হোস্টেল (১১)

আগের কিস্তি প্রথম কিস্তি

৪৫.
কলেজ থেকে হোস্টেলে ফিরে খেতেও আলসামি লাগে।  গোসল করাটাও বিশাল কষ্টের মনে হয়।  তার উপর কমন টয়লেট ব্যবহার করতে হয়। আরেকটা রুমের ভিতর দিয়ে যাওয়ার সময় সবাই ভ্রু কুচকে থাকে, যেন দয়া করে তাদের টয়লেট ব্যবহার করতে দিচ্ছে।

জুতাটা না খুলেই উপুড় হয়ে শুয়ে আছি।  আমার রুমটা হার্ডবোর্ডের পার্টিশন দেওয়া, দুনিয়ার চিল্লাচিল্লি ঝগড়াঝাটি সব কানের কাছে এসে ঝন ঝন করে বাজে।  অস্বাস্থ্যকরও বটে।  আমি তো গোছানো না, তার উপর মিতা আপু আরো অপরিষ্কার।

সবচেয়ে কষ্ট আর অসুবিধার ব্যাপার হল কাপড় কাচা আর তারপর সেটা শুকানো।  প্রথম প্রথম বুয়াদের টাকা দিলেই কাপড় ধুয়ে দিচ্ছিল। শুকিয়ে এনেও দেয় কিন্তু জামা কাপড় ১০টা ধুলে ৬টা পাই আর ৪টা গায়েব।

বলারও কোনো রাস্তা নাই, নগদে অস্বীকার, তারপর গলাবাজি করে বলবে, আপনার কাপড় আপনি ধুইয়া নেন।  এরপর থেকে আর ধোয়াই হয় নি।  ময়লা কাপড়গুলো খাটের কোনায় জমা আছে, কাপড়গুলোর দিকে তাকাতে তাকাতে ঘুম চলে আসল।

কেউ একজন মাথার কাছে বসে চীৎকার করে কাঁদছে।  তাড়াতাড়ি উঠে বসলাম।  মিতা আপু কখন রুমে ঢুকেছে টেরই পাই নি।  তাকিয়ে দেখি ফোনটা কানে নিয়ে মাথা ঠুকছে আর কাঁদতে কাঁদতে বলছে, “ওরে রাকিব তুই একটু ভালো হয়ে যা।  তুই কি কখনোই আমাকে একটু বুঝবি না? আমার জন্য কি একটুও মায়া হয় না? এভাবে আর কতদিন? তুই আমার সাথে থেকে আবার কক্সবাজার কীভাবে যেতে পারলি।  এর চেয়ে আমাকে মেরে ফেল।”

কথার মাথামুণ্ডু বুঝতেই পারছি না, আবার কী করলো রাকিব ভাই! তাকিয়ে আছি আপুর দিকে।  আপু ফোনটা কান থেকে সরিয়ে দেয়ালে ছুঁড়ে ফেললেন।  নোকিয়া এগারো শ, কতবার যে আপুর হাতের এমন আছাড় খেয়েছে ফোনটা।  আবার কলকব্জা তুলে লাগালেই ঠিক হয়ে যাবে।

মাথার চুলগুলো টানছে আর হাউমাউ করে কেঁদেই যাচ্ছে আপু।  কাছে গিয়ে কিছু জিজ্ঞেস করার সাহস পাচ্ছি না।  কী বলব, এমন তো প্রায় হয়।  মাঝে মাঝে মিতা আপু রাগে নিজের গায়ের কাপড়চোপরও ছিঁড়ে ফাতা ফাতা করে ফেলেন।  একটু কাছে গিয়ে আপুকে স্বাভাবিক করার জন্য বললাম, “চলো আপু খেতে যাই, চলো না, ওঠো তো, সব ঠিক হয়ে যাবে।”

আপু কোনো উত্তর দিচ্ছেন না, মাথা দুই হাটুর উপর রেখে নিচু হয়ে আছেন।  আমি মাথায় হাত দিয়ে বললাম, “চলো বাইরে খাই আজকে।  আজিজে ১০ রকম ভর্তা দিয়ে ভাত খাব, চলো না আপু যাই।”

মিতা আপু মাথা তুলে দুই হাত দিয়ে চোখ মুছতে মুছতে বললেন, “আমার ফোনটা দেখ তো কী হলো? এনে দেখতো চলে কিনা?”

খাটের তলা থেকে ব্যাটারি আর টেবিলের নিচ থেকে ফোনটা বের করে এনে সেট করতেই টু টু আওয়াজে ওপেন হয়ে গেল।  আপু হাতে নিয়ে কাকে যেন কল দিচ্ছে। বারবার ডায়াল করেই যাচ্ছে।  বিছানা থেকে উঠে গিয়ে আমাকে বলল, “যা রেডি হ, বাইরে চল।  বাইরেই খাব, তারপর আমার সাথে একজনকে খুঁজতে বের হবি চল।”

কাপড়চোপর হাতে নিয়ে গোসল করতে চলে গেলাম।  এসে তাড়াতাড়া রেডি হচ্ছি।  মিতা আপু পুরাই চেন্জ, সাজুগুজু করে রেডি।  কিছুক্ষণ আগে যে হাউ মাউ করে কাঁদছিলেন কিছুই বোঝা যাচ্ছে না চেহারা দেখে।  শুধু চোখটা ফোলা ফোলা লাগছে।

৪৬.
আজিজে গিয়ে ভরপেট ভর্তা দিয়ে ভাত খেলাম আমি আর মিতা আপু।  আজিজের লিফট আমার ভয় লাগে, আপু উপরে উঠতে বললেন।  আমি উঠব না।  আর কখনো মার্কেট ছাড়া উপরে যাইও নি।  মার্কেটের উপরে যে বাসা বাড়ি আছে সেটাও জানতাম না।  ভাঙা ভাঙা ভুতুরে সিড়ি পেরিয়ে উঠলাম ৭ তলার উপরে।  মেসের মত লাগছে।  আশপাশ দিয়ে বদনা হাতে, খালি গায়ে, সিগারেট হাতে বিভিন্ন বয়সী লোকজন হাঁটছে।

জায়গাটা ছাদের উপর, প রপর কয়েক দফায় ছোট ছোট সাজানো মেস ঘরের মত।  হুজুর ধাঁচের এক লোক আমাদের ইতিউতি তাকানো দেখে বলল, কারে খোঁজেন আপনারা?

আপু বললেন, “আসলে আমার ভাই থাকেন এখানে কিন্তু জানি না কোন রুমে। তাই খুঁজছি।”

লোকটা একটা পিতলের দাঁত খোচানি দিয়ে তার হলুদ হলুদ বিশ্রী দাঁত খোঁচাতে খোঁচাতে বলল, নাম কিতা আপনের ভাইয়ের? কী করে ভাই?”

মিতা আপু নম্রভাবে বললেন, “আমার ভাইয়ের নাম, হেমন্ত।  কবি, সাংবাদিক।”

কোন হেমন্ত, ওই যে বড় বড় চুলওলা ঝিনাইদহের ছেলেটা আপনার ভাই? কথাগুলো বলেই, হাত দিয়ে বা পাশে চিপার একটা রুম দেখিয়ে বললেন, ওই যে ওই রুমে থাকে। বিকাল পর্যন্ত ঘুমায়।  এখনো ঘুমাচ্ছেই খায়ও না তো আপনার ভাই।”

আপু একটু হেসে বললেন, “জী ছোট বেলা থেকেই ও এমনই।  কোনো দিকে খেয়াল নাই তার।  কোনো খোঁজও নেয় না আমাদের। তাই দেখা করতে আসলাম।”

লোকটা বলল, “যান যান একটু বোঝান।”

লোকটার আতলামি দেখে বিরক্ত লাগছে।  অকারণে পেচাচ্ছে।  আলগা দরদও দেখাচ্ছে।  তার উপর আপুর যে কোনো একটা ভাই আছে এটা আজকেই শুনলাম।

রুমের সামনে টিনের দরজা, দরজার উপর খাবলা খাবলা রঙ চটা চটা ছবি আঁকা।

কোন একটা মেয়ে, বিরাট বড় একটা পেট তার। পেটের ভিতর একটা বাচ্চার ছবি আঁকা।  আর বাচ্চাটার হাতে সিগারেট, বাচ্চাটা পায়ের উপর পা তুলে সিগারেটের ধোঁয়া ছাড়ছে মুখ দিয়ে।

ছবিটা দেখে খুব বিব্রত লাগছে।  কী রুচি মানুষজনের, এই রকম ভাবে দরজার উপর ছবি এঁকে রাখতে পারে! কেমন রুচির মানুষ এরা!

দরজা খুললো ২৬/২৭ বছর বয়সী একটা ছেলে।  মুখের পাশ দিয়ে গাল ভিজা, চোখের পাপড়ি ময়লায় প্রায় বন্ধ হয়ে আছে। মুখ বিশ্রী বড় হা করে হাই তুলতে তুলতে তাকিয়ে আছে আমাদের দিকে।  কিছুক্ষণ পরে বললো, আরে মিতা তুমি? এইখানে? কীভাবে আসলা?

আপু বললেন,  “আগে ঢুকতে দাও, বলছি সব।  তোমাকে এত সহজে খুঁজে পাবো নিজেও ভাবি নি। পুরা আন্দাজের উপরে আসছি।”

আপু কথা বলতে বলতে ভিতরে ঢুকলো, সাথে আমিও। আপুর সাথে হেঁটে, নিচে বিছানা পাতা বিছানায় বসছি।

এতক্ষণ হাড় জিরজিরে লোকটা খালি গায়ে ছিল। এখন স্তুপ করে রাখা কাপড় থেকে টান দিয়ে একটা গেন্জি টেনে নিয়ে পরছে।  পেটটা যেন আমচুরের মত ভেতরের দিকে ঢুকে আছে।  বুকের পাজরগুলোও দেখা যাচ্ছে, খালি গায়ে যে মানুষকে এমন গা কির কিরে লাগে, না দেখলে বুঝতাম না।  আমি মাথা নিচের দিকে করে চুপচুপ বসে আছি। লোকটা আপুকে একটু বসতে বলে, বের হয়ে গেলেন।

৪৭.
আমি চারিদিকে তাকাচ্ছি।  আপু হঠাৎ করে বললেন, “জানিস এই ছেলেটাকে ডাম্প করে আমি তোর ভাইয়ার সাথে প্রেম শুরু করি।  তারপর থেকে আর কোনো যোগাযোগ নেই।  এতোদিন জেলে ছিল, এখন এখানে উঠেছে শুনতে পেয়েছি একজনের কাছে, তাই ছুটে আসলাম।  জানি সবাই ফিরিয়ে দিলেও হেমন্ত মুখ ফিরিয়ে নিবে না। আমার করারও কিচ্ছু ছিল না।  বাবা নেই আমার জানিস তো।  মা একা সংসার চালাচ্ছেন, ছোট একটা বোন আছে।  তাও মামা খালাদের কাছ থেকে চেয়ে নিয়ে পড়ালেখাটা চলতো।  কত ছোট হয়ে থাকি তাদের কাছে, তা‌ও দেয় তো দেয় না।  এইচএসসি পরীক্ষা তখন মাত্র শেষ করে কলেজে ভর্তি হলাম ইডেনে।

এর দুবছর আগে থেকেই গরীব গরীব সম্পর্কে কাটছিল আমাদের দিন।  হেমন্ত ইটও ভাঙতো রাস্তায়, তারপর আমাকে বই কিনে দিত ওই টাকা দিয়ে।  ওর বাবা মা আছে, তবে দুটাই নাকি সৎ।  এভাবে আসলে দিন সত্যি কাটছিল না। তারপর একদিন রাকিবের সাথে পরিচয়, আস্তে আস্তে ঘনিষ্ঠতা বাড়তে বাড়তে আজ চূড়ান্ত তিক্ততায় কাটছে প্রত্যেকটা মুহূর্ত।  হেমন্তকে অনেক কষ্ট দিয়েছি।  তাই প্রায়শ্চিত্ব করতে ওর কাছেই ফিরে আসলাম।  জানি আমাকে ফেরাবে না হেমন্ত।  অনেক প্রেম বাকি যে আমাদের।”

কাঁদতে কাঁদতে ফুপিয়ে উঠছে আপু।  এমন সময় সেই হেমন্ত রুমে ঢুকলো।  গামছা দিয়ে মুখ মুছতে মুছতে আবার ওই গামছাতেই নাক ঝারছে।  গা কির কির করে উঠছে আমার। নামের সাথে কাজের কোনো মিল নাই।  ময়লা ময়লা চেহারার সাথে ব্যবহারও খুবই অপরিষ্কার ধাঁচের।  আমার এ ধরনের মানুষ কখনোই ভালো লাগে না।  আমি অগোছানো মানুষ, কিন্তু পরিষ্কার।  তবে হোস্টেলে আসার পর আর তেমন পরিষ্কারের বালাই নাই আমারো।  এভাবেই কোনো মত দিন কাটছে।

হেমন্ত মিতা আপুর পিঠের কাছ ঘেষে বসে বললেন, “কী গো কী খাবা তোমরা? এটা কে?”

আপু বললেন, “ও বিথী।  আমার রুমমেট।”

আমার যেন এর চেয়ে আর বেশি কোনো পরিচয়ই নাই।  খুব শর্টকাটে ছেড়ে দিলেন আপু আমার পরিচয় পর্ব।

আপু হেমন্ত ছেলেটার প্রায় অনেক কাছাকাছি গিয়ে পা দিয়ে ছেলেটার হাটু চেপে ধরে বললেন, “হেমন্ত, অনেক কথা আছে সহস্র হেমন্ত সকাল হারিয়ে গেছে এই জীবন থেকে, বাকিটা আমার চাই।  দিবা তো? অনেক আশা করে দুটো হাত পেতেছি, ফিরিয়ে দিবা?”

হেমন্ত হা হা করে হেসে উঠল।  কী শুরু করলা বলো তো? কই কত বছর পর দেখা হলো বলবা কী করছো, করছো না, ঘুরে বেড়াই চলো আমরা,  তা না শুরু করলা আদিম যুগের কথা।  আমাকে জলজ্যান্ত দেখেও দেখি তোমার খাউশ মিটে না।

কথাটা বলতে বলতে আপুর চুলে বিলি কেটে দিল হেমন্ত।  ব্যাপারটা ন্যাকামো লাগলো, তবুও অনেক রোমান্টিক।  ছেলেটাকে আর দশটা ন্যাকা ছেলেদের মত ঠিক লাগছে না।  কিছু একটা ভিন্নতা আছে।  ঠোঁটের কোনে এক চিলতে বাঁকা হাসি।  খারাপ না তো, বেশ লাগছে।  ছেলেটা আসলেই মনে হয় ভালোবাসতো আপুকে।  নাইবা কিছু থাকলো, গরীব হয়তো, তবু বেশ তো ভালোবাসতে পারে দেখি। কই রিয়াদ তো এমন ছিল না কখনো।  ভুলেই আছে আমাকে।  জানি না আমি কোথায় আছি ওর মনের।

ভাবতে ভাবতে টনক নড়লো আমার।  আপু ছেলেটার পেটে হাত দিচ্ছে, চেপে ধরে, আর হেমন্ত খুব জোরে হেচকা টান দিয়ে ছাড়িয়ে একটু দূরে সরে গেল।  আমার চোখে চোখ পড়লো হেমন্তের। আমি সাথে সাথে চোখ নামিয়ে ফেললাম।  হেমন্ত একটু খক খক করে কেশে বলল, মিতা, চলো একটু বিকালের হাওয়া খাই।  বের হই আগের মত ঘুরে বেরাই দুজনে।

আপু সাথে সাথে বললেন, হুম চলো, অনেকদিন তোমার সাথে হাওয়া খাই না।  আরো অনেক কিছুই খাই না।  বলো আজ আমি তোমাকে খাওয়াবো, কী খেতে চাও বলো তো হেমন্ত?”

হেমন্তের গালে হাত দিয়ে আরো কিছুটা কাছে গিয়ে ফিস ফিস করে মিতা আপু আরো কী কী যেন বলছেন।  এবার খুব অস্বস্তি লাগছে আমার।  আমি আছি তা যেন জানেই না মিতা আপু।  কারণে অকারণে হেমন্তকে চিপকে চিপকে ধরছে, ছুতানাতায় রোমান্টিক নায়িকাদের ভয়েসে কথাও বলছে।  আমাকে দেখে লজ্জাও লাগছে না মিতা আপুর।  আমার যে লজ্জা লাগছে এটা এই হেমন্ত বুঝলেও আপুর কোনো যায় আসছেই না।

হেমন্ত আপুর বাহু থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে আমার কাছে এসে দাঁড়ালো।  আমার দিকে হাত বাড়িয়ে বললো, বিথী চলো তো বের হই তোমার মিতা আপুকে নিয়ে।  পাগলিটার মাথা মনে হয় একদমই গেছে।”

আমি ছেলেটার হাত থেকে মুখের দিকে তাকিয়ে আছি হা করে।  আমার সাথে এই প্রথম কথা হেমন্তের।  আর প্রথম দেখাতেই হাত ধরে উঠবো ভাবতেই পারছি না।  আপুর দিকে তাকালাম।

আপু বলল, “ওঠ যাই বের হই সন্ধ্যা হতে চললো। ”

হেমন্ত তখনো স্ট্যাচুর মত হাতটা আমার দিকে বাড়িয়ে ধরে আছে।  আমি মাটিতে পাতা বিছানা থেকে তার হাতটা না ধরেই উঠে দাঁড়ালাম।  ও কী বুঝে যেন হো হো করে হেসে উঠলো।  হাসিটা বেশিই উচ্চস্বরে ছিল।

টেবিল থেকে পুরানো একটা ঘড়ি হাতে পরে আমাদের নিয়ে ঘরটা থেকে বের হয়ে আসলো হেমন্ত। দরজায় যখন তালা দিচ্ছিল তখন ছবিটা আবার চোখে পড়তেই আমি জিজ্ঞেস করে বসলাম, “আচ্ছা ভাইয়া ছবিটা কি আপনার আঁকা?”

হেমন্ত আমার দিকে তাকিয়ে বলল, “কোনটা বলো তো।  কোন ছবির কথা বলছো?”

আমি দরজায় আঙুল দিয়ে দেখালাম, “এই যে এই ছবিটা কার আঁকা?”

হেমন্ত মাথা চুলকাতে চুলকাতে বলল, “আজাদের আঁকা।  আমার রুমমেট। পাগলা আজাদের কাজ এইটা।  খুব ব্রিলিয়ান্ট কিন্তু এই সমাজের কাছে আঁতেল পোলাটা।  আচ্ছা আরেকদিন চলে আইসো পরিচয় করিয়ে দিব।  আজ ও মাওয়া ঘাট গেছে ছবি আঁকতে। আর্ট কলেজে পড়ে।”

একটু হাসি দিলাম ভদ্রতাবশত।  কোনো ইচ্ছাই নাই এই আজাদের সাথে আমার দেখা করার।  খুব অসহ্য আসলেই আঁতেলের মত ছবি আঁকে।

সিঁড়ি দিয়ে নেমে নিচে এসে চোখ বন্ধ হয়ে আসছে। উপরটা খুব অন্ধকার ছিল। এখন রাস্তার আলোতে তাকাতে পারছি না।

আপু হেমন্তের হাত ধরে আছে। আমি কিছুটা দূরে। হেমন্ত বলল, “চলো তাহলে আমরা ছবির হাটের দিকে যাই।”

আপু বলল, “চলো চলো। আচ্ছা বিথী তুই তাহলে চলে যা রুমে। যেতে পারবি তো? চাবি এনেছিস নাকি আমারটা দিব?”

আমি বললাম, “হুম পারবো যেতে। আর চাবিও আছে সাথে।”

হেমন্ত আমার কাধের ব্যাগটা টেনে ধরে বলল, “আই কোথায় যাও? চলো একসাথে। আমাদের সাথেই চলো। একই সাথে যেও রুমে। তুমি আবার আগে যাবা কেন?”

আপু আবার বললেন, “ও যেতে চাচ্ছে যেতে দাও। ও এত রাত পর্যন্ত বাইরে থাকে না। যা বিথী তুই যা, ওর কথায় নাচিস না।”

আমার কেমন যেন অপমান অপমান লাগছে। পেছনে আর তাকালাম না। একবারো আর তাকালাম না।

(কিস্তি ১২)       

About Author

নওয়াজ ফারহিন অন্তরা
নওয়াজ ফারহিন অন্তরা

স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে পড়ছেন। জন্ম- ঢাকা, মে ১৯৯৩।