আগের  কিস্তিপ্রথম কিস্তি

১০.
লাইটগুলা একবার নিভা আবার জ্বইলা ওঠার পরপরই অনেকটা “গা-মা-পা-ধা-নি”-র সুরে বেল বাইজা উঠলো। মাইক্রোফোনে অ্যানাউন্স হইল যে লাইব্রেরি আর বিশ মিনিট পরেই বন্ধ হইয়া যাবে, এবং লোন ডেস্ক আর দশ মিনিট খোলা থাকবে।

আমার হাতে যেই বইটা, সেইটা রিজার্ভ সেকশনের, তাই বাসায় নেয়া যাবে না। যতটুকু পারি পইড়া, লিখতে থাকতে হবে এই বিশ মিনিটেই:

“‘থট্ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ’ এর ভূমিকায় ভিগটস্কি লিখছে যে চিন্তা ও ভাষার সম্পর্করে সিস্টেম্যাটিক ভাবে ঘাঁটা হয় নাই এ পর্যন্ত। এইখানে সিস্টেম্যাটিক বলতে ভিগটস্কি কী বুঝাইছে? এইটা ‘অটোম্যাটিক,’ ‘প্যারাডাইম্যাটিক’ ও ‘সিস্টেম’রে কেন মনে করাইয়া দেয়? ভিগটস্কির আগের প্যারাডাইমগুলা কী চর্চা করছে? মার্ক্সিজমের এবং সোশ্যাল কন্সট্রাকশনিজমের থিওরিগুলা ভিগটস্কির সাথে মেলে, কিন্তু সেগুলা অতীত ও বর্তমানরে, কিংবা ইন্ডিভিজুয়াল ও সোশ্যালরে আলাদা কইরা ফেলছে। ভিগটস্কি সিমিলারিটিস দেখছে, রাদার দ্যান ডিফ্রেন্সেস। “রাদার দ্যান” বলাটা কি ঠিক হইল? “রাদার দ্যান” তো সেপারেশনের মতো শোনায় (বা একটা নাকচ কইরা আরেকটা গ্রহণ করার ক্ষেত্রে ব্যবহার হয়)। পিয়াজের “স্টেইজেস” এর মতো না তো ভিগটস্কির “ফেইজেস,” যদিও ভিগটস্কি পিয়াজের অবস্থানরে নিজের অবস্থানের সাথে ইন্টেগ্রেট করতে চাইছে। ভিগটস্কির ফেইজেস অনেক তরল এবং অবিচ্ছিন্ন। তাই “রাদার দ্যান” এর পরিবর্তে “ইন্সটেড অফ” এর মতো শব্দ ব্যবহার করা যায় হয়ত। তবে এইটাও ঠিক যে ভিগটস্কি বলছে যে শব্দের তো শুধু একটাই অর্থ থাকে না। ক্ষেত্র বিশেষে অর্থ বদলায়।”

লেখার ঠিক এই পর্যায়ে আবার রিন রিন কইরা বেল বাইজা উইঠা অ্যানাউন্স হইল যে লোন ডেস্ক বন্ধ হইয়া গেছে, আর লাইব্রেরিও আর মাত্র দশ মিনিট খোলা আছে। তখনই একরাশ ছেলেমেয়ে লাইব্রেরির উপরতলাগুলা থিকা নিচে নামতে থাকল। এত তাড়া কীসের এদের? আরও দশ মিনিট তো আছে! আর সবাই এমন একসাথে নামতেছে কেন?

“তখনই একরাশ ছেলেমেয়ে লাইব্রেরির উপরতলাগুলা থিকা নিচে নামতে থাকল। এত তাড়া কীসের এদের?”—অলঙ্করণ. সানিয়া রুশদী

“এক্সকিউজ মি ম্যাম, তুমি কি সানিয়া?” সিকিউরিটি গার্ডটা জিজ্ঞেস করলো।

‘আমি আবার কী দোষ করলাম?’ ভাবতে ভাবতে উত্তর দিলাম, “হ্যাঁ।”

“তোমার জন্য একটা ফোন কল,” নিজের ওয়াকি টকিটা বাড়াইয়া দিয়া লোকটা বলল আমারে।
আমি হতভম্ব হইয়া ফোন রিসিভ করলাম:

—হ্যালো

—সানি মা, তুমি কোথায়? তুমি কেমন আছ মা?

—আমি লাইব্রেরিতে আম্মা। আমি ভাল আছি, কিন্তু তুমি এইখানে কেন ফোন করছো?

—আমি খুব চিন্তা করতেছি বাবা। তুমি কিচ্ছু না বইলা কোথায় গেছ? এতক্ষণ ধইরা বাইরে আছো তুমি, একটা ফোন কইরাও জানাও নাই যে কোথায় আছো, কেমন আছো!

—এত চিন্তার কী আছে আম্মা? আমি তোমারে সকালে বইলা আসলাম না যে আমি লাইব্রেরিতে আসতেছি?

—কিন্তু আমার তো চিন্তা হয় বাবা। তুমি চইলা আসো মা।

—আসতেছি আম্মা।

মোনাশ ইউনিভার্সিটির কফিল্ড ক্যাম্পাসের লাইব্রেরি থিকা বাইর হইয়া ট্রেন স্টেশনের দিকে হাঁটতেছি। অন্ধকার হইয়া গেছে। রাতের আলো শুধু যেইখানে যেইখানে সরাসরি পড়ছে, সেই অংশগুলা দেখা যাইতেছে। বিল্ডিঙের মাথা বা আকাশ ভাল দেখা যাইতেছে না। ঠাণ্ডা বাতাসে হাঁটতে ভাল লাগতেছে আমার। কিন্তু স্টেশন চইলা আসলো।

থাইমা থাকা ট্রেনটায় ঢুইকা বসতে বসতে দেখি, একটা বাচ্চা মেয়ে আর (খুব সম্ভবত) তার মা, আমার দিকে তাকাইয়া হাসতেছে। আমিও ওদের দিকে তাকাইয়া হাসলাম।

বাচ্চাটা আমার কাছে আইসা দাঁড়াইল। আমি মেয়েটার নাম জিজ্ঞেস করতেই সে আমারে তার নখে পরা নেইলপলিশ দেখাইল।

মা’টা বলল, “নাম বল, আমিশা।” মেয়েটা মৃদু স্বরে “আমিশা” বইলাই আবার মায়ের কোলে ফিরা গিয়া মুখ লুকাইল। মা’টা হাইসা বলল, “ও একটু লজ্জা পাইতেছে। ওর আন্টি আজকে ওরে নেইলপলিশ দিয়া দিছে, সেইটা নিয়া সে খুব এক্সাইটেড।”

আমি হাইসা বললাম, “আমিশা, তোমারে নেইলপলিশে খুব সুন্দর লাগতেছে। আমিও তো একটা আন্টিই। আমার তোমার মতন একটা ভাগ্নি আছে, জানো?”

আমিশা এইবার মিটি মিটি হাইসা আমার দিকে তাকাইল। আরও কিছুক্ষণ আলাপের পরে মা’টা এক টুকরা কাগজ আমার হাতে দিয়া বলল, “এইখানে আমার নাম আর ফোন নাম্বার লেখা আছে। তোমার যে কোনো প্রয়োজনে ফোন কইরো।”

আমি অবাক হইলাম। গতকাইলকাও একটা অচেনা লোক কফিল্ড ট্রেন স্টেশনে তার ফোন নাম্বার আমারে দিয়া বলছিল, আমি যাতে প্রয়োজনে তারে ফোন করি। হান্টিংডেইল স্টেশন চইলা আসছে। আমি মা-মেয়ের থিকা বিদায় নিয়া নাইমা গেলাম।

আমাদের বাসা থিকা সাত মিনিটের ড্রাইভ হান্টিংডেইল স্টেশন। হাঁইটা আসতেও বেশিক্ষণ লাগে না। আমি দ্রুত পায়ে হাঁটতে শুরু করলাম। সাধারণত অনেক মানুষ থাকে স্টেশনের কাছের বাস স্টপটা ঘিরা, যাদের বেশিরভাগই মোনাশ ইউনিভার্সিটির ক্লেটন ক্যাম্পাসের ছাত্রছাত্রী।

আইজকা তেমন মানুষজন নাই আসেপাশে। তবু রাস্তায় এখনও অনেক গাড়ি। ‘তাছাড়া ফুয়েল স্টেশনের সাথের দোকানটাও এখনও খোলা,’ দ্রুত পায়ে হাঁটতে হাঁটতে নিজেরে বুঝাইলাম আমি। তারপরে গাড়ির শব্দের দিকে কান পাতলাম। এখন গাড়িগুলা নরমাল শব্দে চলতেছে। কিন্তু আমার চিন্তার পরিবর্তনের সাথে সাথে গাড়িগুলার শব্দেরও পরিবর্তন হইতেছে কি? তাই তো মনে হয়। যাই হোক, কাইলকা আমি মোনাশ ক্লেটনের ম্যাথেসন লাইব্রেরিতে যাবো। ভিগটস্কির বইটা নিশ্চয়ই সেইখানেও পাওয়া যাবে। বই নিয়া ভাবতে ভাবতে আমি বাসায় চইলা আসলাম।

১১.
কলিং বেল টিপতেই দরজা খুইলা গেল। অবাক হইয়া দেখলাম আব্বা, আম্মা, লুনা আপা, ইফা, সবাই চিন্তিত মুখে আমার দিকে তাকাইয়া আছে।

আমি “কী হইছে?” জিজ্ঞেস করতেই আম্মা কান্না শুরু করলো। আমার গালে, মাথায় হাত বুলাইয়া আদর করলো। তারপরে “আয় বাবা আয়” বইলা আমার হাত ধইরা টানতে টানতে ভিতরে নিয়া যাইতে লাগলো।

আমি ভাবলাম, আমারে কিছু দেখাইতে নিয়া যাইতেছে। মাছটা তো কিছুদিন আগেই মারা গেছে, তাইলে আর কী হইতে পারে দুঃখ করার মতো?

ফ্যামিলি রুমে ঢুইকা আমার হাত ধইরাই আমারে টু-সীটারটায় বসাইয়া আমার পাশে বসলো আম্মা। কান্না সামলাইয়া নিয়া বলল:

—বাবা, তুই আর এইভাবে বাইর হইয়া যাইস না, আচ্ছা?

—কীভাবে বাইর হইয়া গেছি? তোমারে বইলাই তো গেছি। বাসায় আমার পড়াশোনা হয় না বইলাই তো লাইব্রেরিতে যাই! আমি কি পড়াশোনা করমু না?

—সেইটা বলি নাই তো! যাইস। কিন্তু গিয়া বাসায় একটা ফোন কইরা জানাইস যে পৌঁছাইলি কি না ঠিক মতন, কোন লাইব্রেরিতে গেলি, কয়টা নাগাদ বাসায় ফিরবি, ইত্যাদি। আর তুই তো মোবাইল ফোন সাথে রাখস না, তাই আমরা তোর খোঁজ রাখতে পারি না। আমারটা নিবি?

—না, আমি মোবাইল ফোন পছন্দ করি না। আর আমার খোঁজ রাখার কী আছে? আমি কি কোনো ক্রাইম করতেছি? আর এত কিছু আমি জানাইতে পারমু না। এত প্ল্যান কইরা আমি চলতে পারি না। প্ল্যান করতে করতে আর আমার খোঁজখবর দিতে দিতেই সারাদিন চইলা যাবে, আমার আর কোনো কাজ হবে না।

লুনা আপা: আমরা পুলিশ ডাকছিলাম। তোরে ফোনে পাইয়া ক্যান্সেল করছি। এখন ফোন কইরা জানাই যে তুই বাসায় ফিরছস।

আম্মা: কাজ না হয় কয়দিন একটু কমই করলি মা। আমরা এতগুলা মানুষ তোর জন্যে এত চিন্তা করতেছি, সেইটার কি কোনো মূল্য নাই তোর কাছে?

আমি: ঠিক আছে, আমি ইফা আর লুনা আপারে জানামু সব ফেইসবুকে।

আম্মা: ঠিক আছে মা, এখন ডিনার কইরা ঘুমাইয়া পর।

১২.
সকালে উইঠা দেখি একটা রোদ ঝলমলে শীত-শীত দিন। নেইবারদের বাড়ির চালে এক ঝাঁক ঘুঘু সারি বাঁইধা ডাইকা চলতেছে, যানি আমার উদ্দেশ্যেই। এক মুহূর্তের জন্যে মনটা কেমন হইয়া গেল। আমার প্রথম সাইকোসিসের সময়কার কথা মনে পড়লো। আমি তখন সাউথ ক্লেটনে থাকি। একদিন সকালে চা বানাইতে বানাইতে কিচেনের জানলা দিয়া তাকাইয়া দেখি এক সারি ঘুঘু ঠিক এইভাবেই অনবরত ডাইকা চলতেছে নেইবারদের বাড়ির চালের উপর থিকা। সাউথ ক্লেটনে তখন ঘুঘু খুব একটা দেখা যাইত না, তাই এতগুলা ঘুঘু একসাথে দেইখা আমার ভাল লাগছিল। সেই ভাল লাগার কথা মনে হইয়া নিমিষেই আবার ভাল লাগতে শুরু করলো। ঝটপট গোসল সাইরা রেডি হইয়া নিলাম লাইব্রেরিতে যাওয়ার জন্যে। গায়ে একটা পাতলা চাদর জড়াইয়া নিলাম। তাড়াতাড়ি বাইর হইতে হবে। দেরি হইয়া গেলে সকালের এই আমেজ হারাইয়া যাবে।

সিঁড়ি দিয়া নামতে নামতে খেয়াল করলাম যে গ্যারেজের দরজাটা লক্ড না। তার মানে লুনা আপা অলরেডি অফিসের দিকে রওনা হইছে। আব্বা-আম্মার বেডরুমের সামনে ওদের বাসায় পরার স্যান্ডেলগুলা এখনও রাখা আছে। তার মানে ওরা এখনও ঘুমাইতেছে। আমি যথাসম্ভব নিঃশব্দে নামার চেষ্টা করতেছি। কিন্তু নিচে নামার পরপরই আম্মা ডাক দিলো:

—সানি মা।

—হ্যাঁ আম্মা?

—এইদিকে একটু আয় বাবা।

—(আব্বা আম্মার ঘরের দরজার কাছে দাড়াইয়া) হ্যাঁ?

—কোথাও যাইতে চাইতেছস মা? গোসল করছস?

—হ্যাঁ, কেন?

—না, ভাবছিলাম একটু বাইরে যামু তোরে নিয়া।

—কোথায়?

—এমনি, কোথাও ঘুরতে।

—কিন্তু আমি তো এখন লাইব্রেরিতে যাইতেছি আম্মা। আইসা না হয় যাওয়া যাবে?

—তাইলে একটু দাঁড়া মা। আমিও যাই তোর সাথে।

—আম্মা, তুমি বোর্ড হবা। আমি ব্যস্ত থাকমু নিজের কাজ নিয়া। তোমারে সময় দিতে পারমু না তো লাইব্রেরিতে।

—আমারে সময় দিতে হবে না বাবা। আমিও কিছু একটা পড়মু তোর সাথে।

—ঠিক আছে, তাড়াতাড়ি রেডি হও। কিন্তু মোবাইল নিতে পারবা না।

—ঠিক আছে।

—আমি রেডি (আম্মা রেডি হইয়া আইসা জানাইল)।

—আচ্ছা চল তাইলে।

—তোর আব্বারে একটু বইলা আসি।

—আচ্ছা।

আম্মা: এ্যাই শুনছো? আমি মেয়ের সাথে একটু লাইব্রেরিতে যাই।

আব্বা: ঠিক আছে, আসো। কিন্তু মোবাইলটা নিয়া যাও।

আমি: আম্মা, মোবাইল নিয়া তুমি আমার সাথে আসবা না। বাসায় থাকো।

আম্মা: শুনছো? মেয়ে তো বলতেছে মোবাইল না নিতে।

আব্বা: লুনার মা, আমি বলতেছি তুমি মোবাইলটা নিয়া যাও!

আম্মা: মোবাইলটা নিয়াই যাই বাবা (আব্বার হাত থিকা মোবাইল নিয়া ব্যাগে ভরতে ভরতে)।

আমি: ঠিকাছে, তুমি থাকো (আমি হাঁটতে শুরু করলাম)।

আম্মা দুই হাত দিয়া আমার এক হাত জাপটাইয়া ধইরা বলল, যাইস না বাবা, যাইস না!

আমি কয়েক ঝটকায় হাত ছাড়াইয়া নিয়া দরজা খুইলা বাইর হইয়া গেলাম, পিছন থিকা আম্মার অনেক ডাকাডাকি উপেক্ষা কইরা।

১৩.
হান্টিংডেইল স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে দাঁড়াইয়া আছি। বাসা থিকা হাঁইটা আসার ফলেই হয়তো মন কিছুটা স্বাভাবিক হইছে। কিন্তু লাস্ট মিনিটে মোনাশ ক্লেটনে না গিয়া ভিক্টোরিয়া স্টেইট লাইব্রেরিতে যাওয়ার সিদ্ধান্তটা ঠিক হইল কি না ভাবতেছি। ঠিকই আছে। একটা বই সেইখানে পাওয়া যাওয়ার কথা। সেইটা দেইখা না হয় ক্লেটনে চইলা যাবো।

প্ল্যাটফর্মের মেঝেতে হলুদ ডোরাকাটা জায়গাটুকুর উপরে লেখা “সেইফটি জোন।” কেন, জানি না। আমি সেইখানটায় গিয়া দাঁড়াইলাম আর দেখলাম, আমারে ঘিরা আরও অনেকেই দাঁড়াইতেছে সেইফটি জোন এ। তাদের বেশিরভাগের হাতেই মোবাইল ফোন, এবং সেগুলা আমার দিকেই তাক করা। এত রেডিয়েশনের ভক্ত কেন দুনিয়ার মানুষ? কী করে তারা এত মোবাইল ফোন দিয়া? শুধুই কি কথা বলে নাকি অন্য কাজেও ব্যবহার করে? আচ্ছা, টেকনলজি কি অতই অগ্রসর হইছে যে ফোনের রেডিয়েশন দিয়াই ব্রেইন স্ক্যান করা যায়? আমি সেইফটি জোন থিকা বাইর হইয়া গেলাম।

আর তখনই এক রাশ বাতাস ঠেলতে ঠেলতে, সবার চুল, জামা, স্কার্ফ উড়াইতে উড়াইতে দূর থিকা ট্রেনটা আসতে লাগলো। যারা বসা ছিল সবাই উইঠা দাঁড়াইল। বাতাসের চাপ আরও তীব্র হইতে থাকলো, আর আমার ভাল লাগতে থাকলো। ট্রেন থাইমা দরজাগুলা খুইলা গেলে, সবার সাথে আমিও ট্রেনে উঠলাম। তারপরে ট্রেন আবার চলতে থাকলো দুলতে দুলতে। আমিও দুলতে দুলতে প্রথম যেই খালি জায়গাটা পাইলাম, সেইখানেই বইসা পড়লাম।

“এক্সকিউজ মি, ম্যাম, এই চারটা সিট বয়স্ক ও অক্ষম মানুষদের জন্য রিজার্ভ করা আছে,” ইউনিফর্ম পরা সেকিউরিটি গার্ড মেয়েটা বলল, “তুমি কাইন্ডলি অন্য কোনো সিটে বসবা?”

আমার বলতে ইচ্ছা করল, “এখনই তো কেউ বসতেছে না এইখানে। আপাতত আমি এইখানে বসলে ক্ষতি কী? কেউ আসলে না হয় উইঠা যাবো।” কিন্তু আমার কথা বাড়াইতে ইচ্ছা করল না। “হ্যাঁ, অবশ্যই” বইলা উইঠা গেলাম।

এই সময়টা ট্রেন ভরা থাকার কথা। হয়তো ভরাও, কিন্তু এই কামরাটা খালি খালি। আমি দুইটা মুখামুখি থ্রি-সিটারের একদম খালিটার এক প্রান্তে বসলাম। অন্যটার জানলা ঘেইষা বইসা একটা ছেলে বই পড়তেছে। আমরা দুইজনই নিজ নিজ থ্রি-সিটারের একদম ডান দিকের সিটে বসছি। আরে তাই তো! আমি ডানদিকে বসছি কেন? আমি কি ডানপন্থী রাজনীতি সমর্থন করি নাকি? না তো!

আমি উইঠা ছেলেটার থ্রি-সিটারের একদম বামদিকের সিটটায় বসলাম। ছেলেটা বইয়ের পাতা শাফল কইরা যানি অসম্মতি জানাইল। ঠিকই তো। একদম বামপন্থীও না তো আমি। সেন্ট্রাল লেফট বলা যায় হয়তো। আমি আগের থ্রি-সিটারের মধ্যেখানের সিটটায় বসলাম। ছেলেটা আবারও বইয়ের পাতা শাফল করলো। আমি ডানদিকের সিটটায় ফিরা গেলাম। লক্ষ্য করলাম যে আমি সামনে আড়াই সিট বা দিকে গেলে ছেলেটার পজিশন নিতে পারবো, ছেলেটাও আড়াই সিট আমার দিকে আগাইলে আমার পজিশন নিতে পারবে। ও আচ্ছা, তাইলে এইটা রাজনীতির খেলা না, দাবার খেলা। আর এই খেলায় আমি ডার্ক হর্স। আমার সেইভাবে আগাইতে হবে।

“বিশেষ কইরা বিশাল ঘড়িটারে ঘিরা যে ঘণ্টায় ঘণ্টায় ভিড় জমে ঘড়িটার ভিতর থিকা নাইমা আসা পুতুলগুলা দেখার জন্যে, সেই ভিড় এড়াইয়া বাইর হইতে চেষ্টা করলাম।”

১৪.
মেলবোর্ন সেন্ট্রাল স্টেশনে নাইমা আমি সেইভাবে আগানোর চেষ্টা করলাম। ক্রাউড থিকা দূরে দূরে থাকার চেষ্টা করলাম। বিশেষ কইরা বিশাল ঘড়িটারে ঘিরা যে ঘণ্টায় ঘণ্টায় ভিড় জমে ঘড়িটার ভিতর থিকা নাইমা আসা পুতুলগুলা দেখার জন্যে, সেই ভিড় এড়াইয়া বাইর হইতে চেষ্টা করলাম।

কিন্তু পারলাম না। হাঁটতে হাঁটতে মনে হইলো যানি ঘড়িটাই আমার পাশে চইলা আসছে। বা দিকে তাকাইতেই এক মুহূর্তের জন্যে দেখলাম, দশটা বাজার দুই মিনিট বাকি আছে। কিন্তু পলক ফেলতেই এ কী! মিনিটের কাটাটা এক মিনিট এক মিনিট কইরা আগাইয়া ঘড়িতে ঠিক দশটা বাজাইয়া দিল! কে বা কারা করতেছে এইসব? আমি হাতঘড়িতে সময় দেখলাম। এইটা কীভাবে সম্ভব? আমার ঘড়িতেও ঠিক দশটা বাজে! আমি এ নিয়া আইজকা আর ভাবতে চাইলাম না।

স্টেশনের বাইরে পা বাড়াইতেই সূর্যের আলোয় নিজেরে আলোকিত মনে হইলো। বাতাসে গান ভাইসা বেড়াইতেছে। রাস্তার ওইপাশেই স্টেইট লাইব্রেরি, আর তার সামনেই গানের আয়োজন। কারা করছে এই আয়োজন? তারা কি জানত যে আইজকাই আমি আসবো এইখানে? আমি রাস্তা পার হইলাম। গান গাইতে গাইতে ছেলেটা আমার দিকে তাকাইয়া হাসল। আমার মনে হইলো, সমস্ত আয়োজন আমার জন্যেই, আর আমার এইখানে আসা জনসম্মুখে হাজির হওয়ার একটা উসিলা মাত্র।

আমি লাইব্রেরির ভিতরে ঢুকলাম। যেই বইটার উদ্দেশ্যে এইখানে আসা, সেই বইটা পাওয়া গেলেও বইটা বাসায় নেয়া যাবে না। আমি এক জায়গায় বইসা বইটার ভূমিকাটুকু পড়লাম। আমার কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ, আকর্ষণীয় ও তীব্র মনে হইল। কিন্তু এক বসায় পইড়া বইটার সবটা অর্থ বোঝা যাবে না। আমার মনে হইলো বইটা মোনাশ ক্লেটনের ম্যাথেসন লাইব্রেরিতেও পাওয়া যাইতে পারে।

পাওয়া গেল না। একটু নিরাশ হইয়া ডায়েরি বাইর করলাম আমি। লিখতে বসলাম:

“কীভাবে একটা ইস্যু একটা জাতির অভিনিবেশ থিকা হারাইয়া যায়? সামনে থিকা পিছনে, আবার একটু সামনে, একটু পিছনে, এইভাবে সেতারের তারের মতো ভাইব্রেট করতে করতে একসময় তা মিলাইয়া যায়। একটা নতুন ইস্যু তখন হাজির হয় সেই জায়গায়, হয়ত পলিটিক্যালি আরও কারেক্ট কোনো ইস্যু। সমস্যারও কি কারেক্টনেস হয়? কারেক্ট তো হয় সমাধান। সমস্যাও হয় মনে হয়। যেই সমস্যা নিয়া আমরা কথা বলতে পারি অনায়াসে, সেইটা পলিটিক্যালি কারেক্ট সমস্যা। মাঝে মাঝে ভয় হয়। এই যে আমি আমি, সেই কারণে আমিও কি হারাইয়া যাবো? শিগগিরি?”

লেখার ঠিক এই জায়গায় একরাশ ছেলেমেয়ে নাইমা আসতে লাগল লাইব্রেরির সিঁড়ি দিয়া। এইবার আর মনে হইল না যে তাদের ঘরে ফেরার তাড়া। মনে হইল, কোনো কিছু তাদের মন ছুঁইয়া গেছে। তারা কিছু প্রোটেস্ট করতে মিছিলে নামছে। হাসিমুখে কিছুক্ষণ তাদেরকে দেইখা, আমিও বাইর হইয়া গেলাম লাইব্রেরি থিকা। নাহ্, আমার লিখতে হবে কয়েকদিন একমনে। সেইজন্যে আমার একটা টেম্পোরারি এ্যাকমোডেশন চাই।

কোথায় গেলে মিলবে এ্যাকমোডেশন? আমার তো টাকা পয়সা তেমন নাই। সিকিউরিটি অফিসে খোঁজ করবো? ২০০৯ সালে এক সিকিউরিটি গার্ড আমারে কয়েকদিনের জন্যে থাকার ব্যবস্থা কইরা দিছিল মোনাশ ইউনিভার্সিটির এই ক্যাম্পাসেই। দুর্ভাগ্যবশত সেইবারই প্রথম আমার সাইকোসিস হইল। এইখান থিকাই নিয়া গেছিল আমারে হসপিটালে। কিন্তু এইবার তো সেইরকম না আমি। তাই এইবার ওইরকম হওয়ার কারণ নাই।

১৫.
সিকিউরিটি অফিসে অনেকক্ষণ বইসা থাকার পরে ইউনিফর্ম পরা এক লোক আইসা খুব ক্যাজুয়ালি আমার পাশের সিটটায় বইসা আমার সাথে কথা বলা শুরু করলো:

—হাই, আমি শেইন।

—হাই শেইন, আমি সানিয়া।

—অনেকক্ষণ ধইরা বইসা আছো এইখানে?

—হ্যাঁ, অনেকক্ষণ হইয়া গেছে।

—তুমি কি এই ইউনিভার্সিটিতে পড়ো বা কাজ করো?

—না, এখন পড়ি না, কাজও করি না। তবে এক সময় পড়ছি। টিউটারশিপও করছি।

—আচ্ছা। এখন কী করো তুমি?

—আপাতত অফিশিয়ালি কিছু করতেছি না। তবে নিজের পড়াশোনা করি। সেইজন্যেই ইউনিভার্সিটিতে আসা।

—আচ্ছা। কী পড়ো?

—সাইকোলজি।

—আচ্ছা আচ্ছা। আমার স্ত্রীও সাইকোলজি পড়তেছে। সে ডেভেলপমেন্টাল সাইকোলজিতে পি.এইচ.ডি. করতেছে।

—ওমা তাই? আমিও ডেভেলপমেন্টাল সাইকোলজিতে পি.এইচ.ডি. করতেছিলাম।

—আচ্ছা! পি.এই.ডি. শেষ?

—না, শেষ করতে পারি নাই।

—হ্যাঁ, পি.এই.ডি. খুবই কঠিন কাজ।

—আমি অসুস্থতার কারণে শেষ করতে পারি নাই।

—খুবই দুর্ভাগ্যজনক। তুমি যদি মাইন্ড না করো, আমারে বলবা কী হইছিল?

—অনেক লম্বা ঘটনা।

—আমার হাতে সময় আছে।

—আমার সাইকোসিস হইছিল। ২০০৯ সালে।

—তখন তোমার পি.এইচ.ডি. কতদূর আগাইছিল?

—আমি পি.এইচ.ডি.-র মাঝামাঝি ছিলাম। কনফার্মেশন অফ ক্যান্ডিডেচার শেষ করছি। এথিক্স ডিপার্টমেন্টের অ্যাপ্রুভাল পাইয়া রিসার্চ শুরু করবো, ঠিক তখন অসুখটা হইল।

—হায় হায়! খুবই আনফর্চুনেট। ঠিক কী কারণে সাইকোসিস হইছিল বইলা তোমার ধারণা? পড়াশোনার প্রেশার বা অন্য কিছু? আমি কি বেশি প্রশ্ন করতেছি?

—না না, বলতে আমার কোনো আপত্তি নাই। …কোনো কারণ ছিল না সাইকোসিস হওয়ার। সবকিছু একদম পারফেক্ট ছিল আমার জীবনে। এত ফ্যাসিনেটিং একটা প্রোজেক্ট ছিল আমার পি.এইচ.ডি.- র জন্যে, যে তারপরে আর কিছু ইমপারফেক্ট হইতেই পারে না!

—কী ছিল তোমার পি.এইচ.ডি.-র বিষয়?

—বাচ্চাদের মধ্যে সেল্ফ-কন্সশাস অনুভূতিগুলি কীভাবে আসে, সেইটা ছিল আমার প্রোজেক্ট।

—কীভাবে আসে?

—সেইটাই আমি এখনও বোঝার চেষ্টা করতেছি।

—আচ্ছা। এখন বলো তুমি এইখানে কী করতেছ।

—ও… আমার প্রোজেক্টের জন্যেই তো এইখানে আসা। আমার প্রোজেক্ট ও রিলেটেড ব্যাপারের উপরে যাতে কাজ করতে পারি তাই আমার কয়েকদিনের জন্যে একটা টেম্পোরারি এ্যাকমোডেশন লাগবে, কারণ বাসায় আমার কোনো কাজ হইতেছে না।

—কিন্তু এইটা তো সিকিউরিটি অফিস।

—হ্যাঁ, কিন্তু আগেও এইখান থিকাই এ্যাকমোডেশনের ব্যাবস্থা হইছিল।

—কবে সেইটা?

—২০০৯ সালে।

—সাইকোসিসের সময়?

—হ্যাঁ, সেই সময়েই আমারে হসপিটালাইজ করা হইছিল।

—সেই সময়ে তো তুমি এই ইউনিভার্সিটির স্টুডেন্ট ছিলা, তাই না?

—হ্যাঁ।

—স্টাফ মেম্বারও ছিলা?

—হ্যাঁ।

—এখন তো আর নাই।

—না।

—এখন তুমি আর এইখান থিকা এ্যাকমোডেশন পাবা না। অবশ্য ইউনিভার্সিটিরই এই জায়গাটায় গিয়া তুমি এ্যাকমোডেশনের ব্যাপারে সাহায্য চাইতে পারো (ক্যাম্পাসের ম্যাপের এক জায়গায় পয়েন্ট কইরা শেইন দেখাইল)। তারা তোমারে কী করতে হবে তা বইলা দিতে পারবে। অন্যথায় তুমি আমারে বিশ্বাস করলে আমার সাথে আসতে পারো। আমি তোমারে সাহায্য করতে পারবো।

১৬.
আমি শেইনরে বিশ্বাস করলাম। সে আমারে অ্যাম্বুলেন্সে ওঠাইল। অ্যাম্বুলেন্সের গায়ে ‘অ্যাম্বুলেন্স’ লেখা দেইখা আমার কিছু মনে হইল না। শুধু মনে হইল যে সে প্যারামেডিক্সে আছে, তাই অ্যাম্বুলেন্স তো তার বাহন হইতেই পারে। তার মানেই নিশ্চয়ই সে শুধু হসপিটালেই যায় না! কিন্তু সে আমারে মোনাশ হসপিটালেই নিয়া গেল।

আমারে ইমার্জেন্সি সেকশনের বাইরের দিকের বড় ওয়েইটিং রুমটাতে না বসাইয়া ভিতরের ছোট ওয়েইটিং এড়িয়াটাতে বসতে দিল। নার্সদের স্টেশনের সাথেই হওয়াতে সেইখানে বসলে অনেক সময়েই তাড়াতাড়ি নার্সদের মনোযোগ পাওয়া যায়। আইজকা অবশ্য তা হইল না। নার্সদের সংখ্যাও আইজকা কম। যেই নার্সটা আছে, তারও যানি কোথায় যাইতে হবে বইলা নার্সদের স্টেশন বন্ধ করতে হবে।

আমি বড় ওয়েইটিং রুমটাতে গিয়া বসলাম। শেইন আর সাথের মেয়েটা জিজ্ঞেস করল আমি কমফোর্টেবল আছি কি না।

কমফোর্টেবল আছি জাইনা আমার থিকা বিদায় নিল। বলল, খুব শিগগিরি কেউ আমারে অ্যাটেন্ড করবে।

আমি অনেক্ষণ বইসা রইলাম ওয়েইটিং রুমে। কেউ আসল না। আমি মনে মনে নিজের সাথে কথোপকথন চালাইলাম। একটা পাজেল মিলানোর চেষ্টা করলাম। প্যারামেডিক্সদের ইউনিফর্মের ডাবল জিপার কোথার থিকা শুরু হয়, কোথায় শেষ হয় সেই পাজেল। তার পর পরই কেন জানি না, ওয়েইটিং রুমে আর পাঁচজন লোক যে বইসা ছিল, তাদের থিকা একজন উইঠা চইলা গেল, তারপরে আরেকজন, এবং তারপরে আরেকজন।

আমি ভাবলাম, আমিই বা বইসা থাকি কেন? কেউ তো এখনও আসল না। আমি রিসেপশনিস্টরে বইলা হসপিটাল ইমার্জেন্সি থিকা বাইর হইয়া গেলাম।

বড় রাস্তায় গিয়া মোনাশ কফিল্ড ক্যাম্পাসের বাস নিলাম। কফিল্ড ক্যাম্পাসে নাইমা মনে হইল বাসায় আসছি। আমি সোজা লাইব্রেরিতে ঢুইকা গেলাম। বেশ খানিকটা কাজও করলাম। কাজ শেষে আমি কফিল্ড স্টেশন থিকা ট্রেন নিয়া হান্টিংডেইল স্টেশনে নামলাম। হাঁইটা বাসায় গিয়া কলিং বেল টিপতেই আব্বা দরজা খুইলা দিল।

আমি সিঁড়ি দিয়া উপরে চইলা গেলাম আমার ঘরে। ঘামের কাপড় ছাইড়া ফ্রেশ বাসার কাপড় যেই পরছি, ওমনি কলিং বেল বাইজা উঠল।

লুনা আপার উত্তেজিত কণ্ঠ শুনলাম: “পুলিশ আসছে সানিরে নিতে। ও কাউরে না জানাইয়া হসপিটালের ইমার্জেন্সি থিকা চইলা আসছে। সানি বাইর হও! সানি বাইর হও!”

আমি যে “আসতেছি” বলতেছি বার বার সেইটা হয়ত কেউ শুনতেছে না। ঘর থিকা বাইর হইয়া দেখলাম পুলিশ, আর সবার হাসি হাসি মুখ। ইফাও এক গাল হাসি নিয়া বাসায় ঢুকল। এরা কি ছদ্মবেশি পুলিশ? আমারে জেল-এ নিবে না বইলা সবাই খুশী হইয়া হাসতেছে? কোথায় নিবে আমারে? এইগুলা ভাবতে ভাবতে আমি সিঁড়ি দিয়া নামলাম।

নামতেই একজন পুলিশ বলল, “তোমার মা আর বোনদেরকে হাগ দাও।” আমি বাধ্য মেয়ের মতো হাগ দিলাম।

পুলিশ বলল, “তাদের গালে কিস-ও দাও।”

আমি কিস-ও দিলাম।

তারপরে বলল, “আমরা তোমারে নাইসলি নিব। হাতকড়া পরাব না। আসো আমাদের সাথে।”

আমি তাদের সাথে গেলাম। চারদিকে অন্ধকার। সেই অন্ধকারেই দেখলাম পুলিশের স্টেশন ওয়্যাগনটা পার্ক করা আমাদের বাসার সামনেই।

“তারপরে তারা যেইভাবে বলল সেইভাবে প্রথমে গাড়ির বুটে বইসা তারপরে স্লাইড কইরা কইরা পিছনে গেলাম।”—অলঙ্করণ. সানিয়া রুশদী

গাড়ির বুট খুইলা দিল একজন পুলিশ। বুটের ভিতরের ভিডিও ক্যামেরা, মাইক্রোফোন আর স্পিকার দেখাইল। আমি পালাইতে চাইলে বা কিছু ভাঙচুর করলে যে তারা দেখতে পাবে এবং সেই অনুযায়ী অ্যাকশন নিবে, সেইটা আমারে জানাইল।

আমি জানলাম। তারপরে তারা যেইভাবে বলল সেইভাবে প্রথমে গাড়ির বুটে বইসা তারপরে স্লাইড কইরা কইরা পিছনে গেলাম। স্লাইড করার অংশটা থিকা রঙ উইঠা রুপালি হইয়া গেছে। আরও কত কত মানুষ এই গাড়িতে এইভাবে উঠছে কে জানে?

বুট বন্ধ করা হইল। ভিতরে অন্ধকার। গাড়ি চলতে শুরু করল।

(চলবে)

SHARE
Previous articleরোমানা
সানিয়া রুশদী
বিদ্যায়তন: উদয়ন বিদ্যালয় (ঢাকা, বাংলাদেশ), কাওয়ান্ডিলা প্রাইমারি স্কুল (অ্যাডেলেইড, অস্ট্রেলিয়া), ওকলি হাই স্কুল (মেলবোর্ন, অস্ট্রেলিয়া), মেন্টোন গার্লস সেকেন্ডারি কলেজ (মেলবোর্ন, অস্ট্রেলিয়া), মোনাশ ইউনিভার্সিটি (মেলবোর্ন, অস্ট্রেলিয়া), ইউনিভার্সিটি অফ সিডনি (সিডনি, অস্ট্রেলিয়া), ডিকিন ইউনিভার্সিটি (মেলবোর্ন, অস্ট্রেলিয়া)। লেখাপড়া ও কাজকর্ম: প্রাথমিক শিক্ষা ঢাকায় উদয়ন স্কুলে। ১৯৮৭ সাল (স্কুলের ৪র্থ শ্রেণী) নাইজেরিয়াতে কেটেছে। ৫ম শ্রেণী উদয়ন স্কুলে শেষ করে, ১৯৮৯ সাল থেকে অস্ট্রেলিয়াতে আছেন। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন শহরে আছেন। মোনাশ ইউনিভার্সিটি, সিডনি ইউনিভার্সিটি ও ডিকিন ইউনিভার্সিটিতে জৈব বিজ্ঞান ও মনোবিজ্ঞান পড়েছেন।