হোস্টেল (৯)

(আগের পর্ব)

৩৮.
মিতা আপুর সাথে সন্ধ্যার পর ঘুরতে যাবার কথা ছিল। সাথে রাকিব ভাইয়াও থাকবেন। অনেকদিন পর তাদের মনোমালিন্য কাটল। এবার ঘুরতে যাবে। সাথে আমাকেও নিয়ে যাবে। কথিত বাপ-মায়ের সাথে বাচ্চার মত ঘোরাঘুরি আর খাওয়া-দাওয়া করে চলে আসব। আমার আর কোনো রোল নাই। মাঝে মাঝে আপু-ভাইয়া ঝগড়া-মারামারি করলেও আমি চুপ করে থাকি। সেই মুহূর্তে কী করা উচিত আর উচিত না, তা বুঝে উঠতে পারি না।

আমি রেডি হয়ে বসে আছি, মিতা আপু রুবি আপুকে সান্ত্বনা দিতে গেছেন। ঘুরতে যাব বলে নীল রঙের একটা জামা পরেছি। নীল রঙ আমার খুব পছন্দ, রিয়াদের পছন্দ বলেই হয়ত আমারো পছন্দ। এত দিন একসাথে থেকে রিয়াদের অনেক কিছুই আমার ভালো লাগে। যা ভালো লাগে না তাও করি। করতে ভালো লাগে। পছন্দের তালিকা থেকে কিছু জিনিস বাদ দিয়ে অপছন্দের জিনিসও ওর জন্য করতে ভালো লাগে। আমার আর রিয়াদের একটা হেবিট ছিল, আমরা থুতু দিয়ে বাবলস্ বানাতাম, ওড়ানোর ট্রাই করতাম। কাজটা মোটেও সহজ না। বেশ কঠিন। আমি একশ বারে একবার পারতাম উড়াতে। রিয়াদ খুব এক্সপার্ট ছিল। প্রত্যেক বারই পারত। এভাবে ঘণ্টার পর ঘন্টা বাবলস ফুলাতে ফুলাতে কাটিয়ে দিতাম। তারপর ঘড়ির কাটা দেখে চিৎকার করে বলতাম, “ওই… বাসায় যাব না আমি? মা বের করে দিবে বাসা থেকে, আর একটু দেরি হলেই।” তারপর রিয়াদ আমাকে রিক্সায় উঠিয়ে দিতে দিতে বলত, “যাহ! আজকেও সময়গুলো নষ্ট হল, কিছুই কথা বলা হল না তোমাকে।”

আমি রিক্সায় উঠে বলতাম, “এসব কী বলো? সময় কি চলে যাচ্ছে? সারা জীবন তো পড়েই আছে।” তারপর যতক্ষণ দেখা যেত রিয়াদকে পিছন ফিরে দেখতে দেখতে যেতাম। একটা টেক্সট আসল, “tumi amk onk bojho. tumi na thakle hoyto r poth cholay hoto na. but aj kintu nil kapore tmk darun lagchilo. accha tmiki 1ta nil tip porte parba amr jonno? bag a niye eso ami poriye dibo> abar jawer somoy khule rakhbo. nil tipta r kaw dekhuk ami chaina. sabdhane jaw. r giye txt kore janio. ami bus a uthechi. ekhono sit paini, dariye dariye txt krchi.”

আমি কোনো উত্তর দিতাম না টেক্সটের। আমার রিপ্লাই পেলে রিয়াদ রিপ্লাই করতে অস্থির হয়ে পড়বে। দাঁড়িয়েই দাঁড়িয়েই করবে। আমি রিয়াদের আগে বfসায় ফিরি। তাই বাসায় গিয়ে জানাতাম, “ami basay matro aslam. sit peycho? sit na paley kintu kono reply dio na. bosey or basay giye janio. takecare. ratey kotha hobey. r nil tip ta ami ekhoni bag-a rakhchi. bye”

ভালোবাসাগুলো গোছানো ছিল না, আমি অগোছানো কিন্তু রিয়াদ কেমন যেন সবকিছুর মধ্যেও গোছানো থাকত। সব কিছুর মধ্যেও নিজেরটা ষোল আনা বুঝত। আমাকে সময় দিতে গিয়ে নিজের কাজের সামান্য ক্ষতিও করত না। আমি একটু চাইতাম আমার জন্য একটা দিন ক্লাস মিস দিক, বাসায় দেরি করে যাক অথবা কোনো কাজ থাকলেও সেটা না করে আমার পিছন পিছন ঘুরুক। কিন্তু কোনোটাই কখনো ঘটত না।

মিতা আপু ধরফর করে হেঁটে এসে আমাকে তাড়া দিলেন, “তাড়াতাড়ি বের হ। তোর ভাই এসে দাঁড়িয়ে আছে।”

আপু আজ কমলা রঙের একটা শাড়ি পরেছে। বেশ লাগছে দেখতে। আপু দেখতে কালো, মোটা, দাঁতগুলো ফকফকে সাদা, হাতের আঙুলগুলো টেপাটেপা, খাটো, আর ত্বকটাও রুক্ষ কিন্তু সাজলে সুন্দর লাগে। আপু সাজাতেও খুব এক্সপার্ট। শাড়িতে বেশি মানায়।

আপুদের ফ্যামিলির অবস্থা খুব খারাপ। বাবা অনেক আগেই মারা গেছেন শুনেছি। তবে কাহিনী অন্য কিছু বোঝা যায়। মাঝে মাঝেই ফোনালাপে শুনতে পাই কথাবার্তা, বাবার কথাও বলেন আপু। বেঁচে না থাকলে ওভাবে বলা যায় না। কখনো কারো সম্পর্কে জিজ্ঞেস করাটা অশোভন তাই বলি না। কিন্তু জানতে ইচ্ছাও করে। ভাইয়া মিতা আপুকে অনেক ভালোবাসেন। পড়াশোনা চলাফেরা হোস্টেল খরচ সবই ভাইয়া দেন। খুব কেয়ারও করেন। আমার ভালোবাসা দেখতে ভালো লাগে। ইদানিং মাকে ছাড়া থাকতে খুব কষ্ট হচ্ছে, পিচ্চিটাকেও খুব দেখতে ইচ্ছা করে। প্রায় রাতে কান্না পাচ্ছে। আপুকে জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়ে পড়ি। তারপর সকালে কলেজ। দিনগুলি এইভাবে কেটে যাচ্ছে। টের পাওয়ার সময় পাচ্ছি না। কিছু না কিছু নিয়ে ব্যস্ত আছি। অনেক দিন হয়ে গেল সোনিয়ার সাথেও ফোনে কথা হচ্ছে না। কলেজেও আসছে না মেয়েটা।

আপু পিঠে একটা চাপড় দিয়ে বললেন, ‘কীরে কই হারালি? হলোটা কী তোর? তারাতারি কর। কখন থেকে বলছি।”

আমি চটজলদি স্যান্ডেলটা খাটের তলা থেকে বের করে আপুর পিছু পিছু দৌড়াচ্ছি। মিতা আপু হিল পড়ে খটর খটর শব্দ করতে করতে নিচে নেমে যাচ্ছেন আমার আগেই। চার-পাঁচ সিঁড়ি নেমে আপুর আঁচলটা পিছন থেকে ধরে বললাম, “ইশ আমাকে একা রেখেই চলে আসছো?”

আপু বিরক্ত হয়ে বললেন, “হইছে এবার যা তো, রিকশা ঠিক কর, বসুন্ধরা সিটি।”

এই রিকশা, এই রিকশা, যাবেন মামা?

পাশের চায়ের দোকানে বসে আছে কয়েকটা ছেলে। ছেলেগুলো খিক খিক করে হলুদ হলুদ দাঁত বের করে হাসছে। গাটা জ্বলে যাচ্ছে। একটু চুপ করে থেকে আবার রিকশা রিকশা করে গলাখাকাড়ি দিলাম। আবার বদ পাড়ার উছাটে ছেলেগুলো খেক খেক করে বিশ্রিভাবে হাসল। মুড অফ করে ওদের দিকে একটা রাগান্বিত লুক দেয়ার ট্রাই করছি। কতটা হলো জানি না। কিন্তু ছেলেগুলোর সাথেই বসে থাকা উশকো-খুশকো মেজাজের কোকড়াচুলের ছেলেটা মাথা নিচু করে বসে আছে। কখনো কথা বলতে দেখি না ওকে। কেমন যেন শীতল চোখে একবার তাকায় আমার দিকে, আবার মাথা নিচু করে সিগারেটে টান দেয়। কখনো বদ মার্কা খেক খেক হাসি দেয় না, হা করে আমাকে গিলেও না। তবু কী যেন একটা দ্যাখে আমার দিকে তাকিয়ে। আমি বুঝি ওই বদগুলোর মাঝে একটা ভালো থাকা অসম্ভব। আমার কাছে ভালো ভাব দেখায় শুধু। তবু কেন যেন গেটের বাইরে পা রাখলেই একবার কোনার দোকানটায় চোখ যায়।

ছেলেটা হঠাৎ বাকিগুলোকে ধমকে বলল, ওই কী শুরু করলি? থাম। এটা কেমন অভদ্রতা? ওই রিকশা, ওই যাবা? বসুন্ধরা?

রিকশাঅলা বলল, না যামু না।

ছেলেটা তাড়া মেরে বলল, যাবা না কেন? যাও নিয়া যাও আপাদের।

আমি বিরক্ত হয়ে রিকশাঅলাকে বললাম, কত ভাড়া?

রিকশাঅলা বলল, চল্লিশ টাকা।

আরে বলে কী! ২০ টাকা ভাড়া ৪০ টাকা চাচ্ছেন? মগের মুল্লুক নাকি! বললেই দিতে হবে?

রিকশাঅলা বলল, না দিলে, যায়েন না।

ছেলেটা আবার রিকশাঅলাকে ধমক দিয়ে বলল, “ওই যাবেন না মানে কী? ৩০ টাকা নিবা, যাও।” ছেলেটা এখন আমার দিকে তাকিয়ে বলল, “যান। গরীব মানুষ। ৩০টাকা দিয়েন।”

খুব মেজাজ খারাপ হচ্ছে। কিচ্ছু বলতে পারছি না। মিতা আপু পেছন থেকে বললেন, ওঠ, উঠে যা তো।

আমি আর আপু রিকশায় উঠে বসলাম। আপু ছেলেটার দিকে হাত নেড়ে হেসে বলল, ধন্যবাদ ভাই।

ছেলেটা শুধু চোখের পাতা একবার বন্ধ করে ইশারা দিয়ে আমার দিকে তাকালো, আর কিচ্ছু বলল না। সামান্য ভদ্রতাও নেই। ভাব যেন রিকশা ঠিক করে দিয়ে মাথা কিনে নিয়েছে।আপুকে খুব বিরক্ত স্বরে বললাম, তুমি আবার ধন্যবাদ দিতে গেলা কেন? ছেলেগুলো একদম ফালতু।

আপু ফোন টিপতে টিপতে বললেন, “কই ওই ছেলেটা তো ভালোই। চুপচাপ। দেখতেও খারাপ না। তামিল হিরোদের মত।” বলেই আপু হো হো করে একাই হাসছেন। ভাইয়ার ফোন আসল। আপুর ফোনের রিং টোন বেজে উঠছে—আশিক বানায়া, আশিক বানায়া, আপনে। তেড়ে বিন সুনি সুনি, তেড়ে বিন পিয়াসি পিয়াসি….। আশিক বানায়া, আপনে।

দূরে রাকিব ভাইয়া বেঁকা হয়ে কোমরে হাত দিয়ে একটা কালো শার্ট পরে দাঁড়িয়ে আছেন। হাতে ডিএসএলআর ক্যামেরা। ভাইয়ার টাকা না থাকলে আপুও মনে হয় এইরকম খারাপ দেখতে লোকের সাথে প্রেম করতেন না।

৩৯.
রিকশা থামতেই ভাইয়া ভাড়া দিয়ে দিলেন। আপু রিকশা থেকে নেমেই উনার ফোনটা আমার হাতে দিয়ে দিলেন। আস্তে করে বললেন, সাইলেন্টই থাকুক। আমিও চেপে গেলাম। ফোনটা ব্যাগে রেখে আপুর পেছন পেছন হাঁটা দিচ্ছি।

ভাইয়া আপুর হাতটা শক্ত করে ধরলেন। কট মট করে তাকিয়ে বাজে ভাবে দাতমুখ খিঁচিয়ে কী যেন বলছেন কিচ্ছু শুনতে পাচ্ছি না।

কানটা খাড়া করতে ইচ্ছেও করছে না। এইসব প্রেমের জীবনে চিল্লাচিল্লি খুব বিরক্ত লাগে আমার। আপুকে দেখতে ভাল লাগছে, সেজেগুজে ঘুরতে আসছে, তাও ভাইয়ারই সাথে। তবু কী যন্ত্রণা।

আমরা সিনেমা হলের সামনের লাইনে দাঁড়ালাম। আপুকে হঠাৎ চেন্জ চেন্জ লাগছে। ভাইয়ার দাঁতমুখ খিচিয়ে কথা বলা আর আপির হাসি হাসি মুখের কারণ দুইটা মিলাতে পারছি না।

মিতা আপু আমাকে বললেন, “কী খাবি? মুভি হতে এখনো এক ঘণ্টা বাকি।”

আমি বললাম, “ভাইয়াকে জিজ্ঞেস করো আগে।”

আপু রেগে গেলেন, “তুই কি আমার সাথে আসছিস নাকি রাকিবের সাথে? খুব ‘ভাইয়া’ ‘ভাইয়া’ মারানো শিখছো না? তোমারে দেখি আদর করে মাথায় তুলে ফেলছি!”

আপুর কথা হা করে শুনছি। কী এমন বললাম আমি  যে এইসব কথা শোনাবে আমাকে! আমারও মেজাজ খারাপ হয়ে গেল। প্রায় খ্যাক খ্যাক কণ্ঠে বললাম, “ওমা, আদরে কী মাথায় ওঠালেন আপু? আমি তো আসতে চাই নি! আপনিই তো জোর করে আনলেন। বললেন শাড়ি পরে যাচ্ছি, একা যেতে ভাল্লাগবে না, চল তুই!”

এক নিঃশ্বাসে বলে একটু শ্বাস নিয়ে আবারও চোখ বন্ধ করে বললাম, “আর ‘ভাইয়া’ ‘ভাইয়া’ ‘আপু’ ‘আপু’ কোনোটাই আমি করি না। আমি ভদ্রভাবে বললাম আর আপনি এইসব বললেন!

আপু আমার দিকে শান্ত ভাবেই তাকিয়ে আছেন। কিছুই বলছেন না। ভাইয়া এসে আমার পাশে দাঁড়ালেন। বললেন, “কী কন্যা কী খাইবা? চলো মিতার জন্য শাড়ি দেখি দেশী দশে গিয়া।”

আপু সাথে সাথে ভাইয়ার হাত ধরে কাছাকাছি দাঁড়িয়ে বললেন, “চলো চলো, গত পরশু একটা সাদার উপর বেগুনি কোটা শাড়ি দেখছি। দারুণ। চলো, দেখায় নিয়া আসি তোমারে।”

ভাইয়া থেমে গিয়ে বললেন, “আরররে…. দাঁড়াও পরশু কখন, কার সাথে আসছ তুমি।”

আপু সাথে সাথে উত্তর দিয়ে দিলেন, “বিথী আর আমি বিকালে খাইতে আসছিলাম। তুমি যেই ৫০০ টাকা দিছিলা, সেইদিন ওটা দিয়া খেয়ে শাড়ি দেখে চলে গেছিলাম।”

৪০.
আপুর কথাগুলো অসহ্য লাগছে। কীভাবে আমাকে নিয়ে মিথ্যা বলেই যাচ্ছে। এমন ভাবে বলছে যেন সত্যিই আসছিলাম। আর মিথ্যা না বলেই বা কী হবে। এই রাকিব ভাইটাও ডাকাতের মত ব্যবহার করে সারাক্ষণ। যেন উনি পুলিশ আর সবাই ডাকাত।

আমি একটু ফিক করে হেসে বললাম, “হুম ভাইয়া শাড়িটা সুন্দর ছিল। আপুকে মানাবে খুব।”

আপু ভাইয়ার হাতটা টাইটানিকের নায়িকার মত ধরে ভাইয়ার সাথে প্রায় ল্যাংড়াতে ল্যাংড়াতে হাঁটছেন। পাশ থেকে মানুষজন সাইট টক করছে। আমার খুব লজ্জা লাগছে উনাদের সাথে হাঁটতে, তাই একটু কায়দা করে দূরে দূরে হাঁটছি। যাতে মনে হয় আমি উনাদের সাথের না।

hos9

দেশী দশে ঢোকার সময় আপু ভাইয়ার হাতটা ছেড়ে আমাকে “কী খাবি” “কী খাবি” বলতে বলতে এসে আস্তে করে বললেন, “হাতের ডান দিকে নিপুণে দেখবি কোটা শাড়ির মধ্যে একটাই বেগুনি সাদা শাড়ি, ওইটাই কিন্তু।”

আমি মাথা নাড়ালাম, মুখে কোনো উত্তর দিলাম না।

আপু আবার ভাইয়ার হাত গিয়ে ধরলেন। আমি আগে আগে হেঁটে গেলাম নিপুণের শো রুমে। গিয়ে, হাতের ডান পাশে কোটা শাড়ির মধ্যে বেগুনি সাদা শাড়ি খুঁজছি।

আপু চোখের ইশারা দিচ্ছেন। পেয়ে গেলাম হাতের কাছে একটা কোটা বেগুনি সাদা শাড়ি, সাথে একটু লালও আছে। কিন্তু আপু তো বলেন নি যে লালও আছে। তাই রেখে আবারো খুঁজছি আর আছে কিনা। পেলাম না। একমাত্র এটাই সাদা বেগুনি শাড়ি। তাই শিওর হয়ে ভাইয়াকে চিল্লায় চিল্লায় ডেকে বললাম, এই যে ভাইয়া, এই শাড়িটাই। আপু ভাইয়া দৌড়ে আসলেন। আপু হাত দিয়ে শাড়িটা ধরে আমার দিকে তাকিয়ে কী একটা বললেন আস্তে করে, শুনতে পেলাম না।

ভাইয়া না দেখেই বললেন, “নাও মিতা, প্যাক করে দিতে বলো এটা। আপু সাথে সাথে “না” “না” করছে। “আরে রাকিব, নিবো না তো। এমনি বলছি। আসলে অত ভালো লাগে নি। কাল মনে হয়েছিল সুন্দর, আসলে তেমন একটা পছন্দ হয় নি আমার।”

শাড়িটা আমারও খ্যাত লাগছে। দাম ৩৫০০টাকা। কিন্তু একেবারেই ফালতু শাড়ি। এটা যে কেমন করে আপুর ভালো লাগলো মাথায় ঢুকছে না আমার।

ভাইয়া খুব আহ্লাদ করে আপুর মুখ হাত দিয়ে চেপে ধরে বললেন, “মিতা, তোমার যা একবার ভালো লাগবে ওইটা আমি আকাশ থেকে পেড়ে আনব দরকার হলে।”

মিতা আপু তাও গাইগুই করতে থাকলেন, “থাক না রাকিব, কয়েক দিন পর কিনি। অন্য কিছু কিনব, শাড়ি তো অনেক আছে।”

ভাইয়ার ওই একটাই কথা, “কী এমন টাকা এটার দাম যে তুমি না বলছো? আবার কয়েকদিন পর অন্য কিছু কিনে দিব।”

আপু আর কিছুই বলতে পারেন না। আমার দিকে হতাশ চোখে তাকিয়ে আছেন। শাড়িটা ভাইয়া কিনে দিচ্ছেন দেখে আমারও মন খারাপ লাগছে। কিন্তু আপু পরশু এসে এই শাড়িটা দেখে যেমন আজ বর্ণনা দিচ্ছিলেন শাড়িটা তেমন না। শাড়িটা কেনার জন্যই যখন এত নাটক তাহলে কিনতে চাচ্ছেন না কেন বুঝতে পারছি না।

শাড়ির ব্যাগটা আপুর হাতে দিয়ে ভাইয়া বললেন, “তুমি খুশি তো?”

আপু একটু হেসে বললেন, হুমম। কিন্তু এখন আর ভাইয়ার হাতটা ধরে ঝুলতে ঝুলতে হাঁটছেন না আপু।

(কিস্তি ১০)

About Author

নওয়াজ ফারহিন অন্তরা
নওয়াজ ফারহিন অন্তরা

স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে পড়ছেন। জন্ম- ঢাকা, মে ১৯৯৩।