(শুরুর কিস্তি)

অগাস্ট ২৫, ২০১৪

আজকে নটিং হিল কার্নিভাল শুরু হইছে। আমার বন্ধুবান্ধব দুই সপ্তা আগে থাইকে প্ল্যান করছেন কয়টায় ঘর থাইকে বাইর হবেন, কী কী কাপড় পরবেন, ক্যামনে চুল বান্ধবেন, কই কই সেলফি তুলবেন ইত্যাদি। আমার মেলা-ফেলা যেইখানেই বেশি মানুষ হয় সেইসব জায়গা ভালো লাগে না। মুখে রঙ মাইখে রাস্তায় দাঁড়ায়ে নাচানাচি আরো না। আমি মনে মনে আয়তুল কুরসি পড়তেছি যাতে আল্লা যদি থাকেন, তাইলে আমারে এই যাত্রা এই বিপদ থাইকে যাতে উদ্ধার কইরা দেন।

দেখা গেল, আল্লা আসলেই আছেন। গতকাল রাত্রে বিবিসি ওয়েদার রিপোর্ট ও ইভনিং স্ট্যান্ডার্ড জানাইলেন, আগামীকাল (অর্থাৎ আজকে) থাইকে তুমুল ঝড়-বৃষ্টি শুরু হইতেছে। আমার লন্ডনের বন্ধুবান্ধব তাতে চিমশায়ে গেলেন না মোটেও। লন্ডনের বৃষ্টির সঙ্গে উনারা এক জীবন যাবৎ পরিচিত আছেন। সবার ব্যাগেই সবসময় ভাঁজ করা কালো ছাতা আর দামি সানগ্লাস ও এসপিএফ ৪০ সানস্ক্রিন থাকে। বৃষ্টি শুরু হওয়া মাত্র মানুষের মাথার উপর কবুতরের পাংখার মত ঝট ঝট আওয়াজ কইরা ছাতা খোলা শুরু হয়। বেশিরভাগ ছাতাই কালো রঙের। কী কারণে জানি না।

আমার আর লী ম্যাকব্রাইডের দেখা করার কথা হাই স্ট্রিট কেনসিংটন স্টেশানের কাছে। লী গ্যে। উনি প্রত্যেক কথায় কথায় জানাবেন উনি গ্যে। হয়তো আমি উনার ঠিক পিছেই একগাদা ট্রের উপর একগাদা বীকার আর ব্লাড ও ইউরিন স্যাম্পল নিয়া খাড়ায় আছি, উনি ইটালিয়ানদের মত হাত পা নাড়তে নাড়তে কারো সাথে ফোনে আলাপ করতেছেন। আমি হয়তো জোরে চিল্লায় বললাম, লী, আই এ্যাম জাস্ট বিহাইন্ড ইউ। উনি ঘুইরা ততোধিক জোরে চিল্লায় বলবেন, সো হোয়াট সিস্টার, আই এ্যাম নট জাস্ট ইন্টারেস্টেড ইন ইউ!

স্টেশানের বাইরে দাঁড়ায় মহা বিরক্ত আমি অপেক্ষা করতেছি, লী ফোন দিয়া জানাইলেন, উনার আসতে দেরি হইতেছে। সেন্ট্রাল লাইন ডিলে হইছে এবং তার হাউস-মেইটরা তার হেয়ার ড্রায়ার নিয়া কী কী ঝামেলা করছেন সকাল থাইকে ইত্যাদি ইত্যাদি হাবিতং শুনাইলেন আমারে। আমি মাথায় হুডি টাইনে ছাতা মাথায় একটা পুরান বইয়ের দোকানে গিয়া দাঁড়াইলাম। ব্যাংক হলিডের দিনও দোকান খোলা, আশ্চর্য!

পুরান বইয়ের দোকানে আসলেই আমার মন ভালো হয়ে যায়। পুরান বইয়ের কী জানি একটা গন্ধ আছে। ওয়াটারস্টোন বা ডাব্লিও এইচ স্মিথে সেই গন্ধ পাওয়া যায় না। নতুন বইয়ে নতুন টাকার মত নতুন কালির গন্ধ থাকে। পুরান বইয়ে থাকে স্মৃতির মত পুরান গল্পের গন্ধ।

বইয়ের দোকানের মালিক সিরিয়াস কম্যুনিস্ট। সব জিহাদি টাইপের বইয়ে দোকান ভরা। দোকানের দরজায় সাদা কালো একটা পোস্টারে ব্রিটিশ প্রাইম মিনিস্টারের ছবির নিচে লেখা: “দ্যা ট্রুথ? হি কুডন্ট গিভ আ **”। ভিতরের দেয়ালে আরেক পোস্টারে লেখা: “ইউনাইট এ্যগেইনস্ট ফ্যাসিজম”, তার নিচে নরওয়ের খুনী এ্যানডেরস ব্রেভিক আর ইডিএল লিডার টমি রবিনসনের ছবি।

আমি লেনিনের জীবন এবং টেল মি নো লাইস এবং দ্যা ভারডিক্টের মাঝখানে এ্যাঙ্গাস হলের এডিট করা একটা বই পাইলাম। ক্রাইম অফ হরর। গত দুইশ বছরের সব কুখ্যাত খুনের লিস্ট।

বাইরে বৃষ্টি তখন আরো বাড়ছে। দোকানে আমি আর এসিডিসির টি-শার্ট পরা ট্যাটুওয়ালা লম্বাচুল দোকানদার ভদ্রলোক। আমি কোণার দিকে মোটা উলের চাদর বিছানো একটা আর্মচেয়ারে বসলাম, দোকানদার সাহেব কানে হেডফোন লাগায়ে এক মগ চা (অথবা কফি) নিয়ে দরজার কাছে এক পা ছোট কটকটা হলুদ রঙের চেয়ারে বইসা সামনের মেঝেতে রাখা বইয়ের পাইলের উপরে পা উঠায়ে দিলেন।

আমি পাতা উল্টায়ে উল্টায়ে দেখতেছি, হঠাৎ আমার জিন্সের উপর ঝপ কইরা কী জানি পড়লো।

একটা বেইজ রঙের মুখবন্ধ খাম। কোনো এক ইসাবেলা ডয়েলরে লেখা জোসেফ ও’হারার চিঠি। republique francaise লেখা ২৭ পয়সার তিনটা পোস্টাল স্ট্যাম্পের উপরে গোল কালো রঙের স্ট্যাম্পিং করা। এয়ার মেইল: ১৯৭২ এর এপ্রিল ২৭। প্যারিস।
খামের উপর ব্যাকা ব্যাকা এক কালে কালো ছিলো এমন সবুজ ইংরেজিতে লেখা:

টু: মিস ইসাবেলা এম ডয়েল
৩৫ হলস্টিড ক্লোজ
ক্রয়ডন
লন্ডন
সি আর ০
ইউনাইটেড কিংডম

আমি আড়চোখে দোকানদার ভদ্রলোককে দেখলাম একবার। উনি মনোযোগ দিয়ে গান শুনতে শুনতে চা (অথবা কফি)’র মগে চুমুক দিতে দিতে পা নাড়তে নাড়তে মাথা ঝুঁকায়ে অত্যন্ত দ্রুত অত্যন্ত মোটা একটা বইয়ের পাতা উল্টায়ে যাইতেছেন।

আমি অত্যন্ত সাবধানে আমার পেন্সিল কেইস থাইকে ছয় ইঞ্চি স্টিলের রুলার বাইর কইরে খামের মুখ আর খামের মাঝখানের গাম সরাইলাম। গাম না, খামের মুখ তাড়াহুড়ায় (অবহেলায় ভাবতে ইচ্ছা হইলো না) থুতু দিয়া আটকানো।

ক্যান্সারের পর পর আমার হাত কাঁপা রোগ হইছে। এখন উত্তেজনায় হাত-পা আরো কাঁপতেছে। এরমধ্যেই ঝন ঝন ঝন ঝন কইরা আমার পুরা শরীর পুরাপুরি কাঁপায়ে আমার ফোন বাইজা উঠলো। অডিওস্লেইভের নাকি গলার লাইক আ স্টোনের রিংটোন:

In your house I long to be;
Room by room patiently,
I will wait for you there like a stone.
I will wait for you there alone.

হাত থাইকে খাম আর রুলার আর বই আর ব্যাগ সব একটা একটা কইরা পড়লো আমার পায়ের কাছে। দোকানদার সাহেব একবার মাথা ব্যাকায়ে আমারে দেইখা আবার তার বইয়ে মনোযোগ দিলেন।

ফোন করছে লী। “ন্যাডস, হানি, তুমি কই, তোমাকে কোথাও দেখি না ক্যানো, তুমি কোথায়?”

—ডোন্ট হানি মি, আমি স্টেশানের উল্টাপাশে ফিলমোর ওয়াকের একটা বইয়ের দোকানে, তুমি কই?

—উফফফ, কী যে বাজে ওয়েদার, আমি চুলে স্প্রে করে এসেছি, তারপরেও মনে হচ্ছে নষ্ট হয়ে যাবে, তুমি কোনো বুটস দেখেছো আশেপাশে? আমার একটা ছোট আয়না কিনতে হবে!

আমি জানি লী’র সাথে চুল নিয়ে কথা বলা শুরু হইলে ঘণ্টা দিন মাস পার হয়ে যাবে। আমি উনারে আমার ঠিকানা দিয়া তাড়াতাড়ি ফোন নামায়ে রাখলাম। উনি আসার আগেই আমার চিঠিটা দেখতে হবে। নাইলে মানুষের চিঠি ক্যান পড়তেছি এই নিয়া প্রচুর উচ্চমার্গীয় জ্ঞ্যান দিবেন উনি।

প্রেমের চিঠি। অসম্ভব রকমের ট্যাকি। কিন্তু এইটা তো আর অন্য কারো পড়ার জন্য লেখা হয় নাই। ইসাবেলা এই চিঠি আদৌ পাইছিলেন কিনা, নাকি পাওয়ার পরেও না পইড়া রাইখা দিছিলেন এইসব ভাবতে ভাবতেই চিঠি শেষ করলাম আমি।

জোসেফ সাহেব ট্রেইনে করে লন্ডনে আসতেছেন পরের মাসে। ম’মার্ত থাইকে বিস্কিটের টিন আর সোনালি কাগজে মোড়ানো চকোলেট কিনছেন, মিস ডয়েলের জন্য কবলস্টোনের রাস্তায় কুড়ায়ে পাওয়া জিপসাম পাথর আর রু দ্যি স্তেইনকাখ (Rue de Steinkerque) থাইকে বাসিলিকার সাদা চার্চের ছবিওয়ালা সিল্কের স্কার্ফ আনতেছেন।

চিঠির শেষের লাইনগুলায় জোসেফ সাহেব লিখছেন, “We shall soon meet, my angel, my darling. Remain my true treasure as I to you and let us make and keep our love more beautiful than any love has ever been before. We shall soon meet my love, my life. We shall soon meet.”

অগাস্ট ২৬, ২০১৪

গতকাল আর কার্নিভাল দেখা হয় নাই। আমি লী মার্ক আর সারি রবিনসন বৃষ্টির মধ্যে ক্রয়ডন ঘুরলাম। ১৯৫৯ থাইকে ১৯৭৪ সালের মধ্যে লন্ডনের আলফানিউমারিক পোস্টকোড ঢাইলা নতুন কইরা সাজানো হইছে, যেইটা ছয় থাইকে আট ক্যারেক্টার লম্বা। প্রথম দুই বা তিন ক্যারেক্টার জিওগ্রাফিক্যাল লোকেশান, এবং শেষের দুই বা তিন ক্যারেক্টার কোনো একটা ইন্ডিভিজুয়াল ঠিকানা খুঁজতে ব্যবহার হয়। যেমন ধরা যাক, আমার পোস্টকোড IG1 3LQ। “IG1 পোস্টকোড ডিস্ট্রিক্ট” কাভার করে ইলফোর্ড, ক্র্যানব্রুক এবং লক্সফোর্ড এলাকা। আমি থাকি ক্র্যানব্রুকে। 3LQ আমার বাসার এবং রাস্তার ইন্ডিভিজুয়াল কোড। প্রাথমিক ভাবে শুধুমাত্র লন্ডনের জন্য দুই বা তিন ক্যারেক্টারের যেই পোস্টকোড বাইর করা হইছিল সেইগুলা শুধুই উত্তর-দক্ষিণ-পূর্ব-পশ্চিমের ধারণা দিত। যেমন সাউথ ওয়েস্ট লন্ডনের প্রাথমিক দুই ক্যারেক্টার হইত: SW বা নর্থ-ইস্টের জন্য: NE। পরে লন্ডন বড় হওয়ার সাথে সাথে এই সিস্টেম পাল্টায়ে ইন্ডিভিজুয়াল কোড ব্যবহার শুরু হইছে। পুরা পোস্টকোড ছাড়া লন্ডনে এখন একটা বিয়াল্লিশ বছর আগের বাসা খুঁইজা বাইর করা লিটারেলি খড়ের গাঁদায় সুঁই খোঁজার মতই অবস্থা। আমাদের কারো কাছেই তার উপর নিওডাইমিয়াম রেয়ার আর্থ ম্যাগনেট নাই।

আজকে সকালে মার্ক ফোন দিয়া জানাইলেন উনি উনার বাসার কাছের পাবলিক লাইব্রেরিতে পুরান লন্ডনের কিছু ম্যাপ খুঁইজা পাইছেন। এবং হলস্টিড ক্লোজেরও হদিশ পাওয়া গেছে। যদিও আগের হলস্টিড ক্লোজ আর এখনকার হলস্টিড ক্লোজের মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য, তবুও উনার ধারণা উনি ঠিকই সেইটা বাইর কইরা ফেলতে পারবেন।

লী আমাদের ল্যাবের সিনিয়ার সায়েন্টিস্ট। এবং আমার ম্যানেজার। উনারে ফোন দিলাম দেখার জন্য কোনোভাবে আজকে ছুটি পাওয়া যাবে নাকি। লী’র গলা অসম্ভব গম্ভীর, “সারি রবিনসন আজকে সিক কল করেছে, তার নাকি গতকাল বৃষ্টিতে ভিজে জ্বর চলে এসেছে! কী বাজে ইমিউন সিস্টেম চিন্তা করো!”

সারি’রে কোনো কারণে সবসময়েই তার পুরা নাম ধইরা ডাকা হয়। বুঝলাম, আজকে ছুটি পাওয়া যাবে না। বিকালে অফিস থাইকে বাইর হয়ে লন্ডন ব্রিজে মার্কের সাথে দেখা হইলো। উনি এরমধ্যেই মোটামুটি সব কাজ একলাই কইরে ফেলছেন। উনার গার্লফ্রেন্ড উনারে ফোনে টেক্সট পাঠাইলেন, “গেট আ লাইফ, ম্যান”; উনি বিশেষ পাত্তা দিলেন না টেক্সটরে।

তো আমরা এরপর প্রচুর কসরৎ কইরা এই ট্রেইন অই ট্রেইন পাল্টায়া ক্রয়ডন গিয়া সন্ধ্যা সাড়ে আটটায় অবশেষে ভাইঙ্গে পইড়ে যাইতেছে যাইতেছে এমন দেয়ালে দেয়ালে ফুটাওয়ালা—ডোবারম্যানের কানের মত ছাদের দুই পাশে দুই চিমনিওয়ালা—সেমি-ডিচাটড ১১ হলস্টিড ক্লোজ (আগের ৩৫ হলস্টিড ক্লোজ)-এ পৌঁছাইলাম। আমরা দুইজনেই তখন অসম্ভব ক্লান্ত। বৃষ্টিও শুরু হইছে আবার। দরজার সামনে দাঁড়ায়ে মার্ক আমার দিকে তাকায় বত্রিশ দন্ত বাইর কইরে হাসি দিলেন একটা। আমিও হাসলাম। মার্করে বললাম, “তুমি নক করো, তুমিই তো বাসা খুঁজে বাইর করছো।”

—না, না, কী বলতে কী বলবো, আমি অনেক নার্ভাস, তুমি চিঠি পাইছো, তুমি নক কর। আমি পারবো না।

আমি অত্যন্ত সাবধানে নিঃশ্বাস নিলাম একটা। সিংহের মুখের নকারটা ধইরা খুব আস্তে টোকা দিলাম দরজায়।

কোনো আওয়াজ নাই। কেউ বাসায় নাই নাকি?

মার্ক আঙুল দিয়া দেখাইলেন ভিতরে আলো জ্বলতেছে।

আবার টোকা দিলাম। এইবার আগের চায়ে জোরে। উহুঁ, নো রেসপন্স।

মার্ক আমারে বললেন, “কানে শোনেন না নিশ্চয়ই মহিলা, এইজন্যই ও’হারা চিঠি লিখছেন। ৭২ সালে টেলিফোন তো ছিল।”

এরপরে আরো প্রায় আধা ঘণ্টা দরজা ধাক্কাধাক্কি করলাম আমরা। চইলা যাবো কি যাবো না এমন ভাবতেছি, এমন সময় ঝিলমিলা গোলাপি ট্র্যাক্স পরা অত্যন্ত বিরক্ত মাঝবয়সী সোনালিচুল মহিলা গ্রে-সবুজ দরজাটা খুইলাই আমরা কিছু বলার আগেই চিৎকার জুইড়া দিলেন:

তোমরা আবার আসছো? আমি এইবার সত্যি সত্যি পুলিশ ডাকবো কিন্তু। তোমরা মানুষজনরে ঘুমাইতেও দিবা না। নাকি? তো কী বিক্রি করতেছো তোমরা? লাইফ ইন্সুরেন্স? বয়স কমানোর অষুধ? বাসার সিকিউরিটি অ্যালার্ম? আমি কিছুই কিনবো না। আমার বাসায় চুরি হোক, ডাকাতি হোক, ভাইঙ্গে পইড়ে যাক, তোমাদের কী? আমি অ্যালার্ম চাই না, চাই না চাই না।

এই বইলা উনি ধরাম কইরা আমাদের মুখের উপর দরজা লাগায়া দিলেন।

আমি আর মার্ক একে অন্যের মুখ চাওয়াচাওয়ি করতে লাগলাম। মার্ক কইলেন, “চল, লেটারবক্স দিয়ে চিঠি ফালায়ে চইলা যাই।”

আমি রাজি হইলাম না। এখনো তো শিওর না যে এই বাসাতেই ইসাবেলা থাকেন। যদি ও’হারা এবং ডয়েলের বিয়ের আগে উনি এই বাসাতে থাকতেন, তাইলে চান্সেস আর হাই যে এইটা উনার বাপের বাসা। এবং রীতি অনুযায়ী বিয়ের পরে উনি নিশ্চয়ই এই বাসা ছাইড়া দিছিলেন, মানে আদৌ যদি উনাদের বিয়ে হয়ে থাকে আর কি।

আমি সাহস কইরা আবার দরজায় ধাক্কা দিলাম। মার্ক আমার থাইকে দুই হাত পিছে গিয়া দাঁড়াইলেন।

এইবার সাথে সাথেই দরজা খুইলা গেলো। মা-কালী সাদা চামড়া হইলে এমন দেখাইত নিশ্চয়ই। ভদ্রমহিলা দরজার ভিতরে অর্ধেক শরীর রাইখে দাঁত মুখ খিঁচায়ে চিৎকার দিলেন আমার দিকে তাকায়া: “হোয়াট? হোয়াট নাও? হোয়াট দ্যা ** ডু ইউ ***স ওয়ান্ট?”

আমি চিৎকারের চোটে পিছায়ে গেলাম আধা ইঞ্চি। অগ্নিযুগ হইলে সাথে সাথেই নিশ্চয়ই ভষ্ম হয়া যাইতাম!

মার্ক আগায়ে আসলেন, “শুধু শুধু গালি দিচ্ছেন ক্যানো? আমরা ডোর-টু-ডোর সেলসম্যান না। কিছু বিক্রি করতে আসি নাই।”

মহিলা থামলেন একটু, “কী চাও তোমরা?”

আমি খামটা বাড়ায়ে ধরলাম। সারি রবিনসন গতকাল আঠা দিয়ে আবার খাম মেরামত কইরা দিছেন।

“উই আর লুকিং ফর মিস ইসাবেলা ডয়েল।”

“ডয়েল? না, ডয়েল নামে এইখানে কেউ থাকে না!”

আমরা মোটামুটি হতাশ হয়ে উলটা হাঁটা দিলাম। পুরা দিনটাই বৃথা! রাস্তা পার হয়া স্টেশানের দিকে হাঁটতেছি, তার মিনিট দুয়েকের মধ্যেই মা কালী পিছন থাইকে ডাক দিলেন, “এ্যাই, এ্যাই, এ্যাই — দাঁড়াও!”

দাঁড়াইলাম আমরা।

হ্যাঁ, উনার মনে পড়ছে। ডয়েল উনার মায়ের মেইডেন নাম। এই বাড়ি নানার কাছ থাইকে পাইছেন উনার মা। মা আছেন এখন ক্রয়ডন ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে। এ্যাজমা আছে উনার, সাথে আলঝেইমার এবং আর্থরাইটিস। কালকে যদি আমরা আসি, তাইলে আমাদের সহ হাসপাতাল যাবেন উনি। উনিই ইসাবেলা ফিসবোর্নের মেয়ে, ক্যাথেরিন ফিসবোর্ন। আমরা উনারে ক্যাথি বইলা ডাকতে পারি। আমরা কি কোনো টাকা নিয়া আসছি? উনি এখন মা’রে দেখাশোনা করেন। কেয়ারার্স এ্যালাওয়েন্স পান সরকারের কাছ থাইকে, কিন্তু খুবই সামান্য।

ফিসবোর্ন? মার্ক দুঃখী দুঃখী চোখে তাকাইলেন আমার দিকে।

কালকে হাসপাতালে যাবো আমরা।

সাড়ে এগারোটায় বাসায় ঢুকলাম আমি। বেডরুমের মেঝেতে বিছানার সামনে এ্যান্টনি গাওদির ভাস পইরা আছে টুকরা টুকরা হয়া। বিছানার উপর আমার দুই বিলাই দুই জন দুই দিকে ফিরা বইসা আছেন। বুঝলাম কাজটা উনারাই করছেন।

গায়া লিকোরিশ পিগম্যালিওন এবং কায়রো আইয়ো মারকিউরি, ভাস কে ভাংছে উনারা জানেন না!
গায়া লিকোরিশ পিগম্যালিওন এবং কায়রো আইয়ো মারকিউরি, ভাস কে ভাঙছে উনারা জানেন না!

গায়া লিকোরিশ পিগম্যালিওন এবং কায়রো আইয়ো মারকিউরি, ভাস কে ভাঙছে উনারা জানেন না!

(কিস্তি ৪)