লৌহিত্যের ধারে (৮)

আগের কিস্তি । শুরুর কিস্তি

অধ্যায় ৮

শুনিয়া লীলার কথা কঙ্ক চমৎকার 
পন্থ নাহি পায় শুধু দেখে অন্ধকার

পথ কিংবা রাস্তা নিয়া অনেক গান কবিতা আছে, শরৎচন্দ্রের একটা উপন্যাসের নাম পথের দাবী। সাহিত্যে প্রায়ই পথ একটা মেটাফোর হিসাবে ব্যবহৃত হয়। মিলান কুন্ডেরা বলছেন মেটাফোর হইলো বিপদজনক কারণ প্রেমের শুরুটা হয় মেটাফোর দিয়া। উনি যে অর্থে বলছেন সেই অর্থে মেটাফোর বিপদজনক হইতে পারে, কিন্তু মেটাফোর ছাড়া অনেক কিছুই অসম্ভব।

পথ নিয়া যে গান সবচাইতে ছোটকালে শুনছি বইলা মনে পড়ে সেইটা হইলো, “আজ দুজনার দুটি পথ ওগো দুটি দিকে গেছে বেঁকে।”

পথ কইলে যেমন কাব্যিক লাগে, রাস্তা কইলে সেইটা লাগে না। সাধারণ কথাবার্তায় রাস্তারে ‘পথ’ আমরা বলিও না। কিন্তু হিন্দী আর উর্দু ভাষায় গানে-কবিতায় রাস্তা শব্দটা ব্যবহার করে, সেইখানে সেইটা মানায়ও।

রাহাত ফতেহ আলি খান সাহেবের একটা গান আছে যার প্রথম লাইন হইলো, “জিন্দেগি ইয়ে সফর মে কাট রাহা হ্যাঁয় রাস্তা/ হামসাফার তো হ্যাঁয় মাগার মনজিলে হ্যাঁয় জুদা জুদা।”

সুনীলের এক লেখায় পড়ছিলাম পুরানা কলকাতায় বিদেশি টুরিস্ট আইলে নাকি গাইডেরা পিচ্চি পুলাপানেরে দুই টেকা ধরায়া দিয়া কয় ষাঁড় খেদায়া লইয়া আইতে। টুরিস্টেরা ফটো তুলব। মমেনসিং শহরের রাস্তা ঘাটে এমনেই গরু ছাগল ষাঁড় ঘুইরা বেড়ায়।—লেখক

এইখানে ‘হামসাফার’ বা সহযাত্রী হইলো মেটাফোর, ভালোবাসার মানুষ বুঝানো হইতেছে, মঞ্জিল (গন্তব্য) আলাদা বইলা একটা আসন্ন বিরহের ইঙ্গিতও দিতেছে। বাংলায় এই ধরনের গানে সবসময় বলে “আমার এই পথ তোমার পথের থেকে অনেক দূরে গেছে বেঁকে” কিংবা “পথ চলিতে যদি চকিতে কভু দেখা হয় পরাণপ্রিয়।”

রাস্তা শব্দটা আগের কবিরা কেন ব্যবহার করেন নাই সেইটা আমি ভাবি। সম্ভবত তখন এইটারে কথ্য ভাষার শব্দ হিসাবে বিবেচনা করা হইত আর কথ্য ভাষায় সাহিত্য করা যায় না বইলা তারা ভাবতেন।

এই সময়ে অবশ্য রাস্তা কবিতায় আসে, ইন্দ্রনীল চট্টোপাধ্যায়ের কবিতায় (পরে যেটা গান হিসাবে গাওয়া হইছে, বাপ্পা মজুমদার গাইছেন) পাইছি আমি “এমন কোন রাস্তার নাম বল, যেকোন মোড় চোরাগলি আর বাঁক/ নেশার মাথায় ধাক্কা খেয়ে রাতে, সকাল বেলার নীলচে দাগ।”

এইখানে রাস্তা দিয়া আক্ষরিক অর্থে রাস্তা বুঝাইলেও নাম বলতে নিশ্চয়ই রাস্তার নাম অমক রোড বা তমক স্ট্রিট বুঝায় নাই,‘উল্লেখ’ বুঝাইতেছে, কিন্তু মজার ব্যাপার হইলো এইখানে রাস্তার বদলে পথ শব্দটা কিছুতেই মানাইত না। এই কবিতায় রাস্তাই খুব সুন্দর হইছে।

‘শিরোনামহীন’ ব্যান্ডের ‘রোদ উঠে গেছে তোমাদের নগরীতে’ গানটার স্থায়ী অংশ হইল “তুমি চেয়ে আছ তাই আমি পথে হেঁটে যাই / হেঁটে হেঁটে বহুদূর বহুদূর যেতে চাই।” এই অংশে পথ দিয়া বহুদূর যাওয়া বলতে নিশ্চয়ই মাইল বা কিলোমিটারে বহুদূর বলতে চায় নাই। একই গানে আরেক জায়গায় বলে “প্রতিটি রাস্তায় প্রতিটি জানালায়”—ধইরা নেওয়া যায় এইখানে শব্দটা আক্ষরিক অর্থে ব্যবহৃত হইতেছে।

এই গানটা আমি প্রথম শুনছি জাহাঙ্গীরনগর ক্যাম্পাসে। সন্ধ্যার পরে জুনিয়র ছেলেপেলেরা, যাদের এখনো প্রেম হয় নাই তারা, দল বাইন্ধা চা খায়া আড্ডা দিয়া বোর হইয়া গেলে হেঁড়ে গলায় গান গাইতে গাইতে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন রাস্তায় ঘুরে। আধা অন্ধকারে বইসা ঘনিষ্ঠ হইবার চেষ্টা করতে থাকা জুটিদের দেইখ্যা ভয়ারিস্টিক প্লেজার নেওয়াও আরেকটা কারণ হইতে পারে এই ঘুরাঘুরির। খুব শীতের দিন বাদে রাতের খাওয়া শেষ কইরাও এমনে ঘুরে ফিরে আর গান গায় কিছু ছ্যাড়াইন। এ রকম কোনো দলরে এই গান গাইতে শুনছিলাম। পরে যখন শিরোনামহীনের গাওয়া আসল গানটা শুনলাম তখন আমার মনে হইছে, এ কী গাইতেছে? এর চাইতে ক্যাম্পাসের পুলাপানই ত ভাল গায়। পরে অবশ্য ‘জাহাজী’ অ্যালবামের আর সব গান শুইন্যা ভুল ভাঙছে।

পথের কিংবা রাস্তার নাম থাকে আর সেই নাম ধইরা লোকে ঠিকানা খুইজা পায়। তাই রাস্তার নাম পাল্টায়া ফালাইলে অনেক ঝামেলা হয়। চেকোস্লোভাকিয়ায় রাশান ইনভেশনের পরে এই ধরনের কিছু একটা সমস্যা হইছিল মনে হয়। মিলান কুন্ডেরার কোন এক উপন্যাসে ব্যাপারটা ছিল, তবে এর ঐতিহাসিক সত্যতা আছে কি নাই সেইটা এখন আর মনে পড়তেছে না। কুন্ডেরার বইগুলাতে এক মুঠ ইমাজিনেশনের সাথে তিন আঙ্গুলের এক চিমটি হিস্ট্রিক্যাল ফ্যাক্টস মিলায়া আধা পোয়া ভাষার কারুকার্যের মধ্যে ফালায়া দেয় ঘুঁটা। পড়ার পরে অনেক দিন গেলে গা আলাদা কইরা আর কোনোটারে মনে রাখা সম্ভব হয় না।

রাস্তার নাম নিয়া আলদাভাবে চিন্তার দরকার পড়তো না যদি মানুষের মতন এই শহরের রাস্তাগুলারও ডাকনাম আর আসল নাম আলদা না থাকত। অন্যান্য শহরের কথা জানি না, অন্য কোনো শহরে আমি থাকিও নাই। তবে ঢাকায় দেখছি রাস্তার আসল নামে লোকে চিনে। যেমন আমার বড়খালা থাকতেন জাকির হোসেন রোডের একটা বাসার তিন তলায়। আমার বন্ধু জোয়েনি থাকতো নূরজাহান রোডে। সেই রাস্তাগুলার নাম সিএনজিচালক বা রিকশাচালকেরা জানেন। মমেনসিং শহরে এই রকম না। সব রাস্তার গালভরা নাম আছে কিন্তু সেই নাম ধইরা কইলে কেউ চিনে না।

রামবাবু রোড হইল বিদ্যাময়ী ইশকুলের রাস্তা। আপনি যদি বিদ্যাময়ী ইশকুলে যাইতে না চান, তার পুবে বা পশ্চিমে কোথাও যাইতে চান তাইলে আপনের কইতে হইব বিদ্যাময়ী ইশকুলের আগে কিংবা পরে, অলকা সিনেমা হলের সামনে বা আখতারুজ্জামান কলেজের আগে। রামবাবু রোড কইলে অন্তত রিকশাচালকেরা রাস্তা চিনবেন না। আবার বিদ্যাময়ী ইশকুলের পশ্চিম দিকের রাস্তার নাম গিরীশ চক্রবর্তী রোড। সেইখানে যাইতে হইলে বলতে হবে বিদ্যাময়ীর পিছে, যদিও সেইটা আসলে পশ্চিম পাশে, ঠিক পিছনে না। আবার রামবাবু রোড ধইরা পুব দিকে যাইতে থাকলে এক পর্যায়ে একই রাস্তা হইয়া যাবে জে সি গুহ রোড, কিন্তু সেইটা আসল নাম, রাস্তার ডাকনাম স্টেশন রোড। পশ্চিমে গেলে সেইটা হইয়া যাবে শ্যামাচরণ রায় রোড, কিন্তু কইতে হইব টাউন হলের দিকে কিছু একটা।

তারমানে টাউন হল মোড় থাইকা রেলির মোড় পর্যন্ত টানা একটা রাস্তার নাম দুই তিন দফা পাল্টাইয়া গেছে। গাঙ্গিনার পাড়ে আবার হকার্স মার্কেটের দিকে যাইতে এ বি গুহ রোড আছে, ট্রাঙ্কপট্টির দিকে কয়েক দোকানে কে সি রায় রোড লেখাও দেখছি।

মদনবাবু রোড তুলনামূলক বড় এলাকা কাভার করে। আঠারবাড়ি কিংবা আমপট্টি কইয়া রিকশা ফুরাইতে দেখছি আম্মারে ছোটবেলা। ওই রাস্তায় আমরা যাইতাম দাঁতের ডাক্তার মধু কাকার কাছে। মধু কাকার আসল নাম মধুময় ভৌমিক। উনার বাবাও দাঁতের ডাক্তার ছিলেন। আমার এখনো মনে আছে উনার চেহারা। অত সুন্দর বুড়া মানুষ আমি খুব বেশি দেখি নাই।

ঈশান চক্রবর্তী আর গোবিন্দ গাঙ্গুলি রোডের সংযোগ সড়ক দিয়া দেখা যায় মডাস (ময়মনসিংহ ডায়াবেটিক সমিতি) এর দালান।—লেখক

মধুকাকার চেম্বার যেখানে ছিল সেইখানে একটা ইলেকট্রনিক জিনিসপত্র মেরামতের দোকান আছে, নাম সুর বিতান, এই দোকানে আগে মনে হয় হারমোনিয়াম তবলা বা রেডিও ট্রানজিস্টার বা ক্যাসেট প্লেয়ার মেরামত করতো। তার একটু পাশে থাইকা গোলপুকুরপাড় শুরু। সঙ্গীত বিদ্যালয়ের দিকে গেলে সেইটা ঈশান চক্রবর্তী রোড আর পৌরসভার দিকে গেলে অমৃতবাবু রোড। আবার মদন বাবু রোড যেইখানে শুরু হইতেছে (আগে শ্রীকৃষ্ণ মিষ্টান্ন ভাণ্ডার ছিল) সেই রাস্তার মোড় থাইকা উত্তর দিকে বিপিন পার্কের দিকে যাইতে চাইলে রাস্তার নাম জি কে এম সি সাহা রোড।

আমার বন্ধু সাদিয়া হেলাল তিন্নির বাসার ঠিকানা হইল ‘কালীশংকর গুহ রোড’, সেইটারে কেউ সেই নামে চিনে না, বলতে হয় পণ্ডিতবাড়ী। কিন্তু ওদের বাসার ঠিক উল্টা দিকে বিএনপি অফিস, বিএনপি অফিসের পাশে দিয়া গোলপুকুরের দিকে যাইতে, শশীলজের পিছনের রাস্তার নাম আবার হরিকিশোর রায় রোড। তিন্নিদের বাসা পার হইয়া সোজা উত্তর দিকে যাইতে থাকলে কখন জানি নাম হইয়া যাবে গঙ্গাদাস গুহ রোড। কিন্তু এই নাম বললে যারা অই এলাকায় না থাকেন তারা কেউ চিনবেন না, বলতে হবে বাতিরকল।

আঠারোবাড়ী মোড়ের এই জায়গায় শ্রীকৃষ্ণ মিষ্টান্ন ভাণ্ডার ছিল, ওই খাম্বাটার সামনে।—লেখক

নতুনবাজার রেল ক্রসিঙের কাছে মেদিনী হাই টাওয়ার নাম একটা বাড়িতে আমরা কিছুদিন থাকছি। সেই রাস্তার নাম ‘সারদা ঘোষ রোড’। কিন্তু আমি চেষ্টা কইরা দেখছি রিকশা চালকেরা এই নাম কইলে ভালো চিনে না। স্বদেশ হাসপাতালের সামনে থাইকা রাস্তা শুরু, রেল ক্রসিঙেই শেষ। মেদিনী টাওয়ার চিনানের জন্যে গরু খোঁয়াড় মোড় বা মেথর পট্টির সামনে কইতে হইছে। রেল ক্রসিং পার হইলেই সেইটা সাহেব আলী রোড। সেইখানে যাইতে চাইলে বলতে হবে অন্বেষা ইশকুলের সামনে বা ডাইনে বা বামে।

এই শ্যামাচরণ রায়, কালীশংকর গুহ, গিরীশ চক্রবর্তী, গঙ্গাদাস গুহ, রামবাবু, মদনবাবু, অতুল চক্রবর্তী—ইনারা কে ছিলেন তা আমি জানি না। হয়তো এই শহরের কোন মান্যগণ্য ব্যক্তি ছিলেন, শহরের পত্তন যখন হইছে তখন প্রভাবশালী ছিলেন। ময়মনসিংহ জেলায় জন্ম হইছে কিংবা বাড়ি আছিল এমন বিখ্যাত ব্যক্তিদের নামে নাম রাখতে হইলে সত্যজিৎ রায় কিংবা জগদীশ চন্দ্র বসুর নামে রাখা যাইত, জয়নুল আবেদিনের নামে এখানে পার্ক আছে, আর্ট গ্যালারির সামনে নদীর পাড়ের যে অংশটারে আগে সাহেব পার্ক বলতো সেইটারেই ‘জয়নুল আবেদিন পার্ক’ নাম দেওয়া হইছে এখন।

মুমিনুন্নিসা কলেজের সামনের মোড়ের নাম হইছে সৈয়দ নজরুল ইসলাম স্কোয়ার। কিন্তু জগদীশচন্দ্র বসু বা সত্যজিৎ রায়ের নামে কোনো কিছুই নাই শহরে। সম্ভবত এই সকল রাস্তার নাম যাদের নাম থাইকা হইছে তারা আরো প্রাচীন। আমি কার কাছে জানি শুনছিলাম বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় এই রকম নিয়ম আছে—কোনো বিত্তবান ব্যক্তি চাইলেই কোনো রাস্তা নিজের নাম করতে পারেন, কিছু টাকা পয়সা দিতে হয় প্রকল্প কর্তৃপক্ষকে। হয়তো মমেনসিং শহরের প্রতিষ্ঠার সময় এই ব্যক্তিরা ডোনেশন দিছিলেন রাস্তা বানানের জন্যে, তাই উনাদেরে সম্মান দিয়া রাস্তার নাম উনাদের নামে করা হইছে।

এই জায়গাটার নাম এখন সৈয়দ নজরুল ইসলাম স্কোয়ার। ছবিটা আমার তোলা তাই আমি নাই। ডান থাইকা সুরমা , মুমু, রুপু, তানিয়া, এলমিনা।—লেখক

মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের পাশে যে কেন্দ্রীয় পাঠাগার আছে সেইখানে শহরের ইতিহাসের উপরে বই আছে। বহু আগের দলিলপত্রও আছে বইলা শুনছি। সেইগুলা ঘাটলে হয়তো এইসব তথ্য জানা যাবে। আমি সেই লাইব্রেরিতে গেছি কিন্তু ইতিহাসের বইপত্র পড়ি নাই। সংকলন নামে সি কে ঘোষ রোডে যে বইয়ের দোকান আছে সেইখানেও ময়মনসিংহ জেলার ইতিহাস নামের একটা বই দেখছি। সেইটা পড়ার আগ্রহও আমার কোনো দিন হয় নাই।

জিকেএমসি সাহা রোড কইলে এই রাস্তা কেউ চিনবে না – এই বিষয়ে আমি বাজি ধরতে রাজি আছি।—লেখক

ইতিহাস আমার পছন্দের বিষয় না। ফার্স্ট ইয়ারে পড়ার সময় দুইটা ইতিহাসের কোর্স করতে হইছিল, বহু কষ্টে শেষ করছিলাম। একটা ইংল্যান্ডের সোশ্যাল হিস্ট্রি, আরেকটা ইউরোপের ইতিহাস। ইউরোপের ইতিহাস পড়াইতেন ইতিহাস বিভাগের প্রফেসর ইনামুল হক খান, আমরা ডাকতাম ই.এইচ.কে, তখনকার প্রোভিসি। উনি জানুয়ারি মাসের শীতের সকালে আটটায় ক্লাস দিতেন, কনকনা ঠাণ্ডার মধ্যে ক্লাসে যাইতে খুব কষ্ট হইত আমগর। কিন্তু স্যার মনে হয় খুব মজা পাইতেন। উনি খুব সুন্দর স্যুটেড বুটেড হইয়া ক্লাস নিতে আসতেন। দেইখা মনে হইত একটু পরেই কোনো কনফারেন্সে যাইবেন কিংবা আজকে উনার ছেলের বৌভাত, কিছুক্ষণের মধ্যেই অতিথি আপ্যায়ন করবেন। ইংরেজি বিভাগের কোনো শিক্ষকরে এমন সাহেবী কায়দায় স্যুট পরতে দেখছি বইলা মনে পড়ে না। রেজা স্যারকে লাল টাই পরতে দেখছিলাম, তাও সেইটা আমাদের ফ্রেশারস রিসিপশনের দিন।

ইতিহাস মানেই হইলো সাল তারিখ, নাম মুখস্ত রাখার ব্যাপার, সেই নিঃসন্দেহে খুব বিরক্তিকর একটা কাজ। যদিও সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের সেই সময়, প্রথম আলো, একা এবং কয়েকজন, পূর্ব পশ্চিম এই সকল বই পড়তে ভালোই লাগছে। কিন্তু ইতিহাসের কোর্স আমার কোনো কালেই ভালো লাগে নাই। আয়রনি হইলো, মাস্টারি শুরু করার পরে আমার দুই সিমেস্টারে ইংল্যান্ডের আর ইউরোপের ইতিহাস পড়াইতে হইছে। অবশ্য প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার প্রধান সমস্যাই এইটা, যে কোনো ইন্টারেস্টিং জিনিসরে বিরক্তিকর হিসাবে উপস্থাপন করার জন্যে সিলেবাস এবং ক্লাস লেকচারের জুড়ি নাই। প্রতিষ্ঠান মানেই বাধ্যবাধকতা, আর বাধ্যবাধকতা মানেই আনন্দের অবসান।

আরেকটা কারণে ইতিহাস আমার ভালো লাগে না—ইতিহাসের নিয়মই হইল সে শুধু জয়ীদের মহিমান্বিত করে, পরাজিতকে ভিলেইন বানাইয়া দেয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ফলাফল যদি উল্টা হইত, হিটলার হইয়া যাইতেন বিরাট নেতা, কুখ্যাত হত্যাকারী হিসাবে ঘৃণা না কইরা তারে পূজা করা হইত। রাম লংকার যুদ্ধে জিত্যা গেছিলেন বইলা উনি আর লক্ষণ মিল্যা যে সুপর্ণখার নাক কাইটা দিছিলেন তাতে দোষ হয় নাই। রাবণের দোষ হইছে,সীতাকে অপহরণ করার দায়ে উনি কুখ্যাত নারী নির্যাতনকারী হইয়া গেছেন। বলা হয় মাইয়া মাইনষের চুলে ধইরা টানা এত বড় পাপ যে সেই পাপে রাবণের মতন বিরাট রাজার পতন হইছে, উনি নির্বংশ হইছেন। চুল ধইরা টাইনা হ্যাচড়াইয়া নেওয়া কি নাক কান কাইটা ফ্যালার চাইতে বড় নিপীড়ন? নাক কাটার ঘটনাকে লিটার‍্যালি না নিয়া সিম্বলিক হিসাবে নিলে অনুমান করা যাইতে পারে যে নাক কাটার মানে হইলো সম্মানহানি। আর একটা মেয়েরে শারীরিক নির্যাতন করলে যত না হয় তার চে বেশি সামাজিক সম্মানহানি হয় তারে সেক্সুয়ালি এসল্ট করলে। সেই হিসাবে রাম লক্ষণ কোনো ধোয়া তুলসীপাতা না।

নচিকেতার একটা গানে এরকম লাইন ছিল—“রাম যদি হেরে যেতো রামায়ণ লেখা হতো রাবণ দেবতা হতো সেখানে (রামায়ণ বলে না রাবায়ণ বলে আমি নিশ্চিত না, দাদারা অনেক সময় ম স্থলে ব বইলা থাকেন, দুইটার মাঝামাঝি উচ্চারণ করেন অনেকে আর হিরো রাবণ হইলে মহাকাব্যের নাম রাবায়ণ হইবারই কথা) কেন পথ নিয়ে মাথাব্যথা? জেতাটাই বড় কথা, হেরে গেলেই শেইম শেইম। ইটস এ গেইম” এইখানে পথ বলতে নিশ্চয়ই হাঁটাচলার রাস্তা বুঝায় নাই, কোনো কাজের ধারা বা প্রক্রিয়া বুঝাইছে।

হাইরা যাওয়া পক্ষ ভিলেন হইয়া যাইবার ব্যাপারে অবশ্য সন্দেহ নাই। শংকর শীল মহাভারতের নরনারী বইতে লিখছেন দুর্যোধন বা দুঃশাসন তো কারো নাম হইতে পারে না। কোনো বাপমা সন্তানের এই রকম নাম রাখেন না। এদের নাম আসলে হয়ত ছিলো সুধন আর সুশাসন। এরা বিজিত পক্ষ দেইখা কালক্রমে এদের নাম বিকৃত হইয়া গেছে।

এই একই কারণে হয়তো মমেনসিং এলাকার কৃতীসন্তান হিসাবে জয়নুল আবেদিন বা নজরুল ইসলামের নামে নতুন নামকরণ সম্ভব, সত্যজিৎ বা জগদীশ বসুর নামে সম্ভব না। উনাদেরে এখন আর আমরা নিজেদের লোক ভাবি না। জন্ম বা আদিবাড়ি এই অঞ্চলে হইলেও উনারা এখন ভারতীয়। এই এলাকার বর্তমান অধিবাসীদের বেশির ভাগ মুসলমান তাই উনারা ভারতীয় হইয়া না গেলেও হয়তো প্রভাবশালী মুসলমান নেতা বা আর্টিস্ট বা কবি লেখক খুইঁজা নাম রাখা হইত।

আজকাল মানুষ চিঠি লিখে না, সবার কাছে মোবাইল ফোন আছে, ইমেইলে দরখাস্ত করা হয়। তাই কুরিয়ারে কিছু পাঠানের দরকার না পড়লে ঠিকানা জিগাইতেই হয় না। রাস্তার নাম নিয়া যত গোলমাল সেইটাও পোহাইতে হয় না। কিন্তু রাস্তার নাম খুব জরুরি জিনিস।

গোবিন্দ গাঙ্গুলি রোডের এই অংশটা ঈশান চক্রবর্তী রোডে বাইর হইছে।—লেখক

মমেনসিং শহরের রাস্তাগুলার নামের অপভ্রংশ কিংবা বিকৃতি শুনলেই বুঝা যায় এইটা কত জরুরি। নাটকঘর লেন যাইতে চাইয়া রিকশা ফুরাইতে গিয়া আপনে অবশ্যই ধাক্কা খাইবেন যদি শহরে নতুন আইসা থাকেন, কারণ রিক্সাচালকেরা কেউ এরে নাটকঘর লেন বলে না, বলে ‘নাটকগল্লি’। এই লেনের মাথায় ছায়াবাণী সিনেমা হল, এর আদি নাম ছিল ‘অমরাবতী নাট্যমন্দির’। ওই থিয়েটারের কারণেই গলির নাম এমন। মজার ব্যাপার হইল যে নাট্যমন্দির থাইকা নাটকগলির এমন নাম হইছে সেই ছায়াবাণী হল যে রাস্তায় সেইটার নাম সিকে ঘোষ রোড।

ক্লাস টেনের ইংরেজি বইতে আছিল নিউ ইয়র্ক শহরে পুব থাইকা পশ্চিমে যাওয়া রাস্তারে কয় স্ট্রিট আর উত্তর থাইকা দক্ষিণে গেলে কয় এভিনিউ। লেনের ক্ষেত্রে এই রকম কিছু আছে কিনা তা জানি না। আমার জানা মতে লেন মানে হাইওয়ের কয়েক ভাগের একভাগ। চিপা একটা রাস্তা যেটা দিয়া সিরিয়ালি এক লাইনে যানবাহন যাইতে পারে। সেই হিসাবে নাটক ঘর লেনের নামটা ঠিক হয় নাই। এই গলি যথেষ্টই প্রশস্ত, অন্তত শহরের প্রধান সড়কগুলার তুলনায় এইটারে গলি বলাই ঠিক না। অনেক বাসা বা দোকানের সামনে নাটকঘর বাইলেন লেখাও দেখছি। আমাদের বর্তমান মন্ত্রীর বাড়ি এই রাস্তায়। নাটকগল্লির একটা উপগলি মহিলা কলেজের পাশ দিয়া বাইর হয়। সেইটা প্রকৃতই বাইলেন, দুইটা রিকশা ক্রস করতেও ঝামেলা হয়।

এই রকম ভুল ক্যাটাগরাইজেশন অবশ্য হইতেই পারে, হাজার হোক ইংরেজি আমগর নিজেগর ভাষা না।

জাহাঙ্গীরনগর ক্যাম্পাসে এই রকম একটা ভুল নামের রাস্তা ছিল। মেইন গেইট দিয়া ঢুইকা সোজা গিয়া হাতের ডানে, মানে উত্তর দিকে যে রাস্তা ধইরা গেলে প্রীতিলতা আর জাহানারা ইমাম হল সেই রাস্তার নাম কারা জানি দিছিল ‘লরেল স্ট্রিট’। আম্রিকান হিসাবমতে উত্তর দক্ষিণের রাস্তার নাম স্ট্রিট হইবার কথা না। ওই রাস্তায় পিচের উপরে বড় বড় হরফে LAUREL STREET লেখা থাকলেও ঐটারে সবাই LOVELANE বলত। কেন বলত তা জিগায়া আমি জানতে পারছিলাম যে ওই রাস্তা মেয়েদের হলের দিকে যায় দেইখ্যা এমন নাম। তার মানে পুরুষ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থাইকা ওই নাম দেওয়া হইছিল। কোনো ছাত্র বা ছাত্রীর নামে করা রাস্তারেও প্রায়ই শিক্ষার্থীরা ভুইলা যাইত। আমি একবার বন্ধু কৃষ্ণেন্দু চট্টোপাধ্যায়রে কইছিলাম “আমি ‘কবির সরনী’র মাথায়”, সে বুঝে নাই। নতুন কলাভবনের সামনের চার রাস্তার মোড় বললে সহজেই চিনত।

রাস্তার নাম যেমন থাকে, কিছু রাস্তার নিজস্ব চরিত্রও থাকে। একেকটা রাস্তার একেকটা ইমেজ মাথায় স্থায়ী হইয়া যায়। আমার নানার বাড়ি যাইতে হয় নওমহল মসজিদের লগের একটা গলি দিয়া। ওই গলিটার কথা ভাবলেই আমার মনে আসে ছায়া ছায়া একটা সরু গলির ছবি। সূর্য যখন মাথার উপরে উইঠা যায় তখন নিশ্চয়ই ওই রাস্তায়ও রোদ পড়ে, শিবুঠাকুরের বাড়ির বকুল গাছ ছাড়া তেমন বড় কুনো গাছও নাই ওই গলিতে। তবু বইপত্রে ছায়াঢাকা কিংবা অন্ধকার গলির কথা পড়লেই আমার চোখে ওই গলির চেহারা ভাইস্যা ওঠে।

আবার নানুর বাসা থাইক্যা বাইর হইয়া সানফ্লাওয়ার ইশকুলের দিকে যাইতে যে রাস্তাটা নওমহল প্রাইমারি ইশকুলের দেয়াল ঘেইষা বেইকা যায়, ওই রাস্তা দেখলেই মনে হয় সেইটা একটা জনহীন শুনশান রাস্তা। ময়লা আবর্জনা নাই, বাচ্চারা খেলতেছে না, কেউ মটর সাইকেল বাইর করতেছে না। সেইখানে একটা গ্যারাজওয়ালা বাসার একলা একটা পিলার, ছোটকালে আমরা হাইট্যা যাওনের সময় রাস্তা ছাইড়া ওই পিলার ঘুইরা সেই পিচ্চি গ্যারাজ ঘুইরা যাইতাম। মমেনসিঙের মতন জনবহুল শহর আর নওমহলের মতন পুরানা এলাকার হিসাবে আশ্চর্য রকম নির্জন ওই রাস্তা।

ছোটকালে আমি আর মুমু এই ইশকুলে ভর্তি হইছিলাম। আব্বার ধারণা ছিল ভূমিকম্প হইলেই বাড়িটা ভাইঙ্গা পড়বে তাই পরে আমাদেরে আর সেইখানে না পাঠাইয়া বাসায় গানের টিচার রাইখা দিছিলেন।—লেখক

আবার কিছু কিছু রাস্তা একটার লগে আরেকটা আইডেন্টিক্যাল হয়। এডোয়ার্ড ইশকুলের সামনের গেইট, মুন্সিবাড়ি মোড় থাইকা পিছনের গেইটের দিকের রাস্তায় যাইবার যে গলিটাতে সুমিতা নাহার বাড়ি সেই গলির নাম নির্মলাবাস। অথচ রাস্তার পুরোহিত পাড়ার দিকের অংশটা অসম্ভব নোংরা। ব্রাহ্মপল্লি থাইকা বাঘমারা যাইবার একটা চিপা গলি আছে, বাঘমারা প্রাইমারি ইশকুলের সামনে শেষ হয়, সেই গলিটারে ক্যান জানি পুরোহিতপাড়া আর মুন্সিবাড়ির সংযোগের নির্মলাবাস গলিটার মতন লাগে আমার কাছে। য্যান গলি দুইটা দুই ভাই কিংবা বইন। সুমিতা নাহার বাড়ির মতন গ্রিলের বারান্দাওয়ালা একতলা বাসা ছাড়া তেমন কুনো মিল যদিও নাই দুইটা রাস্তায়। আরেকটা মিল আছে, দুইটা রাস্তাই পুব পশ্চিমে যায়।

সিকে ঘোষ রোড দিয়া আমরা ইশকুলে যাইতাম। তখন ওই রাস্তায় গানের ক্যাসেটের দোকান আছিলো অনেক, ১৯৯৯ সালের আগের কথা কইতেছি। তখন মফস্বলে সিডি অতটা আসে নাই। ওই রাস্তায় তহন হারাডা দিন গানই বাজত। মদনবাবু রোডে এক সহকর্মীর বাসা থাইকা আসার সময় আমার মেয়ে প্রকৃতি বলতেছিল, “এই রাস্তার গন্ধগুলা সুন্দর, কারণ এইটা হিন্দু রাস্তা।” দোকানে বা বাড়িতে ধূপের গন্ধ, কিংবা তেলে পাঁচফোঁড়ন দেওনের গন্ধ অর কাছে মনে হইছে ‘হিন্দু গন্ধ’।

রুটিওয়ালা পাড়ার রাস্তার একটা অংশে বেকারির গন্ধ পাওন যায়, সেইটা খুব আকর্ষণীয় কিছু না, কিন্তু স্বদেশী বাজারের রাস্তার একটা অংশে জর্দা, ধূপ আর বিভিন্ন মশল্লাপাতির মিলিত গন্ধটা আমার নাকে খুব চমৎকার অনুভূতি দেয়।

আমার কাছে মাইছ্যা বাজারের ভিতরের যেইখানে গুড়, মিছরি আর তেঁতুল বেচে সেই রাস্তার গন্ধও ভালো লাগে। কালিবাড়ি কব্বরখানার রাস্তার কথা কেউ কইলেই আমার লবণ দেওয়া ইলিশের কথা মনে হয়, আঁইশটা একটা গন্ধও টের পাই, নাকে লাগে না, মগজে জইমা থাকা স্মৃতি থাইকা টের পাই আর কি।

সানফ্লাওয়ার ইশকুল থাইকা একটা রাস্তা আকুয়ার দিকে যায়, নওমহল প্রাইমারি ইশকুলের পাশ দিয়া। ধীরাপাড়ার ওই রাস্তার কথা মনে হইলেই আমার ক্যান জানি শীতের সন্ধ্যায় খড় পোড়ানোর ধোঁয়ার লগে গোবরের গন্ধ মিল্যা যে গন্ধটা হয় সেইটা মনে পড়ে।

আর শীতের সন্ধ্যায় পাতাপুতা জমাইয়া পুড়ানের ফলে যে চিকন ধোঁয়াডা আস্তে আস্তে আকাশে উইঠ্যা কুয়াশার লগে মিল্যা যাইতে চায় সেইরকম একটা ধোঁয়ার ছবিও য্যান দেখবার পাই। অথচ দিনে দুফরে যে ওই রাস্তায় যাতায়াত আমি করছি না এমন না। হরহামেশাই করি। কিন্তু ধীরাপাড়ার ওই রাস্তার লগে শরৎ কালের, দূর্গা পূজার কিংবা সন্ধ্যাকালে হিন্দু বউগর উলুর আওয়াজের কিছু একটা সম্বন্ধ আছে।

গোবিন্দ গাঙ্গুলি রোডের এই বাড়ির সামনের রাস্তা দিয়া বুড়া পীরের মাজার থাইক্যা মৃত্যুঞ্জয় ইশকুলের দিকে যাওন যায়।—লেখক

জাহাঙ্গীরনগর ক্যাম্পাসে ২০০৩ থাইকা ২০১০ পর্যন্ত আমার যাতায়াত ছিল, ক্যাম্পাসে নিয়মিত থাকা বা ক্লাস কইরা পরীক্ষা দিয়া চইলা আসা মিলাইয়া। অনেক খানেই আমি গেছি, অনেক জাগাই ঘুরছি ফিরছি। কিন্তু একটা রাস্তা নিয়মিত দেইখ্যাও কোনো দিন সেইটা ধইরা হাঁটা হয় নাই। প্রান্তিক গেইট দিয়া ঢুইক্যা কয়েক গজ পরে ডানদিকে একটা রাস্তা যায়, সম্ভবত শিক্ষকদের বাড়িঘর ওই দিকে। প্রান্তিক থাইকা ফেরার পথে অনেকবারই ভাবছি ওই রাস্তা দিয়া একবার যামু, হুদাই হাঁটাহাঁটি কইরা চইলা আসার জন্যেই যাইতাম, ওইখানে ত আমার আর কোনো কাজ নাই। কিন্তু একবারও যাওয়া হয় নাই।

রবার্ট ফ্রস্টের ‘দ্য রোড নট টেইকেন’ কবিতাটা আমাদের আমেরিকান লিটারেচার কোর্সে পাঠ্য ছিল। আমার ওই রাস্তায় না যাইবার বিষয়টা কোনো মতেই ওই কবিতার মূল ভাবের লগে তুলনীয় না। কিন্তু কোনো এক অজ্ঞাত কারণে ওই রাস্তাটার কথা মনে হইলেই লগে লগে আমার ওই কবিতাটার কথাও মনে পড়ে।

মমেনসিং শহরে আমি প্রায় সারাটা জীবন কাটাইয়া দিছি। এইখানে আমি চলি নাই এমন রাস্তা খুব কমই আছে। তবু মৃত্যুঞ্জয় স্কুল রোড বা গোবিন্দ গাঙ্গুলি রোডের মতন আমার জন্যে ‘লেস ট্র্যাভেলড বাই’ রাস্তায় গেলেই অদ্ভুত অনুভুতি হয় আমার, মনে হয় সম্ভবত আমিও সব সময় সেই সকল রাস্তায় (কিংবা পথে) যাইতে চাইছি যা সবার জন্যেই ‘লেস ট্র্যাভেলড বাই’, কিন্তু শোচনীয়ভাবে উল্টা কাজ করছি, হাঁটছি চিনা পথ ধইরা। নামধাম জানা রাস্তা দিয়া পরিচিত গন্তব্যের আশায়। এইজন্যেই দেয়ার হ্যাজ বিন নো ডিফরেন্স। জীবনে যা যা করতে চাইছি তার কিছুই করতে পারি নাই।

পথ বা রাস্তার মেটাফোর বুঝার জন্যেও আমার আক্ষরিক অর্থেই রাস্তায় নামতে হয়। সাহিত্যের ছাত্রী হিসাবে এইটাও আমার জীবনের একটা ট্র্যাজেডিই।

(কিস্তি ৯)

About Author

উম্মে ফারহানা
উম্মে ফারহানা

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। ইংরেজি সাহিত্য পড়ান। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছেন ২০০৩ থেকে ২০০৯ পর্যন্ত। জন্ম ময়মনসিংহ শহরে, ৬ অক্টোবর ১৯৮২। প্রকাশিত গল্পগ্রস্থ: দীপাবলি।