আমি যখন নিজের জীবন নিয়ে কিছু লেখার কথা ভাবি, তখন বহু মুখ সামনে আসে, অনেক সার্কাস ফিরে-ফিরে আসে। এসে মিলিয়ে যায় না। আনন্দ দিতে থাকে। দীর্ঘশ্বাসের বাতাসও। আত্মজীবনীতে নিজেকে দেখাই তো আসল কর্তব্য হওয়া উচিত। কিন্তু আমি খালি অন্যদেরকে দেখি, ফলে, তারা কী কাণ্ডকারখানা করেছে, সেগুলিও দেখতে হয়। আমার জীবনে নিজের ঘটানো দৃশ্য খুব কম, একটা গাছ এক জায়গায় দাঁড়িয়ে যতো কিছু ঘটায়, মনে হয়, আমার জীবনে এত ঘটনা নাই।

যা হোক, আমরা অনেক সাহিত্য করেছি, সাহিত্যের জন্য পাগল হয়ে গেছি। ব্যর্থ ও অক্ষমরা এখনও সাহিত্যের জন্য পরপারে যাওয়ার রাস্তা খুঁজছে। এরা সংখ্যাগরিষ্ঠ, দলবদ্ধ, অমরত্ব ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। ফলে তারা সংকলিত হতে চায়, প্রকাশমাত্র নিজেদের বইয়ের আলোচক খোঁজে, পেয়েও যায় এবং যাকে পায় সেও সংকলনের মধ্যে প্রবেশ করে। সেই সংকলনের প্রচ্ছদ ফেসবুকে দেয়, দেয়ার পর ক’টা লাইক-শেয়ার উঠলো, দেখে। এই রকম করতে করতে দল বড় হতে থাকে এবং দলের সদস্যদের নিরাপত্তাহীনতাও বাড়তে থাকে। এই ছোট্ট জীবনে তো কম দেখলাম না!

১৯৮৫ সালে টাঙ্গাইল পুলিশ হাসপাতালের সরকারী বাসায়; বাবা ডা. মাহবুবুল হক, ছোটবোন সাকী, মা তাহেরা বেগম চৌধুরী, আমি ও ছোটভাই জোহা; তখন আমি উচ্চ মাধ্যমিকে পড়ি।
১৯৮৫ সালে টাঙ্গাইল পুলিশ হাসপাতালের সরকারী বাসায়; বাবা ডা. মাহবুবুল হক, ছোটবোন সাকী, মা তাহেরা বেগম চৌধুরী, আমি ও ছোটভাই জোহা; তখন আমি উচ্চ মাধ্যমিকে পড়ি।

কী দেখিতে চাই আর? কিছুই চাই না এখন আর দেখতে, এত দেখা ঠিকও হয় নাই, আজ বুঝতে পারি। আচ্ছা, না হয় দেখলামই, তা আবার বলা বা রচনার কী প্রয়োজন! সবাই তো যা দেখার দেখে; কিন্তু চুপ ক’রে থাকে অথবা বলে যে দেখে নাই। কারণ, তাদের বিপুল-অধিকাংশই দৃশ্য রচনা করে। মনে জিজ্ঞাসা জাগে, আমাদের দর্শকরা এত দৃশ্য হজম করে কীভাবে? এত জারক রস তারা কোথায় পেল! এত রস আমার কেন পাওয়া হলো না! কী এক অদ্ভুত ব্যাপার, দৃশ্যরাশির মধ্যে যখন আমি প’ড়ে যাই, তখন সময়-ঘটনার ধারাবাহিকতা হারিয়ে ফেলি। ফলে, মাঝখান থেকে বা অনতিমধ্য থেকে শুরু করতে হয়; যা বলতে চাই, তার শুরুটাও সেই রচনার মাঝখান থেকে ঘটে।

যা হোক, যখন আমি আজকের কাগজে কাজ করতাম, তখন অনেক কবি সেখানে আসতেন। বেশি আসতেন মোস্তফা মীর, আজফার হোসেন, তৃতীয় জনের নাম এ-মুহূর্তে বলা ঠিক হবে না; কারণ তাঁকে নিয়ে যে-অভিজ্ঞতা আমার হয়েছে, তা আমি ব্যক্ত করতে চাই, কিন্তু পরিচয় স্পষ্ট করতে চাই না। তবে অনুমানের সুযোগ থেকে পাঠকরা যাতে বঞ্চিত না হন, সেজন্য একটা সূত্র দিতে পারি : তাঁর নামের প্রথম দুই বর্ণে তুলনাবাচক শব্দ তৈরি হয়। এর সঙ্গে সাপ্লিমেন্ট হিসেবে একটা তথ্য দেয়া যেতে পারে যে, তিনি আশির দশকের কবিতার প্রসঙ্গ এলে কেবল দু’টি নাম উচ্চারণ করতেন — মোহাম্মদ সাদিক এবং নিজের।

যা হোক, নিজের কবিতা সম্পর্কে এই কবির খুব উঁচু ধারণা ছিল। সেই ধারণার চাপে একদিন তাঁকে বললাম, ‘আপনি নোবেল পুরস্কার পাবেন। আমার কাছে খবর আছে।’ অভিনয়ক্ষমতার যথেষ্ট প্রয়োগ ঘটিয়ে বললাম, ‘এর আগে শওকত ওসমানের সম্ভাবনা দেখা গেছিল, কিন্তু বোঝেন ত, বাঙালির ওপর সারা বিশ্বে অবিচার চলছে।’

কয়েক মুহূর্ত স্তব্ধ হয়ে থাকার পর আমার হাত ধরে তিনি বললেন, ‘সত্যি ত! অবশ্য আপনি বিশ্বসাহিত্যের খোঁজখবর রাখেন, আর আপনি কবিতা বোঝেন, গ্রুপিং করেন না। আপনি যখন বলছেন’ কবির হাতের ঘামে আমার হাত ভিজে যায়, মাথা দুলিয়ে বলেন, ‘সিরিয়াল কত? খুব পিছনের দিকে না ত!’

বলি, ‘না, না, তা কেন, ৯ নম্বরে, উপরের দিকে উঠবে বলে মনে হয়।’ তাঁর মুখের পেশিজুড়ে তখন আনন্দ আর উত্তেজনা। বললাম, ‘সাবধান। কাউকে বলবেন না। এই বছরে এইটা একটা চমক। এত কম বয়সে এর আগে কোনও কবি নোবেল পাইছে কি-না আমার জানা নাই। কিন্তু খবরটা কেউ যদি জেনে যায়, পিছে লাগবে।’ অভিনয়ের ওপর যথেষ্ট আস্থা রেখে বললাম, ‘আপনি নোবেল পাচ্ছেন সেটা বড় কথা না। বড় কথা বাঙলা সাহিত্য পাচ্ছে।’

তিনি আরও উথলে উঠলেন, ‘চঞ্চল আপনি যে কত মহৎ, আমি জানতাম না। আপনার মতো করে সবাই যদি ভাবতো, আজ বাংলা সাহিত্য কোথায় যে যাইত!’

সেদিন সন্ধ্যায় জিগাতলার এক রেস্তোরাঁয় তিনি মোগলাই পরাটা, কোকাকোলা আর সিগারেট খাওয়ালেন। এর দুই দিন পর তুলনাবাচক শব্দের সেই কবি আজকের কাগজে এসে যেন খুব দেরি হয়ে গেছে এই ভঙ্গিতে আমার সামনে প্রায় আধা দিস্তার একটা লেখা রাখলেন। দেখি, একটা সাক্ষাৎকার, প্রশ্নের জায়গায় আমার নাম আর জবাবে নিজের। বললাম, ‘আমি কি আপনার সাক্ষাৎকার নিছি?’ তিনি বললেন, ‘বেশি কথা বলিও না। এইটা আগে ছাপো। পরে আর সুযোগ পাবা না।’ পরশু পর্যন্ত আমি ‘আপনি’ ছিলাম, নোবেলের ঠ্যালায় আমি ‘তুমি’ হয়ে গেলাম! ‘তোমাদের ক্যামেরাম্যান কই? কয়েক মাস পরে আন্তর্জাতিক লোকজন আমার চারপাশে গিজগিজ করবে, ওরে ত আমি সময় দিতে পারবো না। সময় দিতে না পারলে আমার বিরুদ্ধে লেখালেখি কইরাও লাভ হবে না। বুঝছ?’

আমি বললাম, ‘ক্যামেরাম্যান বলছেন কেন? বলবেন ফটো জার্নালিস্ট। সেইটা না পারেন ফটোগ্রাফার বলেন। নোবেল পাবেন বইলা সবাইরে তাচ্ছিল্য করবেন, শোনেন এইসব ব্যাপার কিন্তু জায়গামতো রিপোর্ট হয়, বুঝতে পারছেন?’

অসহায়ের হাসি দিয়ে বললেন, ‘আরে আমার কি এখন মাথা ঠিক আছে?’ আমার সামনাসামনি জানালার দিকে বসতেন বকর ভাই, মানে, আবু বকর চৌধুরী। তাঁকে বললাম, ‘রকিব খান আছে?’ তিনি বললেন, ‘অ্যাসাইনমেন্টে গেছে।’ এর মধ্যে ড. ওয়াজেদ আলী মিয়া এলেন। বাদামি আর ধূসরের মাঝামাঝি রঙের সাফারি স্যুট পরা। তখনকার বিরোধী দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনার স্বামী, সে-কারণেই আমরা তাঁকে দুলাভাই ডাকতাম। তখন তিনি আজকের কাগজের সম্পাদকীয় পাতায় সরকারি সম্পদের অপব্যবহার বিষয়ে ধারাবাহিক লিখতেন। নিজের লেখার প্রুফ দেখার জন্য সন্ধ্যার সামান্য আগে তিনি আসতেন। তাঁকে নিয়ে আমাদের মজার কিছু স্মৃতি আছে। সেসব পরে বলি। যা হোক, বকর ভাই সেই কবিকে দেখিয়ে বললেন, ‘কবি’। পিয়ন সাত্তার তাঁকে ভালো একটা চেয়ার এনে দেয়ার পর বসলেন এবং বললেন, ‘আমিও কবিতা লিখছি। কলেজে পড়ার সময়। শুনবা? তিনি আবৃত্তি করলেন, নদীতে নৌকা ভাসে, বাগানে ফোটে ফুল, জোয়ার ভাটা বুঝে এসো, করিও না ভুল।’

১৯৮৯ সালে ঢাকার বোটানিকাল গার্ডেনে তোলা ছবি।
১৯৮৯ সালে ঢাকার বোটানিকাল গার্ডেনে তোলা ছবি। দুই বোন ও ফুপাতো বোনদের সঙ্গে। সঙ্গের শিশুটি ফুপাতো বোনের ছেলে।

তো, ছবি তিনি তুলবেনই। আমাকে নিউমার্কেটের একটা স্টুডিওতে নিয়ে গেলেন। আমার যাওয়ার ইচ্ছা ছিল না; তবে কৌতূহল ছিল, কবি কী কাণ্ড করেন শেষ পর্যন্ত। আর তিনিও আমাকে বলেছিলেন, ‘তুমি আমার মুখোমুখি বইসা ইন্টারভিউ নিচ্ছ, এই ভঙ্গিতে ছবি তুলবো। নোবেল পাওয়ার আগে এটাই হবে আমার সর্বশেষ ইন্টারভিউ আর কোনও সাংবাদিকের সঙ্গে তোলা লেটেস্ট ছবি। সাংবাদিক বলায় মাইন্ড করলা? তুমি তো আবার কবিতা লেখো।’

আধা দিস্তার সাক্ষাৎকারটা আমার হাতেই ছিল। আমি বললাম, ‘এত বড় ইন্টারভিউ কোনও পত্রিকাই ছাপবে না।’ তিনি বললেন, ‘না ছাপলে তো পত্রিকারই লস। বিবিসি, পিটিআই এইগুলা যখন আমার পিছে ঘুরবো, তখন বুঝবা মজাটা! ঘুষ দেয়ারও তো সুযোগ পাইবা না। ঠিক আছে, তুমি আমার সঙ্গে থাক, দুইজনে বইসা ইন্টারভিউর কোন-কোন জায়গা বাদ দেয়া যায়, দেখি।’

রিকশায় চ’ড়ে জিগাতলা থেকে নিউমার্কেটে যখন পৌঁছাই, তখন প্রায় সন্ধ্যা। এপ্রিলের গরম, পুবের গেট দিয়ে ঢুকে আমরা ছবি বাঁধাইয়ের দোকানের পাশে সেই স্টুডিওতে যাই; কাউন্টারে বসা লোকটি বলে যে, একটু আগেই বিদ্যুৎ চ’লে গেছে, ছবি তোলা এখন সম্ভব নয়। আমি বলি, ‘চলেন, কোথাও বসে চা-সিগারেট খাই, ততোক্ষণে ইলেকট্রিসিটি চলে আসবে।’ আমরা মসজিদের পাশের একটা দোকানে চা-সিগারেট খেলাম, মহিলাদের দেখলাম, কাউকে সুন্দর মনে হলে তাকিয়ে থাকলাম যতোক্ষণ সুযোগ থাকে; তারপর বইয়ের একেকটি দোকানে শেলফ থেকে শেলফে হাঁটাহাঁটি ও ঘাঁটাঘাঁটি করতে লাগলাম। তীব্র গরমের মধ্যে এত কিছু করার পরও যখন বিদ্যুৎ এলো না, তখন কবি বললেন, ‘আইজকা আমার সঙ্গে থাক।’

আমি বললাম, ‘অনেক সময় আপনার সঙ্গে কাটাইছি, আমি এখন বাসায় যাবো।’

তিনি বললেন, ‘আমিও যাবো।’

‘কেন?’

‘ইন্টারভিউটা আইজকাই ফাইনাল করতে হবে।’

‘সেটা আমার বাসায় কেন?’

‘তাইলে তুমি চল। আমার বাসায়।’

নিউমার্কেটের দক্ষিণ গেটে দাঁড়িয়ে এই ধরনের উক্তি ও প্রত্যুক্তির পর একটা রিকশায় আমরা উঠলাম। তখন মনিপুরীপাড়ার ৪৬ নম্বর বাসায় থাকতাম। রাত ন’টায় সেখানে পৌঁছে কিছুক্ষণ আলাপের পর জানালাম যে আমার পক্ষে তাঁর বাসায় যাওয়া সম্ভব নয়। তবে দুইটা শর্তে যেতে পারি: আমাকে ব্লু ফিল্ম দেখাতে হবে এবং মদ খাওয়াতে হবে। তিনি জানালেন যে দ্বিতীয়টি তাঁর বাসায় আছে আর প্রথম শর্ত পূরণের জন্য তাড়াতাড়ি বের হতে হবে। কারণ দোকান বন্ধ হয়ে যাবে।

শিং মাছ, সবজি আর ডাল দিয়ে ভাত খেয়ে আমরা বের হলাম। তখন এলিফ্যান্ট রোডে গোল্ড ভিডিও নামে একটা দোকান ছিল বাটা সিগনাল পার হয়ে সায়েন্স ল্যাবরেটরির দিকে যেতে, রাস্তার ডানে, দোতলায়। তখন দোকানপাট বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল, দ্রুত পায়ে সিঁড়ি বেয়ে ওঠার সময় দেখি, বাংলাদেশের এক বিখ্যাত কবি আমাদের অতিক্রম ক’রে নেমে গেলেন। হাতে সাদা-কালো স্ট্রাইপের একটা পলিথিন ব্যাগ। দোকানে গিয়ে, (স্মার্ট ছেলেমেয়েরা আজকাল যেমন বলে, অ্যাডাল্ট মুভির কিছু ডিভিডি দেখান তো মামা! তবে এখন আর তা বলার জন্য কষ্ট ক’রে কোনও মামার কাছে যেতে হয় না, ইন্টারনেটেই তো সব পাওয়া যায়) কবি নিজের গলায় হাত বোলানো শুরু করলেন। সেলসম্যান বললেন, ‘কী দিবো দাদা, দোকান ত বন্দ কইরা ফেলতেছি। বাজিগর ভালো চলতেছে। ভালো প্রিন্টের ক্যাসেট আছে।’ আমি বললাম, ‘উনাকে হেল্প করেন, মনে হয় উনার অন্য কোনও চাহিদা আছে।’ সেলসম্যান তাঁকে বললেন ‘বুঝতে পারছি, আপনিও তো কবি, এক কবি ত এইমাত্র চাইরটা নিয়া গেল। সব থ্রি এক্স। দিবো?’

সিঁড়ি দিয়ে নামতে থাকা প্রখ্যাত সেই কবির চেহারা মনে পড়লো। (হায়, তিনি আজ আমাদের মাঝে নেই! অধিকন্তু, নামোল্লেখে ঝামেলা হতে পারে; যদিও ব্লু ফিল্ম দেখা অন্যায় নয়, ইউরোপে থাকা বন্ধুদের কাছে শুনেছি, ওখানে ওই ধরনের ছবি দেখার জন্য হল আছে, তা না থাকলে হলগুলোয় আছে ধরাবাঁধা সময়; পঞ্চাশোর্ধ্ব নারীপুরুষরাই না-কি এর গরিষ্ঠ দর্শক।)

তিনি বললেন, ‘তিনটা দেন। মাদ্রাজি, চিনা আর ইংলিশ।’ আমি বললাম, ‘না, না, চিনা কেন, দুইটা আমেরিকানই দেন।’ বাংলাদেশের চিনা বামদের আমি পছন্দ করি না তাদের অধিকাংশের চারিত্রিক অবস্থা জানা ও দেখার পর থেকে, ওই মনোভাব সেই মুহূর্তের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছিল কি-না বলতে পারি না। অন্যদিকে, মার্কিনপন্থিদেরকেও তো আমার পছন্দ হয় না। কিন্তু বিনোদনের যা-কিছু আছে, প্রায় সবই ওদের হাতে শিল্প ও শিল্পকলা হয়ে উঠেছে ব’লে মনে হয়। যা হোক, তিনটা ভিডিও ক্যাসেট চিনাকাগজের [আবার চিনা!] একটা প্যাকেটে নিয়ে পৌঁছলাম নোবেল পুরস্কারের জন্য অপেক্ষমাণ কবির বাসায়।

১৯৯৫ সালের এপ্রিলে, সেই বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে এগারোটায় আজিমপুর কিছুটা চুপচাপ; থেমে থাকা দু’চারটা রিকশা দেখলাম, একটার সিটে বসে রিকশাচালক সিগারেট ফুঁকছে; আমিও ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে সে-বাসার সম্মুখবারান্দায় দাঁড়িয়ে দেখি কবি তালা খুলছেন। ঢুকেই অদ্ভুত এক গন্ধ পেলাম। মনে হলো, প্রত্যেকের জীবনের আলাদা একটা গন্ধ আছে, বসবাসের জায়গায় গেলে তা পাওয়া যায়। এটা হয়তো কেবল বাইরের মানুষই পায়, নিজের ইন্দ্রিয়ে ধরা দেয় না।

(দ্বিতীয় কিস্তি)