(আগের কিস্তি)

৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫
আমাদের এলাকায় একজন পাগল আছেন। রাত দুইটার দিকে উনারে স্টেশানের কাছে দেখা যায়। প্রথমদিন যেইদিন উনারে দেখলাম সেইদিন আমি পার্টি শেষ কইরা ত্যাড়া ত্যাড়া হইয়া রাস্তা দিয়া হাঁইটা হাঁইটা বাসার দিকে যাইতেছি। দেখি রাস্তার উলটা পাশ থেইকা এক ভদ্রমতন লোক শার্টের কোণা ট্রাউজারের ভিতর ঢুকাইতে ঢুকাইতে আমার দিকে হাত নাড়তে নাড়তে ‍”এক্সকিউয মি মিস” কইতে কইতে রাস্তার এইপাশে হাঁইটা আসতেছেন।

প্রথমে একটু ভয় পাইলাম। ছিনতাই টিনতাই করতে চাবেন না তো? পরে ভাবলাম, করলে করছেন। কী আছে জীবনে। সব ফোন-টোনই তো ইন্স্যুরেন্স করা। গেলে যাবে ফোন কোম্পানির পয়সা।

আমি একটু আগায় গেলাম। ভদ্রলোক ক্লিন-শেইভড। রাতের রাস্তার ল্যাম্পের আলোয় উনার সোনালী বাদামী চুল সবুজ দেখাইতেছে। গলা ঘাড় সব কালো সবুজ উলেন স্কার্ফে ঢাকা। স্কার্ফের রঙ অন্য কিছুও হইতে পারে।

—সরি মিস, আমি ম্যানচেস্টার থাইকে আসছি—রাস্তা হারায় ফেলছি, ফোন কাজ করতেছে না। তুমি এই এলাকায় থাকো?

—জ্বি, কী খুঁজতেছেন আপনি?

—সেইন্ট অগাস্টিন হোটেলটা চিনো? আমার আজকে রাত্রে ঐখানে রুম বুকিং দেয়া আছে। আজকে আর কালকে থাকবো। আমার বান্ধবী ডেইজি আসবে কালকে আমার সাথে দেখা করতে। ও এইখানে রেডব্রিজে থাকে।

—সেইন্ট অগাস্টিন?

আমি ফোনে গুগল ম্যাপ বাইর করলাম গ্লাভস খুইলা। না, এই নামে তো এইখানে কোনো হোটেল নাই। এই এলাকায় কোনো হোটেলই নাই টু বি প্রিসাইস। বেশ দূরে ভ্যালেন্টাইন পার্কের কাছে বেশ কিছু মোটেল টাইপ আছে, কিন্তু আমার জানামতে সেইগুলার কোনোটারই নাম সেইন্ট অগাস্টিন না।

আমি বেশ কিছুক্ষণ গুগল ঘাঁটাঘাঁটি কইরা ভদ্রলোকের কাছে মাফ চায়া বাড়ির দিকে হাঁটা দিলাম। বাসায় আইসা উনার কথা ভুইলাও গেলাম।

এর পরের বার উনার সাথে আবার দেখা হইলো একই জায়গায়। প্রায় দেড় মাস পরে। তখনো রাত দুইটা-আড়াইটার মতন বাজে। উনি আবারো আমার কাছে আইসা সেইন্ট অগাস্টিন হোটেলের খোঁজ করলেন। আমি আবারো কইলাম আমি জানি না সেইন্ট অগাস্টিন সাহেবের হোটেলটা কই। উনি আবারো, “আচ্ছা, অসুবিধা নাই, আমি খুঁইজা বাইর করতেছি, তোমার সাহায্যের জন্য ধন্যবাদ এনিওয়ে” বইলা আরেক দিক হাঁটা দিলেন।

red vridge 1
রেডব্রিজ স্টেশন

তৃতীয়বার উনার সাথে দেখা হওয়ার দিন আমার খুব মেজাজ খারাপ ছিলো। সারাদিন এসিএম ল্যাব শেষ কইরা সন্ধায় ক্রাউন কোর্টের প্রসেকিউশান ব্যারিস্টারের সাথে চিল্লাচিল্লি কইরা মিলহিলে এক বন্ধুর এংগেইজমেন্ট পার্টিতে গেছিলাম রাত দশটার দিকে। সেইখানে বন্ধুর ফিয়ন্সের বড় ভাইয়ের সাথে সায়েন্স আর ধর্ম এইসব এইসব প্রাগৈতিহাসিক টপিক নিয়া আলোচনার এক পর্যায়ে বড় ভাই “তোমরা অন্ধ মূর্খ, ঈশ্বর তোমাদের জ্ঞানের আলো দিক” এই বইলা আমার পাশের ভদ্রলোক ও আমার সাদা শ্যানেলের জামায় রেড ওয়াইনসমেত কাচের গ্লাস ছুইড়া মারলেন। নাকের বদলে নরূন—জ্ঞানের বদলে রেড ওয়াইন নিয়া বাসায় ফেরত আসতে আসতে নিজের মূর্খতা, শ্যানেলের জামার ড্রাইওয়াশ এইসব এইসব ভাবতে ভাবতে ঈশ্বর (যদি থাকেন)—তাঁর মহানুভবতার চৌদ্দ গুষ্টি উদ্ধার করতেছিলাম আমি।

দূর থাইকেই দেখলাম ম্যানচেস্টার সাহেব আবার আমার দিকে আসতেছেন “এক্সকিউয মি মিস” কইতে কইতে।

আমি মনে মনে ঠিক করলাম, আজকে উনারে আমি ডিরেকশান দিবো। রাস্তা জিগাইলে রাস্তা দেখায় দিবো। বলবো, এই ড্রাইভ ধইরা সোজা হাঁইটা যান। রাস্তার শেষ মাথায় সেইন্ট অ্যান্ড্রুজ চার্চ দেখবেন। তার বাম দিক দিয়া হাঁইটা গেলে ওয়ান্সটেড রোড পাবেন। প্রথম দুইটা গলির পার হয়া থার্ড গলি দিয়া হাতের ডানে একটা বড় আপেল গাছ দেখবেন। ঐ গাছটার পিছেই আপনার সেইন্ট অগাস্টিন হোটেল। ওরা সারারাতই খোলা থাকেন।

—সরি মিস, এই রাত্রে তোমাকে বিরক্ত করার জন্য, আমি বেশিক্ষণ সময় নিবো না।

আমি চোখ মুখ শক্ত কইরা রেডি হইলাম রাস্তার ডিরেকশান দেওয়ার জন্য।

—তুমি জানো আমি কেন পাগল হইছি?

আমি এর আগে পাগলরে নিজে পাগল ঘোষণা দিতে শুনি নাই। তবে, রাতবিরাতে উনার হিস্ট্রি শুনারও আমার তেমন আগ্রহ নাই। আমি বিমর্ষ গলায় জিগাইলাম, “না, ক্যামনে পাগল হইছেন?”

—আমিও জানি না। তুমি জানলে আমারে সেইন্ট অগাস্টিনে চিঠি লেইখা জানায়ো, ওকে? আমার রুম বুকিং দেওয়া আছে। রুম নাম্বার ২১১। তুমি চিনো তো সেইন্ট অগাস্টিন হোটেল?

—জ্বি, চিনি। এই রাস্তার শেষ মাথায়।

ভদ্রলোক মাথার ফারের টুপি ঠিক করতে করতে হাসতে হাসতে আমারে কইলেন, “এইখানে কোনো সেইন্ট অগাস্টিন হোটেল নাই, হা হা—আচ্ছা চিঠি লিখো কিন্তু।”

***

বাসায় আইসা আজকে উইটনেইস স্টেইটমেন্ট নিয়া বসছি।

উইটনেস স্টেইটমেন্ট লেখা একটা বিশাল আর্ট। কথা বেশি বলা আমার অভ্যাস। উইটনেস স্টেইটমেন্ট লিখতে হয় লেইম্যানস টার্মে, অর্থাৎ ডি এন এ, গানশট রেসিড্যু, এস টি আর প্রসেস, পাওয়ারপ্লেক্স সিক্সটিন এই জাতীয় কোনো কথাই স্টেইটমেন্টে বলা যাবে না। পুরা সায়েন্টিফিক একটা প্রসেস অসায়েন্টিফিক ভাষায় (এবং অল্প কথায়) লিখতে আমার হালুয়া টাইট হয়া যায়।


বাদামের হালুয়ার রেসিপি

উপকরণ
৪ কাপ না ভাজা বাদাম: আমন্ড, পিস্টাশিও, হ্যেজ্যেলনাট, ওয়ালনাট এবং ম্যাকাডেমিয়া
১/৩ কাপ ফুল ফ্যাট দুধ
১-১/২ কাপ ডাবল ক্রিম
১/৩ কাপ মাওয়া
৩ কাপ আনরিফাইন্ড চিনি (বা গোল্ডেন ক্যাস্টার সুগার)
১/২ চামচ এলাচি গুঁড়া (ভালো মত গুঁড়া কইরা নিবেন, এলাচি দাঁতের নিচে পড়লে মেজাজ খারাপ হয়।)
৫-৬ টেবিল চামচ ঘি
১ চিমটি পরিমাণ জাফরান
সাজানোর জন্য আপনার যা যা ইচ্ছা: (বাদাম, জাফরান, এডিবল সিলভার ফয়েল ইত্যাদি)

rocy5 a
বাদামের হালুয়া

প্রণালী
• সবগুলা বাদাম হালকা গরম পানি দিয়া সারা রাত ভিজায়ে রাখবেন। সারা রাত সম্ভব না হইলে মিনিমাম ৪ ঘণ্টা। এরপরে বাদাম ছিলানোর ব্রাশ দিয়া (না থাকলে নখ দিয়া) খোসা ছিলাইতে হবে। টিডিয়াস প্রসেস। কিন্তু কিছুই করার নাই। খাওয়া-দাওয়ার জন্য পরিশ্রম করতে হয়।

• এরপর খোসাবিহীন বাদামগুলারে দুধ আর ক্রিম দিয়া ব্লেন্ডার বা ফুড প্রসেসারে ব্লেন্ড কইরা নিবেন। খুব বেশি মিহি বানাবেন না, তাইলে খাইতে বেবি ফুডের মত লাগবে। তাতে অবশ্য বুঝতে পারবেন ক্যানো বাচ্চারা ঘ্যাঁট মার্কা জিনিস খান না।

• হালুয়া রান্নার জন্য ভারি তলা-ওয়ালা ননস্টিক কড়াই লাগে। চুলায় মাঝাড়ি আঁচে কড়াই বসান। ৫ চামচ ঘি দেন। ঘি গরম হইলে তাতে বাদাম ক্রিম আর দুধের পেস্ট ঢাইলা দিবেন। একটু ভাইজা এরপর চিনি দিবেন।

• চিনি ভালোমত মিশলে তাতে জাফরান দেন। জাফরান একটু গরম পানিতে ভিজায়ে পানি সহ দিতে পারেন, এমনেও দিতে পারেন।

• এই স্টেইজ হইলো হালুয়া টাইট স্টেইজ। এই স্টেইজে কন্সট্যান্ট নাড়তে হবে, নাইলে হালুয়া পুইড়া কড়াইয়ের সাথে লাইগা যাইতে পারে। কতক্ষণ নাড়তে হবে এইটা বলা সম্ভব না। তবে মিনিমাম ১৫ মিনিট এর মত সময় লাগতে পারে। এরমধ্যেই হালুয়া থাইকে বাবল উইঠা স্প্ল্যাশ করা শুরু হবে, সেই কারণে সাবধান থাকবেন একটু।

• যখন দেখবেন, পুরা মিক্সচারটা কড়াইয়ের গা থাইকা খুইলা খুইলা আসতেছে এবং ঘি আলাদা হয়ে মিক্সচার এবং কড়াইয়ের মাঝখানে তেলের মত জিনিস চোখে পড়তেছে, তখন বুঝবেন, হালুয়া অলমোস্ট রেডি।

• এখন হালুয়ায় মাওয়া, বাকি ঘি এবং এলাচি গুঁড়া অ্যাড করেন। আরো একটু নাড়ায়ে ভালো মত মিশায়ে চুলা থাইকে নামায় ফেলেন।

• এরপর আপনে যেমনে সার্ভ করতে চান, করেন। কেউ গরম অবস্থায় খাইতে ভালোবাসেন, কেউ ঠাণ্ডা। এতকিছু করার পরে এনার্জি থাকলে কুঁচি কইরা কাঁটা বাদাম, জাফরান, এডিবল সিলভার ফয়েল ইত্যাদি দিয়া সাজাইতে পারেন। গোল কইরা লাড্ডু বানাইতে পারেন। বা ডায়মন্ড শেইপে কাটতে পারেন। যা ইচ্ছা।

• হ্যাপি ইটিং।


আমাদের ল্যাবের সিনিয়ার সায়েন্টিস্টের সাথে আমার বেশ কিছুদিন যাবৎ ঝামেলা লাইগাই আছে। আমি নতুন রিসার্চ সায়েন্টিস্ট হইছি, আমার এক্সপেরিয়েন্স দুই মাসের, উনার এক্সপেরিয়েন্স তিরিশ বছরের। আমি কিছু একটা কইলেই “তুমি বেশি বুঝো?” মার্কা একটা চেহারা কইরা উনি আমার দিকে তাকায় থাকেন।

গত বছর অক্টোবরের শুরুতে আমাদের কাছে একটা কেইস আসছে। সবাই বলতেছে খুন। আমার মনে হইছে সুইসাইড। সবাই ভাবেন মনে হওয়া দিয়া সায়েন্স চলে না। ফ্যাক্ট দিয়া সায়েন্স চলে। কেউ এইটা বোঝে না যে,  যেই রাস্তায় আমি মনে করতেছি ফ্যাক্ট পাওয়া যাবে সেই রাস্তায়ই ফ্যাক্টরে পাওয়া গেলে, ফ্যাক্টরে যে অন্য রাস্তাতেও পাওয়া যাইতে পারতো সেই সম্ভাবনা যদি আমি উড়ায়ে দেই তবে সেইটা সায়েন্স হইল না।

যাই হোক, এই ভদ্রলোকের লাশের ঊর্ধাংশ পাওয়া গেছে ঘরের ছাদের শ্যান্ডেলিয়ার থাইকে ঝুলানো অবস্থায়। গলায় ফাঁস দিয়া মরলে যা যা সাইন থাকার কথা তার সবই আছে উপরের অংশে। সিনিয়ার সায়েন্টিস্ট আর প্রসেকিউশান ব্যারিস্টারের সাথে আমার ঝামেলা লাগছে লাশের নিচের অংশ নিয়া।

শরীরের নিচের অংশ পুরাটা ছিঁড়া (সিনিয়ার সায়েন্টিস্টের ভাষ্যমতে কাইটা) মেঝেতে ফালায়ে রাখা হইছে। তাঁর বক্তব্যের পিছে যুক্তি হইলো, যেই মানুষ আত্মহত্যা করছেন বা করতে যাইতেছেন, সেই মানুষ তার বডির বাকি অংশ কাইটা ফেলতে পারেন না, সেইটা হিউম্যানলি বা ইনহিউম্যানলি পসিবল না।

আমার বক্তব্যের পিছে যুক্তি দেওয়ার আগে লাশ কেমনে বিহেইভ করে একটু ব্যাখ্যা করি। (লাশ সম্পর্কে পাঠকের জ্ঞান নাই, এইরকম প্যাট্রনাইজিং চিন্তা থাইকে ব্যাখ্যা প্রসঙ্গ আসছে।  অবশ্য লেখক এবং শিক্ষক এবং রিকশাচালক মাত্রই প্যাট্রনাইজিং, কী আর করা!)

যাই হোক, মানুষ মারা যাওয়ার পরে প্রথমেই তার রক্ত ক্যাপিলারি থাইকা বড় বড় ভেইনের দিকে যাওয়া শুরু করে। এবং গ্র্যাভিটির টানে যেই ডিরেকশানে লাশ আছে, অর্থাৎ শোওয়া অবস্থায় থাকলে পিঠের দিকে, বসা অবস্থায় থাকলে পাছার দিকে, দাঁড়ানো থাকলে পায়ের দিকে রক্ত সেটেল করা শুরু করে। এই অবস্থারে বলা হয় লিভর মর্টিস। তখন লাশের শরীরের সমস্ত মাসল টেনশান কইমা যায়, সমস্ত শরীর ফ্লেক্সিবল হইয়া নরম তুলতুলা হইয়া যায়।

এর পরবর্তী স্টেইজের নাম আলগর মর্টিস, এই স্টেইজে শরীর ঠাণ্ডা হইতে শুরু হয়। লিভর মর্টিসের তিন চার ঘণ্টা পরে শুরু হয় রিগর মর্টিস। এই সময় শরীরের মাসল শক্ত হওয়া শুরু করে এবং মাসল প্রোটিন ডিগ্রেইড করা শুরু হয়। এই স্টেইজের সাথে CSI বা NCIS এবং ডেক্সটার জাতীয় ফালতু টিভি সিরিজের কল্যাণে সবাই মোটামুটি পরিচিত, যেইখানে দেখানো হয়, লাশের হাত মুঠি হইয়া আছে, পা বেঁইকা উপ্রে উইঠা গেছে ইত্যাদি।

তবে মজার বিষয় হইলো, মানুষ মারা গেলেও মানুষের শরীরের ভিতর এতদিন আরামসে বসবাস করা ব্যাকটেরিয়ারা তখনো তখনো মারা যাইতে অস্বীকৃতি জানান। মারা যাওয়া সেল এবং না মারা যাওয়া ব্যাকটেরিয়াগণ তখন শরীরে ইন্ট্রিন্সিক ব্রেইকডাউন শুরু করেন, সেই প্রক্রিয়ার নাম অটোলাইসিস। এক পর্যায়ে উনারা শরীরের তলপেটে হাইড্রজেন সালফাইড, মিথেইনসহ অন্যান্য গ্যাস তৈরি শুরু করেন, এবং শরীর বেলুনের মত ফুলতে থাকে। মুখ থাইকে তখন জিহ্বা ফুইলা বাইর হইয়া যায়, লাং থাইকা ফ্লুইড মুখ আর নাক দিয়া বাইর হইয়া আসতে থাকে এবং ব্লোফ্লাই সহ বিভিন্ন ইনভার্ট্রিব্রেইটগণ খাদ্যের সন্ধানে জড়ো হইতে থাকেন।

আমি ক্রাইম সিনে যাই নাই। সেই যোগ্যতা এখনো আমার হয় নাই। আমি ক্রাইম সিনের হাজার খানেক ছবি, ভদ্রলোকের আগের ছবি, উনার মেডিক্যেল হিস্ট্রি, পোলিস রিপোর্ট, সকো রিপোর্ট (আমেরিকায় যাহারা CSI বা Crime Scene Investigator নামে পরিচিত, আমাদের দেশে উনারা SOCO নামে পরিচিত) ইত্যাদি হাজার খানেক (লিটেরেলি) কাগজ পাইছি।

ভদ্রলোকের মেডিক্যেল হিস্ট্রি পইড়া প্রথমেই আমার যেই জিনিস চোখে পরছে, তা হইলো, ভদ্রলোক অসম্ভব রকমের ওভারওয়েট ছিলেন। প্রায় ২৪১ কেজির মত ওজন ছিলো উনার। তা থাইকে আমার এবং লী ম্যাকব্রাইডের ধারণা হইছে যে ব্লটিং এবং পিউট্রিফিকেশান প্রসেসের মাঝখানে উনার শরীর ইলাস্টিসিটির অভাবে গ্যাসের ভার সহ্য করতে না পাইরা ঝপাৎ কইরা খুইলা নিচে পইরা গেছে। উনি মোটা হওয়ার এমন স্টেইজে ছিলেন যে উনার চামড়ায় ইলাস্টিসিটি নামকাওয়াস্তে থাকার কথা।

ফরেনসিক সায়েন্টিস্টদের আন-বায়াসড এবং ইম্পারশিয়াল কাজ করার কথা। তবে সেইগুলা খাতা কলমে হয়। সায়েন্টিস্টদের পিছে প্রসেকিউশান ব্যারিস্টার আর পুলিশরা শকুনের মত চোখ বেকায়ে তাকায় থাকেন। উনারা যেহেতু পয়সা প্রোভাইড করতেছেন ইনভেস্টিগেশানের জন্য, উনাদের হাবভাব কথাবার্তাই অনেকটা এমন থাকে য্যান—আমরা সায়েন্টিস্টরা সব নিমকহারাম, এবং উনাদের পয়সায় খায়ে ডিফেন্সের জন্য, চোর বাটপারদের বাঁচানোর জন্য আমরা কাজ করতেছি।

আমি আর লী গেলাম ল্যাবের সিনিয়ার সায়েন্টিস্ট ডক্টর গ্যারি স্যাডলারের সাথে কথা কইতে।

আমি: “গ্যারি, আপনে ম্যাকডাওয়েল কেইসের মেডিক্যাল হিস্ট্রি দেখছেন?”

—আমার কী দেখতে হবে না হবে সেইটা কি তোমার বইলা দিতে হবে নাকি? দেখছি। কেন?

—আমি আর লী ভাবতেছিলাম স্কিন টারগর চেক করা উচিৎ না? প্লাস, আমি উনার হাসপাতাল থাইকে উনার CBC আর ইউরিনালাইসিস রিপোর্টের জন্য মেইল করছি।

লী: “হ্যাঁ, আমিও দেখছি ম্যাকডাওয়েলের হিস্ট্রি। আমার মনে হইছে ব্লাড কেমিস্ট্রিটা দেখে নেওয়া ইম্পর্টেন্ট।”
গ্যারি স্যাডলার চোখ গরম কইরা আমাদের দিকে তাকাইলেন। অবশ্য আমাদের সবার ধারণা উনার চোখের টেম্পেরেচার সবসময়েই ৮৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি থাকে। সারাদিন বিয়ার এবং এইল খাওয়ার কারণে চোখের পাতা বন্ধ থাকায় টেম্পেরেচার বুঝা যায় না।

—লিসেন, নাদিয়া। তুমি কয়দিন কাজ করো এই ল্যাবে?

—আট নয় মাস?

—কেইস নিয়া কাজ করো কয়দিন?

—দুই মাস হবে।

—দুই মাস। আচ্ছা। আমি কয়দিন কাজ করি এই ল্যাবে জানো?

—সতের বছর?

—হ্যাঁ, সতের। প্লাস আরো তেরো বছর LGCতে। LGC চিনো?

—জ্বি, চিনি।

—যদি চিনেই থাকো, তাহলে আমারে শিখাইতে আইসো না কেইস অ্যাসেসমেন্ট কেমনে করতে হয়। ঠিক আছে?

লী আগায় আসলেন একটু সামনে। “কিন্তু গ্যারি…”

—নো কিন্তু। তোমরা গিয়ে আবার পোলিস রিপোর্ট পড়ো। করোনার রিপোর্ট পড়ো। আমাদের অফুরন্ত টাকা নাই যে তোমাদের যা যা ওয়াইল্ড ইমাজিনেশানে আসবে, তার সবই আমরা ইনভেস্টিগেইট করতে পারবো এইখানে কিছু প্রটোকল আছে। তোমাদের সেইসব জানার দরকার নাই, কারণ তোমরা দুই মাস যাবৎ কাজ করতেছো। হয়তো আরো দুই মাস টিকবা। আমি জানি কোন কোন ইনভেস্টিগেশান করা দরকার, কোনটা বাতিল করতে হবে। ওকে? যাও এখন।

আমরা বিমর্ষ মুখে ফেরত আসলাম। উইটনেইস স্টেইটমেন্ট লিখতে হবে আমাদের। জুরি এবং ডিফেন্স ব্যারিস্টার ফেইস করতে হবে আমাদের। সিনিয়ার সায়েন্টিস্ট কইছেন, তাই আমরা করি নাই বইলা পার পাইতে পারি, কিন্তু রেপুটেশান যা নষ্ট হওয়ার—হবে, আমাদের। সিনিয়ার সায়েন্টিস্টদের টিকি-ফিকিও কেউ টাচ করতে পারবেন না!

লী আমারে কইলেন, গ্যারি কী কন তা উনি পাত্তা দিবেন না। উনার মত উনি ইনভেস্টিগেশান চালায় যাবেন। আমিও একটু আমতা আমতা কইরা লী’র কথায় রাজি হইলাম। নিজেরে ডার্ক জাস্টিস সিরিজের নিকোলাস মার্শালের মত মনে হইলো।

আজকে লাঞ্চে গাই হসপিটালের সামনে এক লোকরে পয়সার থালা আর একটা কুকুর কোলে নিয়া বইসা থাকতে দেখলাম। সাধারণতঃ আমার কাছে খুচরা পয়সা থাকে না ক্যাশ ক্যারি করা হয় না বইলা। আজকে আমি মার্ক আর লী গেছিলাম টার্কিশ একটা দোকানে ডোনার কেবাব খাইতে। উনারা কার্ডে টাকা নেন না, উনারা কাগজে মুড়ায়ে মোটা মোটা টোস্টেড পিটা ব্রেডের মাঝখানে স্লো-রোস্ট ল্যাম্ব আর চিকেনের পাতলা কইরা কাটা টুকরা দেন, তার উপ্রে লেটিস আর কাঁচা পিঁয়াজ আর শশার টুকরা আর পিকেলড মরিচ এবং তার উপ্রে চিলি আর গার্লিক সস মাখায়ে বিক্রি করেন এবং তার বিনিময়ে ক্যাশ টাকা নেন।

ল্যাম্ব আমার খুবই অপছন্দ। মার্ক এবং লী সহ যাবতীয় ইংলিশ লোকজন পাগলের মত ল্যাম্ব খান। ল্যাম্ব এবং আরো যা যা গন্ধওয়ালা খাদ্য দুনিয়াতে বিদ্যমান—অর্থাৎ স্যামন, হেরিং, শুঁটকি, সেইন্ট আগর সহ সবরকমের ব্লু চিজ, কাঁচা পিঁয়াজ, কাঁচা রসুন ইত্যাদি যাবতীয় অখাদ্যের জন্য উনারা লন্ডনের টপ রেস্টরেন্টে বেশুমার পয়সা খরচ করতে মোটেও লজ্জা পান না, অন্যান্য সময় লন্ডনের বাজে ইকনমি-হাই ট্যাক্স রেইট-কনযার্ভেটিভ সরকারের বেনেফিট নীতি নিয়া যতই চিল্লান না কেন।

তো, আমি পাশ দিয়া যাওয়ার সময় একটা টু পাউন্ড কয়েন দিলাম কুকুর এবং কুকুরের মালিক ভদ্রলোকরে। ভদ্রলোক টাকাটা উঠায়ে একটু দুই পাশ দেইখা নিয়া রাস্তার উলটা পাশে সজোরে উনারে ছুঁইড়া মারতে মারতে চিল্লায়ে কইলেন, “সরকারের পয়সায় আমি পেশাব করি—নিয়া যাও—নিয়া যাও তোমার এই মানুষের রক্ত চোষা দুই নাম্বারীর পয়সা!”

আমি ঘাড় ঘুরায়ে দেখলাম আরেকজন পেট মোটা চশমা পড়া ভদ্রলোক কুকুরের মালিকরে কিছু পয়সা দিলেন, উনি সেইটা সযত্নে উনার থালা থাইকে উঠায়ে উনার ছিঁড়া কোটের পকেটে ঢুকায়ে রাখলেন।

পাগল লোকদের সাথে আমার সম্পর্ক পুরানা। জন লুক নামে আরেকজন পাগলরে আমি চিনতাম অনেক বছর আগে। ডায়েরিতে লিখা রাখছিলাম উনার কথা। ডায়েরির ঐ পাতাটা অ্যাড করলাম এইখানে।


১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১০

স্ট্রাটফোর্ডের স্টারবাকস, ছবি. গুগল আর্থ
স্ট্রাটফোর্ডের স্টারবাকস, ছবি. গুগল আর্থ

জন লুকের সাথে আমার পরিচয় হইছিলো স্ট্রাটফোর্ডের শপিং সেন্টারের বাইরে। আমি স্টারবাকসের কোণায় বইসা বইসা ট্যাজো-র চাই টি ল্যাটে ও বিড়ি খাইতেছিলাম, তখন আধা চাইনিজ আধা ক্যারিবিয়ান একজন লোক আমার পাশে আইসা বসলেন। আগুন চাইলেন। রাস্তা থাইকা কুড়ায়ে আনা একটা সিগারেটে আগুন ধরায়া নাম বললেন: জন লুক। আমি একটু অবাক হইয়া তাকাইলাম! এইটা তো খ্রীশ্চান নাম! তখন উনি উনার টানা চোখ ও চ্যাপ্টা নাকের দিকে পয়েন্ট আউট কইরা কইলেন উনার জন্ম একজন কালো ক্রীতদাসীর পেটে। উনার বাপ শ্যাং ডাইন্যাস্টির একজন রাজা ছিলেন। উনার জন্ম যীশু খ্রীস্টের জন্মের প্রায় দেড় হাজার বছর আগে। আমি কিছু বললাম না।

কী বলবো? চা শেষ কইরা উইঠা বললাম, আমি যাই, আমি লাঞ্চ ব্রেকে আসছিলাম, পরে কথা বলবো। উনি উইঠা মাটিতে এক হাঁটু দিয়া বইসা আমার হাতের উলটা পিঠে চুমা দিয়া বললেন, বিদায়, নাদিয়া—আবার দেখা হবে।

আমি বললাম, আবার দেখা হবে।

ওমেযেসু চ্যেগে শোবো আমার ইউনিভার্সিটিতে সিকিউটির কাজ করতেন। উনার সাথে আমার সাক্ষাৎ হইতো ক্লাসে ঢুকার ও বাইর হওয়ার সময়। একদিন ইয়ান স্কট ক্যেটেল-এর সাথে দেখা করার জন্যে সন্ধার অনেক পরে ক্যাম্পাসে গিয়া শোবোর পাশে একটা টুল নিয়া বইসা ছিলাম এবং বিরক্ত হয়া নাকের ব্রন খুটাইতেছিলাম।

শোবো বললেন, চেহারা ও ত্বক ঠিক রাখা খুব কঠিন একটা কাজ।

আমি স্বীকার করলাম এইটা কঠিন কাজ।

উনি বললেন উনি ত্বক ঠিক রাখার জন্যে সপ্তাহে একদিন রক্ত খান।

আমি জিগাইলাম, মানুষের রক্ত?

উনি বেশ গম্ভীর গলায় উত্তর দিলেন, না মানুষের রক্ত না। গরু ছাগল ও শুয়োরের রক্ত।

যেহেতু লন্ডনে সব মাংস প্রসেস হয়া আসে, তাই উনার রক্ত যোগাড় করতে কান্ট্রিসাইডের ফার্মে যাইতে হয়। এইটা বেশ কঠিন একটা কাজ। তবে ত্বক ঠিক রাখার জন্যে কাজটা উনি করেন।

সকালে কাজে যাওয়ার আগে প্রতিদিন আমি পারসি-ইংগেল থাইকে দুইটা ব্যানানা মাফিন কিনি—ওজন কমানোর জন্যে সকালবেলা চিনি-ছাড়া যেই চা-টা খাই সেইটা গলা দিয়া নামানোর জন্যে চিনি-যুক্ত কিছু একটা জিনিস লাগে তো!

তো যথারীতি একদিন সকালে ঢুকলাম পারসি-ইংগেল-এ। সেইদিন আমার পরিচিত সার্ভারের বদলে দেখলাম আরেক পোলারে—লাল চুল এক আইরিশ। উনি আমারে বললেন ব্যানানা মাফিন নরম ধরনের মহিলারা খান। শক্ত মহিলা (অর্থাৎ আমি এবং আমার নীল চুলও আছে) এবং উনার মত সুপারহিউম্যান পাওয়ার-অলা ফ্লাইং হিউম্যানয়েড এজেন্টদের খাদ্য ব্যানানা মাফিন না।

"বিপদে পড়লে যেন উপরের দিকে লাইটার উঠায়ে বুতামে চাপ দেই। তখন উনি আকাশ থাইকে লাফ দিয়া নামবেন…"
“বিপদে পড়লে যেন উপরের দিকে লাইটার উঠায়ে বুতামে চাপ দেই। তখন উনি আকাশ থাইকে লাফ দিয়া নামবেন…”

উনি নিজের নাম জানাইলেন, কইলেন উনার পিতা ডক স্যাভাজ এবং আমারে গলায় পরার জন্যে একটা লাইটার দিলেন, যেইটার বোতামে চাপ দিলে একটা সোজা নীল আলো বাইর হয়, কইলেন, আমি বিপদে পরলে যেন উপরের দিকে লাইটার উঠায়ে বোতামে চাপ দেই। তখন উনি আকাশ থাইকে লাফ দিয়া নামবেন এবং আমারে বিপদ থাইকা উদ্ধার করবেন। কীভাবে লাফ দিয়া নামবেন তাও একটা ছোট লাফ দিয়া দেখাইলেন। আমি বোতাম-অলা লাইটার নিয়া ব্যানানা মাফিন না কিনা চা খাইতে খাইতে দোকান থাইকা বাইরে আসলাম।

69-এর জন্যে বাস স্টপে বইসা ছিলাম একদিন। সুইস এক ভদ্রলোক আমার পাশে দাঁড়ায় ছিলেন। আমার হাতের বাদামের প্যাকেটের দিকে ইঙ্গিত কইরা কইলেন, ভালো জিনিস। বেশি কইরা খাওয়া উচিত।

আমি মাথা নাড়লাম।

উনি উনার হাতটা আমার দিকে বাড়ায়ে কইলেন, কী মনে হয়?

আমি উত্তর দিলাম, কী কী মনে হয়?

"ফেরারি বানানো হইছে আমারে সম্মান দেখায়ে। দেকছো তো লোগোটা!”
“ফেরারি বানানো হইছে আমারে সম্মান দেখায়ে। দেকছো তো লোগোটা!”

উনি বললেন, মানুষের হাত এমন দেখছো? আমি আসলে একজন ঘোড়া। আমিও অনেক বাদাম খাই। আমি বললাম, খাওয়াই উচিত। বাদাম তো ভালো জিনিস! উনি মাথা নাইড়া দুঃখের সাথে কইলেন, কেউ তো এখন আর এইসব জিনিস বুঝে না! তুমি ফেরারি গাড়ি চিনো?

—জ্বী, চিনি, দেখছি রাস্তা-ঘাটে!

—ফেরারি বানানো হইছে আমারে সম্মান দেখায়ে। দেখছো তো লোগোটা!

—জ্বী দেখছি।

উনি বললেন, আমি বইসে থাকতে পারি না। মানুষরা বসতে ও দাঁড়াইতে ও শুইতে পারে। আমি পারি না।

আমি বললাম, কিন্তু ঘোড়া তো অনেক শক্তিশালী, তাদের নিশ্চই দাঁড়ায়ে থাকতে কষ্ট হয় না! ভদ্রলোক আমার কথায় আহত হইলেন মনে হইলো, ঘাড় ঘুড়ায়ে আরেক দিকে তাকায়ে থাকলেন উনি।

ভাগ্যিস, ঘোড়ারা ঘাড় ঘুরাইতে পারেন!

আমার বাস আইসা সামনে দাঁড়াইলেন। আমি বাসে উঠলাম।


মার্ক আমারে কইলেন, পাগলে পাগলে কানেকশান আছে মনে হয় কোনোরকম। টেলেপ্যাথিক ব্যাপার স্যাপার টাইপ।

লী কইলেন, না, আমার মনে হয় পাগলরা বিড়ালদের মত। বিড়ালরা যেমন নিজের টেরিটোরিতে আরেক বিড়াল সহ্য করতে পারে না, পাগলরাও নিশ্চয়ই নিজের এলাকায় আরেক পাগল চায় না!

নিজেরে পাগল ভাবতে আমি নারাজ। তবে মার্ক আর লী’র কথার উত্তরে কইলাম, ঠিক আছে, তাইলে এখন থাইকে ব্যাগে কইরা এক বোতল পেশাব নিয়া ঘুরবো আমি। বিড়ালের মত তো আর রাস্তায় দাঁড়ায় পেশাব কইরা টেরিটোরি ডিফাইন সম্ভব না।

ম্যাকডাওয়েল কেইস নিয়া ল্যাবে খুব হৈচৈ হইতেছে। সাধারণতঃ আমাদের কেইসগুলা খুব সোজা সাপ্টা টাইপের হয়। কেউ খুন হইছেন, কেউ কাউরে লাত্থি ঘুষি মারছেন, কেউ কাউরে রেইপ করছেন, কেউ কারোর বাসায় জানলা ভাইঙ্গা ঢুকছেন টাইপের। সচরাচর একই ল্যাবে ডিফেন্স এবং প্রসেকিউশান এভিডেন্স আসে না কন্টামিনেশানের ভয়ে। আমাদের কাছে কেইস ফাইল থাকে, আমরা একটা অ্যাসেসমেন্ট দাঁড়া করাই যে এই এই এভিডেন্স আমরা পরীক্ষা করতেছি এবং এই এই পদ্ধতি ফলো করতেছি এবং এই এই আমাদের এক্সপার্ট এভিডেন্স রিপোর্ট।

আমার রিসার্চের সাবজেক্ট ব্যালিস্টিকস এবং এক্সপ্লোসিভস। লী’র সাবজেক্ট ডি এন এ প্রোফাইলিং। প্যাথলজিতে আমাদের দুইজনেরই আগ্রহ থাকলেও বিন্দুমাত্র জ্ঞান নাই। আমরা যখন ম্যাকডাওয়েল কেইসের করোনার রিপোর্ট নিয়া কোয়েশ্চেন করতেছি, তখন গ্যারি স্যাডলার অলরেডি পোলিস রিপোর্টের উপর বেইজ কইরা উনার ডিফেন্স এবং প্রসেকিউশান প্রপোযিশান রেডি কইরা ফেলছেন এই ভিত্তিতে যে ম্যাকডাওয়েলের ছোট ভাইয়ের আগে ক্রিমিনাল রেকর্ড ছিল, দুই ভাইয়ের মধ্যে সম্পত্তি নিয়া অনেকদিন বাকবিতণ্ডা চলতেছিলো, এভিডেন্স বলতেছে ঘটনার দিন উনি ভিকটিমের বাসায় ছিলেন, ঘটনার দিন কই ছিলেন এই নিয়া উনি পোলিসরে মিথ্যা সাক্ষ্য দিছেন—যেইখানে উনার স্ত্রী পোলিসরে বলছেন উনার স্বামী সেইরাত্রে বড় ভাইয়ের বাসায় গেছিলেন এবং সর্বোপরি—ক্রাইম সিনে উনার ডি এন এ ম্যাটেরিয়াল এবং পায়ের ছাপ এবং উনার কাপড়ে FDR (firearm discharge residue) পাওয়া গেছে, যেই ফায়ারআর্মের লাইসেন্সড মালিক আবার ম্যাকডাওয়েল। এভিডেন্স দেখাইতেছে ঘটনার রাত্রে সেই পিস্তল থাইকে গুলি করা হইছে, এবং গুলি এবং তার অবশিষ্টাংশ পাওয়া গেছে ক্রাইম সিনের খাটের মাথায়।

গ্যারি’র প্রপোযিশান অনু্যায়ী এখন আমাদের কাজ হইতেছে এই ডি এন এ ম্যাটেরিয়াল কয়দিনের পুরানা তা বাইর করা এবং তাতেই মামলা খতম হয় বইলা উনার দাবি। উনি ক্রাইম সিনে ওয়েপেনের অভাব বা লাশের লোয়ার টরসোয় টুল মার্কের অভাব এইগুলা কোনো কিছুই বিবেচনায় আনতে রাজি না। ম্যাকডাওয়েলের মেডিক্যাল হিস্ট্রি এবং উনার ওজনও যে গুরুত্বপূর্ণ, সেইটাও উনি মানতে নারাজ।

(কিস্তি ৭)