স্যামুয়েল বেকেটের পাণ্ডুলিপি ও আঁকিবুকি

গত ১১ জুন ২০১৪ মিউজিয়াম অব ইংলিশ রুরাল লাইফে ওয়েটিং ফর গডোর জন্যে বিখ্যাত স্যামুয়েল বেকেটের প্রথম উপন্যাস মারফির পাণ্ডুলিপি প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। সে প্রদর্শনী নিয়ে লেখা টিম মাস্টার্সের প্রতিবেদন ‘Samuel Beckett manuscript and doodles go on display’ থেকে লেখাটি অনুবাদ করা হয়েছে।

ছয়টি স্কুলের খাতায় ম্যানুস্ক্রিপ্ট। গত বছর নিলামে ১ মিলিয়ন পাউন্ডে বিক্রি হয়

ছয়টি স্কুলের খাতায় ম্যানুস্ক্রিপ্ট। গত বছর নিলামে ১ মিলিয়ন পাউন্ডে বিক্রি হয়

 

বেকেটের শুরুর পৃষ্ঠা, ২০ আগস্ট, ১৯৩৫ সাল তারিখ দেওয়া, পুরোটাই কেটে দেওয়া হয়েছে

বেকেটের শুরুর পৃষ্ঠা, ২০ আগস্ট, ১৯৩৫ সাল তারিখ দেওয়া,  লিখে কেটে দেওয়া 

 

বেকেটের ড্রইং এর মধ্যে বিখ্যাত আইরিশ লেখক জেমস জয়েসকেও দেখা যায়

বেকেটের ড্রইং এর মধ্যে বিখ্যাত আইরিশ লেখক জেমস জয়েসকেও দেখা যায়

 

স্যামুয়েল বেকেটের প্রথম প্রকাশিত উপন্যাসের হাতে লেখা ম্যানুস্ক্রিপ্টের প্রথমবারের মত পাবলিক প্রদর্শনী করতে গিয়ে যে প্রশ্ন উঠছে তা হলো, এই আইরিশ লেখক এত বেশি ডুডল এঁকেছিলেন কেন?

একটি বৃষ্টিভেজা সকালে ইউনিভার্সিটি অব রিডিং এ একটি টেবিলের উপর ছয়টি পুরাতন খাতা যত্নের সাথে পড়ে ছিল। দেখে বোঝা যাচ্ছিল প্রায় ৮ বছরের পুরাতন এই খাতাগুলি ভালোভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে। খাতার পৃষ্ঠাগুলি বুঝতে কষ্ট হয় এমন হাতের লেখায় ভর্তি। কিন্তু যে দেখবে তার জন্য আশ্চর্য হওয়ার মত বিষয় হল লেখার সাথে সাথে বেকেট কতটা এঁকেছিলেন।

একজন আগ্রহী গলফার, বেখেট তার ডুডলে খেলাটিকে যুক্ত করেছেন

একজন আগ্রহী গলফার, বেকেট তার ডুডলে খেলাটিকে যুক্ত করেছেন

 

ম্যানুস্ক্রিপ্টগুলি বেকেটের বন্ধু এবং লেখক ব্রায়ান কফিকে দেয়া হয়েছিল। ১৯৬০ সালে একজন ব্যক্তি তার সংগ্রহের জন্য সেগুলি কিনে নেয় এবং ২০১৩ সালে তার পক্ষ থেকে সেগুলি নিলামে তোলা হয়

ম্যানুস্ক্রিপ্টগুলি বেকেটের বন্ধু এবং লেখক ব্রায়ান কফিকে দেয়া হয়েছিল। ১৯৬০ সালে একজন ব্যক্তি তার সংগ্রহের জন্য সেগুলি কিনে নেয় এবং ২০১৩ সালে তার পক্ষ থেকে সেগুলি নিলামে তোলা হয়

সেখানে বিখ্যাত মুখ, ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব এবং মিউজিক্যাল নোট আছে। একটা পৃষ্ঠায় বেকেটের সেলফ  পোর্ট্রেটের সাথে চার্লি চ্যাপলিনের ছবিও দেখা যায়।

ডুডল দেখে ধারণা করা যায় ওয়েটিং ফর গডোর লেখক অনুপ্রাণিত হওয়ার জন্য কিছু সময় অপেক্ষা করেছেন।

নোটবুকগুলির মধ্যে বেকেটের প্রথম গুরুত্বপূর্ণ কাজ মারফির ড্রাফট রয়েছে। তিনি ১৯৩৫-৩৬ সালে এটা লিখেছিলেন। দুই বছর পরে এটা প্রকাশিত হয়, উপন্যাসটি বিক্রির দিক থেকে মারাত্মক রকমভাবে ব্যর্থ হয়েছিল। মাত্র কয়েকশ কপি বিক্রি হয়েছিল।

বেকেট বিশেষজ্ঞ ড. জন পিলিং গত ১১ জুন ম্যানুস্ক্রিপ্টগুলি পাবলিক প্রদর্শোনীতে যাওয়ার আগে বিবিসিকে দেয়া এক প্রিভিউতে বলেন, অনেকেই হয়ত বলবে এটা বেকেটের সবচেয়ে মজার বই।

তিনি প্রথম নোটবুকটি খোলেন। প্রথম কয়েকটি পৃষ্ঠা লেখা দিয়ে ভর্তি, এর সবগুলি লেখকের হাত দিয়েই বাদ দেয়া। এরপর ডুডল দেখা যেতে শুরু করে।

বেকেটের প্রথম উপন্যাস মারফির পাণ্ডুলিপিতে আঁকিবুকি

বেকেটের প্রথম উপন্যাস মারফির পাণ্ডুলিপিতে আঁকিবুকি

বেকেটের প্রথম উপন্যাস মারফির পাণ্ডুলিপিতে আঁকিবুকি

বেকেটের প্রথম উপন্যাস মারফির পাণ্ডুলিপিতে আঁকিবুকি

 

বেকেটের প্রথম উপন্যাস মারফির পাণ্ডুলিপিতে আঁকিবুকি

বেকেটের প্রথম উপন্যাস মারফির পাণ্ডুলিপিতে আঁকিবুকি

 

বেকেটের প্রথম উপন্যাস মারফির পাণ্ডুলিপিতে আঁকিবুকি

বেকেটের প্রথম উপন্যাস মারফির পাণ্ডুলিপিতে আঁকিবুকি

 

জন পিলিং বলেন, যখন অনুপ্রাণিত হওয়ার মত খুব বেশি কিছু থাকত না, তার তখন আঁকিবুঁকি করার প্রবণতা ছিল। তার দুর্দান্ত আঁকার প্রতিভা ছিল। তিনি চরিত্রদের ছোটো ছোটো স্কেচও ভালো আঁকতেন। আমার মনে হয় এগুলি সেখানে কারণ কলম নাড়াচাড়া করার মাধ্যমে তিনি মনকে আরো বেশি নড়াচড়া করার জন্য উত্তেজিত করতে চাইতেন।

কিছু কিছু ডুডল অ্যাকাডেমিক অনুমানের বিষয়। যেমন তৃতীয় নোটবুকের ডুডলগুলি কি গলফারদের টিইং অফ (গলফে খেলা শুরু) করার ডুডল?

জন পিলিং বলেন, বেকেট খুব আগ্রহী অ্যামেচার গলফার ছিলেন। তরুণ বয়সে তিনি স্থানীয় আইরিশ কোর্সে প্রাইজ জিতেছিলেন। কৌতূহলের বিষয় হলো উপন্যাস লেখার সময় তিনি কোনো গলফ খেলেন নি।

মারফির ম্যানুস্ক্রিপ্টটি গত বছর নিলামে প্রায় এক মিলিয়ন পাউন্ডে কিনে নিয়েছিল ইউনিভার্সিটি অব রিডিং। সেগুলি ‘দি বেকেট কালেকশনে’ রাখা হয়েছে। ‘দি বেকেট কালেকশন’ এই লেখকের রিসোর্সের পৃথিবীর সবচেয়ে বড় আর্কাইভ।

১৯৬০ সাল থেকে ছয়টি নোটবুক একজনের ব্যক্তিগত সংগ্রহে ছিল।

ড. পিলিং স্বীকার করেছেন সোথেবি’র ম্যানুস্ক্রিপ্টটির জন্য ইউনিভার্সিটি নয় লাখ বাষট্টি হাজার পাঁচশ পাউন্ড খরচ করায় অনেকেই ভ্রু কুঁচকেছেন। ম্যানুস্ক্রিপ্টটির মূল্য কি আসলেই এত বেশি?

পিলিং বলেন, নিশ্চতভাবেই। এটা অনেকটা অলৌকিক যে আরো অনেক সামর্থ্যবান প্রতিষ্ঠানের উপর দিয়ে এটা আমরা অর্জন করেছি। এর দাম এই পরিমাণের দ্বিগুণ অথবা তিনগুণ হতে পারত এবং এখনও এটা নিয়ে দামাদামি চলে।

ইউনিভার্সিটির একজন মুখপাত্র বলেছেন এই বিনিয়োগ খুব হাল্কাভাবে নেয়া হয় নি। সারা পৃথিবীতে বেকেট বিষয়ক প্রধান প্রতিষ্ঠান হওয়ায় অন্তরালে থাকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যকর্মগুলি মানুষের কাছে ফিরিয়ে আনার দারুণ একটি সুযোগ ছিল আমাদের জন্য।

বেকেটের উপন্যাসের কাহিনী লন্ডনের। প্রধান চরিত্র মারফি এবং তার জীবন থেকে নিজেকে তুলে নেয়ার ইচ্ছা নিয়ে উপন্যাসটির কাহিনি।

ড. পিলিং বলেন, এখানে ১৯৩৫ সালের লন্ডনের ছবি বরঞ্চ সুন্দরভাবে বর্ণিল। ১১ নাম্বার বাসের রাস্তা থেকে ওয়ালহাম গ্রীন এবং কেনসিংটন গার্ডেনসের কন্টেইনস শিপের মত ডিটেইলস এই উপন্যাসে আছে।

ড. পিলিং বাদ দেয়া অংশ এবং যতিচিহ্নসহ ছয়টি নোটবুকের হাতে লেখা ট্রান্সক্রিপশন করছেন। এটা সহজ কাজ নয়। তিনি বলেন, “কিছু কিছু প্যাসেজ পড়া খুব কঠিন কারণ সেগুলি পেন্সিলে লেখা এবং চিকন নীল রঙের ক্রেয়ন দিয়ে কেটে দেয়া, যেটার দাগ কোনো কিছুই মুছতে পারবে না। বেকেটের হাতের লেখা অস্পষ্টতার জন্য বিখ্যাত এবং তার বয়স বাড়ার সাথে সাথে সেগুলি আরো অস্পষ্ট হয়েছে। এটা নির্ভর করত তার জন্য সেটা কেমন সন্ধ্যা ছিল এবং কতগুলি বোতল তার কাছে আছে তার উপর।”

Flag Counter

About Author

সাহিত্য ডটকম
সাহিত্য ডটকম