হোস্টেল (৩)

(আগের কিস্তি)

১৭.
আজ আর সময় নিয়ে রেডি হলে চলবে না, সকাল ৭টার মধ্যে রেডি হয়ে কলেজ বাসে ওঠা লাগবে। বিউটির সাথে দাঁড়িয়ে আছি। আজ কলেজ বাসেই যাব। কলেজ বাস ছাড়া যাবে না ছয় মাসের আগে। বাস ভাড়া গুনতে হবে এখন আমাকেই, করার কিছুই নাই। বিউটিকেও আজ বাস মামাকে বলে আমার সাথে বাসে ওঠাবো। এখানে আমার কলেজের আরো হোস্টেলের মেয়েদের সাথে কথা হচ্ছে। কথা হওয়ায় অনেকটা আশ্বস্ত হচ্ছি। একা একা অনুভূতিটা কিছুটা কাটছে।

বাস আসছে, দূর থেকে কলেজ বাস দেখা যাচ্ছে। হাত দেখালাম। বাস মামা আমাকে দেখে হাসি দিয়ে বললেন, কী মামা বাসের রুট চেন্জ করছেন?

আমি হাসি বিনিময় করে বললাম, হুমম মামা এখন এই এলাকাতে থাকি তো। এটা আমার বান্ধবী বিউটি, ও আজ আমার সাথে বাসে যাবে।

বাস মামা বললেন, উঠেন মামা সমস্যা নাই গা।

আমি আর বিউটি বাসে উঠে বসলাম। সিট অল্প। একজনকে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে। তাই আমরা একটা সিট দুজন শেয়ার করে বসছি। আমার ক্লাসের কয়েকটা মেয়ে এই বাস এ আছে। সবার সাথে হাই হ্যালো করে বিউটিকে জিজ্ঞেস করলাম, সমস্যা হচ্ছে না তো বসতে?

বিউটি বলল, আরে না। তুমি বসছো তো ঠিকমত?

আমি বললাম, হ্যাঁ ঠিক আছি।

বিউটি আমার থেকে বেশ স্বাস্থ্যবান। প্রায় অর্ধেকের বেশি জায়গা নিয়ে বসেছে। তবু ওকে ভদ্রতা দেখিয়ে বললাম ঠিকভাবে বসছি।

বাসে নানা প্রশ্ন মেয়েদের — ফার্মগেট কোথায় বাসা? ফ্যামিলি না কি হোস্টেল? আগে না বাসায় থাকতা? ফ্যামিলি এখন কোথায়?

এত প্রশ্নের জবাব কমন করে ফেলেছি। সবাইকে বলি, আমার বাবা বদলি হয়ে গেছে তাই হোস্টেলে উঠেছি।

মিষ্টি তো জিজ্ঞেস করে বসল, আঙ্কেল কই বদলি হল? আহারে তোর তো এবার অনেক কষ্টই হচ্ছে। তুই আমার হোস্টেলে চলে আয় না।

আমি চিন্তায় পড়ে গেলাম, এখন কই বলব বদলি হয়েছে বাবা। মুখ দিয়ে বের হয়ে গেল বান্দরবান।

মিষ্টি তো খুশিতে অস্থির বান্দরবান শুনে। বলল, ওয়াও দারুণ। তাহলে তো আমি তোর সাথে যাবই তোদের বাসায় ঘুরতে। কবে যাবি রে তুই?

মিষ্টির কথা শুনে উত্তর খুঁজে পাচ্ছি না। বললাম, দেখি বলব তোকে।

মিষ্টি কমার্সে তাই দেখা হয় কম। এখন থেকে মিষ্টির সাথে খাতির কমাতে হবে বলে মনে হচ্ছে। কতক্ষণ আর মিথ্যা বলা যায় এভাবে। আপতত প্রসঙ্গ বদলানো দরকার। বললাম, ওই মিষ্টি, আজ কি রুটিনে পরিসংখ্যান ক্লাস আছে?

বাস ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় ঢুকছে। এলাকাটা আমার খুব ভালো লাগে। শান্ত, সবুজ, কোলাহলমুক্ত আর পুরাই নিরাপদ। চারপাশে এমপি গার্ড।

কলেজ বাস কলেজের ভিতর ঢোকে। বাইরে দাঁড়ালে আমার বিরক্তই লাগত মনে হয়।

বাসে আমাদের সাথে নার্স আপু আর তিনজন ম্যাডাম থাকেন। ম্যাডামরা থাকেন হয়তো নিরাপত্তার জন্য। আর নার্স আপু থাকেন যদি কোন মেয়ে অসুস্থ হয়ে যায় তাহলে তাৎক্ষণিক সেবার জন্য।

বাস থেকে কোন রকম চেউভেউ না করেই লাইন দিয়ে নামলাম। একেবারে ভদ্রভাবে নামি, আমরা যতটা দুরন্ত তার ছিটেফোটাও টিচাররা টের পায় না। কলেজের সাত জন ডিসিপ্লিন ক্যাপ্টেনের মধ্যে আমি একজন। এখন কলেজের ফাস্ট ইয়ারে তাই আমি শুধু ফাস্ট ইয়ারের মেয়ে আর স্কুলের মেয়েদের চেক করি। বহুত হ্যাপা এই কলেজের। ড্রেস পরিষ্কার কিনা, হাতের নখে নেইলপলিস আছে কিনা, চুল কালার কিনা, চুলে ফ্যান্সি বেল্ট কেউ পরল কিনা আর সবচেয়ে লক্ষণীয় ব্যাপার মোবাইল চেকিং। আমার প্রথম প্রথম ভালই লাগত। এখন অনর্থক মনে হয় ব্যাপারটা। আমি গুরুত্ব দিয়ে চেক করি না, মায়া লাগে। নিজদের জন্য স্কুলের মেয়েদের জন্যও। এখন ক্লাসে ব্যাগটা রেখেই চেকিং মিশনে নামতে হবে। কে যেন আমার নামে বিচার দিয়েছে এই কদিনেই। আমি কাজ করি না, কলেজেও আসি না। ক্লাস টিচার ওয়ার্নিং দিয়েছেন আমাকে, কর্তব্যে অবহেলা করে আমি রুলস ভাঙছি।

সকাল সকাল খালি পেটে তিন তলা সিঁড়ি বেয়ে ওঠা খুব কষ্টের, ক্লাসে ব্যাগটা রেখে মাঠে নেমে আসলাম কর্তব্য পালনের জন্য। আমাকে দেখে স্কুলের মেয়েরা বেশ খুশি। ক্লাস টেনের ফাবিহা দৌড়ে এস জড়িয়ে ধরল। বিথী আপু কই হারায় ছিলা তুমি? এই কদিন টিনা আপু তো আমার পিছনে লেগেই ছিল। বলে কিনা, এই মেয়ে তুমি আবার স্টাইল করে চুল বেঁধে আসছো? এবার কিন্তু তোমাকে ভিপির কাছে নিয়ে যাবই। আরে ফ্যাশানের কী বোঝে ওই টিনটিনা। এই বয়সে ফ্যাশান করবো না তো কবে করব?

এক নিঃশ্বাসে কথা বলতেই আছে ফাবিহা। মেয়েটা দেখতে মিষ্টি। ওর বাবা আর্মি অফিসার। হেব্বি ঢং করে। বাসা থেকে বের হতে পারে না। বাবা মা ফুপি বড় বোন কেউ না কেউ সাথে থাকেই। ছেলেদের সাথে দেখা সাক্ষাতের সুবিধা কলেজে আসা যাওয়ার পথে একটু পায়, তাও যদি বাসা থেকে গাড়ি না পাঠায়।  বান্ধবীদের সাথে বাসায় ফেরে তখন। আমার ক্লাসমেটরা হিংসাই করে ফাবিহাকে। আমার সাথে ফাবিহার খাতিরটাও ওরা আঁতলামি ভাবে। আমার দুপক্ষের কারো ব্যাপারেই কোন মাথাব্যথা নায়। তাই ফ্রেন্ডদের কথা হেসে উড়িয়ে দেই।

আমি হেসে বললাম, হুমম, তাহলে তো মনে হয় এই কদিন ছেলেরা তোর দিকে ভালো করে তাকায় নি।

ফাবিহাও হাসল।

ঘণ্টা বাজছে। লাইন ঠিক করতে করতে ফাবিহাকে বললাম, যা লাইনে গিয়ে দাঁড়া। আমি জুনিয়র, ক্লাসমেট সবাইকে তুমি বলি। শুধু ফাবিহা আর সোনিয়াকে ছাড়া।

কেউ একজন লাইনের মধ্যে আমার চোখ চেপে ধরল। বললাম, কে? সাড়া দেয় না। চোখ ছেড়ে আমার সামনে এসে বলল, ওহ আমাকে ভুলেই গেছেন আপনি।আমি তো সনিকে খুশিতে জাপটে ধরলাম। আমি যে রেগে ছিলাম সনির ওপর সেটা মাথায় আসে নি। বললাম, কীরে কই ছিলি তুই এই কদিন?

সনি বলল, পরে ক্লাসে গিয়ে বলছি, এখন লাইনে দাঁড়া। জাতীয় সঙ্গীত হচ্ছে।

আমার সনির কথা শুনে রাগ হচ্ছে খুব। তবু ধৈর্য্য ধরে অপেক্ষা করছি। দেখি কী বলে ক্লাসে ঢুকে।

অ্যাসেম্বলি শেষ করে ক্লাসে ঢুকতে না ঢুকতেই ম্যাম ক্লাসে ঢুকলেন। বিরক্ত লাগছে। কখন যে সনির সাথে কথা বলতে পারব বুঝতে পারছি না। ক্লাসের মধ্যে কথা বলা সম্ভব না। শিরিন ম্যাম বাংলা ক্লাস নেন, রাগী না তেমন, কিন্তু কথা বললে সোজা ক্লাসের বাইরে করে দিবেন।

অবাক হলাম সনি আমার পাশে না বসে শান্তার পাশে বসেছে। আবার দূর থেকে আমাকে হেসে হেসে হাই দিচ্ছে। ইচ্ছে করছে কষে একটা থাপ্পড় দিয়ে আসি। আজ ম্যাম হৈমন্তী পড়াচ্ছেন। বই না দেখে লাইন বাই লাইন গল্পের মত গুছিয়ে লেকচার দিয়ে যাচ্ছেন। শিরিন ম্যাম-এর পড়ানো আমার খুব ভাল লাগে। একটা আর্ট আছে। গলায় মিক্সড টোন নিয়ে পড়ান। হৈমন্তীর মন খারাপ ম্যাম এমন ভাবে পড়াচ্ছেন যেন ম্যাম হৈমন্তীর জায়গায় আর তার কণ্ঠে দুঃখ।

ক্লাস শেষ হল। সনি ম্যাডাম নিজেই শান্তার সাথে হাহা হিহি পর্ব শেষ করে আমার টেবিলের পাশে এসে বসল। আমি ভাব নিয়ে টিনার সাথে কথা বলছি। সনি পিঠে একটা কিল দিয়ে বলল, ওই এদিক তাকা, টিনারে ভাগা তো, কথা আছে।

টিনা তো রেগে আগুন, মানে তুমি বললেই বিথী আমাকে ভাগিয়ে দিবে?

সনি তো ঝগড়াটে ভঙ্গিতে টিনাকে ভেঙচি কেটে বলল, আহারে তাহলে কি তোমার কথা শুনে কথা বলবে টিনটিনা?

আমি টিনাকে বললাম, বাদ দাও টিনা, পরে কথা বলব আমরা। দেখি সনি কী বলে। তুমি রাগ কোরো না।

সনি তো প্রায় চিৎকার করে উঠল, ও বাপরে! বিথী, এত খাতির তোর টিনার সাথে? রাগ করতেও নিষেধ করছিস? আমি দুদিন আসি নি আর এই অবস্থা?

আমি কিছুই উত্তর দিচ্ছি না। টিনাও চলে গেল।

সনি আবার বলল, কীরে এত ঢং তোর কোত্থেকে আসলো?

আমার মেজাজটা খারাপ হয়ে যাচ্ছে সনির কথা শুনে। বললাম, কেন তোর কাছ থেকে আসছে। জানিস না? না জানার তো কথা না?

সনি হাসতে হাসতে বলছে, ও আপনি রাগ করে আছেন আমার সাথে? আচ্ছা মহারাণী, কী রাগের কারণ বলেন প্লিজ।

আমার খুব রাগ হচ্ছে । এমন ভাব যেন কিছুই জানে না।

আবার ক্লাসে স্যার ঢুকলেন। সনি এবার আমার পাশেই বসল। আমাদের কথাও বন্ধ হয়ে গেল।

ক্লাসে মনযোগ দিলাম। কিছুক্ষণ পর আয়া খালা এসে সনি, টিনা, রিংকি আর শান্তাকে ডেকে নিয়ে গেল। ভিপি বিএনসিসি ক্যাম্পিং-এর জন্য ডেকে পাঠিয়েছেন।

টিফিন টাইমের পর সনি ব্যাগ নিতে আসলো। আমাকে বলল, আমি তোকে কল দিব। তুই চলে যাস। ট্রেনিং আছে, তিনটা পর্যন্ত থাকতে হবে আমাকে।

আমার মনটা খুব খারাপ হয়ে গেল। কোন কথাই আজ হল না আমাদের।

কলেজের ক্লাস শেষে বাসে উঠে বসলাম। বিউটিকে টাটা দিলাম। বিউটি লোকাল বাসেই চলে যাবে।

 

১৮.
হোস্টেলের সিঁড়িতে উঠতে অনেক চেঁচামেচি শোনা যাচ্ছিল নিচ থেকেই। উৎসুকভাবে সিঁড়ি দিয়ে উঠে চার তলায় এসে দেখি আমাদের রুমের সামনে উপচে পড়া ভিড়!

মিতা আপু কাকে যেন ইচ্ছা মত বকছে। বাইরে দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ শুনলাম। আমার কী… আমার তো ভয়ের কিছু নাই। সারাদিন কী হয়েছে আমি তো জানি না। সো, আমি ভিতরে ঢুকতেই পারি নির্ভয়ে।

hostel3bb

 

ভিড় ঠেলে ঝগড়ায় সামিল হতে মিতা আপুর পাশে দাঁড়ালাম। আমাকে দেখেই পাশের রুমের রুবি বলল, এই যে আসছে এই নতুন মেয়ে, সবার সামনেই জিজ্ঞেস করেন এরে। কাল রাথে আমাদের রুমের টইলেঠে গেচিলো কিনা?

রুবি একটু তোতলা । ঠেকে ঠেকে কণ্ঠনালীতে ধাক্কা দিয়ে শব্দ উচ্চারণ করে। কিন্তু রুবির কণ্ঠনালীর ধাক্কার চেয়ে আমার বুকে আরো বেশি জোরে ধাক্কা লাগছে ওর কথায়। এর অর্থ কী? টয়লেটে গিয়ে এমন কী ঘটালাম।

রুবির পক্ষে থাকা তার খালাতো বোন উচ্চকণ্ঠে বলছে, ওই ছুরিডার জন্য রুবির গায়ে হাত দেয়া… আমি অফিসে জামুই।

মিতা আপু আরো উচ্চস্বরে গগন বিদারী চিৎকার জুড়ে দিলেন, আমার রুমের মেয়ের নামে কথা? দেখি কোন অফিস কী করে!

আমি ততক্ষণে ভয়ে জড়সরো হয়ে মিতা আপুকে শক্ত করে ধরে দাঁড়িয়ে আছি। তখনো আমার অপরাধ কী বুঝতে পারলাম না। কিন্তু নিশ্চিন্ত হলাম যে মিতা আপু থাকতে কেউ আমার কিচ্ছু করতে পারবে না। অন্য যারা এই বিচারালয়ে যুক্ত আছেন তারাও মিতা আপুর পক্ষে। সেই দিক থেকে আমারও পক্ষে।

মিতা আপুর চড়ে রুবির দাঁত থেকে নাকি রক্তও পড়েছে। তাই ব্যাপারটা রক্তারক্তিতে চলে গেছে। সেখানে আমার জবানবন্দি অতি আবশ্যক বলে মনে করলেন মিতা আপুর পক্ষেরই অনেকে।

মিতা আপু কোন ভাবেই তাতে সায় দিচ্ছেন না। তবু বড় আপুদের কথা উপেক্ষা না করতে পেরে আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, ওই বিথী তুই কি কাল পোনে নয়টার দিকে রুবিদের রুমের টয়লেটে গিয়েছিলি?

আমি ভাবলাম টয়লেটে যাওয়ার সময় সীমা নিয়ে কোন প্রবলেম। খুব সচেতন ভাবে ভেবে ভেবে বললাম হুম গিয়েছিলাম। কিন্তু ওই টয়লেট তো রাত দশটা পর্যন্ত ব্যবহার করা যায়, তাই গিয়েছিলাম।

আপু আমার উপর রেগে উঠলেন, বাড়তি কথা তো তোকে জিজ্ঞেস করি নি। এমনিতে তুই তুকারি করে ডাকছে, তার উপর আমার উপর রেগে যাচ্ছে, আমার ভয় লাগল একটু।

আসল ঘটনা মিতা আপু এরপর বললেন। রুবি নাকি কাল একটা ভিবেল সাবান কিনে টয়লেটে রেখেছিলো, সকালে উঠে দেখে সাবানটা নেই। এবং আমি এখানে নতুন তাই রুবির অনুমান এটা আমারই কাজ। সে বার বার বলছিল, অই করছে! অই করছে!

এই কথা শুনে অমি পুরাই ব্যথিত কণ্ঠে বললাম, আমি সাবান দেখিই নি।

মিতা আপু সাথে সাথে বলে উঠলেন, বলে ছিলাম না এই মেয়ে সাবানই দেখে নাই। যত্তসব মিসকিনরা সাবান নিয়া ভেজাল করতে আসছে, ভাগো সব রুম থেকে।

রুবি থামবার পাত্র মনে হচ্ছে না। বলল, আল্লাহ ঠিকই দেখছে সব। একটা দামি সাবান নিয়া কি বড়লোক হইতে পারবে? আমার সাবানের ঘ্রাণ আমি ঠিকই চিইনা নিমু। চোক্ষে কি দেখছে কেউ এমন সাবান!

মিতা আপু ধমক দিয়ে রুবির ভঙ্গি নকল করে বললেন, আচ্ছা যাও যাও, তুমার রুমে গিয়ে দেইকা নাও, সাবানের ঘ্রাণ নাও যা ইচ্ছা কর গিয়া, আমার রুমের আশেপাশে আসলে তোমার টয়লেট যাওয়াই বন্ধ করে দিব।

রুবি চোখ মুছতে মুছতে চলে গেল। রুবির খালাতো বোনও কথা বলতে বলতে রুম ছাড়লো। রুবিরা চলে যাওয়ার পর সবাই আমাকে উদ্দেশ্য করে মিতা আপুকে বলল, এই নতুন মেয়ের জন্য এত কিছু করার কি দরকার ছিল?

মিতা আপু রেগে রিক্তা আপুকে বললেন, আরে রুবি মাইয়াডা আগেও আমাকে অমান্য করার চেষ্টা করেছিলো, তাই রাগটা আজ একটু বেশিই ছিল। আর ওই বিথী সাবান নেওয়ার মেয়ে না। ওর ব্যাগে আমি দুইটা ডাভ সাবান দেখছি কালকেই। আমি একটু দূরে ছিলাম। আপুদের কথাটা কানে আসতে কেমন যেন লাগল। আমি তো ব্যাগে তালা মেরে মিতা আপুর কাছে চাবি রেখে গিয়েছিলাম!

(কিস্তি ৪)

About Author

নওয়াজ ফারহিন অন্তরা
নওয়াজ ফারহিন অন্তরা

স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে পড়ছেন। জন্ম- ঢাকা, মে ১৯৯৩।