“জেমস এম কেইনের কথা ভেবে
“তারা আমাকে খড়ের ট্রাক থেকে ছুঁড়ে ফ্যালে দুপুরের দিকে…”

কেইন এবং তাঁর খুব বিখ্যাত উপন্যাস ‘দ্য পোস্টম্যান অলওয়েজ রিংস টোয়াইস’ এররেফারেন্স এই বইয়ের গল্প কী ধরনের তার ইঙ্গিত দেয়। ‘মি. মার্সিডিজ” এর শিকড় রয়েছে ক্লাসিক নয়ের ট্র্যাডিশনের মধ্যে। এই বইয়ে কিং এর অন্যান্য কাজগুলির প্রভাবশালী বৈশিষ্ট্য যেমন অতিপ্রাকৃত ঘটনা, আতঙ্ক, তাড়া করা সেগুলির কিছু নেই। এর ফলাফল দাঁড়িয়েছে একটি সরাসরি, মজবুত প্লটের ক্রাইম উপন্যাস।  এটা মনে রাখায় এটা গুরুত্বপূর্ণ, যে ফ্লেভারের কারণে চল্লিশ বছরেরও বেশি সময় ধরে কিং এর লেখা আলাদা তা সহজেই বোঝা যায়।

কাহিনি শুরু হয় ২০০৯ সালেমধ্যপশ্চিমের একটি অনামা শহরে। চলমান মন্দার কারণে ছাঁটাই হওয়া প্রচুর চাকরি সন্ধানী মানুষ একটি বিল্ডিং এর সামনে লাইনে দাঁড়িয়েছে, বিল্ডিং এর ভিতরে বিশাল জব ফেয়ার চলছে। কাহিনি ভয়ঙ্কর মোড় নেয় যখন একটি ধূসর মার্সিডিজ সেডান সকালের কুয়াশা থেকে বের হয়ে এসে সরাসরি ভিড়ের মধ্যে ঢুকে যায়, আটজনকে হত্যা করে এবং আরো অনেককে আহত করে।

প্রস্তাবনায়-ই এই হঠাৎ শুরু হওয়া ঘটনা থেকে মূল কাহিনি শুরু হয়ে যায় এবং কিং এর নিজস্ব বৈশিষ্ট্যের একটা ছোটোখাটো পোর্ট্রেট তৈরি করে: সময় এবং স্থানের নিখুঁত ধারণা, যথাযথভাবে আসন্ন সহিংসতার পরিবেশ বর্ণনা এবং — বিশেষ করে নির্ভুল চরিত্রজ্ঞান। অর্থনৈতিক মন্দার শিকার বিপদগ্রস্ত চাকরি সন্ধানীরা এবং একজন উন্মাদ গণহত্যাকারী এইসব একইসাথে বিশ্বাসযোগ্য এবং গভীরভাবে মর্মস্পর্শী। তাদেরকে শুধু পুরো বইয়ের একটি পৃষ্ঠায়ই পাওয়া যায় কিন্তু তারা পুরো বইয়ের কাহিনিতে গভীর ছাপ রেখে যায়।

এরপর কাহিনি চলে যায় কয়েক মাস পরে। কিং তার কাহিনির বয়স্ক নায়কের সাথে পরিচয় করিয়ে দেন, বিল হজেস সম্প্রতি হোমিসাইড ডিটেকটিভ থেকে অবসর গ্রহণ করেছে। সে মার্সিডিজ কিলারের কেসটি সমাধান করতে চেষ্টা করেছিল এবং ব্যর্থ হয়। ডিভোর্সড, হতাশাগ্রস্ত এবং কোনো অর্থ খুঁজে না পাওয়া বিল জাঙ্ক ফুড খেয়ে, দিনেরবেলা টেলিভিশন দেখে এবং স্মিথ অ্যান্ড ওয়েসনের রিভলবার দিয়ে খেলে সময় কাটায়।

mrmarche4

সে যখন আত্মহত্যা করার মত হতাশায় ডুবে আছে তখন আপাতদৃষ্টিতে খুনীর লেখা একটি চিঠি তার দরজায় এসে পৌঁছায়। মিথ্যা, ভুল তথ্য এবং অনেক ভুল সূত্রে ভরা চিঠির উদ্দেশ্য আসলে হতাশ হজেসকে আত্মহত্যার দিকে আরেক ধাপ ঠেলে দেয়া।

সাহায্য করার বদলে এর ফলাফল হয় বিপরীত। এই চিঠিটি তাকে একটি নিঃসঙ্গ আন-অফিসিয়াল তদন্তের দিকে ধাবিত করে।

ডিটেকটিভের সাথে দেখা হওয়ার পর আমাদের দেখা হয় খুনীর সাথে। ব্র্যাডি হার্টসফিল্ড একজন অনামা, প্রায় অদৃশ্য একজন তরুণ। তার ভাইকে হত্যা এবং তার অ্যালকোহলিক মায়ের সাথে যৌন সম্পর্ক নিয়ে তার অতীত ঝামেলাপূর্ণ। মার্সিডিজ ম্যাসাকার হার্টসফিল্ডের মধ্যে ঘুমিয়ে থাকা কিছু একটা জাগিয়ে তোলে।

তার খুন করে তৃপ্তি পাওয়ার ব্যাপারে এক ধরনের আসক্তি গড়ে উঠেছে। এই আসক্তি শুধু ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। ২০১১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের ঘটনা দিয়ে আংশিক অনুপ্রাণিত হয়ে সে উপযুক্ত টার্গেট খুঁজে বেড়ায়। যে টার্গেটে অনেক মানুষ আহত হবে এবং তার ধ্বংস করার ক্ষমতাকে পরিতৃপ্ত করবে। সে ভালো একটা বেছে নেয়।

স্টিফেন কিং
স্টিফেন কিং

কাহিনি আস্তে করে পিছনের দিকে এবং সামনের দিকে যায়। খুনী একটা বড় হত্যাযজ্ঞের পরিকল্পনা করে এবং অবসরপ্রাপ্ত ডিটেকটিভ তাকে থামানোর সিদ্ধান্ত নেয়। তাদের গল্প আমাদের কাছে এক  বর্তমান কালের চেয়েও বেশি সাম্প্রতিক গদ্যে আসে যেটা পাঠকদের অজানা ঘটনার কিনারে নিয়ে যায়। হার্টসফিল্ড তার ধীরে ধীরে বাড়তে থাকা বিচ্ছিন্নতার রহস্য উন্মোচনের দিকে যায়। তখন হজেস জীবনের নতুন অর্থ খুঁজে পেয়ে কাজে লেগে যায়, সে মানুষের সমাজের দিকে ফিরে আসতে থাকে। হার্টসফিল্ডকে খুঁজতে গিয়ে সে অপ্রত্যাশিত প্রেমের দেখা পায় এবং সমানভাবে অপ্রত্যাশিতভাবে তা হারায়। (হারানো সবসময় কিং এর কাজের একটি স্থায়ী ব্যাপার। আমরা যাদের জন্য কষ্ট পাই এবং নিয়মের বাইরে গিয়ে মরে যাই।)

হজেসকে বদলাতে থাকা আধুনিক টেকনোলজির ব্যাপারে সাহায্য করার জন্য হজেস দুইজন সহকারী পেয়ে যায়। এটা উপন্যাসের নানারকম রহস্যের প্যাঁচ খুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। জেরোমে রবিনসন ডিটেকটিভের ১৭ বছর বয়সী প্রতিবেশী এবং বুদ্ধিমান তরুণ।

হলি গিবনে OCD এবং বিভিন্ন সামাজিক উৎকণ্ঠায় ভূগতে থাকা ৪০ এর বেশি বয়সী একজন মহিলা। তার চরিত্রটির মাধ্যমে দেখা গিয়েছে খারাপ পরিস্থিতিতে পৃথিবী অনেক কিছু লুকিয়ে এবং আশ্চর্য দক্ষতার সাথে একজন নারীর সাথে মিথ্যা বলে। তাঁর শোচনীয় অসহায়ত্ব থেকে তাঁর স্বাধীন হয়ে ওঠা উপন্যাসের আবেগী দিক থেকে সন্তুষ্ট হওয়ার উপাদানগুলির একটি।

আরেক দিক দিয়ে এই উপন্যাসে কিং অনেকটা অমিতব্যয়ীভাবে যেসব বর্ণনা করেছেন তাতে উপন্যাসটি গভীরতা এবং চরিত্রের দিক দিয়ে সমৃদ্ধ হয়েছে। 

একটা লেভেলে মি. মার্সিডিজ ক্লক থ্রিলারের বিপরীতে ক্লাসিক দৌড়ের ক্ষেত্রে ভালোভাবে লেখা একটি উদাহারণ। আরেক দিক দিয়ে এই উপন্যাসে কিং অনেকটা অমিতব্যয়ীভাবে যেসব বর্ণনা করেছেন তাতে উপন্যাসটি গভীরতা এবং চরিত্রের দিক দিয়ে সমৃদ্ধ হয়েছে। এটি একটি সমৃদ্ধ, অনুরণনশীল, ব্যতিক্রমী এবং পাঠযোগ্য একটি কাজ, এবং এমন একজন লেখকের দ্বারা যিনি যে ধরন বেছে নেন সেই ধরনেই লিখতে পারেন। জেমস এম কেইন এই ধরনের গল্প সম্পর্কে দু-একটা জিনিস জানতেন, তিনিও হয়ত উপরের কথাটির সাথে একমত হবেন।

(বিল শিহান এর ইংরেজি থেকে অনুবাদ)