হোস্টেল (৭)

(আগের কিস্তি)

২৮.
লিমন ভাইয়া প্রায় চলেই আসছেন হোস্টেলের গলির কাছাকাছি। আমরা অধীর আগ্রহে ভাইয়ার জন্য বসে আছি। লুবনা আপুর চেয়ে আমাদের আগ্রহ খুব একটা কম না। তবে লুবনা আপুর আর আমাদের আগ্রহের কারণ ভিন্ন। মেয়েদের হোস্টেলে একটা জলজ্যান্ত ছেলের আগমনের কারণে সবাই ওয়েলকাম করার জন্য তৈরি যেন! রাসফির জন্য এটা দ্বিতীয় বার কিন্তু আমার জন্য এই দৃশ্য প্রথম বার হতে যাচ্ছে।

হোস্টেলের গলিতে ঢোকার আগে লুবনা আপুকে কল করে কনফার্ম করলেন ভাইয়া। রিজভিয়া আর ঝর্ণা আপুকে পাঠানো হল নিচের সব কিছু যেন ঠিকঠাক ভাবে হয় সেটা দেখার জন্য। লুবনা আপু পায়চারি করছেন। মিতা আপু, আমাকে আর টুশি আপুকে বললেন অফিস রুমের সামনে ঘোরাঘুরি করে ওখানকার অবস্থা বুঝে মিতা আপুকে ফোনে জানাতে।

আমরা নিচে নেমে গিয়ে দেখলাম রিজভিয়া আপু একা সিঁড়ি দিয়ে ঝাপাতে ঝাপাতে উঠছে। টুশি আপুর সাথে সোজোরে ধাক্কা লাগলো রিজভিয়া আপুর। টুশি আপু চিল্লিয়ে বললেন, “ওরে রিজভি তোর কী ট্রেন ছেড়ে দিচ্ছে? অমন অন্ধের মত দৌড়াচ্ছিস কেন রে? হলোটা কী?”

রিজভিয়া আপু হাঁপাতে হাঁপাতে দম না নিয়েই বললেন, “টুশি তুই আমার সাথে চল ওপরে, এখানে থাউক বিথী। সময় সময় আপডেট দিবে আমাদের। লিমন ভাই তো আর একটু হইলেই কেস খাওয়াইয়া ছাড়তো আমাদের সবাইরে!”

টুশি আপু, নাক সিটকে বললেন, “কোন গড়বর করছে? হায় আল্লাহ, এখন কি ধরা খাইছি আমরা সবাই? নাকি লিমন ভাই একা? সব ঠিকঠাক সামলে নিতে পারছে তো?”

রিজভিয়া আপু আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, “বিথী, তুই থাক এখানেই। কোনো ঝামেলা দেখলে উপরে সাথে সাথে সংবাদ দিবি। দেখিস কোনো ভুল হলে তোরও রক্ষা নাই। সব একসাথে ফেঁসে যাব।”

আমি সুবোধ বালিকার মত মাথা ঝাকিয়ে হুমম বললাম।

ইচ্ছে হচ্ছে জানতে কী হল, লিমন ভাইয়া কী করেছেন। কিন্তু সময়টা ভালো না তাই কিচ্ছু জিজ্ঞেস করলাম না। রিজভিয়া আপু টুশি আপুর হাত ধরে টানতে টানতে উপরে উঠে গেলেন।

একটু পরে মিতা আপু আমাকে কল করে চার তলায় উঠতে বললেন। এর মধ্যে নতুন কিছু ঘটেও নি নিচে, ঝর্ণা আপু লিমন ভাই কারো পাত্তাও নেই। আমি ওপরে উঠে দেখি লুবনা আপুর মুখটা শুকনো হয়ে আছে। চোখগুলো ছল ছল করছে। মিতা আপু সান্ত্বনা দিচ্ছেন লুবনা আপুকে, “আরে লুবনা আপু, এত সিরিয়াস কেন হচ্ছো? সময় তো এখনো অনেক আছে। তোমার রোমিও সময়ের একটু আগেই চলে আসছে। যেটুকু সাজগোজ করে বাবু সেজেছেন রোমিও লিমন সেটার ব্যবস্থাও হয়ে যাবে। ভাইয়ার ইঞ্জিনিয়ার সাজ এক তুড়িতে উড়িয়ে দিব। তোমার আাশিকের বাবুগিরি বাইরে শেষ করে আমরা ঠিক অরিজিনাল মেকানিক সাজাইয়া আনতেছি। তুমি শুধু তোমার সাজটা নষ্ট কইরো না।”

মিতা আপুর কথা শুনে লুবনা আপু হেসে ফেললেন। বললেন, “মারবো তোকে একটা গাট্টা। খুব ফাজলামি করতেছিস তাই না? দেখ না বোন কিছু একটা করে আমার লিমনটাকে নিরাপদে ভিতরে নিয়ে আয় না।”

টুশি আপু কোত্থেকে যেন একটা আয়রন ছাড়া নীল রঙের ফ্যাকাশে টি-শার্ট নিয়ে এসেছেন। মিতা আপু হাতে নিয়ে বললেন, “ওরে বাপরে পুরাই পারফেক্ট তো! কোথায় পেলি রে টুশি?”

টুশি আপু একবার লুবনা আপুর দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে বললেন, “ওই যে লাভলির যেই মেসের ছেলেটার সাথে খাতির আছে ওই ছেলের এক মেস বন্ধুর এটা। লাভলিরে বললাম পারবি নাকি ম্যানেজ করে দিতে? ও সাথে সাথে গিয়া নিয়ে আসলো।”

লুবনা আপু উঠে দাঁড়িয়ে গাড়ির টায়ারের মত ক্যাচক্যাচ স্বরে চিল্লাতে চিল্লাতে বললেন, “ওই টুশি তোরে আমি পঁচা ডোবায় চুবামু। আমার জামাইরে তুই এই নাপাক কাপড় পরাইবি?”

মিতা আপু বললেন, “উফ লুবনা আপু এতো পাক-নাপাক চিন্তা করলে কি আর মেয়েদের হোস্টেলে ঢোকা যায় নাকি? তুমি বসো তো। দাঁড়াও আমি একটু বডি স্প্রে মেরে দেই তাহলেই আর অস্বস্তি লাগবে না। আর ভাইয়াকে বইল না যে এটা কার কাপড়, তাহলেই তো ল্যাঠা চুকে যাবে।”

hostel 7 b

লুবনা আপু বললেন, “হুমম বুচ্ছি বুচ্ছি। কিন্তু পরাইবি কি রাস্তায়? কে নিয়ে যাবে? টুশি? আবার তো মারতেছোস মাইয়াদের বডি স্প্রে!”

টুশি আপু বললেন, “হি হি হি, হুমম আমি নিয়ে যাব কিন্তু তোমার জামাই যে আমার সামনে শার্ট চেন্জ করবে না এটা নিশ্চিত থাকতে পারো। ভাইয়ার সিক্স প্যাক তুমি আজ একালাই দেখতে পারবা। আমি দেখুম না হুহহহহ…।”

লুবনা আপু লজ্জায় লাল হয়ে গেলেন। উনার বয়ফ্রেন্ডের যে সিক্স প্যাক আছে সেটা হোস্টেলের অন্যসব মেয়েদের সামনে বেশ একটা গর্বের ব্যাপার। দেখতে ভালো, এবি ব্যাংকের আইটিতে কাজ করে, চাপা শ্যামবর্ণ চেহারা সব কিছুর সাথে সিক্স পেক একটা একস্ট্রা কোয়ালিটি।

লুবনা আপু খিকখিক করে হাসলেন একটু লজ্জা ভাব। শাড়ির আঁচলের কোটা দিয়ে মুখ ঢাকলেন একটুখানি। তারপর টুশি আপুকে ধাক্কা দিয়ে বললেন, “যা তো বিচ্ছু নিয়া আয় তোর সিক্স প্যাকওয়ালা ভাইটারে।”

২৯.
হোস্টেলের ভিতরে তাড়াহুড়া লেগে গেছে। ভাইয়া আর কিছুক্ষণের মধ্যেই এসে যাবে। লুবনা আপুর সাজসজ্জা আর ঘরের ডেকোরেশন শেষ বারের মত লিডার মিতা আপু ঠিকঠাক আছে কিনা চেক করে নিলেন। আমাকে মিতা আপু আগে গিয়ে সিঁড়িতে দাঁড়ানোর জন্য পাঠিয়ে দিলেন। আমি সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে আছি ফোনের দিকে খেয়াল রেখে। কখন আপুরা কেউ কল দিয়ে কোনো সতর্কবাণী দিবেন সেই অপেক্ষায়। উপর থেকে কয়েকজন সিঁড়ি দিয়ে নামার ধুপধাপ শব্দ পেয়ে তাকিয়ে দেখলাম টুশি আর রিজভি আপুকে। টুশি আপুর হাতে নীল কুচকানো শার্টটা।

আপু আমাকে বললেন, “তুই এইখানেই থাক। ভাইয়া যখন লাভলির সাথে উপর দিয়ে উঠবে তখন তুইও উঠবি। আমরা কিছুক্ষণ পর উঠব।”

৩০.
আমি সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে লাভলি আর লিমন ভাইয়ার অপেক্ষা করছি। রিয়াদের জন্যও সেদিন সিঁড়িতে অপেক্ষা করেছিলাম। রিমনকে টা টা দিয়ে বাসায় গিয়ে বুঝে উঠছিলাম না, সন্ধ্যার পর আবার কীভাবে বের হব! রিয়াদ আসবে সন্ধ্যা ৭টার পরে। আজ হয়তো আমার জীবনের একটা বিশেষ দিন আসতে যাচ্ছে। এতগুলো দিনেও রিয়াদের মুখ থেকে শোনা হয় নি। ডেইলি একটা গোলাপ পর্যন্তই ছিল সব। ছেলেটা বেশ চাপা স্বভাবের। আবার ফ্রডও হতে পারে। কিন্তু না জেনে ভুল বোঝা ঠিক না। তাই আমার কাছে রিয়াদ একটা চাপা স্বভাবের, ডিসেন্ট আর সুইট প্রেমিক। প্রেমটা চলছে কিন্তু মুখের ভাষায় শোনার অপেক্ষা আজ ফুরাবে।

বাসায় ফিরে নাস্তা করতে করতে মাকে পটানোর প্ল্যান আওড়াচ্ছিলাম। বিকালে মা বেশ ফুরফুরে মেজাজে থাকেন। তাই এই সময়টা মাকে ভরকানোটা সহজ। মা চা নিয়ে টেবিলে আমার সামনের চেয়ারটায় বসলেন। আমি একটা ড্রাই কেক হাতে নিয়ে মাকে বললাম, “নাইন সি-এর আন্টি যে, উনার বোনের মেয়েকে নাচ শেখানোর জন্য বলেছিলেন পরে তো আমি আর কিছু বললাম না। মা তুমি তাহলে সন্ধ্যার পর নাইন সিতে গিয়ে আন্টিকে বইলো আমি শুক্র-শনিবার বিকালে ফ্রি থাকব।”

মা বললেন, “সামনে তোমার পরীক্ষা। তাই পড়ালেখা লাটে তোলার জন্য নাচ শেখাতে চাও? দরকার নেই এসবের।”

আমি বললাম, “উফফ মা এক ঘণ্টা তো এমনি-ওমনিও চলে যায়। এতে পড়ালেখার ক্ষতি হবে না। নাচের প্র্যাক্টিসটাও থাকবে তাহলে।”

মা চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে বললেন, “এত প্র্যাক্টিস রেখে কী করবে? তুমি কি নেচে নেচে বেড়াবা নাকি? অনেক টাকা দিয়ে নাচ শিখিয়েছি। পুরস্কার পেয়েছো, এখন শেষ।”

নাচ আমার খুব পছন্দ। আমি এই ব্যাপারে অনেক দুর্বল। মা জানেন। কিন্তু মায়ের উপর কোনো কথা বলার অথবা নিজের ইচ্ছা প্রকাশ করা আমার জন্য ভয়ঙ্কর। আমি মায়ের কাছে যত সহজ হতে চাই মা ততই কঠিন হয়ে যান। তাই চেষ্টা করে নিজের অবস্থান আরো খারাপ করার কথাও ভাবতে পারি না। আজ রিয়াদের সাথে দেখা করার জন্য নাচের কথাটা তুললাম। আর কিছু মাথায় আসলো না যার ভিতরে যুক্তি আছে কিন্তু সন্দেহ নাই। তাই মায়ের কথায় বুক ফেটে, চোখ ফেটে কান্না পেলেও নিজেকে কন্ট্রোল করে নিলাম। এখন ভেঙে পড়লে চলবে না। কান্নাকাটিতে যোগ দিলে সব প্ল্যান চোপাট হয়ে যাবে। মা ক্যাচক্যাচ করবে দ্বিগুণ।

আমার কান্নাকাটির তেমন দাম ছিল না মায়ের কাছে। তাই বিগড়ে যাওয়ার আগেই মাকে রাজি করাতে হবে নাচ শিখাতে দেওয়ার জন্য। মায়ের দিকে তাকিয়ে বললাম, “তুমি তো একসময় বলতে মা, যে নাচ ঘরের মধ্যে করলে সমস্যা নেই। কাউকে শিখালে তো মনেও পড়বে। কাজেও আসলো তোমার শিখানোটা। আর তুমি যেদিন থেকে আন্টিকে আমি নাচ শিখেছি বলেছো সেদিন থেকে উনি আমাকে দেখলেই শেখানোর কথা তোলেন। এখন উনি তো ভাববেন আমি আসলে নাচ জানিই না।”

মা একটু খক খক করে বললেন, “ভাবলে কী হয়েছে। উনাকে আবার প্রমাণও করতে হবে নাকি?”

মনে হচ্ছে মা টোপটা গিললেন না। হাতে তেমন সময়ও নেই সাড়ে ৭টা-৮টার মধ্যে রিয়াদ চলে আসবে, মানে হাতে আর এক ঘণ্টা আছে। সময়ের এখন অনেক মূল্য। মাকে যে কোনো ভাবে পাঠাতেই হবে নাইন সিতে। আমার খাওয়া-দাওয়া খতম। মা চায়ের কাপ নিয়ে রান্নাঘরে চলে গেলেন। এখন কথা বাড়াবো কীভাবে ভাবনার কোনো তল খুঁজে পাচ্ছিলাম না। দাঁত দিয়ে নখ কাটতে কাটতে ভাবছি। হঠাৎ টেবিলে চায়ের কাপ রাখার ঠক শব্দে টনক নড়লো আমার। মা আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, “গল্টু সোনাকে তো আনতে হবে। তাই একবার যাব নাইন সিতে। দেখ তো ইন্টারকমে কল করে পিচ্চুটা বাসায় আসতে চায় নাকি?”

আমি মনে হল আশার আলো দেখতে পাচ্ছি। আমার ছোট ভাই মায়ের আদরের গল্টু, পিচ্চু, পুচকা অথবা বাবুজি। আমার চেয়ে প্রায় ১০-১১ বছরের ছোট। মায়ের রাজপুত্র সে। আমাকে মোটেও মানে না। সারাদিন মারামারি লেগেই থাকে। গল্টু মানে অঙ্কনের বয়স মাত্র দুই বছরের একটু বেশি তখন। কিন্তু হেব্বি পাজি, দুষ্টু আর জেদি।

আমরা তিন ভাই বোনদের মধ্যে আমি কেমন যেন সালাদ টাইপের। তেমন কোনো বায়না ধরি না। অল্পতেই হাল ছেড়ে দেই। কোনো কিছুর শখ হল হয়তো মা বাবাকে বললাম। তারপর যখন দেখি মা বাবার কানেই গেল না ব্যাপারটা তখন আর আগাই না। মনে মনে চিন্তা করি যখন নিজের টাকা হবে তখন পূরণ করে নিব। কিন্তু ততদিনে শখটা আর বেঁচেই থাকে না। তাই শখগুলো পূরণ হওয়ার আগেই হারিয়ে যেত। এতে তেমন একটা দুঃখকষ্টও লাগতো না আমার। ভাবলেশহীন থাকতাম। রিয়াদের সাথে প্রেমটা হয়তো এজন্যই হয়েছে। আমার ছোট ছোট শখগুলো খুব চটজলদি পূরণ করে আমাকে পুরাই তাক লাগিয়ে দিত রিয়াদ। আমি মুগ্ধ হয়ে যেতাম। রিয়াদের কাছে আমার নিজের স্পেস ছিল অনেক। ওইখানে আমি সবটা উচ্ছ্বাস আনন্দ বায়না প্রকাশ করতে পারি। সবগুলো শখ পূরণ না হলেও আমি প্রকাশ করতে পারি ইচ্ছামত। কেউ একজন আমার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনছে, বিরক্ত হচ্ছে না, বকছে না, আবার উপেক্ষাও করছে না। এই সবটাই আমার স্বপ্নের মত লাগত। তাই স্বপ্নের মধ্যে ডুবে গিয়ে আজ রিয়াদের সাথে দেখা করাটা নেশার মত হয়ে গেছে। আমার বাবারো নেশা আছে। উনি সিগারেট খান। উনি সিগারেটটা অনেক মনোযোগ দিয়ে খেতেন। ওই সময়টা উনাকে দেখলে আমার মনে হত তার জীবনের একটাই ভালো কাজ তিনি করছেন, এইটা উনাকে সবচেয়ে ভালো ভাবে করতে হবে। জ্বলন্ত সিগারেট হাতে নিয়ে চশমাটা একহাতে ঠিক করে স্বভাবত ডান কাঁধটা একটু ঝাঁকি দিয়ে প্রথম টানটা দিতেন তিনি। লাইটার দিয়ে ঠোঁটে রাখা সিগারেটটা ধরানো থেকে শেষ টানের পর অ্যাস্ট্রেতে সিগারেটের শেষাংশ ফেলা পর্যন্ত তার যেই যত্ন আর মনোযোগ দেখি, আমি তার অন্য কোনো কাজে এমন আগ্রহ আর মনোযোগ খুঁজে পাই নি। আমিও সেইরকম ভাবে রিয়াদের সব ব্যাপারে যত্নবান অন্য কোনো ব্যাপারে সেই আগ্রহটা আসতো না আমার। আর কোনো কাজেও মন বসত না। রিয়াদ চোখের সামনে না থাকলে ওকে নিয়ে ভাবা আর ও সাথে থাকলে ওর সাথে গল্প করে সময় কাটতো আমার। আজ তাই আমার কাছে অনেক স্পেশাল ডে।

মা নিজে থেকেই আন্টিদের বাসায় যেতে চাচ্ছেন। এটা তো আমার জন্য সাপে বর। কিন্তু মা যেন বেশিক্ষণ থাকেন আর রিয়াদ আসার পরই যেন যায় সেই ব্যবস্থা করাটা জরুরি। আগে পিচ্চিটার সাথে কথা বলতে হবে। আমি ইন্টারকমে কল দিয়ে নাইন সিতে কল দিয়ে দিতে বললাম বাবুল গার্ড আঙ্কেলকে।

দুজন গার্ড আঙ্কেল বাবুল আর রতন গল্টুকে মাথায় করে রাখতেন। খুব আদর করতেন পিচ্চিটাকে। বিচ্ছু পিচ্চুটা ১০-১৫ মিনিট ধরে ইন্টারকমে তার নাইন সি-এর বন্ধু ইসমামের সাথে কথা বলে। আঙ্কেলরা বিরক্ত হতেন না। পিচ্চি আবার বেশ বুঝদার অন্য কোনো গার্ড থাকলে আবার অল্প কথা শেষ করে ফোন রেখে দেয়। কল ধরল গল্টু নিজেই। ধরে বলল, “ওহ তুই? মনে হয়েতিল তুইই…। মাম কোথায় তলে গেল? আমি এখন খেলব। মামকে আততে বল। এখন রাখি তা তা।”

আমর কথা না শুনেই ফোন রেখে দিল গল্টু। আমি রিরক্ত হয়ে মাকে বললাম, “পিচ্চি এখন নাকি খেলবে আর তোমাকে যেতে বলেছে।”

মা বললেন, “হুমম, ওই বাসাতেই সারাদিন কাটায়, বাসায় আসলে তো তোমার সাথে খিচ খিচ লেগেই থাকে। তরকারিটা হয়ে গেলেই আমি যাব।”

আমি নিজের ঘরে গিয়ে রিয়াদকে মায়ের ফোন থেকে কল দিলাম লুকিয়ে লুকিয়ে। রিয়াদ রাস্তায়, আর চল্লিশ মিনিট লাগবে। এর মধ্যে মোটামুটি রেডি হতে হবে আমাকে। মা যেতে তো আরো মিনিমাম ৩০ মিনিট লাগবে। আমি ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধুলাম। মা যেন না বোঝেন তাই তাড়াতাড়ি মুখটা মুছে নিলাম। এখন জামা চেঞ্জ করলে মা বুঝে যাবেন তাই যাওয়ার আগে একটা ভালো ওড়না পরে নিব ভেবে রাখলাম। ড্রয়ার থেকে একটা ফ্যান্সি কালো ওড়না বের করে বিছানার তলায় রেখে দিলাম।

মা রান্নাঘরে লাইট অফ করে দিলেন। মানে রান্না শেষ। এখন মা যাবেন। আমিও গোপনে গোপনে রেডি হয়ে নিচ্ছি। বাসায় মনিকা আছে। মনিকা আমাদের বাসায় থাকতো। মায়ের সাথে কাজ করে ঘরের। কাজের লোক পুরোপুরি না। ছোট থেকে আমাদের বাসায় কাজ করতো। পাশাপাশি ও ক্লাস সিক্সে পরে পাশের একটা সামান্য খরচের সরকারি স্কুলে। আমার বয়সী। আমাদের সম্পর্ক ভালো। কিন্তু ওকেও রিয়াদের সম্পর্কে তেমন কিছু বলি নি। আমি প্রথম দিকে বেশ সাবধানী ছিলাম এই ব্যাপারে। তাই জানাই নি। কিন্তু একটু একটু সাহায্য নেই। মনিকা আছে বলে অনেকটা রক্ষা।

মা বের হয়ে গেলেন। মনিকাকে ডেকে বললেন, “আমি নাইন সিতে যাচ্ছি। খালু আসলে ইন্টারকমে জানাস আর কাজটাজ শেষ করে বিথী আর তুই পড়তে বসবি। টিভি নিয়ে বসে যাবি না।”

আমি ভিতর থেকে চুপচাপ শুনছিলাম। দোয়া করছিলাম মা যেন ফোনটা নিয়ে না যান। কিন্তু মা আমাকে ডেকে বললেন, “বিথী ফোনটা নিয়ে আসতো।”

আমি ফোনটা চটজলদি চেক করে মায়ের হাতে দিয়ে দিলাম। রিয়াদ আর কল দিবে না শিওর আমি। ও এসব বোঝে। রিমনের মত আহাম্মক আর বিরক্তিকর না।

৩১.
মা ফোনটা নিয়ে বের হয়ে গেলেন। মনিকা রান্নাঘরে কিছু একটা ধোয়ামোছায় ব্যস্ত। আমি মনিকার পাশে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকলাম। ও কিছুক্ষণ পর বলল, “কী, তুমি কিচু খাবা নাকি অন্য কোনো ঝামেলা।”

আমি বললাম, “আমি একটু ছাদে যাব। এক ঘণ্টা থাকবো। মা যদি এর মধ্যে চলে আসে কী করব তখন? কিছু একটা বুদ্ধি বের কর।”

মনিকা গ্রামের মেয়ে, মানুষের বাসায় এক অর্থে কাজ করে। আমার মা পড়াচ্ছে বলে পড়তে পারছে। কিন্তু সে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন, সুন্দর করে কথা বলে। ভাষায় কোনো আঞ্চলিকতার বালাই নাই। স্মার্ট। নিজে ড্রেসে কাজ করে পড়ে। আবার স্কুলে যায় বোরখা পরে। ও বেশ সুন্দরী তাই পাড়ার ছেলেরা বিরক্ত করতো। সব নিয়ে মনিকা বেশ স্মার্ট মেয়ে।

মনিকা ওর হাতের কাজগুলো শেষ করে আমাকে বলল, “আচ্ছা যাও। আমি কিছু একটা করে নিব। খালা যদি চলেও আসেন আমি বলব তুমি টয়লেটে অথবা বলব পড়ছো আর এর মধ্যে আমি ছাদে গিয়ে তোমাকে বলে আসবো। নেমে যাবা। খুব সমস্যা হলে বলবো তুমি নিচে গেছ কোক কিনতে। খালা তো জানেনই তোমার যখন-তখন কোক কাওয়ার ব্যারাম আছে।”

আমি খুশিতে মনিকাকে জড়িয়ে ধরলাম। ও হাসি দিয়ে বলল, আচ্ছা যাও।

এই যে আমাকে মনিকা বিদায় দিচ্ছে এর মধ্যেও ব্যাপক সুবিধা লুকিয়ে আছে। মনিকা ভাবে আমি বুঝি না কিচ্ছু। আসলে আমি ওর মতো সবই বুঝি। আমি ছাদে গেলে মনিকা প্রাইভেটে রতন গার্ড আঙ্কেলের সাথে ইন্টারকমে কথা বলবে। ওদের প্রেম চলছে। এতে আমার ক্ষতি নাই। সুবিধাই বেশি। তাই কখনো বোঝাই না আমি যে বুঝি।

আমি বের হয়ে ছাদে গিয়ে রিয়াদকে খুঁজলাম। এখনো ওর আসার সময় হয় নি ১০-১৫ মিনিট এখনো বাকি। তবু খুঁজে নিলাম একবার। না পেয়ে ছাদে ওঠার আগের সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে থাকলাম। আর লিফটের দিকে তাকিয়ে আছি কেউ উঠে কিনা ১৫ তলায়। ছাদ ১৫ তলার উপরে। ১০ মিনিট ধরে দাঁড়িয়ে আছি কেউ উঠছেই না।

এরপর দেখলাম গ্রাউন্ড ফ্লোর থেকে সরাসরি কোনো তলায় না থেমে লিফটে উপরের দিকে উঠছে ১৪ তলাও পর হয়ে যাচ্ছে। আমি কনফার্ম হলাম এটা রিয়াদই হবে। একটু রোমান্টিক ধাঁচ আনার জন্য তাড়াতাড়ি ছাদের উপরে উঠে গেলাম। তারপর ছাদের পাঁচিলের ধার ঘেষে উদাস ভঙ্গিতে আকাশের তারা গোনার ভান করে আকাশে তাকিয়ে থাকলাম।

৩২.
এমন জায়গায় দাঁড়ালাম যেন রিয়াদ ঢুকলেই আমাকে দেখতে পারে। কিন্তু অনেকক্ষণ হয়ে গেল, রিয়াদ হলে তো পিছন থেকে ডাকবে। তেমন কিছু হচ্ছে না। আমি আর কতক্ষণ এভাবে ঘাড় বেকা করে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকবো বুঝতে পারছিলাম না। আবার যদি পেছনের দিকে ঘুরি ও আসছে কিনা দেখার জন্য তখনই যদি রিয়াদ আসে। এইসব সাত-সতেরো ভাবতে ভাবতে আরো ১০ মিনিট কাটানোর পরও কারো টু শব্দটা পেলাম না। আর ধৈর্য্য রাখতে পারলাম না। রোমান্টিকতায় পানি ঢেলে পিছনে ফিরে আমি ভূত দেখার মত চিল্লিয়ে উঠলাম। পাইপের উপর দাঁড়িয়ে ছিলাম একটু উঁচুতে দাঁড়ানোর জন্য ভয় আর চিল্লানির জোরে প্রায় পরেই যাচ্ছিলাম। রিয়াদ ধরে ফেলল আমাকে। কয়েক সেকেন্ড আমার দিকে হা করে তাকিয়ে আছে। আমিও চুপ হয়ে গেলাম। এই কয়েক সেকেন্ড কীভাবে গেল টেরই পেলাম না। রিয়াদ নিজেই আমাকে ছেড়ে দিল আমিও অহেতুক জামা ঝাড়তে ঝাড়তে বললাম, “ভূতের মত অমন দাঁড়িয়ে ছিলে কেন আমার পিছনে? কখন এসেছো টেরই তো পেলাম না! এটা কোনো কথা? কোন শব্দও পেলাম না তোমার।”

রিয়াদ বলল, “১০ মিনিট হল আসছি। তোমাকে দেখছিলাম। কীভাবে আকাশ দেখছো।”

আমি বেশ বিরক্ত হয়ে বললাম, “উফ তুমি কি বোঝো না যে আমি অনেক কষ্টে বাসায় মাকে ফাঁকি দিয়ে আসি? আর তুমি আমাকে দেখে সময়গুলো নষ্ট করলা? এর মধ্যে কত কথা যে বলতে পারতাম!”

রিয়াদ আমার দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে। রিয়াদ বলল, “আমি তো তোমাকেই দেখছিলাম। অন্য কিছু তো করি নি। তোমাকে নিয়ে সময় নষ্ট করলে করেছি।”

আমার একটু অস্বস্তি লাগলো। সময় নষ্ট করার কথাটা বলা উচিৎ হয় নি। রিয়াদকে ইজি করার জন্য বললাম, “আসলে তুমি অনেকক্ষণ দাঁড়িয়েছিলে, মানে কষ্ট হয়েছে তোমার। তাই বললাম আর কি। আমি তোমাকে লক্ষ্য করি নি বলেই তো তোমাকে দাঁড়িয়ে থাকতে হল। সরি, রিয়েলি সরি।”

রিয়াদ বলল, “আরে না না আমার মোটেও কষ্ট হয় নি। বরং তোমাকে দেখতে এতটাই ভালো লাগছিল যে ডাকতে ইচ্ছা করে নি। ডাকলে যদি তোমার ধ্যান ভেঙে যেত তাই।”

আমি একটু লজ্জা পেলাম। নিচের দিকে তাকিয়ে বললাম, “তাও তো তোমার কষ্টই হল।”

রিয়াদ বলল, “তোমার তো চলে যেতে হবে। আন্টি তো নয়তো খুঁজবে তোমাকে। তোমাকে কিছু কথা বলার জন্য আজ এসেছি। আর তোমাকে দেখার জন্য তো বটেই। চলো একটু বসে কথা বলি।”

পুরো ছাদে এখন কেউ নেই আমি আর রিয়াদ ছাড়া। প্রিয় মানুষের সাথে খোলা ছাদে চাঁদের আলোতে বসে কথা বলতে ভালোই লাগে। আমরা দুজন কোনার দিকের একটা সিমেন্টের বসার জায়গায় বসলাম। রিয়াদ প্রায় আমার গা ঘেষেই বসছে। এর আগে এত কাছাকাছি রিয়াদ আর আমি বসি নি। কেমন যেন বেশি বেশি ভালো লাগছিল। আমি রিয়াদের পাশে বসার কারণে ওকে দেখতে পাচ্ছিলাম না। আর কেমন যেন লাগছে। আগে এমনটা লাগে নি। রিয়াদ বসে আছে কিছু বলছে না। আমি নিজেই বললাম, “কী যেন বলবা তুমি বলছো না যে?”

৩৩.
রিযাদ একটু কোমল স্বরে আমার দিকে ঘুরে বসে বলল, “নাও এটা তোমার জন্য আমার দেওয়া মনে হয় শেষ গোলাপ। এখন আর প্রতিদিন তোমাকে গোলাপ দেওয়া হবে না। আমার তো ইচ্ছা করে প্রতিদিনই তোমাকে একটা না দোকানের সব ফুল দিয়ে দেই। কিন্তু সেটা তো সম্ভব না। আর এখন এই একটা গোলাপও আর দেওয়া হচ্ছে না।”

আমি যেন আকাশ থেকে পড়লাম। এর মানে কী! আর গোলাপ দিবে না? যেদিনই রিয়াদ আসে প্রত্যেকটা দিন আমাকে একটা করে গোলাপ দিয়েছে। দেয়। আর এখন বলছে আর দেবে না। এর মানে তবে কি আর আসবে না রিয়াদ। ও আমাকে ভালোই বাসে না!

আমার প্রায় কান্না চলে আসলো। কোনো রকমে কান্না কন্ট্রোল করলাম। গলা ধরে আসছে কিছু বলতে চাচ্ছি কিন্তু বলতেও পারছি না। কী করবো এখন আমি কিচ্ছু বুঝতে পারছি না। মাথা মনে হচ্ছে ঘুরছে। শুধু তাকিয়ে তাকিয়ে রিয়াদের কথা শুনছি। রিয়াদ আরো অনেক কিছু বলল। কিচ্ছু শুনতেই পেলাম না। অন্য কোনো জগতে চলে গিয়েছিলাম আমি। রিয়াদ আমার হাত ধরল মনে হল। ওর হাতের দিকে তাকালাম। রিয়াদ আমার হাত ধরে আমার চোখের দিকে তাকিয়ে বলল, “সরি বিথী, রিয়েলি সরি। এখন গোলাপের দাম ১০ টাকা থেকে ১৫ টাকা হয়ে গেছে। তাই ডেইলি আর গোলাপ দিতে পারবো না। কিন্তু গোলাপ দেওয়া বন্ধ হলেই বা কী! ভালোবাসা তো আর কমবে না। আমি তোমাকে ভালোবাসি বিথী। তাই গোলাপ প্রতিদিন দিতে না পারলেও ভালোবাসা একটুও কমবে না। বরং বাড়ছে বাড়বে। আমি আর প্রতিদিন নাইবা দিলাম একটা গোলাপ তোমাকে কিন্তু সারাদিনই মিস করি।”

আমি বিস্ময়ে তাকিয়ে আছি রিয়াদের দিকে কী বলব রিয়াদকে। আমি যা ভাবছিলাম ব্যাপারটা তো তা না। রিয়াদ সত্যি আমাকে ভালোবাসে।

রিয়াদ আমাকে একটু ঝাকি দিয়ে বলল, “উফ টেনশন কেন দিচ্ছ? বলে ফেল না আমাকে ভালোবাস তুমি? এত সময় নিও না তো। এমনিতেই এতগুলো সময় নষ্ট করেছো এতদিন ধরে। এখন যখন গোলাপের দাম বেড়ে গেছে তখনও কি চুপ করে থাকবা?”

আমার তো খুশিতে নাচতে ইচ্ছা করছে। রিয়াদের দিকে ভালো ভাবে ঘুরে বসে বললাম, “ওমা তুমি এতদিনেও বোঝো নি আমি যে তোমাকে পছন্দ করি।”

রিয়াদ একটু উচ্চস্বরে বলল, “এটা কী বললা তুমি? গোলাপের দাম বেড়ে গেছে বলে আমি আর প্রতিদিন তোমাকে গোলাপ দিতে পারবো না সৎ মনে বললাম। আর তুমি আমাকে সহজ সরল পেয়ে নাকে দড়ি দিয়ে ঘুরাইতে চাও?”

আমি বললাম, “ওমা কেন ঘুরাবো তোমাকে? বলছি না তোমাকে খুব ভালো লাগে আমার। নয়তো এমন টান থাকে তোমার প্রতি?”

রিয়াদ আবারো বলল, “উফ বিথী, আমাকে টেনশন না দিয়ে সরাসরি বলে দাও তো ভালোবাসো আমাকে? তাড়াতাড়ি বলো। এই দেখ আমি ঘামছি।”

আমি বললাম, “উফ তুমি বুঝতে পারছো না এখনও? আমিও ভালোবাসি তোমাকে। আর আমাকে প্রতিদিন গোলাপ না দিলেও মাঝে মাঝে দিও। আসলে অভ্যাস হয়ে গেছে, এখন তোমার কাছ থেকে পোলাম না পেলে কেমন নিঃস্ব নিঃস্ব লাগবে।”

রিযাদ বলল, “আরে পাগলি, আমি তো তোমাদের বাসার মোড়ের দোকান থেকেই গোলাপ কিনি। ওখানে অলরেডি বলে রেখেছি গোলাপের দাম আবার দশ টাকায় নামলে আমাকে ফোন করে জানাতে। আমি ফোন নাম্বার দিয়ে এসছি আর নিয়েও এসছি।”

আমি হেসে ফেললাম। বললাম, “আচ্ছা।”

রিয়াদ ঘড়ির দিকে তাকিয়ে বলল, “বিথী তোমার সাথে তো সারাদিই থাকতে ইচ্ছা হয় কিন্তু আমাকে ফিরতে হবে আজ। তোমারো তো যেতে হবে। এখন ধরা পড়লে চলবে না। এখন তো তোমাকে অনেক কিছু বলা বাকি আছে।”

আমি মন খারাপ স্বরে রিয়াদকে বললাম, “এখনি চলে যাবা? আচ্ছা যাও। আবার করে আসবা?”

রিয়াদ আমার মাথায় হাত দিয়ে বলল, “না এসে কি পারবো? আজ আব্বু কুয়েত থেকে ফিরবেন রাত ১১টার ফ্লাইটে। আব্বুকে আনতে যেতে হবে ফ্যামিলির সাথে। তাই একটু তাড়া আছে। মন খারাপ কোরো না। ফোনে তো কথা হবেই।”

আমি আর রিয়াদ হাত ধরাধরি করে কিছুক্ষণ ছাদে হাঁটাহাঁটি করলাম। তারপর রিয়াদ বলল, “আজ আসি জান। তুমি পরে নামো। আমি আগে নেমে যাই। নয়তো কেউ সন্দেহ করতে পারে।”

আমি ঘাড় নেড়ে আচ্ছা বললাম।

রিয়াদ আমার মাথায় অরেকবার হাত বুলিয়ে ভালো থেকো সোনা বলে নিচে নেমে গেল। আমি ছাদের ধারে গিয়ে দাঁড়ালাম। উপর থেকে রিয়াদের চলে যাওয়া দেখছি। রিয়াদ রিক্সা নিয়ে যেতে যেতে অদৃশ্য হয়ে যাওয়া পর্যন্ত তাকিয়ে থাকলাম। তারপর আমি ছাদ থেকে নেমে লিফটে না গিয়ে হেঁটে নামলাম ১৩ তলায়। বাসায় ঢুকে দেখলাম মা তখনো আসেন নি। আর মনিকা একটা সাদা কাপড়ে বানানো রুমালে সুই সুতা দিয়ে ডিজাইন করে ক্যাপিটাল লেটারে R লিখছে। নকশা কেটে রুমালে একটা লাভ বা হার্টের আকৃতির মধ্যখানে সেই R লেখাটা নীল রঙের আর লাভটার চারিপাশে লাল রঙের সুতা।

(কিস্তি ৮)

About Author

নওয়াজ ফারহিন অন্তরা
নওয়াজ ফারহিন অন্তরা

স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে পড়ছেন। জন্ম- ঢাকা, মে ১৯৯৩।