায় লিখতে হবে, ওরা তো দেখছি, ভালোই জানে!”
হুদা ভাই বললেন, “এত কথা বলছ কেন? তোমার প্রতিভা আছে, আমি তো তোমাকে বের করে দিতে পারি না। তর্ক হতেই পারে। আচ্ছা, এখন থেকে আমার উপস্থিতিতেই তর্ক করবা। এখন যাও, নেক্সট সেশনের টাইম তো হয়ে গেল।”

প্রকল্পের নারীকবি ও মেয়েলেখকদের দু’একজনের সাথে আমার সখ্য ছিল। অরাত্রিকা রোজীকে ভালো লাগতো, সে বিবাহিত ছিল। বিবাহিত মহিলাদেরকে আমার আজও ভালো লাগে। তারা নির্বোধ হয় না। যা হোক, নিজেদের লেখা পড়ার সময় আমরা অডিটোরিয়ামের স্টেজে বসতাম। সিগারেট খাওয়ার জন্য বের হতে গিয়ে দেখা যেত, স্যান্ডেল-জুতা খুঁজে পাচ্ছি না। তখন অরাত্রিকার স্যান্ডেল প’রেই বের হতাম। তার এবং আমার পা একই মাপের ছিল। সে ম্যাচ করে পোশাকআশাক-টিপ-লিপস্টিক-স্যান্ডেল-অ্যাক্সেসরিজ পরতো। পিঙ্ক আর ফিরোজায় তাকে খুব ভালো লাগতো।

বাঁ দিক থেকে অরাত্রিকা রোজী, মুজিব ইরম, লেখক, বদরুল হায়দার, বদরুজ্জামান আলমগীর, জেনিস মাহমুন, নাসরিন মাহমুন ও হাসানুল মতিন। রাণীর দীঘি, কুমিল্লা; ১৯৯৫ (ছবি নাসরিন মাহমুনের সৌজন্যে)
বাঁ দিক থেকে অরাত্রিকা রোজী, মুজিব ইরম, লেখক, বদরুল হায়দার, বদরুজ্জামান আলমগীর, জেনিস মাহমুন, নাসরিন মাহমুন ও হাসানুল মতিন। রাণীর দীঘি, কুমিল্লা; ১৯৯৫ (ছবি. নাসরিন মাহমুনের সৌজন্যে)

আমরা ঘুরতে গিয়েছিলাম। প্রথমবার বলধা গার্ডেনে, তারপর কুমিল্লার বার্ডে, আর ক্রিসেন্ট লেকে। তিন শুক্রবারে। ক্রিসেন্ট লেকেরটিতে অরাত্রিকা ছিল না ব’লে আমার মন খারাপ হয়েছিল। আকাশে সেদিন মেঘ ছিল আর হুদা ভাইয়ের শরীর খারাপ ছিল। বিশ্রামের জন্য তিনি আমাদের বাসায় এসেছিলেন, আমিই তাঁকে নিয়ে আসি। অন্যরাও সঙ্গে ছিল। সেই রম্য গল্পকার যেহেতু হুদা ভাইকে ছাড়া থাকতে পারতো না, সেও এসেছিল। কিছুক্ষণ পরেই মেহেদী মাহমুদ চৌধুরী (কবি কামাল চৌধুরীর ছোট ভাই, ডাকনাম রুবেল; বয়সে আমার ছোট, আমরা রুবেলমামা ডাকতাম) এসেছিল। সে এসে ডাইনিং রুম থেকে ড্রয়িং রুমে বসা রম্য গল্পকারকে দেখে ভিতরে গিয়ে আম্মাকে বললো, “আপা, এই কালপ্রিট এখানে কেন?”

আম্মা বললেন, “এরা প্রকল্পের লেখক। ডিরেক্টরও আছে, দেখছ, চঞ্চলের বিছানায় শুয়ে আছে। উনার শরীর খারাপ।”

মেহেদী বললো, “হুদা ভাই জ্ঞানী লোক। কিন্তু এই বেটা তো মূর্খ। চঞ্চলমামা এইটারে এখানে পারমিট করলো কীভাবে?”

আম্মা বললেন, “তুমি চঞ্চলের মতো হইছ। চঞ্চলও এভাবে কথা বলে।”

মেহেদী বললো, “চঞ্চলমামা বলে, কিন্তু কাজে ঠন ঠন।”

nobboi 5b2
অনু হোসেন, চঞ্চল আশরাফ, বরুন দাস, মিসেস মুহম্মদ নুরুল হুদা, আবীর বাঙালী, আমীরুল মোমেনীন, জেনিস মাহমুন ও (নিচে) মুজিব ইরম। ময়নামতি বৌদ্ধ বিহার ১৯৯৫ (ছবি. নাসরিন মাহমুনের সৌজন্যে)

প্রকল্পের লেখকরা যেখানে বসেছিল, সেখানে গেলাম। হুদা ভাই আমাকে বললেন, “তোমার কালেকশন ভালো। জয়েস আছে, উলফ আছে, জীবনানন্দের সবই তো আছে। শুনলাম, তুমি নাকি উপন্যাস লেখা শুরু করছ? আছে না-কি হাতের কাছে? দেখি!”

তখন অরুন্ধতীতে ‘কোনো এক গহ্বর থেকে’ উপন্যাসটি লিখছিলাম। কিস্তিতে কিস্তিতে কম্পোজের কাজ চলছিল। মনে পড়ে, প্রুফ কপির সেই কিস্তি তিনি শব্দ ক’রেই পড়েছিলেন। বলেছিলেন, “তোমার ভাষায় অবসেশন তৈরির শক্তি আছে। তুমি গদ্য লেখো না কেন?”

কুমিল্লার বার্ডে যাওয়ার ঘটনাটি আমার কাছে বেশ মজার এক অভিজ্ঞতা ছিল। একসঙ্গে লেখক-অলেখক সবাই মিলে একই বাসে চ’ড়ে যাচ্ছি, ভাবতেই তো কেমন যেন শিহরণ জাগে।

সকালেই মিশুক (চলন্ত অবস্থায় মনে হয় ওভার সাইজড জাঙ্গিয়া-পরা কোনো কৃশকায় লোক দৌড়াচ্ছে; বাহনটি ঢাকায় এখন প্রায় নেই) ভাড়া ক’রে গেলাম বর্ধমান হাউসে। পুবের টেরাসে দাঁড়িয়ে হাত তুললেন বদরুজ্জামান আলমগীর, মনে পড়ে, উচ্চস্বরে বললেন, “কবিতার রাজপুত্র এসে পৌঁছলেন।”

ভাড়া মিটিয়ে কাছে গিয়ে বললাম, “হে নাটকের কমরেড, কবিতার রাজপুত্র বলায় আমি খুশি হই নাই, কারণ রাজপুত্র শব্দটি সামন্তবাচক, ঝামেলা আরও আছে; রাজপুত্র বললে রাজপিতা বা রাজা এসে যায়।”

ধূসর কর্ডের প্যান্ট-পরা আলমগীর হাসলেন। সবার হাসিই কম-বেশি সুন্দর; তাঁরটা একটু অন্যরকম, বুকের ভিতর গিয়ে পড়ে।

রোদের দাপট বাড়ছিল, আমরা বর্ধমান হাউসের বারান্দায় দাঁড়ালাম। দেখি, জেনিস তাঁর স্ত্রী নাসরিনসহ অনু হোসেনের সাথে আলাপ করছিলেন। এক ছড়াকার, যার নাম ভুলে গেছি, সিঁড়ি পার হয়ে এসে জেনিসকে উদ্দেশ্য ক’রে বললেন, “আসো দোস্ত, কোলাকুলি করি।”
জেনিস বললেন, “লেখক লেখকের দোস্ত হয় না, মাস্তান মাস্তানের দোস্ত হয়।”

ছড়াকার বললেন, “তাহলে লেখক লেখকের কী হয়?”

জেনিস বললেন, “বন্ধু হয়।”

এরপর সেই ছড়াকার আমার কাছে এসে বললেন, “আসো তোমার সাথে কোলাকুলি করি।”

আমি বললাম, “আমি তো পুরুষের সাথে কোলাকুলি করি না।”

আমরা কুমিল্লাগামী বাসে উঠলাম। অরাত্রিকা আমার পাশে বসেছিল কি? না-কি সে ছিল অন্যত্র, মনে পড়ে না। তবে মনে না পড়াই উচিত, তাতে কারুর মনে যদি শান্তি আসে!

আমরা ময়নামতি গেলাম, সেখানে টিলার উপর কানে আর শার্টের পকেটে ফুল নিয়ে হাঁটতে দেখলাম হুদা ভাইকে, বদরুল হায়দারকেও কানে ফুল গুঁজে ঘাসের উপর বসে সিগারেট টানতে দেখলাম। রাণীর দীঘি দেখতে গেলাম আমরা, সেখানে ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি নামলো।

ঘাটের পাশে একটা গাছ ছিল, তার ডাল দীঘির দিকে ঝুঁকে পাতাগুলিকে পানির খুব ঘনিষ্ঠ ক’রে দিয়েছিল। আমি এই দৃশ্যের একটা ছবি তুললাম।

রানির দীঘি, কুমিল্লা (১৯৯৫)। তরুণ লেখক প্রকল্পের ভ্রমণকালীন আড্ডার ফাঁকে দীঘির ঘাট থেকে আমার তোলা ছবি – লেখক
রাণীর দীঘি, কুমিল্লা (১৯৯৫)। তরুণ লেখক প্রকল্পের ভ্রমণকালীন আড্ডার ফাঁকে দীঘির ঘাট থেকে আমার তোলা ছবি – লেখক

ফেরার পথে মনির জামান আর আমি সবচেয়ে পিছনের সিটে বসেছিলাম। মনির বলেছিল, “এখানে খুব ঝাঁকুনি, আমার ঝাঁকুনি খাইতে ভালো লাগে। বসবা? তোমারও ভালো লাগবে।”

মনে পড়লো, টাঙ্গাইলে থাকার সময় কলেজে যাওয়ার পথে বেশ্যাপাড়ার গলির মুখে জ্যামে থেমে থাকা রিকশারোহীদের উদ্দেশে মেয়েদের মুখ থেকে যেমন শুনতাম, “বসবা? ভালো লাগবে!”

(চলবে)

More from চঞ্চল আশরাফ

নব্বইয়ের দশক (৩)

এই স্কলারদের মধ্যে ছয় মাস যে কী তামাশায় কেটেছে, বললে কৌতুকবাজরাও নিজেদের...
Read More