নারগিস (৬)

আগের কিস্তি । প্রথম কিস্তি

২০.
একলা একলা আসার ঘটনাটা নারগিসকে বলার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু সুযোগ হল না। ও হয়তো বকতো আমাকে। তবুও একমাত্র ও-ই আছে এই দুনিয়ায়, যার কাছে ছোট হওয়া যায়। কিন্তু বলা হয় নাই। ভাবলাম, নোভা ফিরলে ওর ওখানে যেদিন যাব সেদিন বলব।

ক্লাস এইটের ফাইনালের এমন চাপ—কী নোভা, কী নারগিস—সবই আমি ভুলে গেলাম।

পাশ করলে তো হবে না, নাইনে সায়েন্স পেতে হলে সব সাবজেক্টে আশির উপর থাকতে হবে। তার ওপর আছে বৃত্তি! বৃত্তি পেলেই হবে না। ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেতে হবে। কারণ আমার ভাই । সে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পাইছিল ক্লাস ফাইভেও, ক্লাস এইটেও। আর আমি ক্লাস ফাইভে সাধারণ বৃত্তি পাইছিলাম, যেইটা আমার আম্মার কাছে সব সাবজেক্টে ফেইলের চেয়েও খারাপ।

তাই আমার একটা ভয়াবহ রুটিন হইল তখন। সকাল ছয়টায় উঠে সাতটায় স্কুলের কোচিং ক্লাস। দশটায় কোচিং ক্লাস শেষে স্কুলের রেগুলার ক্লাস। ৪টায় সেইটা শেষে আবার প্রাইভেটে মডেল টেস্ট।

বাসায় ফিরতাম সাতটায়। ফিরেই আবার আটটার মধ্যে পড়তে বসা।

যারা বৃত্তি পরীক্ষা দিবে না তাদের কোচিং ক্লাসও করা লাগত না। ওদেরকে দেখলে আমার কান্না পাইত। ভাত পর্যন্ত তখন ব্যাগে করে স্কুলে নিয়ে যাইতাম আমি।

নারগিস এই বৃত্তি দিবে গ্রুপকে দেখলে বলত, বাত্তি জ্বালাবে!

আমি দেখতাম ও ওর ছোট বড় শিষ্যদের নিয়ে মনের সুখে ঘুরে বেড়ায় আর আমাকে দেখলেই জিজ্ঞেস করে, কয়টা বাত্তি জ্বালাইছিস? ওর সহচরেরা হাহাহহা করে হাসে। কিন্তু বাত্তি হোক আর যাই হোক, বৃত্তি পাইলে বেশ কিছু টাকা তো পাওয়া যাবে!

অর্থনৈতিক মুক্তির আশায় আমি এই টর্চারের রুটিন মানতে থাকি।

এরই মধ্যে একদিন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের পরীক্ষার রেজাল্ট আসল। এক বিশাল অনুষ্ঠান করে প্রাইজ দেয়া হবে। চট্টগ্রামের সব স্কুলের ছেলেমেয়েরা সেখানে যাবে। শুক্রবার সেদিন।

আমি নারগিসকে বললাম, চল আমরা নোভাকে আসতে বলি।

ও বলল, কেন? ওর কী কাজ সেখানে?

নারগিসের মুড দেখে আমার আর বলার ইচ্ছা হল না নোভাকে। আসলে আমার তো অনেক দিন ওদিকে যাওয়া হয় না—দেখা হয় না। তাই ভাবলাম ওকেও আসতে বলি।

শুক্রবার সব কোচিং-প্রাইভেট থেকে ছুটি নিলাম আমি। বিকাল পাঁচটায় অনুষ্ঠান। চারটায় গেলাম নারগিসের বাসার নিচে।

উপরে আর উঠলাম না। দশ মিনিট অপেক্ষা করার পরে নামল নারগিস।

ওকে দেখে খুব অবাক হয়ে গেলাম আমি। খুব সুন্দর একটা নীল জামা পরা, সিল্কের জামা হবে বোধহয়, একেবারে ওর গায়ের মাপে বানানো। আমার জামা তো অনেক ঢোলা আর অনেক লম্বা! গায়ের মাপে কোনোদিন জামা বানানো হয় নাই! গলায় আবার একটা হালকা সিলভার রঙের চিকন মালা। হাতে নীল-সিলভার মেশানো একটা ব্রেসলেট। জুতাটাও ম্যাচ করা। চুলগুলো খুব স্টাইল করে বাঁধা।

বড় মেয়েরা যেভাবে সাজে, ওইরকম দেখাচ্ছে ওকে। আমার হঠাৎ মনে হল, আমরা হয়ত বড়ই হয়ে গেছি, শুধু আমিই এটা এত দিন বুঝি নাই। তাই আমার কোনো ম্যাচ করা জুতাও নাই, জামাও নাই। হাতের ব্র্রেসলেট থাকা তো দূরের কথা! যেন তেন একটা জামার ওপর স্কুলেরই লাল সোয়েটার পরে আছি।

তোর ঠাণ্ডা লাগবে না, ফিরতে ফিরতে তো সন্ধ্যা হবে! আমি বললাম।

নারগিস উত্তর দিল না। মাথা ঝাঁকাল।

পাঁচটার আগেই পৌঁছে গেলাম আমরা। সেখানে তখন হুলস্থুল কাণ্ড। সব স্কুলের ছেলেমেয়েরা এসে গেছে। আমাদের কোচিং এ পড়ে—এমন ছেলেমেয়েকেও দেখলাম সেখানে।

বিশাল প্যান্ডেলের নিচে সবাই যার যার মত বসে আছে। সবাই গল্পে মশগুল।

আমরাও আমাদের স্কুলের মেয়েদের সাথে বসলাম। এত লোকজনের মাঝখানেও নারগিসকে যেন আলাদাভাবে চোখে পড়ল সবার!

এতই সুন্দর ওর পোশাক! আশেপাশের ছেলেরা সব ওর দিকে হা করে তাকায়ে থাকল। আর মেয়েরাও ঘুরে ঘুরে ওর দিকে হিংসার চোখে বারবার তাকাল। আমার মনে হল, নারগিস সব বুঝেও একদমই পাত্তা দিল না।

আমি ওকে কানে কানে বললাম, তোর লাভলু কই রে?

ও খুব বিরক্ত নিয়ে বলল, লাভলু! সেটা আবার কে?

এর কি আর কোন উত্তর হতে পারে! আমিও চুপ করে থাকলাম।

পুরস্কার ঘোষণা করা হল। স্বাগত পুরস্কার একটা করে বই পেল সবাই। এটাকে এক ধরনের সৌজন্য পুরস্কার বলা যায়। নারগিস বলল, ও আর কোনো পুরস্কার পাবে না। তাই চলে যাওয়াই ভাল।

কিন্তু আমি তো ভালই পরীক্ষা দিলাম, এটা যখন বললাম তখন ও আরো কিছুক্ষণ থেকে যেতে রাজি হল। তবে আমার নাম ডাকল না শুভেচ্ছা পুরস্কারের সময়ও।

অভিনন্দন পুরস্কার পেল দশজন। তার মধ্যে আমার নাম আছে। আমি আমার পুরস্কার আনতে গেলাম। প্রাইজ হল বিশটা বই। একটা সার্টিফিকেট। আর ঢাকা থেকে আসা অতিথিদের হ্যান্ডশেকের সময় হাসি হাসি মুখে ছবি তোলা।

এগুলা শেষ করতে বেশ সময় লাগে। আমি ফিরে এসে দেখি যেখানে বসছিলাম সেখানে হুলস্থুল কাণ্ড। আমি প্রাইজ নেওয়ার জন্য ওঠার সাথে সাথে নারগিসও উঠে কোথায় যেন গেছিল। এসে দেখে ওখানে কতগুলো ছেলে বসে গেছে।

আমাদের স্কুলের বেশিরভাগ মেয়েই চলে গেছে। পুরো জায়গা ছেলেদের দখলে। নারগিস তো পারলে ওই ছেলেদের কলার ধরে ওঠায়! আমি ওকে টেনে একপাশে নিয়ে গেলাম।

বললাম, কীরে, এ রকম বাচ্চাদের মত ঝগড়া করতেছোস কেন? কেউ আমাদের জায়গা রাখে নাই, ওরা বসে গেছে। এখন ঝগড়া করে লাভ কী? ওইখানে কেন বসতে হবে, পিছনেই তো কত জায়গা, চল সেখানে বসি।

নারগিস বলল, আরে, ফ্যানের বাতাস তো ওই জায়গাতে বসলেই গায়ে লাগে। বেয়াদব ছেলেগুলা কতক্ষণ আমার সিট দখল করতে পারে আমিও দেখে নিব।

বলেই গিয়ে ঠিক ওই সিটের পেছনে বসে গেল। কী করব বুঝতে না পেরে আমিও ওর পাশে বসে গেলাম। একটু পরেই ও ওড়না থেকে সেফটিপিন খুলে ওর সিটে বসা ছেলেটার পশ্চাৎদেশে একটা গুঁতা দিল। ছেলেটা একটু নড়চড়ে বসল। কিন্তু পেছনে তাকাল না।

নারগিস আবারো একই কাজ করল। এবার একটু জোরেই! ছেলেটা এবার নড়েচড়ে পেছনে তাকাল। ছেলেটার চোখে দুনিয়ার অবিশ্বাস। আর লজ্জা। নারগিস ওর দিকে তাকায়ে কাঁধ উচু করল, ভ্রু নাচাল। ছেলেটা তাড়াতাড়ি আবারো  সামনে ফিরে গেল।

আমি নিজেই অবাক হয়ে নারগিসের দিকে তাকালাম! এমন কাজ কীভাবে করতে পারে ও!

আবারো ছেলেটাকে একইভাবে গুঁতা দিল নারগিস। ছেলেটা রেগেমেগে উঠে দাঁড়াল এবার। চিৎকার করে উঠল।

পাত্তাই দিল না নারগিস। পুরো বিষয়টা ওর অবদান অস্বীকার করে পায়ের উপর পা রেখে বলল, আমার সিটে বসতে হলে এভাবেই বসতে হবে।

তখন ছেলেগুলো সব আমার দিকে তেড়ে আসল। বলল, আমিই নাকি এ কাজের  মূল হোতা।

আমি কিছু বলে ওঠার আগেই সেখানে লাভলু এসে হাজির। লাভলু এসে কিছু না জেনেই ছেলেগুলোকে ধমক দিল সিট থেকে উঠে দাঁড়ায়ে থাকার জন্য।

আর বলল, এরপর দাঁড়ায়ে থাকলে সোজা প্রোগ্রাম থেকে বের করে দিবে। বেচারাদের তো খুবই মন খারাপ হল। তারপরেও ওরা লাভলুকে মিনমিন করে বোঝাতে লাগল এখানে আসলে কী হইছে। ওদিকে ঘোষণা হচ্ছে “সেরা পাঠক পুরস্কার।” মাত্র তিনজন এ পুরস্কার পাবে। সবাইকে অবাক করে দিয়ে প্রথম নামটা ডাকা হল—নারগিসের নাম!

নারগিস উঠে পুরস্কার আনতে গেল। আমি আহত চোখে লাভলুর দিকে তাকালাম।

লাভলু হেসে চলে গেল।

নারগিস স্টেজে উঠে সবার সাথে হ্যান্ডশেক করে খুব হেসে হেসে কথা বলল। অনেকক্ষণ ধরে ওই পুরস্কার পাওয়া তিনজনের সঙ্গে ফটোসেশন চলল। আমি আমার সিটে বসে চুপচাপ এগুলা দেখলাম।

সামনের ছেলেগুলো তখন যাচ্ছেতাই ভাষায় আমাদের দুজনের উদ্দেশ্যে গালাগাল করে যাচ্ছে।

আমি বের হয়ে এসে প্যান্ডেলের বাইরে দাঁড়ালাম।  খুব সুন্দর বাতাস তখন। বাতাসে শীত শীত গন্ধ। আকাশে জ্বলজ্বল করছে হাজার হাজার তারা। আমি ভাবলাম, একটা বই না পড়েও ‘সেরা পাঠক’!

আমার খুব হিংসা হল। খুব দুঃখও হল। অপমানও লাগল। কোনটার কারণে জানি না, আমি কেঁদেই ফেললাম।

পরদিন পেপারে নারগিসসহ তিনজনের ছবি ছাপা হল। স্কুলের অ্যাসেম্বলিতে ওর কৃতিত্ব বর্ণনা করা হল। যদিও ও সেদিন স্কুলে যায় নাই। ক্লাসে টিচার বলল, নারগিস যদি একটুও পড়াশোনা করত, নির্দ্বিধায় ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেত।

সেদিনও আমার খুব মন খারাপ ছিল।

কোচিং ক্লাসে সিনিয়র জুনিয়র সবাই নারগিসের বান্ধবী হিসেবে চিহ্ণিত করল আমাকে। আমাকে ঘিরে জটলা সৃষ্টি হল। সবার অনেক কৌতূহল সুন্দর আর বুদ্ধিমান নারগিসকে নিয়ে। অনেক প্রশ্ন। অনেক কমপ্লিমেন্ট। নারগিস আমাদের ব্যাচের ‘সেলিব্রেটি’ হয়ে গেল।

২১.
ফাইনাল পরীক্ষা শেষ হবার পরদিনই নারগিস জানাল ও ঢাকা যাচ্ছে। বেড়াতে। ঢাকা নামটা শুনলেই বড় বড় দালান, বড় বড় রাস্তা, বড়লোক আর সুন্দর সব ছেলেমেয়েদের কথা মনে আসে। আমারও খুব ইচ্ছা একদিন যাব ঢাকায়।

তখনও আমার বৃত্তি পরীক্ষা বাকি। আমি বললাম, নারগিস ফিরলে আমাদের বাসায় না এসে বরং কোচিং-এ গিয়ে ওর আসার খবর জানাতে।

ও হাসল।

ভাবলাম পরীক্ষা শেষ হলে আমার ভাইয়াকে বলে ঢাকা যাব। ভাইয়াকে বলাও হল।

ভাইয়া বলল, বেশ তো। পরীক্ষা শেষ হলে একেবারে আব্বা আম্মা সহ  ঢাকা ঘুরে আসা যাবে।

সেভাবেই সব প্ল্যান হল। টিকিটও কাটা হল। কিন্তু বৃত্তি পরীক্ষা শেষ হওয়া মাত্রই আমার জন্ডিস ধরা পড়ল। বিলিরুবিনের মাত্রা এত বেশি যে ঢাকা তো দূরের কথা,  বাথরুমে যাওয়াও নিষেধ করে দিল ডাক্তার। বলল, কোনো রকম নড়াচড়া করা যাবে না। তেল মসলা ছাড়াই খাবার খেতে হবে। এবং কথা বলা যাবে না। এদিকে পাঁচদিন পরেই ঢাকার টিকিট কাটা।

আমার অসুস্থতায় আমার আম্মার খুবই মেজাজ খারাপ হল। অনেক আশা ছিল আম্মার। ঢাকা গেলে এই করবে সেই করবে। আমার কারণে সবই ভেস্তে যাবে ভেবে আম্মার চরম বিরক্ত লাগল। আব্বাকে ইনিয়ে-বিনিয়ে বোঝানোর অনেক চেষ্টা করল যে ঢাকায় যাওয়ার মত অবস্থা আমার আছে! সেখানে গিয়ে সারাদিন শুয়ে থাকলেই হবে! তাছাড়া, ওখানে বড় ডাক্তারও দেখাতে পারবে। এখানকার ডাক্তাররা মিছামিছি ভয় দেখায়!

আব্বা এক ধমকে তাকে চুপ করায়ে দিল।

আম্মা বাসায় এমন চেহারা করে রাখল যেন উনার মাথার উপর এইমাত্র কাক মলমূত্র ত্যাগ করে গেছে। আমাদের পাড়ার প্রত্যেকটা মহিলাকে গিয়ে গিয়ে বলল, আমার জন্য তার জীবনের কোনো সাধ কখনোই পূর্ণ হতে পারল না। এখন এই শেষ জীবনে ঢাকা যাবার শেষ সাধটাও আমার কারণেই পূরণ হল না।

আমি সব শুনলাম, দেখলাম এবং শুয়ে থাকলাম।

একেবারেই তেল মসলা ছাড়া খাবার, স্বাদ লাগার কথাও না। তার উপর সকাল বেলা নিম পাতার রস। জীবনটাই আমার তিতা হয়ে গেল। আমার মনে হইল আম্মা ইচ্ছা করেই আমাকে এরকম বিশ্রী স্বাদের খাবার খাইতে দেয়।

আমি খাইতে চাইতাম না। তখনও আম্মা ঘ্যান ঘ্যান করে শুনায়ে দিত—আমার কারণেই উনি জীবনের শেষ শখ পূরণ করতে পারেন নাই!

শুয়ে শুয়ে আমি তখন লাল ন্যাশনাল ক্যাসেট প্লেয়ারে সারাক্ষণ গান শুনি। আমাদের বাসায় কোনো আধুনিক গানের ক্যাসেট নাই। সব লতা, হেমন্ত, আশা, চিত্রা—এইসব। ভাইয়ার দুএকটা ক্যাসেট আছে অঞ্জন দত্ত, সুমন চট্টোপাধ্যায়, স্বাধীনতা ব্যান্ডের হাসান আর জেমসের গান। সবই আমি শুনি। সবচেয়ে বেশি শুনি একটা ইংরেজি গানের ক্যাসেট। গান ঠিক বলা যাবে না। শুধু সুর। ক্যাসেটের মলাটে লেখা  CHOPIN’S COLLECTION।

বিষয়টা আমি ঠিক বুঝতে পারি নাই। কিন্তু এই সুরগুলাই আমার খুব ভালো লাগত। তাই বেশিরভাগ সময়ই এটা শুনি। আম্মার কী হল—বলতে শুরু করল, এই ক্যাসেটের জন্যই নাকি আমি কিছু খেতে চাই না। ক্যাসেট প্লেয়ারটা আমার কাছ থেকে কেড়ে নেয়া উচিত। কেউ কেড়ে নেয় নাই, এবং উনার কথায় কানও দেয় নাই।

যেদিন আমাদের টিকিট করা ঠিক আগের দিন দুপুরবেলা উনি একটা ভয়ঙ্কর কাজ করে বসলেন। শুরুটা ছিল খাওয়া দাওয়া নিয়ে। খেতে মন চাচ্ছিল না। তখন আমার ন্যাশনাল প্লেয়ারে চপিনস চলতেছিল। আম্মা বলা নাই কওয়া নাই হঠাৎ ক্যাসেটটা প্লেয়ার থেকে বের করে ফিতা টেনে টেনে সমস্ত ফিতা ছিঁড়ে ফিললেন।

নিজের চোখে দেখা এ নিষ্ঠুরতম কাণ্ডে আমি চুপ এবং শক্ড হয়ে গেলাম।

সন্ধ্যা পর্যন্ত বসে বসে  নষ্ট ফিতাগুলো ক্যাসেটের ভেতরে ঢোকানোর চেষ্টা করলাম। একটা ইকনো ডিএক্স কলম নিয়ে দুই ঘণ্টা বসে বসে ফিতা আগের মত স্বাভাবিক করার পর প্লেয়ার অন করে দেখি ক্যাসেটটা আর চলে না।

রাতে আব্বা ফিরতেই বললাম, কাল ঢাকার টিকিট করা আছে। যেভাবেই হোক আমি কাল যেতে চাই।

আব্বা জানাল সেটা সম্ভব নয়। তবে আমি যদি আমার ফুপুর বাসায় থাকতে রাজি হই, তাহলে আব্বা এবং আম্মা ঢাকা যাবেন।

এর আগ পর্যন্ত আমার ফুপুর বাসার ছায়া মাড়াতে আমাকে কেউ রাজি করাইতে পারে নাই।  তার কারণ পরে বলব। আগে বলি, আমি এক কথায় রাজি হয়ে গেলাম। আব্বা অবাক হয়ে আমার মুখের দিকে তাকায়ে থাকলেন।

(কিস্তি ৭)

About Author

পারমিতা হিম
পারমিতা হিম

লেখক ও সাংবাদিক; এখন সময় টেলিভিশন, ঢাকা, বাংলাদেশে কর্মরত।